কেমন ছিল সেই চোদ্দো আইন? একটু দেখে নেওয়া যাক–(১) ১৮৬৯ সালের ১ এপ্রিলের পর থেকে কলকাতা ও শহরতলিতে কোনো নারী বা কোনো ব্যক্তি নিজ নিজ বাসস্থান যে থানার অধীন সেই থানায় রেজিস্ট্রি না করে গণিকাবৃত্তি ও গণিকালয় রক্ষকের কাজ করতে পারবে না। (২) প্রত্যেক থানায় ইন্সপেক্টর নিজ নিজ থানা এলাকায় যে যে সাধারণ গণিকা ও গণিকালয় রক্ষক বাস করে তাঁদের রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে। (৩) কোনো সাধারণ নারী গণিকাবৃত্তি করতে ইচ্ছা করলে তাঁর নিজের নাম, বয়স, জাতি বা ধর্ম, জন্মস্থান, বাসস্থান এবং যে সময়ে গণিকাপেশায় যুক্ত হয়েছে এবং যদি কোনো গণিকালয়ে বর্তমানে বাস করে, তাহলে সেই বাড়ির কর্তারও রক্ষকের নাম এবং পরে লিখিত জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে তার নম্বর সহ সমস্ত তথ্য থানায় নিজে এসে লেখাতে হবে। (৪) থানার ইন্সপেক্টর সেইসব বিবরণ পাওয়ামাত্র থানায় যে রেজিস্ট্রি বুক (ফর্ম–এ) রাখা থাকবে তাতে লিখে ওই টিকিট কমিশনার সাহেবের স্বাক্ষরের জন্য তাঁর অফিসে পাঠিয়ে দিতে হবে। (৫) থানায় রেজিস্ট্রি বুকের মতো সমস্ত শহর ও শহরতলির জন্য পুলিশ অফিসে যে জেনারেল রেজিস্ট্রি বুক রাখা হবে, সেই রেজিস্ট্রি বুকে কমিশনার সাহেব ওই গণিকাকে রেজিস্ট্রি করবেন। জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে ওই গণিকার যে নম্বর হবে সেই নম্বর রেজিস্ট্রেশন টিকিটের প্রথম ঘরে লিখতে হবে। এটা লেখা হলে উক্ত টিকিট কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার সাহেবের দ্বারা স্বাক্ষরিত হয়ে থানার ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠাতে হবে। ইন্সপেক্টর নিজের রেজিস্ট্রি বুকে উক্ত রেজিস্ট্রেশন টিকিটে লিখিত নম্বর লিখে নিয়ে যাঁর টিকিট তাঁকে দেবেন। (৬) প্রত্যেক গণিকালয় রক্ষক যে থানার এলাকায় নিজের পেশায় চালায় সেই থানায় তাঁকে রেজিস্ট্রি করতে হবে আর রেজিস্ট্রি করার সময় নিজের নাম, বাসস্থান এবং যে বাড়িতে কী ঘরে কী স্থানে যৌনক্রিয়ার মাধ্যমে রোজগার করে, তা লেখাতে হবে থানার ইন্সপেক্টর উক্ত বিবরণ থানায় যে রেজিস্ট্রি বুক (ফর্ম–সি) রাখা হবে সেই বইয়ে লিখিয়ে নেবেন। তারপর রেজিস্ট্রি টিকিট (ফর্ম–ডি) লিখে ওই টিকিট কমিশনার সাহেবের স্বাক্ষরের জন্য জন্য তাঁর অফিসে পাঠিয়ে দেবে।(৭) কমিশনার সাহেব তাঁর অফিসে এক রেজিস্টার বুকে প্রত্যেক গণিকালয় রক্ষকের নাম এবং অন্যান্য তথ্য লিখে রাখবেন। (৮) কমিশনার সাহেবের অফিসের জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে গণিকালয় রক্ষকদের রেজিস্ট্রেশনের যে নম্বর হবে টিকিটেও সেই নম্বর দেওয়া হবে। আর ওই টিকিট কমিশনার কিংবা ডেপুটি কমিশনার সাহেবের স্বাক্ষর হলে যে থানা এলাকায় ওই গণিকালয় রক্ষক