গণিকাপল্লির মেয়েদের সঙ্গে মূলগত পার্থক্য হল পল্লির গণিকারা চার দেয়ালের ভিতরে গোপনীয়তা রক্ষা করে হাজার হাজার পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলন করে ন্যায্য অর্থের বিনিময়ে। পর্নোস্টাররা ক্যামেরার সামনে অর্থের বিনিময়ে হাজার হাজার পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলন করে এবং সেই ক্যামেরাবন্দি যৌনমিলন সারা পৃথিবীর কোটি কোটি দেখে। আর-একটি পার্থক্য হল পর্নো-গণিকাদের পরিচালকের নির্দেশে বিভিন্ন কায়দায় যৌনমিলন করতে হয় এবং সাধারণ গণিকারা কোনো তৃতীয় পক্ষের নির্দেশ ছাড়াই স্বাধীনভাবে যৌনমিলন করে। পার্থক্য যাই-ই থাক, উভয়ে গণিকাবৃত্তিই করে।
ধনী সাধারণ গণিকা যেমন আছে, তেমনি ধনী পর্নো-গণিকাও আছে। তবে পর্নো-গণিকাদের মতো উচ্চহারে উপার্জন বোধহয় সাধারণ গণিকাদের হয় না। সাধারণ গণিকাদের উপার্জনে যেমন বিভিন্নতা আছে, ঠিক তেমনি পর্নো-গণিকাদের উপার্জনেও রকমফের আছে। সকলেই চোখ কপালে তোলা উপার্জন করার সৌভাগ্য অর্জন না-করলেও মোটামুটি যে ১০ জন পর্নো-গণিকার উপার্জনের কথা উল্লেখ করব, তাতে চোখ কপালে উঠবেই। পর্নো-গণিকাদের প্রথম ১০ জনের সম্পত্তির পরিমাণে শীর্ষে জেনা জ্যাকসন।
সেরা ১০ জন পর্নো-গণিকার সম্পত্তির পরিমাণ–
কিন্তু ক্যামেরার সামনে যৌনপেশায় এইসব গণিকাদের রোজগারই তো শেষ কথা নয়। আছে আরও অনেকেই। আলো যেমন আছে, অন্ধকার আছে তেমন পাশাপাশি। অসংখ্য যে পর্নো-গণিকারা যে কাজ করেন, তাঁদের সকলের পারিশ্রমিক কিন্তু আশাব্যঞ্জক নয়। (১) নারী, যাঁরা কেবল বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলন করবে। এঁদের গড় আয় ৩০০ থেকে ১৫০০ মার্কিন ডলার। (২) যে নারী একজন নারীর সঙ্গে যৌনমিলন করবে, সেই নারীদ্বয়ের পরিশ্রমিক ৭০০ থেকে ১২০০ মার্কিন ডলার। (৩) পুরুষ, যে পুরুষরা নারীর সঙ্গে যৌনমিলন করবে, তাঁর পারিশ্রমিক ৫০০ থেকে ১৫০০ মার্কিন ডলার। (৪) পরিচালকের গড় আয় ১০০০ থেকে ৩০০০ মার্কিন ডলার। (৫) ক্যামেরাম্যানের পারিশ্রমিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার। (৬) সাউন্ড টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক ৩০০ থেকে ৪০০ মার্কিন ডলার। (৭) প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্টের গড় আয় ১০০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলার। (৮) স্টিল ফোটোগ্রাফারের গড় পারিশ্রমিক ৫০০ মার্কিন ডলার। (৯) মেক আপ আর্টিস্টের পারিশ্রমিক ৫০০ মার্কিন ডলার।
যাঁরা নিয়মিত পর্নোমুভি বা তথাকথিত নীল ছবির দুনিয়ার সামান্যতম খোঁজখবর রাখেন, এক ডাকে থ্রি অলসনকে চিনে থাকবেন। কী বলছেন অলসন? তিনি বলছেন–“পর্নো করলে তুমি সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে। তোমার মানবাধিকার কেড়ে নিতে উদ্যত হবে।” থ্রি অলসন বলছেন–“পর্নো খারাপ, এ কথা আমি বলছি না। কিন্তু বাকিরা তোমার সঙ্গে কীভাবে আচরণ করছে, সেটাই তোমার জীবনের প্রধান বিষয়। যদি মনে করো, মেয়েদের কোনো আড্ডায় যোগদান করবে, তাহলে স্রেফ পেশার জন্যেই তুমি সেখানে ঠাঁই পাবে না। … একবার যখন পর্নো-গণিকার তকমা তোমার গায়ে লেগেছে, তখন তুমি বাড়িতেও সবসময় যৌনতার হাট খুলে বসেছে। অপরদিকে রক্ষণশীল দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাখী সাওয়ান্ত সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে সটান ঘোষণা দিতে পারেন–“আমি আপনাদের সকলকে আজ একটা ভালো খবর দিতে চাই। আমি একজন পর্নোস্টার হতে চাই।” এই ঘোষণা শুনে যাঁরা সেলুলয়েডে রাখী সাওয়ান্তের যৌনক্রিয়া দেখার জন্য উশখুশ করছিলেন, শেষপর্যন্ত তাঁদের ইচ্ছাপূরণ হয়েছে কি না আমার জানা নেই। হায়, গণিকা হওয়া কি এতই সুখের!
