ইতিহাস থেকে ভালো মন্দ জ্ঞান নিই আমরা। যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে যে কাজকে আমরা মন্দ বলি, সেই কাজকে দোযখের ভয়ে অথবা বেহেস্তের লোভে, অনেক লোক আছে, মন্দ বলে না। মানুষকে, শুধু তার ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাস বলে, বা কোনও ধর্মে বিশ্বাস নেই বলে, বা শুধু ইসলামে অবিশ্বাস বলে, মেরে ফেলার কথা ইসলাম ছাড়া আর কোনও ধর্ম বলেনি। অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে নারীবিরোধ আছে, মানবাধিকারের বিপক্ষে অজস্র কথা আছে, কিন্তু অন্যান্য ধর্মের বেশির ভাগ মানুষ আক্ষরিক অর্থে সেইসব শ্লোক এখন আর গ্রহণ করে না। দেশে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শিশুর অধিকার, নারীর অধিকার আর বাক স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে আইন তৈরি হয়েছে, সংবিধান রচিত হয়েছে। ব্যাতিক্রম শুধু মুসলিম দেশগুলোয়। দেশগুলোয় মৌলবাদী নয়, সন্ত্রাসী নয়, এমন মুসলিমের সংখ্যা প্রচুর হলেও ইসলামের বৈষম্যমূলক আইনকে এবং নারীবিরোধকে অস্বীকার করার প্রবণতা কিন্তু খুবই কম। আল্লাহ বলেছেন, মুসলমান হওয়া মানে কোরান আর হাদিসের প্রতিটি অক্ষরকে বিশ্বাস করা। এই অবস্থায় কোন মুসলমানের সাধ্য আছে বিশ্বাস না করার!
মুসলমানরা যদি আক্ষরিক অর্থে কোরান হাদিসকে না নিত, যদি অশিক্ষিত মোল্লাদের ইসলাম শিক্ষার গুরু বনার সুযোগ দেওয়া না হতো, যদি মসজিদ মাদ্রাসাগুলোকে মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর জায়গা হিসেবে বা মগজধোলাইয়ের কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা না হতো, তাহলে আমরা হয়তো অন্য এক সমাজ দেখতে পেতাম। পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মীয় গোষ্ঠী নতুন যুগের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তিত হয়েছে। কেবল বিবর্তিত হতে গিয়ে মাঝপথে আটকে রয়েছে মুসলিম সমাজ।
আরীব মজিদ একা নয়, ভারতের আরও মুসলিম তরুণ ইরাক ও সিরিয়ার সন্ত্রাসী দল আইসিসে যোগ দিয়েছে। শাহীন তাংকি, ফরহাদ শেখ, আমান টাণ্ডেল। এরা আরীবেরই বন্ধু। আরীব মজিদ দেশে ফিরলেও বাকিরা ফেরেনি। আরীবের শরীরে যদি গুলি না লাগতো, তাহলে সে ফিরতো না। একের পর এক সে মানুষকে জবাই করে যেতো। আরীব বলেছে, তার বা তার বন্ধুদের মগজধোলাই কেউ করেনি। তারা নিজেরাই ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসে যোগ দেবে। তারা বিশ্বাস করে, পৃথিবীর সব মুসলিমের দায়িত্ব ইসলামি দুনিয়া কায়েম করা, যে দুনিয়ায় মুসলিম ছাড়া আর কারও স্থান নেই। অমুসলিমের জগতকে ধীরে ধীরে মুসলিমের জগতে পরিবর্তিত করার মহান দায়িত্ব, আরীব বিশ্বাস করে, তার আর তার বন্ধুদের মতো তরুণ প্রজন্মের। সে যাক, আমাদের ভুললে চলবে না, আরীব কিন্তু এমন একটা দেশের নাগরিক, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক অমুসলিম, হিন্দু। আইসিসের আদর্শে আরীব দীক্ষিত হয়েছে, সুতরাং আরীব ভালো করেই জানে আইসিসের আদর্শে কোনও অমুসলিমের ঠাঁই নেই, কোনও নাস্তিকের, কোনও আইসিসবিরোধীদের স্থান নেই।
এখন প্রশ্ন হলো, আরীব কি কোনও শাস্তি পাবে না? এখানেই আশংকা। ভারতে আইসিআরীব মজিদকে নিরীহ ভাবার কোনও কারণ নেই। আরীবের বাবা বলছেন, আরীবকে নয়, আরীবের মগজধোলাই যারা করেছে, তাদের শাস্তি দেওয়া হোক। চমৎকার প্রস্তাব, কিন্তু মুশকিল হলো, আরীবের মগজধোলাই যারা করেছে, তাদেরও তো মগজধোলাই কেউ না কেউ করেছে। আবার সেই কেউ না কেউএর মগজধোলাইও অন্য কেউ করেছে।সবিরোধী কোনও আইন নেই। তার ওপর আরীব ভারতের মাটিতে কোনও সন্ত্রাস করেনি। করেছে ইরাকে, করেছে সিরিয়ায়। দূর বিদেশে সন্ত্রাস করার শাস্তি কী হতে পারে, এ নিয়ে ভারতের আইনবিশেষজ্ঞরা চিন্তাভাবনা করে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনে ১২৫ ধারায় যদি এশিয়ার কোনও দেশের বিরুদ্ধে, যে দেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক আছে, ভারতীয় কোনও নাগরিক যুদ্ধ করে, তাহলে তার শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন। এই আইনে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর অনুমতি নিতে হয়। জানি না এই আইনটি কত জুৎসই হবে আরীবের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ ধারণা করছে আরীব ক’দিন পরই মুক্তি পেয়ে যাবে। ভারতের রাজনীতিতে মুসলিম তোষণ নীতি আবার ভয়ংকর একটা নীতি। এই নীতি হিন্দুত্ববাদী দলকেও মেনে চলতে হয়। যদি এমনই অবস্থা, তাহলে সরকারও সম্ভবত আরীব মজিদের বিরুদ্ধে কঠিন কোনও ব্যবস্থা নেবে না, কারণ ভারতের মুসলিমরা যদি আবার রাগ করে! জনসংখ্যার পঁচিশ ভাগকে কার সাধ্য আছে অখুশি করে!
আরীব মজিদরা যদি মুক্তভাবে চলাফেরা করে ভারতবর্ষে, তবে কট্টর সুন্নি মুসলিম ছাড়া এই ভারতবর্ষের আর কেউই নিরাপদ নয়। সবচেয়ে অনিরাপদ আমাদের মতো মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ইসলাম, ইসলামি শরিয়া, ইসলামি সন্ত্রাস বিরোধী মানুষ। আমাদের জবাই করার জন্য আরীব মজিদ তার ছুরিতে অনেক আগেই শান দিয়ে রেখেছে। এখন শুধু আমাদের গলাগুলো হাতের কাছে তার পেলেই হয়।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, নভেম্বর ৩০, ২০১৪
দূর থেকে হয় না
দূর থেকে হয় না
কাছে আসতে হয়,
কাছে এসে চুমু খেতে হয়,
ত্বক স্পর্শ করে ভালোবাসতে হয়,
চুল থেকে শুরু করে চোখ নাক চিবুক, বুক,
পেট তলপেট,
যৌনাঙ্গ,
পা, পায়ের নখ একটু একটু করে ছুঁতে হয়,
ছুঁয়ে ছুঁয়ে প্রেম করতে হয়।
দূর থেকে হয় না,
ফোনে ফেসবুকে হয় না,
তার চেয়ে কাছে এসো, স্পর্শ করো,
তোমার স্পর্শের অপেক্ষায় আমার সর্বাঙ্গ।
