আসলে মহিলাদের যৌনাঙ্গ পুরুষদের যৌনাঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি জটিল, ফলে অর্গাজমে পৌঁছোতে মহিলাদের সময় অনেক বেশি লাগে। এছাড়া আরও অনেকগুলো ব্যাপার এখানে কাজ করে, কিছু মহিলা তাঁদের ‘জি-স্পট’-এ স্পর্শ করলেই উত্তেজিত হয়ে যান। মহিলাদের ৯ রকমের অর্গাজম হতে পারে। একদিনেই হতে পারে, আবার বিভিন্ন দিনেও হতে পারে। তবে সব মহিলার যে এরকম যৌন অভিজ্ঞতা হতেই হবে, তা কিন্তু নয়। আপনি হয়তো ‘জি-স্পট’-এর কথা শুনেছেন, বেশিরভাগ মহিলার ঘাড়ের কাছে অথবা পিঠের দিকে এই স্পট থাকে, যেখানে পুরুষের স্পর্শ হলে মহিলারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কিন্তু জি-স্পট’ ছাড়াও ‘সি-স্পট’, ‘ও-স্পট’, ‘এ-স্পট’-ও থাকে একজন মহিলার। তা ছাড়া একজন মহিলার ক্লিটোরাল অর্গাজম, ভ্যাজাইনাল অর্গাজমও হতে পারে। মহিলাদের অর্গাজম পুরুষদের তুলনায় দেরিতে হলেও তার রেশ কিন্তু বেশ অনেকক্ষণ থাকে। সাধারণত অর্গাজমের অনুভূতি পুরুষদের মধ্যে সাত সেকেন্ড পর্যন্ত থাকে, সেখানেই মহিলাদের এই সুখানুভূতি ২৭ সেকেন্ডের বেশি সময় পর্যন্ত বজায় থাকে। আর মহিলাদের তো একবার না, বারবার অর্গাজম হতে পারে। অনেকেই ইজাকুলেশন এবং অর্গাজমের মধ্যে তফাত বুঝতে পারেন না। অর্গাজম হলেই যে ইজাকুলেশন হবে তার কোনো মানে নেই। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে তাঁরা অর্গাজমে পৌঁছেলে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না, তাঁদের ইজাকুলেশন হবেই। অনেক পুরুষ আবার একবার মাত্র ইজাকুলেট করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং ঘুমিয়েও পড়েন! স্কোয়ারটিং? সে আবার কী? খায় না মাথায় দেয়! এসব প্রশ্ন যদি আপনার মাথায় ঘোরে এই মুহূর্তে তা হলে বলে রাখি, স্কোয়ারটিং হল সেই অনুভূতি, যা আপনাকে অর্গাজমে পৌঁছোতে সাহায্য করে। অনেকেই আবার স্কোয়ারটিংকে অর্গাজম বলে ভুল করে ফেলেন। তবে সব মহিলার কিন্তু স্কোয়ারটিং হয় না। স্কোয়ারটিংয়ের জন্য আপনার সঙ্গীকে ঠিক পয়েন্টে আপনাকে ছুঁতে হবে এবং আপনি সম্পূর্ণভাবে তৃপ্ত হলে তবেই আপনার স্কোয়ারটিং হবে! তবে হ্যাঁ, মনে রাখবেন স্কোয়ারটিং, অর্গাজম এবং ইজাকুলেশন কিন্তু এক ব্যাপার নয়! অতএব মনে রাখতে হবে পুরুষদের যৌনকর্মে সীমাবদ্ধতা আছে, যে সীমাবদ্ধতা নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় নেই-ই। একজন নারী যৌনকর্মী প্রতিদিন যত সংখ্যক পুরুষকে যৌনসুখ দিতে পারে, একজন পুরুষ যৌনকর্মীর পক্ষে তত সংখ্যক নারীকে যৌনসুখ দিতে মোটেই সক্ষম নয়। তা ছাড়া নারীর অর্গাজম হোক বা না-হোক, একাধিক পুরুষের অর্গাজম দিতে সক্ষম। পুরুষের বীর্যস্থলনের সঙ্গে সঙ্গে বহুক্ষণ সময় লাগে অপর নারীর সঙ্গে যৌনসঙ্গে লিপ্ত হতে। এছাড়া একজন পুরুষের শারীরিক মিলনের সময়ে অর্গাজমে পৌঁছোতে যতটা সময় লাগে তার চেয়ে বেশ অনেকক্ষণ পর একজন মহিলা সেই চরমসীমায় পৌঁছেন। সেই কারণেই মহিলা যৌনকর্মীদের তুলনায় পুরুষ যৌনকর্মীদের রেট কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি।
