–আমাকে কী করতে হবে? মানে কীভাবে আমি ক্লায়েন্ট পেতে পারি?
–আপনাকে প্রথমে আপনার নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যে নম্বরে আপনি ফোন করেছেন সেই নম্বরে আপনার ডিটেইলসটা পাঠিয়ে দেবেন।
–ডিটেইলস বলতে আপনার নাম, আপনার বাবার নাম, আপনার সম্পূর্ণ ঠিকানা, আপনার ফোন নম্বর যে নম্বরে আপনাকে এসকর্ট করা হবে, আপনার ওজন, গায়ের রং, চোখের রং, অবশ্যই জানাতে হবে আপনার লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ইঞ্চির মাপে কতটা, আপনি পেশায় নতুন না পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে ইত্যাদি। আমরা পিডিএফ ফর্ম পাঠিয়ে দেব। আপনাকে শুধু পূরণ করে পাঠাতে হবে।
–রেজিস্ট্রেশন কি আগে করতে হবে? নাকি বায়োডেটা পাঠানোর পরে করতে হবে?
–না, রেজিস্ট্রেশনটা আপনাকে আগে করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন ফিজ ৩০০০ টাকা দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন কমপ্লিট হলে আপনার কাছ থেকে আপনার ডিটেইলস নেব এবং পরদিনই ক্লায়েন্টের ফোন নম্বর দেব। আপনি তাঁকে ফোন করে কাজ করার সময় জেনে নেবেন।
–টাকাটা কীভাবে পাঠাতে হবে?
–নেট ব্যাংকিং করে অথবা পেটিএমের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন।
–আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনাদের ব্যাংক ডিটেইলসটা পাঠিয়ে দিন।
–ওকে। হোয়াটস অ্যাপে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
দু-দিন পর হোয়াটস অ্যাপে ওরা ব্যাংক ডিটেইলস পাঠিয়ে দিলে যুবকটি ৩০০০ টাকা ব্যাংক ট্রান্সফার করে দেয়। টাকাটা ট্রান্সফার হওয়ার পর একটা ফর্ম হোয়াটস অ্যাপে চলে আসে। সেটাকে ফিল-আপ করে সঙ্গে সঙ্গে যুবকটি পাঠিয়ে দেয়। পরের দিন সকাল ৯ টা নাগাদ ওখান থেকে একটা আসে।
–আপনি কি আজকে কাজ করতে পারবেন?
–কটার সময়?
–বেলা বারোটা নাগাদ।
–হ্যাঁ, পারব।
–ঠিক আছে। আপনাকে ক্লায়েন্টের ফোন নম্বর দিয়ে দিচ্ছি। আপনি তাঁকে ফোন করে জেনে নেবেন কখন সে সার্ভিস পেতে চায়। আপনার বিষয়ে সমস্ত বলা আছে ম্যাডামের কাছে। কোনো অসুবিধা হবে না। হ্যাপি জার্নি।
কিছুক্ষণ বাদে যুবকটির হোয়াটস অ্যাপে একটি ফোন নম্বর চলে আসে। ফোন নম্বরে কল করল যুবকটি। ও প্রান্তে নারী কণ্ঠ।
–আপনি কখন আসতে পারবেন?
–আপনি যখন বলবেন?
–ঠিক আছে। আপনি দুপুর নাগাদ চলে আসুন। আমি একা থাকব।
–ঠিক আছে। আপনার ঠিকানা দিন। কোথায় কীভাবে যাব একটু বলে দিন ম্যাডাম।
–অবশ্যই বলব। ঠিকানা না বললে আমাকে সার্ভিস দেবেন কীভাবে? তার আগে আমাকে একটা কাজ করে দেবেন প্লিজ?
–কী কাজ, বলুন?
