–এখানে মেয়ে পাওয়া যাবে?
–পাওয়া যাবে স্যার। সুন্দরী সুন্দরী মেয়েদের পাওয়া যাবে।
–রেট কীরকম?
–আমাদের সেন্টারে এলে অবিবাহিতা কলেজ গার্ল প্রতি ঘণ্টায় ৩০০০ টাকা, বিবাহিতা ঘরোয়া মহিলা ২৫০০ টাকা, বিধবা বা ডিভোর্সি ২০০০ টাকা। এটা নন-এসির রেট, এসি নিলে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা। আপনার নিজস্ব জায়গাতে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দিতে হবে। ট্রান্সপোর্টেশন খরচও আপনার।
–কোনো ঝুটঝামেলা নেই তো?
–একদম ঝুটঝামেলা নেই। ১০০ % নিরাপদ ও সুরক্ষিত। কবে আসবেন স্যার? আজই আসবেন?
–না, আজকেই যাচ্ছি না। সময় সুযোগ পেলে ফোন করে নেব।
–ঠিক আছে স্যার। এটা আপনার হোয়াটস অ্যাপ নম্বর? কিছু মেয়েদের ছবি পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি পছন্দ করতে পারেন। আপনি যখন আসবেন আমাদের জানালে আপনাকে সম্পূর্ণ ঠিকানা আর পথনির্দেশ দিয়ে দেব।
‘এসকর্ট গার্ল’ বলতেই একঝাঁক স্মার্ট শিক্ষিত মেয়েদের ছবি ভেসে ওঠে। বাস্তবিকই। আপনি ঠিকানা পেয়ে গেলেন একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট ফ্লাটে। দরজা বন্ধই থাকে। কলিং বেল টিপলেই দরজা খুলে যাবে। ভিতরটা শুনশান ফাঁকা। আপনাকে একটি ঘরে বসানো হবে। দুজন বা তিনজন ধোপদুরস্ত জিনস টি-শার্ট পরিহিতা স্মার্ট মেয়ে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আপনাকে বলবে–“আমরা তিনজন আছি। কাকে পছন্দ?” প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এই তিনজনের মধ্যে থেকে একজনকেও যদি আপনার পছন্দ না হয়, তখন আপনাকে হোয়াটস অ্যাপ খুলে অন্য মেয়েদের ছবি দেখানো হবে। হোয়াটস অ্যাপের কোনো মেয়ে পছন্দ হলে সেই মেয়েকে সেদিন আপনি পাবেন না। আপনাকে বলা হবে, একটি নির্দিষ্ট দিনে আপনি পাবেন। তারিখ-সময় ফাইনাল হলে সেই মেয়েকে ডাকিয়ে আনা হবে আপনার জন্য।
উপরের সংলাপটি কাল্পনিক নয়, একটি ফাইন্ড ফ্যাক্ট। সার্ভিস পরিস্থিতি অনুযায়ী সংলাপ অন্যরকমও হতে পারে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, যেই মূহুর্তে আপনি সার্ভিস জোনে ঢুকে পড়লেন, আপনাকে নজরে রাখতে পারে কোনো গোপন ক্যামেরা। কিন্তু আপনার কাছে থাকা কোনো গোপন ক্যামেরার কার্যকারিতা থাকবে না।
কলেজ ছাত্রী থেকে গৃহবধূ, বিমানসেবিকা থেকে কলসেন্টার কর্মী, এমনকি মডেল গার্ল, টিভি বা সিনেমার অভিনেত্রীদের তালিকাও এই এসকর্ট সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত। উপযুক্ত টাকা খরচ করতে পারলেই যেমন বাঘের দুধ মেলে, তেমনি শয্যাসঙ্গিনীও মেলে। সবচেয়ে কম খরচ কলেজ পড়ুয়া বা ঘরোয়া গৃহবধূদের ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি খরচ হবে স্ট্রাগলিং অ্যাক্ট্রেস বা ভিআইপি মডেল গার্লদের ক্ষেত্রে। ঘণ্টায় এক লাখ টাকাও হতে পারে। গোটা রাতের জন্য হলে আরও বেশি। আবার এই টাকার অঙ্কের পরিমাণ নির্ভর করবে ওই সময়ের মধ্যে তাঁর সঙ্গে কতবার যৌনমিলন করবেন তার উপর। তবে কোথাও প্যাকেজ সিস্টেম চালু আছে। যেমন ধরুন এক ঘণ্টায় চুক্তিতে ২০০০ টাকার বিনিময়ে আপনি সর্বাধিক চারবার যৌনমিলন করতে পারবেন। আপনি চুক্তিবদ্ধ হলে আপনার সঙ্গে যে মেয়েটি যাবে সে তাঁর সঙ্গে চারটি কন্ডোম নিয়ে নেবে। মনে রাখবেন, কন্ডোম ছাড়া আপনি কোনো মেয়ের সঙ্গেই যৌনমিলন করতে পারবেন না। কোনো কোনো এসকর্ট সেন্টারে ক্লায়েন্টের কাছ থেকে যৌনমিলন করার আগে টাকা নেওয়া হয়, কোথাও-বা যৌনমিলন করার পর টাকা নেওয়া হয়।
এই সার্ভিসে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারী নেই। কোনো দালালের মাধ্যমে এসকর্ট সার্ভিস আপনি পাবেন না। এই সার্ভিস সম্পূর্ণভাবে অনলাইন-নির্ভর। এসকর্ট সার্ভিসগুলি ছড়িয়ে শহর বা শহরের বাইরে ছড়িয়ে আছে। সল্টলেক, লেক টাউন, রাজারহাট, মধ্যমগ্রাম, এয়ারপোর্ট এলাকা, পার্কস্ট্রিট, ধর্মতলা, বড়োবাজার, যাদবপুর, ভবানীপুর, বারাকপুর, নৈহাটি, দুর্গাপুর—কোথায় এই সার্ভিস পাওয়া যায় না! ওয়েবসাইটগুলি ঘাঁটলে আপনি কোনো কোনো সাইটে পেয়ে যেতে পারেন সংশ্লিষ্ট মেয়েটির ছবি সহ শারীরিক বিবরণ। যেমন–বয়স, চুলের রং, চোখের রং, গায়ের রং, উচ্চতা, ওজন, স্তনের সাইজ, কোমরের সাইজ, নিতম্বের সাইজ, মদ্যপান করে কি না, ধূমপান করে কি না ইত্যাদি সমস্ত তথ্য। আজকাল ফেসবুকেও এসকর্ট সার্ভিসের পেজ খোলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবার আগে এগিয়ে।
এসকর্ট হল ছকভাঙা যৌনযাপন। এখানকার মেয়েরা কেউ কেউ আর পাঁচটা পেশার মতো করে পেশাকে বেছে নিয়েছে। আর পাঁচজন অফিস-কর্মীর মতো সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ধরে চলে আসে সেন্টারে, আবার সন্ধ্যায়। বাড়ি ফিরে যায় আর পাঁচজন অফিস-কর্মীর মতোই। বাড়ির মা-বাবা-সন্তান-স্বামী জানেন তাঁদের মেয়ে-মা-স্ত্রী চাকরি করতে যাচ্ছেন, আর চাকরি করে বাড়ি ফিরছেন। এমন চাকরি, যাতে মাঝেমধ্যে নাইট ডিউটিও করতে হয়। এসকর্ট গার্লদের একটা অংশ শুধুমাত্র হোটেল-রিসোর্টে গিয়ে সার্ভিস দেয়। এক্ষেত্রে আপনি এঁদের সার্ভিস পেতে কোনো সাইট থেকে যোগাযোগ করলে এঁরা আপনার কাছ থেকে জানতে চাইবে আপনি কোন্ হোটেলে আছেন সেই হোটেলের নাম, ঠিকানা ও রুম নম্বর। আপনার এসব তথ্য নিয়ে ঠিক সময়মতো পৌঁছে যাবে রুমের কাছে, আপনার পছন্দের হার্টথ্রব গার্ল। এঁরা সাইটগুলিতে নিজেদের ছবি ও শরীরের বিস্তারিত বিবরণ সহ বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে।
