নারী ও শিশুদেহের বাণিজ্যিক ব্যবহারের আর-একটি ভয়াবহ দিক হল সেলুলয়েডে যৌনকর্ম করা, অর্থাৎ পর্নোপেশায় যুক্ত হওয়া। এর চর্চা আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে গোটা পৃথিবীব্যাপী মহামারীর রূপ নিয়েছে। এই খাতটিরও অর্থনৈতিক বাজার বিশাল বড়ো। বিলিয়ান ট্রিলিয়ন ডলারের। তবে এক্ষেত্রে নীল চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণকারী নারী ও পুরুষ উভয়কেই গণিকা বলতে হয়। এই পেশায় সবাইকেই যে জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তা কিন্তু বলা যায় না। বহু মেয়েরা স্বেচ্ছায় মোটা টাকা রোজগারের তাগিদে এ পেশায় আসে।
বিশ্বখ্যাত নারীবাদী নেত্রী ও আইনজীবী ক্যাথরিন ম্যাককিননের মতে, পর্নোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে হলিউডের চেয়ে অনেক অনেক বিশাল। স্যাটেলাইট টিভি ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে যার দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। উচ্চবিত্ত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে ঘরে ইন্টারনেট কানেকশন এখন আর বিস্ময়ের কিছু না। চাইলেই তাঁরা যখন খুশি সেক্স সাইট ব্রাউজ করতে পারছে, ডাউনলোড করে নিতে পারছে যে-কোনো পরিমাণ পর্নো ফুটেজ। যাঁদের ঘরে সে সুবিধা নেই তাদের জন্য আছে অলিতে-গলিতে গজিয়ে ওঠা সাইবার ক্যাফে। এক ঘণ্টা ব্রাউজ করার জন্য ক্যাফেগুলোতে চার্জ নেওয়া হয় মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং বিনিময়ে একটিমাত্র ক্লিকেই পৌঁছে যাওয়া যায় ভার্চুয়াল যৌনমিলনের জগতে। গুগলের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সার্চ হয় পর্নোর সাইটগুলিতে। যাঁরা গণিকালয়ে গিয়ে নারীভোগ করার বুকের পাটা নেই, তারাই সেলুলয়েডে যৌনমিলন দেখে কামপ্রবৃত্তি নিবৃত্তি করে। মানসদর্শনে যৌনমিলন করেন। পুরুষরা সেলুলয়েডের নারীকে ভার্চুয়াল সেক্স করে, নারীরা সেলুলয়েডের পুরুষের সঙ্গে ভার্চুয়াল সেক্স করে। ক্যামেরার সামনে কোটি কোটি যৌনউন্মাদদের কামপ্রবৃত্তি নিবৃত্ত করতে যাঁরা অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্ম করে তাঁরা গণিকা না-হলে কারা গণিকা? এ ধরনের গণিকাবৃত্তি ভারত-বাংলাদেশে সহ প্রায় সব বিশ্বেই নির্মাণ হয়ে থাকে। কোথাও গোপনে, কোথাও ওপেনে। সারা বিশ্বে কত রেভিনিউ আদায় হয় এই সেক্স-অ্যাডভেঞ্চার থেকে?
