মুভির অভিনেত্রীরা কেন গণিকা বা যৌনকর্মী নয়? এ প্রশ্ন আমার নয়, এ প্রশ্ন কলকাতার খোদ যৌনকর্মীদের পক্ষ থেকেই উঠেছে। ‘অল ইন্ডিয়া নেটওয়ার্ক অব সেক্স ওয়ার্কার্স’-এর পক্ষ থেকে যৌনকর্মীদের এমনই প্রশ্ন বিশ্বের কাছে। যৌনকর্মীদের স্পষ্ট প্রশ্ন সিনেমার নায়িকা হওয়ার জন্যেও তো বিক্রি করতে হয় শরীর। সেক্ষেত্রে যিনি শরীর বিক্রি করলেন, তাঁকে তো যৌনকর্মী বা গণিকা বলা হয় না। তাঁদের পরিচয় প্রদানেও কোনো অসম্মানজনক শব্দ বা রুচিহীন শব্দ ব্যবহার করা হয় না। তাহলে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য শরীরের বিনিময়ে উপার্জনের ক্ষেত্রে আমাদের কেন যৌনকর্মী পরিচয় পেতে হবে? শরীরের বিনিময়ে নায়িকা হওয়া বা নায়িকা হয়ে শরীর বিক্রি করার বিষয়টি খুব প্রচলন একটি গোপন সত্য হিসাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। গুঞ্জন আছে, অধিকাংশ নায়িকাই শরীর উপটৌকন দিয়ে থাকেন পরিচালক কিংবা প্রযোজক কিংবা প্রভাবশালীদের কাছে। অনেক নায়িকাই বিদ্রোহ করে কাজ হারান, আবার অনেকেই আপোস করে টিকে থাকেন। শরীরকে বিনিয়োগ করে কেরিয়ারের সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করতে পিছ-পা হন না অনেকেই। শরীরের বিনিময়ে তাঁরা সিনেমায়, নাটক ইত্যাদিতে কাজের সুযোগ পান। বাংলাদেশে এক ধরনের মুভি বা মিউজিক ভিডিও করা হয়, যেখানে নায়িকারা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে সম্পূর্ণ জামাকাপড় পরিহিত নায়কের সঙ্গে চটুল বাংলা গান সহ নাচ করেন। অত্যন্ত জঘন্য সেই নৃত্যদৃশ্য। বুঝতে অসুবিধা হয় না এইসব নায়িকাদের একমাত্র মূলধন নগ্ন শরীর। নগ্ন শরীর প্রদর্শন করেই অর্থ রোজগার করেন। শরীর বিক্রিই তো করে এঁরা। গণিকা নয়? তাহলে সেক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের প্রশ্নটিকে উড়িয়ে দেওয়া হবে কেন? ক্যামেরার সামনে শরীর দান করে, শরীর প্রদর্শন করে তামাম পুরুষদের ট্রিগার করে তাঁরা নায়িকা পরিচয় নিয়ে থাকবেন, আর শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য শরীর বিক্রি করে যাঁরা অর্থ রোজগার করে ক্যামেরা ছাড়া, তাঁরা যৌনকর্মী? তাই সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার তাগিদে শরীর বিক্রি করা যৌনকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছে যৌনতার জন্য যেসব অভিনেত্রীরা শরীরকে অর্থ রোজগারের মাধ্যম করে, তাঁরা কেন যৌনকর্মী নয়?
