তবে সাধু সাবধান! এতক্ষণ বিবরণ পড়ে আপনি যদি খুব উৎসাহিত হয়ে পড়েন, তাহলে এবার নিরাশ করব। আসলের পাশাপাশি প্রচুর ফেক সাইটও আছে। আসল বেছে নেওয়া সহজ কাজ নয়। না-বাছতে পারলে মারাত্মক বিপদে পড়ে যেতে পারেন। পুরুষদের বিপদের কথা পড়ে বলছি। তার আগে মেয়েদের বিপদের কথা বলে নিই। প্রচুর অর্থ রোজগায়ের আশায় যেসব মেয়েরা এসকর্টে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁরাও সাবধান। চরম মূল্য দিতে হতে পারে। এই এসকর্ট সার্ভিস কতকগুলি ক্ষেত্রে কীরকম বিপজ্জনক হতে পারে, তা একটি এসকর্ট সাইটে গেলেই কিছুটা আভাস পাওয়া যেতে পারে। যাঁরা ভাবছেন এসকর্টে যুক্ত হয়ে শরীর বেচে উপার্জন করবেন, সাইটিতে ক্লিক করলে আমি নিশ্চিত আপনারও হাড় হিম হয়ে যাবে। মেয়েদের ছবি-সর্বস্ব এই সাইটটির একজন এসকর্ট মেয়েও বেঁচে নেই। কারণ সাইটটি আদতেই ফেক, জাল। এসকর্ট জীবনের কী চরম পরিণতি হতে পারে, তা প্রচার করতেই ফরাসি দাঁতব্য সংস্থা ‘মুভমে দ্যু নি’ নামে সাইটটি তৈরি করেছে। যৌনকর্মীদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্যেই এই সাইটটি। এই এসকর্টরা তাঁদের ক্লায়েন্টের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে এবং মুখ খুলে শেষপর্যন্ত খুন হয়েছে। ভুয়ো এই এসকর্ট সাইটটি ১০ ঘণ্টা লাইভ থাকে। মুভমে দ্যু নি’-র কর্মীরাই মৃত যৌনকর্মীদের হয়ে ক্লায়েন্টের সঙ্গে চ্যাট করে যায়। দিনে কমপক্ষে ৬০০ ক্লায়েন্টের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়। চ্যাটের একটা সময় যখন ক্লায়েন্টরা সার্ভিস চায়, তখন জানিয়ে দেওয়া হয় এতক্ষণ যাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন সে মৃত। তাই সার্ভিস সম্ভব নয়। এঁরা প্রত্যেকেই ক্লায়েন্টের হাতে খুন হয়েছে।
এবার আসি পুরুষের বিপদ নিয়ে কথায়। পুরুষ যৌনকর্মীদের নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা করব। পুরুষদের ‘গণিকা’ বা ‘পতিতা’, ‘বেশ্যা’ বলা যায় না। এগুলি স্ত্রীবাচক শব্দ। পুরুষরা শরীর বিক্রি করে রোজগার করলেও পুংবাচক কোনো শব্দ এখনও তৈরি হয়নি। তাই ‘যৌনকর্মী’ শব্দেই আটকে থাকতে হচ্ছে। সারা পৃথিবীতেই পুরুষ-যৌনকর্মীদেরও ব্যাপক চাহিদা আছে। আর পাঁচটা পেশার মতো এই পেশাও পুরুষদের কছে কম আকর্ষণীয় নয়। রোজগার মেয়েদের মত না-হলেও নেহাৎ কম নয়। চাকরির বাজার যতই সংকুচিত হচ্ছে, ততই এই পেশায় আসার ঝোঁক বাড়ছে পুরুষদের। অটোমেশনের যুগে এখন প্রায় সব কাজ মেশিনই করে দিচ্ছে। ফলে হিউম্যান বডি আর তেমন প্রয়োজন হচ্ছে না। কম্পিউটার আর রোবট-মেশিন ১০০ জনের কাজ একাই করে দিতে সক্ষম। নিয়োগ বলতে গেলে একেবারেই বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগ হলেও সেখানে প্রতিযোগিতা তীব্র। ২০০ পদের শূন্যপদের জন্য ২ কোটি চাকুরিপ্রার্থীর লাইন। ২০০ জনের চাকরি না-হয় হল, বাকিরা কী করবে! হাতে রইল যৌনতার বাজার