Alex Helmy (founder and publisher of adult-entertainment trade publication) 501629, “পর্নোশিল্পের রাজস্ব অনুমান ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন যে শিল্প বছরেও ৬ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করে, কেউ বলবে এটি ১০ বিলিয়ন ডলার, ১৫ বিলিয়ন ডলার বা এমনকি ৯৭ বিলিয়ন ডলার করে। কারণ বেশিরভাগ পর্নো সংস্থাগুলি ব্যক্তিগতভাবে সমস্ত তথ্য গোপন রাখে, তাই সম্পূর্ণরূপে সঠিক অনুমান পাওয়া অসম্ভব।” অন্য এক সূত্র থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী পর্নোগ্রাফি প্রায় 100 বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে, এটি একটি বড় স্কেল ব্যাবসা। ২০০৬ সালে চিন ২৭.৪০ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫.৭৩ বিলিয়ন ডলার, জাপান ১৯.৯৮ বিলিয়ন ডলার এবং মার্কিন ১৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার আয় করে। এটা মাইক্রোসফট, গুগল, আমাজন, ইবে, ইয়াহু, অ্যাপল এবং নেটফ্লিক্সের তুলনায় বড়ো আয়। পরিসংখ্যানগুলি দেখায় যে, ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফির সর্বাধিক দর্শকরা উচ্চ আয়ের সঙ্গে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেট পর্নো ভিউয়ার থেকে ৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ বছরে ৭৫,০০০ ডলার বা তার বেশি উপার্জন করে। পরের সর্বোচ্চ, ২৬ শতাংশ, অর্থাৎ যাঁরা বছরে ৫০,০০০ ডলার থেকে ৭৫,০০০ ডলার উপার্জন করে। পর্নো ইন্ডাস্ট্রি বিশ্ব অর্থনীতির একটি প্রধান উপাদান, বৃহদায়তন আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। toptenreviews.com-র মতে, পর্নোগ্রাফিতে বিশ্বের প্রতি সেকেন্ডে ৩,০০০ ডলারেরও বেশি খরচ হয়।
চিন — $ ২৭.৪০
দক্ষিণ কোরিয়া — $ ২৫.৭৩
জাপান — $ ১৯.৯৮
আমেরিকা — $ ১৩.৩৩
অস্ট্রেলিয়া — $ ২.০০
ব্রিটেন — $ ১.৯৭
ইতালি — $ ১.৪০
কানাডা — $ ১.০০
ফিলিপিনস — $ ১.০০
তাইওয়ান — $ ১.০০
জার্মানি –- $ .৬৪
ফিনল্যান্ড — $ .৬০
চেক প্রজাতন্ত্র –-$ ৪৬
রাশিয়া — $ .২৫
নেদারল্যান্ড –- $ .২০
ব্রাজিল — $ ১০
মোটা টাকার হাতছানি এড়ানো যে খুব শক্ত কাজ, সেটা বিশ্বের পয়লা নম্বর পর্ন-গণিকা সানি লিওনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছে–তাঁর সেক্স করাটা প্যাশন। তিনি স্ব-ইচ্ছায় এই পেশা বেছে নিয়েছেন। স্টেইট, লেসবো – সব ধরনের সেক্স তিনি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। আবার একটা সময় ইচ্ছা হল এই পেশা ছেড়ে দিয়ে বলিউডে পাড়ি জমালো ফ্লিমে অভিনয় করে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়ার জন্য। তাই বলে নিজস্ব পর্নোফ্লিমের সাইট কিন্তু বন্ধ করে দেননি। সেই সাইটে শুধু তাঁরই করা পর্নোমুভি সঞ্চিত আছে। কারণ তাঁর সেলুলয়েড সেক্স বিক্রি করে নিয়মিত মোটা টাকার আমদানি হয়। পর্নো-বাজারে সানি লিওনি মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী। কোটি ডলার তাঁর দাম। অভিনেত্রী হিসাবে এক-আধটা সিনেমায় কাজ পেলেও তিনি সুযোগ পেলেই দেহব্যাবসার ডাক লঘন করতে পারে না। বছর কয়েক আগে বলিউডের মূলস্রোতে আসার পরেও তিনি ৪৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক হিরে ব্যবসায়ীর পার্টিতে নগ্ননৃত্য ইত্যাদি করে এসেছেন। সেই নাচের ভিডিও দৃশ্য সোস্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। ডাক্তার স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবর সঙ্গে নিয়ে সানি লিওনি প্রায় ৫৬ টি যৌনসঙ্গম ক্যামেরাবন্দি করেছে। ৫৯ টি পর্নোমুভি নিজে পরিচালনা করেছে। অনুরূপ আর-এক দামি পর্নো-গণিকা মিয়া খলিফাও স্বেচ্ছায় ক্যামেরার সামনে সেক্স করতে এসেছিলেন মোটা টাকা কামানোর জন্য। আবার তিনিও স্বেচ্ছায় এই পেশা ছেড়ে দিলেও পূর্বের করা পর্নো থেকে আসা রোজগার নিতে ছাড়েননি। এছাড়া প্রিয়া অঞ্জলি রাই, দেবিকা, রেশমা, শাকিলা, পিটা জেনসেন, লিজা আন, হিটোমি তানাকা, ক্রিস্টি ম্যাক, নাতাশা ডালাস, ক্রিস্টিনা রোজ, হোলি সুইট, অ্যালেক্সা লোরেন, অলিভিয়া লাভলি প্রমুখ পর্ন-গণিকারা মোটা টাকা রোজগারের জন্যেই ক্যামেরার সামনে যৌনকর্ম বেছে নিয়েছে। অন্তত এদের অকপট স্বীকারোক্তি সেটাই প্রমাণ করে।
