তবে নিষিদ্ধপল্লি বা লালবাতি এলাকা বা Red light area শব্দটির অর্থ আরও বিস্তারে ভাবা হয়েছে।এই অঞ্চল বলতে বোঝায় যৌনশিল্প সংক্রান্ত বাণিজ্যের অস্তিত্ব, যেমন–সেক্স শপ, স্ট্রিপ ক্লাব বা অ্যাডাল্ট থিয়েটার। কোনো কোনো নিষিদ্ধপল্লিতে যৌনকর্মীরা বৈধভাবে ব্যাবসা চালায়, কিন্তু বেশ কিছু অঞ্চল তাঁদের বেআইনি কার্যকলাপের জন্য কুখ্যাত। ১৮৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মিলওয়াউঁকির সংবাদপত্র ‘দ্য সেন্টিনাল’ এ একটি নিবন্ধে ‘Red-light distric’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়। ১৮৯০-র দশকে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বহু ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিল। অনেক মনে করেন ‘রেড লাইট’ বা ‘লালবাতি’ কথাটির উৎস রেলওয়ে কর্মচারীদের লাল লণ্ঠন। এই লণ্ঠন তাঁরা গণিকালয়ে প্রবেশের আগে বাইরে রেখে যেত, যাতে ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত যে-কোনো প্রয়োজনে তাঁদের সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। অন্যমতে, প্রাচীন চিনে গণিকালয়ের বাইরে ঝুলিয়ে রাখা যৌনোদ্দীপক লাল রঙের কাগুঁজে লণ্ঠন থেকে এই শব্দের উৎপত্তি।
বাইবেলের একটি কাহিনিতে দেখা যায়, জেরিকো অঞ্চলে রাহাব নামে এক গণিকা জোশুয়ার গুপ্তচরদের মদত দিয়েছিল এবং নগর দখলের পর লুণ্ঠনের সময় তাঁরা যাতে সহজেই রাহাবের বাড়ি চিনতে পারে এবং সেই বাড়িটিকে রেহাই দেয় সেইজন্যে সে একটি লাল দড়ি দিয়ে তাঁর বাড়ি চিহ্নিত করে রাখত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের বহু গণিকালয়ে নীল ও লাল রঙ দিয়ে যথাক্রমে অফিসারদের ও অন্যান্য পদের লোকেদের ব্যবহৃত গণিকালয় চিহ্নিত করা হত।
লালবাতি এলাকার জাপানি নাম ‘আকাসেন’, বাংলা তর্জমায় অর্থ হল–লাল রেখা। জাপান পুলিশ মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে দিয়ে নিষিদ্ধপল্লির সীমা নির্ধারণ করত। সেই থেকে এই নামের উৎপত্তি। তাঁরা ‘আওসেন’ বলেও একটি শব্দ ব্যবহার করত, যাঁর বাংলা ভাষায় অর্থ ‘নীল রেখা। নীল রেখা দিয়ে তাঁরা বেআইনি কার্যকলাপপ্রবণ অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করত। যাই হোক, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে লালবাতি অঞ্চলকে বিভিন্ন রূপে দেখা যায়, কিন্তু আদতে এগুলি গণিকালয়েরই বিভিন্ন রূপ।
(৩) সেক্সডল গণিকালয় : না, এখানে কোনো হিউম্যান বডি গণিকাবৃত্তি করে না। সেক্সডল কোনো রক্তমাংসের উষ্ণ শরীর নয়। সেক্সডল কৃত্রিম প্রযুক্তিতে তৈরি সিলিকনের নারীশরীর। পৃথিবীর বেশ কিছু উন্নত দেশে সেক্সডলের চাহিদা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। নিরাপদ যৌনকর্মী বা জীবনসঙ্গীর অভাব পূরণ করতেই সেক্সডলের আবির্ভাব। আমেরিকা, জার্মানি, চিন সহ বিশ্বের একাধিক দেশেই কথা বলতে পারে এমন সেক্সডলের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি হচ্ছে। এই সেক্সডলগুলি রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভারতীয় মুদ্রায় এক একটি কথা বলতে পারা’ সেক্সডলের দাম আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। সবচেয়ে বেশি সেক্সডল প্রস্তুত হয় চিনেই। চিনের কারখানায় ভিন্ন ধরনের সেক্সডলের নির্মাণ হয়ে থাকে। এমনই এক কারখানার নাম WMDOLL। সেক্সডলের চাহিদায় এই সংস্থা প্রায় ৮০ শতাংশ সেক্সডল প্রস্তুত করে থাকে। এই সংস্থার ৫০ শতাংশ অংশীদারী আমেরিকার। বলে রাখি, এইসব কারখানায় শুধু যে নারীশরীরের সেক্সডল তৈরি হয় তা কিন্তু নয়, যথেষ্ট পরিমাণে চাহিদা অনুযায়ী পুরুষশরীরের সেক্সডলও তৈরি করা হয়।
সেক্সডলের সঙ্গে সেক্স করলে তাঁকে গণিকা বলা হবে কি না, সেক্সডল খাঁটিয়ে কেউ কোথাও যৌনব্যাবসা হলে সেটাকে গণিকালয় বলা হবে কি না, ঘরওয়ালিকে মক্ষীরানি’ বলা যাবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হতে পারে। তবে সেক্সডল নিয়ে গণিকালয় তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। সাধারণভাবে পুরুষরা যেমন বাড়তি যৌন মনোরঞ্জনের জন্য গণিকালয়ে গিয়ে থাকে বা বাগানবাড়িতে গণিকা নিয়ে এসে মনোরঞ্জন করে থাকে। তারপর সময়ের বিবর্তনে মানুষ যৌনতার একঘেঁয়েমি কাটানোর জন্য সেক্সরোবট ব্যবহারও করতে থাকে। থেমে থাকে না স্বপ্ন। আমেরিকার এক শহরে এমন এক গণিকালয় খোলার কথা ভেবেছিল, যেখানে অর্থের বিনিময়ে সার্ভিস দেবে সেক্সডল। সেক্সডল তো সেই অর্থ রোজগার করবে না, রোজগার করবে সেক্সডলের মালকিন। তবে সেই সেক্সডল গণিকালয়ের অনুমোদন মঞ্জুর হয়নি। অনুমোদন করা হয়নি এই কারণে যে, এই ধরনের গণিকালয় জনপ্রিয় হয়ে উঠলে হিউম্যান বডি গণিকালয়ের জনপ্রিয়তা হারাবে। ফলে বহু মেয়েরা যেমন জীবিকা হারাবে, পেশায় সঙ্গে জড়িত বহু মানুষ সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে। অর্থনীতিও ভেঙে পড়বে। কানাডার এক প্রতিষ্ঠান Kinkysdolls সেক্সডল নিয়ে একটি গণিকালয় খোলার প্রস্তাব দিয়েছিল। এ বিষয়ে একটি অনলাইন মতামত নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ১২,০০০ মানুষের সমর্থন পাওয়া গিয়েছিল। তবে অনেকেই মনে করেন, এমন গণিকালয় হলে মহিলারা শুধুই পণ্যভোগ্য সামগ্রীতে পরিণত হবে। কেউ কেউ মনে করেন এর ফলে সমাজে আসবে বৈষম্য, বাড়বে হিংসা। তবে টরেন্টো ও প্যারিসে এরকম সেক্সডল গণিকালয় অনেক আগে থেকেই ছিল। এছাড়া অস্ট্রিয়া, সাউথ কোরিয়া, চিন, ইউনাইটেড স্টেট ছাড়াও অন্যত্র এই ধরনের।
(৪) এসকর্ট (Esort) : এসকর্ট সার্ভিস সাধারণত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই জানানো হয়। এই বিজ্ঞাপনে কোনো ঠিকানা থাকে না, থাকে ফোন নম্বর। গুগল সার্চ করলে এরকম অসংখ্য এসকর্টের খবর পাওয়া যাবে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারও দেখতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ভাষায় পত্রপত্রিকাতে বিজ্ঞাপনও দেখতে পাওয়া যায়। ফোন নম্বরে ফোন করলে ওপাশ থেকে নারীকণ্ঠ অথবা পুরুষকণ্ঠে ভেসে আসবে–ওয়েলকাম স্যর।