বা অন্য কিছু। পুরুষদের বাজার মেয়েদের বাজারের মতো ততটা বড়ো না-হলেও বাজার ক্রমশ বাড়ছে। অনেক পুরুষই এই পেশায় আসছে, কাজ করছে। অনেক আগ্রহী পুরুষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই কাজ করার জন্য। সম্প্রতি সমীক্ষার জন্য ‘পুরুষ যৌনকর্মী চাই’ বলে ফেসবুকে একটি ফেক পেজ খুলেছিলাম। লিখলাম ‘Add me 30+ handsome male for income with real fun’। প্রতিদিন শোয়ে শোয়ে রিকোয়েস্ট আসতে থাকল। অনেককেই অ্যাকসেপ্ট করলাম। সবাই পাগলের মতো জানাতে থাকল এই কাজ করতে চায় বলে। জানতে চায় কীভাবে করতে হবে, কোথায় করতে হবে। অনেকেই আগাম নিজের ফোন নম্বর দিয়ে জানাল সে খুবই আগ্রহী, তাঁর সঙ্গে যেন যোগাযোগ করে নিই। যাঁদের রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করতে পারিনি বা করিনি, তাঁরাও আকুতি নিয়ে রিকোয়েস্ট মেসেঞ্জারে তাঁদের ফোন নম্বর রেখে গেল। পুরুষদের কতটা যৌনপেশায় আসতে আগ্রহী সেটা জানতেই এই ফেক পেজ খুলেছিলাম। কাজ মিটে যেতে যেতেই পেজটি ফেসবুক থেকে ডিঅ্যাক্টিভেট সহ ডিলিট করে দিই। যাই হোক, চিত্রটা খানিকটা হয়তো বোঝা গেল। বিপদ ও প্রতারণার সুযোগটা তো এখান থেকেই। একশ্রেণির মানুষ এই সুযোগটা নিতে শুরু দিল। ট্রেনে, বাসে, পথে-ঘাটে, সোসাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপিত হতে থাকল–“প্লেবয় চাই। দারুণ মজার কাজ। রথ দেখা কলা বেচা দুইই হবে। সক্ষম পুরুষরা যোগাযোগ করুন। স্মার্ট জব স্মার্ট মানি। সার্ভিস সপ্তাহে দু-দিন পাবেন। এই কাজ শুরু করতে কোনো রেজিস্ট্রেশন চার্জ লাগে না। শুধুমাত্র আপনার মেডিকেল করাতে ২০০০ টাকা লাগে।” সঙ্গে অবশ্যই ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ফোন নম্বর। কী ভাবছেন? ভাববেন পড়ে। এখন শুনেনি এক যুবকের অভিজ্ঞতার কাহিনি। অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি তাঁকে। এটা ওটা বলার পর সে জানাল তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। জানাল বলা ভুল হল, বরং বলা ভালো শোনাল। তাঁদের ফোনে কনভারসানের রেকর্ড আমাকে পাঠিয়ে দিল। যুবকটি এমনই এক ফোন নম্বরে কল করেছিল। কল রিসিভ করল একজন মেয়ে। যুবকটি তাঁর আগ্রহের কথা জানালে ওরা যা বলল, সেটার হুবহু অনুলিখন করলাম।
–নমস্কার স্যার। আপনার বয়সটা বলবেন স্যার?
–থার্টি ফাইভ।
–বাঃ, আপনি যৌন-সক্ষম তো?
–হ্যাঁ।
–আপনি কাজ করতে চান?
–হ্যাঁ। কীভাবে কাজ পাব? কাজ কোথায় হবে? রোজগার কেমন হবে?
–আপনাকে ডিটেইলস বলে দিচ্ছি। আমাদের কাছে প্রচুর মহিলাদের ফোন নম্বর ঠিকানা আছে, যাঁরা সেক্সের ক্ষেত্রে আনসাটিসফায়েড। আপনাকে তাঁদের সেক্স সাটিসফায়েড করতে হবে। সবাই হাই প্রোফাইলের মহিলা। ওরাই আপনার ক্লায়েন্ট। সপ্তাহে দু-দিন কাজ পাবেন। ক্লায়েন্ট পিছু দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার পাবেন। আমরা আপনার রোজগার থেকে ক্লায়েন্ট পিছু ২০% নেব।