নিজের পেশা চালিয়ে যেতে চায় সেই থানার ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠানো হবে। (৯) কমিশন সাহেবের দ্বারা টিকিটে যে নম্বর দেওয়া হবে সেই নম্বর ইন্সপেক্টর রেজিস্ট্রি বুকে লিখে যাঁর টিকিট তাঁকে ফিরিয়ে দেবে। (১০) যদি কোনো মহিলা কিংবা কোনো ব্যক্তি পূর্বোক্ত মতে রেজিস্ট্রি না করে এবং পূর্বের মতে রেজিস্ট্রেশন না করে গণিকাবৃত্তি করে কিংবা গণিকালয় চালায় তাহলে তাঁকে এবং তাঁদেরকে সমন জারি না করেই (১৮৬৮ সালের ১৪ আইন মোতাবেক) গ্রেফতার হতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হবে বিচারের জন্য। (১১) কোনো রেজিস্ট্রিকৃত গণিকার নিজের বাসস্থান পরিবর্তন করার ইচ্ছা হয়, তখন তাঁকে কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার সাহেবের কাছে নিজে গিয়ে অথবা ইংরেজিতে আবেদনপত্র লিখে যে গলিতে বা অঞ্চলে বসবাস করতে ইচ্ছুক, সেই অঞ্চলের বাড়ির নম্বর এবং রক্ষকের নাম জানাতে হবে। সেইসঙ্গে পূর্বের রেজিস্ট্রিকৃত টিকিট জমা দিতে হবে সশ্লিষ্ট অফিসে। যদি কোনো গণিকালয়ে কেউ বাস করতে সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেই নতুন ঠিকানার গণিকালয়ের রক্ষকের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখিয়ে নিতে হবে।(১২) এমন আবেদনপত্র পেলে কমিশনার সাহেব রেজিস্ট্রেশন টিকিটে ও জেনারেল রেজিস্ট্রি বুকে প্রয়োজনমতো পরিবর্তন করতে নির্দেশ দেবেন এবং পূর্বোক্ত সেই গণিকাকে ফিরিয়ে দেবেন এবং পূর্বে ওই গণিকা যে থানায় রেজিস্ট্রি হয়েছে সেই থানা থেকে তাঁর নাম পরিবর্তন করে যে থানা এলাকায় সে বাস করতে চায় সেই থানায় তাঁকে পুনরায় রেজিস্ট্রি করতে আদেশ দেবেন। (১৩) কোনো গণিকা রেজিস্টার করে অন্য শহরে কিংবা শহরতলিতে গণিকাবৃত্তি ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁকে স্বয়ং এসে কিংবা ইংরেজি ভাষায় আবেদনপত্র লিখে কমিশনার সাহেবকে জানাতে হবে যে, তাঁর নাম যেন রেজিস্ট্রি বুক থেকে মুছে ফেলা হয় এবং ওই গণিকা যথার্থভাবে বৃত্তি বা পেশা ত্যাগ করেছে এমন প্রমাণ দিলে কমিশনার সাহেব তাঁর নাম জেনারেল রেজিস্টার ও থানার রেজিস্টার থেকে মুছে দিতে আদেশ করবেন এবং সেই গণিকার রেজিস্ট্রেশন ফিরিয়ে নেবেন। সেইসঙ্গে যে পর্যন্ত ওই আবেদনপত্রের চূড়ান্ত হুকুম না-হয়, সেই পর্যন্ত কমিশনার সাহেব যদি উচিত বিবেচনা করে তাহলে সেই গণিকাকে ‘মেডিকেল টেস্ট থেকে অব্যহতি দিতে পারেন। (১৪) যদি কোনো গণিকালয়ের রক্ষক নিজের বাসস্থান বা ব্যাবসার স্থান পরবর্তন করেন, তাহলে সে যে স্থানে চলে যাচ্ছেন সেই স্থানের নাম ও নম্বর দিয়ে কমিশনার সাহেবের কাছে ইংরেজি ভাষাতে আবেদন করবে এবং সেই আবেদনপত্রের সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন টিকিট দাখিল করবে।