ভারতেও বাড়ছে পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যা। সম্প্রতি যৌনকর্মীদের উপর সমীক্ষা চালাতে গিয়ে মাথায় হাত কেরালা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির। সম্প্রতি তাঁদের চালানো এক সমীক্ষাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেরালা স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি (KSACS)-র রিপোর্ট বলছে, গোটা কেরল জুড়ে শুধু ১৩,৩৩১ জন পুরুষ যৌনকর্মী আছে। আর সেখানে মহিলা যৌনকর্মীর সংখ্যা তার অর্ধেক। তথ্য বলছে গোটা রাজ্যে মাত্র মহিলা যৌনকর্মীর সংখ্যা ১৭,০০০। স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটির চালানো সমীক্ষা বলছে, অভিবাসী যৌনকর্মীর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। শুধু তাই নয়, সমীক্ষাতে উঠে এসেছে আরও কিছু তথ্য। সমীক্ষা বলছে, কেরালার বহু পুরুষ যৌনকর্মী পেশার তাগিদে বাইরে রাজ্যে যান। আবার অন্য রাজ্য থেকে কেরালায় আসা অভিবাসী পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যাও কম নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিবাসী পুরুষ যৌনকর্মী কেরালায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। সমীক্ষাতে উঠে আসা আরও তথ্য বলছে, গ্রাম থেকে বহু যৌনকর্মী তাঁরা আসছেন শহরে। যাদের বয়স ৩৬ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। কেরলের বিভিন্ন হোটেল, ফ্ল্যাট ভাড়া করে রমরমিয়ে তারা যৌন-ব্যাবসা চালাচ্ছেন। এমনকি কেরলে বেশি বয়সের বিভিন্ন মহিলা এবং পুরুষরা আছেন, তাঁরাও দালালির কাজ শুরু করে দিয়েছেন। স্থানীয় মানুষ ছাড়াও এদের মূলত টার্গেট বিদেশি এবং দেশি পর্যটকরা।
সমীক্ষাতে উঠে আসা তথ্য বলছে বাংলা থেকেও বহু পুরুষ যৌনকর্মী কেরলে গিয়ে যৌন-ব্যাবসায় নাম লেখাচ্ছেন। এছাড়াও বিহার এবং ওড়িশা থেকেও বহু লোকজন সেখানে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে সমীক্ষা। দেখা গিয়েছে, ওই যৌনকর্মীদের একটা অংশ কেরালায় কাজ করতে আসা ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের সম্পর্কে আত্মীয়। অভিবাসী যৌনকর্মীর হার সবচেয়ে বেশি কেরালার পেরুম্বাবুরে। এই যৌনকর্মীদের অধিকাংশই আবার বাঙালি। বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাঁরা এসেছেন। আবার পুরুষ যৌনকর্মীদের মধ্যে অধিকাংশই কোঝিকোড় জেলার। এই পুরুষ যৌনকর্মীদের মধ্যে ১০ হাজার আবার মাদকাসক্ত। যৌনকর্মীদের মধ্যে সবমিলিয়ে ১৫ জনের রক্তপরীক্ষায় এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন মহিলা যৌনকর্মী, ১১ জন পুরুষ যৌনকর্মী।