–আমার ড্রাইভারটা বিহারে গিয়ে খুব বিপদে পড়ে গিয়েছে। ওকে ৫০০০ টাকা পাঠাতে হবে। আপনি একটু ওর অ্যাকাউন্টে আপনার কাছ থেকে দিয়ে ফেলে দেবেন? আপনি আমার কাছে এলে আপনার সার্ভিসের পনেরো হাজার টাকা উইথ পাঁচ হাজার মোট কুড়ি হাজার টাকা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেব। আমি আসলে ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাংকে যেতে পারছি না। একটু অসুবিধা আছে। তাই আপনাকে বলতে বাধ্য হচ্ছি। আপনি আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরো টাকাটাই পেয়ে যাবেন।
–এমন কথা তো ছিল না। দেখছি কী করা যায়। ওদের সঙ্গে এবার একবার কথা বলেনি, যাঁরা আমাকে আপনার কাছে পাঠাচ্ছে।
–ঠিক আছে। আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছি।
যুবকটি কল সেন্টারে ফোন করে সব ঘটনা বিস্তারিত বলতেই ওরা হতবাক হয়ে গেল। বলল–
–সেকি! এমন তো হওয়ার কথা নয়। সে আপনার কাছ থেকে টাকা চাইবে কেন? বরং আপনি সার্ভিস দিলে আপনাকে তিনি টাকা দেবেন। আপনি তো টাকা দিতে যাবেন না, টাকা কামাতে যাবেন। আপনি একটু লাইনে থাকুন। কনফারেন্স কলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে নিচ্ছি। আপনিও শুনবেন।
–হ্যালো, ম্যডাম বলছেন?
–হ্যাঁ, বলছি। বলুন।
–ম্যাডাম, আমরা যে ক্লায়েন্টকে আপনাকে সার্ভিস দিতে পাঠিয়েছি, আপনি তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছেন। এটা তো ঠিক নয়। এর ফলে আপনাকে পরবর্তীতে সার্ভিস পাবেন কি না আমাদের ভাবতে হবে।
–প্লিজ, রাগ করবেন না। আমি বিপদে না পড়লে টাকাটা ওনার কাছে চাইতাম না। আমি বলেছি উনি এলেই ওনাকে পুরো টাকাটাই দিয়ে দেব। ভয় নেই।
–স্যার, শুনলেন তো ওনার কথা। আমিও যেটা বললাম সেটাও নিশ্চয় শুনেছেন?
–হ্যাঁ, শুনলাম।
–আপনি টাকাটা পাঠিয়ে দিন। উনি তো বললেন আপনি যাওয়ার পরই আপনাকে টাকাটা দিয়ে দেবে। ভয় নেই। কোনো অসুবিধা হলে আমরা তো আছি। উপযুক্ত ব্যবস্থাই নেব।
–বেশ। তাহলে আপনি একটা কাজ করুন। ওনাকে বলুন ওনার সম্পূর্ণ ঠিকানা আর ব্যাংক ডিটেইলসটা আমাকে দিতে। আমি ওই ঠিকানায় পৌঁছে টাকাটা আমার মোবাইল থেকেই ব্যাংক ট্রান্সফার করে দিচ্ছি।
–ওকে। বলে দিচ্ছি।
তারপর আর কোনোদিন ওখান থেকে ফোন আসেনি। যুবকটি বুঝলেন সে প্রতারিত হয়েছেন। তিন হাজার টাকার উপর দিয়ে গেছে। লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না-পারলে আরও পাঁচ হাজার গচ্ছা যেত। এরকম প্রতিদিন কত যুবক যে প্রতারিত হচ্ছে, তার ইয়ত্তা নেই। চারিদিকে জাল বিছিয়ে রেখেছে প্রতারকরা। সেই ফাঁদে ফেঁসে যাচ্ছে যুবকরা। পুলিশ-প্রশাসনকে জানালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন ঠিকই। গ্রেফতারও করছে। কিন্তু প্রতারণা বন্ধ হচ্ছে না। নতুন নতুন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারণা করেই চলেছে। ফেসবুকে হাজার হাজার পেজ খুলে রেখেছে এই প্রতারকরা।
(৫) Private : এঁরা গণিকালয় বা কোনো সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত নয়। এঁরা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই ক্লায়েন্ট খুঁজে নেয়। তবে যাকে-তাকে নয়, ঝাড়াইবাছাই পরীক্ষানিরীক্ষা করেই ক্লায়েন্ট ধরে। বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ক্লায়েন্টই তাঁদের পছন্দ। অবশ্য শাঁসালো হতেই হবে ক্লায়েন্টকে। ক্লায়েন্টকে নিয়ে এঁরা কোনো বিলাসবহুল হোটেল বা রিসোর্টে সময় কাটায় মোটা টাকার বিনিময়ে। এছাড়া এঁরা ক্লায়েন্টের ভ্রমণসঙ্গীও হয়। সেইভাবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দেয়। ক্লায়েন্টের ঘাড় ভেঙে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে এবং মনের আশ মিটিয়ে কেনাকাটা করে নেয়। বিনিময়ে সে কয়েক রাতের শয্যাসঙ্গিনী হয়ে যায় ক্লায়েন্টের।