বদল ঘটেছে যৌনতায়, সেটা সমাজের বিভিন্ন অংশের যৌনকর্মীদের বিভিন্ন মনোভাব ও কাজকর্মের ধরনেই প্রকাশ পায়। এআইএনএসডব্লিউ (AINSW)-এর নতুন কমিটি যুগ্ম সচিব তথা বিহারের পূর্ণিয়ার যৌনকর্মীদের সংগঠন ‘আম্রপালি কল্যাণ সমিতি’-র সচিব রেখা রানি বলেন–“ফিল্মের নায়িকা হওয়ার জন্যেও তো শরীর বিক্রি করতে হয়। যাঁরা শরীর বিক্রি করে নায়িকা হন, তাঁদের কেন সেক্স ওয়ার্কার বলা হবে না?” তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন–“যৌনকর্মীদের পরিচয় দেওয়ার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়, সেই শব্দ কেন ওই নায়িকাদের জন্য ব্যবহার হয় না?” রেখা রানি বলেন–“শরীরের বিনিময়ে নায়িকা হওয়া তো সেক্স ওয়ার্কারের মতো কাজ। আমরাও তো সেক্স করেই উপার্জন করি। দিই যৌনসুখ। তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কেন অন্য রকমের আচরণ করা হবে? ওদের নায়িকা হওয়ার জন্যে সেক্স করতে হয়, আর আমরাও রোজগারের জন্য সেক্স করি। নায়িকারা গ্ল্যামার সেইসঙ্গে রোজগারের জন্য সেক্স, আর আমাদের গ্ল্যামারহীন রোজগারের জন্য সেক্স করি–পার্থক্য শুধু এইটুকুই।” যৌনকর্মীদের সংগঠন দিশা মহিলা বহু-উদ্দেশীয় সংগঠনের সচিব তথা এআইএনডব্লিউ-র অপর যুগ্ম সচিব লতা কাপসের মতে, “শরীর বিক্রি করে নায়িকা হলেও সেক্ষেত্রে সেক্স ওয়ার্কার বলা হয় না। আর আমরা শরীরের বিনিময়ে বেঁচে থাকলেও আমাদের সেক্স ওয়ার্কার বলা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসন্মানিত করা হয়।”
(৬) ক্যানভাসে গণিকা : ‘রং রসিয়া’ নামে হিন্দি মুভিতে দেখানো হয়েছে চিত্রশিল্পী রবি ভার্মার চিত্রশিল্পের মডেলার সুগন্ধি, যিনি চিত্রশিল্পীর চিত্রশিল্পের জন্য নগ্ন হতেন এবং কখনো-সখনো সুযোগ-সুবিধা মতো। চিত্রশিল্পীর সঙ্গে যৌনমিলনও করতেন। সুগন্ধি বিলক্ষণ বুঝেছিলেন তিনি শিল্প এবং প্রেমের জন্য নগ্ন হলেও রবি ভার্মা, রক্ষণশীল সমাজ ও রাষ্ট্র তাঁকে ‘বেশ্যা’ হিসাবেই দেখত। স্বীকৃতিহীন এক নারী সুগন্ধির পরিণতি হল গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহনন। এটাই বাস্তব। প্রদীপের নীচে অন্ধকারকে আড়ালে রেখে চিত্রশিল্পীরা বিখ্যাত হয়ে যায়। মডেল নারীদের কেউ মনে রাখে না। যে সলতে হয়ে শিল্পীর শিল্পসত্তাকে জাগিয়ে তুলে পুড়ে মরল, তাঁদের খবর কেউ রাখি না। চিত্রশিল্পীরা চিত্র অঙ্কন করবেন, ভাস্কররা ভাস্কর্য নির্মাণ করবেন, সে তো ভালো কথা। শিল্প মনের বিকাশ ঘটায়, চেতনার মুক্তি দেয়। তার জন্য কেন নারীকে নগ্ন হতে হবে? কেন নারী-শরীরকে ব্যবহার করতে হবে? যে নারী শিল্পীর ক্যানভাসের নগ্ন হয়ে বসেন, সে কী সমাজে পরিবারে বলতে পারে, সে শিল্পীর সামনে শিল্পের জন্য নগ্ন হয়? না, বলতে পারে না। কারণ এই নগ্ন হওয়াটা সমাজ মহৎ হিসাবে দেখে না। গণিকারা যেভাবে বাড়িতে তাঁর কাজের ধরন লুকিয়ে রেখে গণিকাবৃত্তি চালিয়ে যায়, ঠিক তেমনিভাবেই মডেল নারীরা পরিবার ও সমাজকে তাঁর পেশা লুকিয়ে নগ্ন হতে আসে। সমাজ ও পরিবারে সেই নারী বলতে পারেন না যে, সে চিত্রশিল্পীর সামনে নগ্ন হয়ে রোজগার করেন। কারণ পেশাটি সমাজে নিষিদ্ধ। ন্যুড স্টাডির নামে নারীকে শুধু নগ্ন করা হয় তা তো নয়, অনেক ক্ষেত্রে শিল্পীর যৌনলালসার শিকার হন। কিন্তু এই মডেলরা কোনো স্বীকৃতি পায় না। আসলে ছলে-বলে-কৌশলে শিল্প মাধুর্যে নারীকে নগ্ন করে দেওয়াই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরোনো অভ্যাস। বলা হচ্ছে–The nude’ figure is mainly a tradition in Western art, and has been used to express ideals of male and female beauty and other human qualities. It was a central preoccupation of ancient Greek art, and after a semi-dormant period in the Middle Ages returned to a central position in Western art with the Renaissance. Athletes, dancers, and warriors are depicted to express human energy and life, and nudes in various poses may express basic or complex emotions such as pathos. In one sence, a nude is a nude is a work of fine are that has as its primary subject the unclothed human body, forming a subject genre of art, in the same way as landscapes and still life. Unclothed figures often also play a part in other types of art, portraiture, or the decorative art. While there is no single definition or fine art, there are certain generally accepted features of most definitions. In the fine arts, the subject is not merely copied from nature, but transformed by theb artist into an aesyhetic object, usually without significant utilitarian, commercial (advertision, illustration), or purely decorative purposes.