একটি ঘটনার উল্লেখ করি। ঘটনাটা ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ভারতের বেঙ্গালুরুতে। পর্নো ছবি দেখে তো স্বামীর মাথায় হাত। ডেক্সটপের পর্দায় যে মহিলাটি যৌনসঙ্গম করছেন, তিনি আর কেউ নয়, তাঁর নিজের স্ত্রী। পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে প্রায় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম স্বামীর। পর্নোগ্রাফি দেখা শিকেয় উঠল তাঁর, বসে পড়লেন মাথায় হাত দিয়ে। ২০১৮ সালে বিয়ে হয় কলকাতার বাসিন্দা এক মহিলা ও উত্তরপ্রদেশের এক যুবকের। বিয়ের পর তাঁরা থিতু হন বেঙ্গালুরুতে! বিয়ের কিছুদিন পর স্ত্রী স্বামীকে জানিয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের বিষয়ে। এও বলেছিলেন, সেই ব্যাক্তির সঙ্গে বর্তমানে তাঁর আর কোনো যোগাযোগ নেই। স্ত্রীর সততায় বেশ খুশিই হয়েছিলেন স্বামী। স্বামী লক্ষ করলেন পর্নোগ্রাফির প্রতি স্ত্রীর চূড়ান্ত আসক্তিতে। একদিন স্ত্রী স্বামীকেও একটি পর্নোগ্রাফির ভিডিও দেখতে বললেন। সঙ্গেও এও দাবি রাখলেন, ছবির মতো করেই তাঁকে ‘আদর করতে হবে। স্ত্রীর আবদার মানতে পর্নোগ্রাফি দেখা শুরু করলেন স্বামী, এরপরই ঘটল বিপত্তি। স্ত্রীর মোবাইলে পর্নোমুভি দেখতে গিয়েই ভিরমি খেলেন। দেখলেন পর্নোমুভির নায়িকা খোদ তাঁর স্ত্রী। ধরা পড়ে গিয়ে মহিলা বলেন, ছবিতে তাঁর বিপরীত থাকা পুরুষটিই তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক। বাধ্য হয়েই ভিডিওটি স্যুট করেছিলেন। এই ভিডিওটি দেখিয়ে রীতিমত তাঁকে ব্ল্যাকমেলও করত প্রাক্তন প্রেমিক। স্ত্রীর কথা বিশ্বাসও করে নেন স্বামী। কিন্তু দিনকয়েক বাদে ফের পর্নোসাইটে স্ত্রীর আরেকটি ভিডিও দেখতে পান স্বামী। সেখানে সঙ্গী আবার অন্য পুরুষ। অবশেষে হাতেনাতে ধরা পরতেই সত্যিটা স্বীকার করেন মহিলা। জানান, এক নয়, একাধিক পুরুষের সঙ্গে তিনি যৌন মিলন করেছেন এবং এটা ওর খুব ভালো লাগে। নতুন নতুন পুরুষসঙ্গে নতুন নতুন কায়দায় যৌনমিলনে সে সম্পূর্ণ তৃপ্ত, ব্যাংক ব্যালান্সও মন্দ হচ্ছে না।
