ছবির শুরুতে মি. সরাইওয়ালার গুরুজি শ্রীমৎ ভোগানন্দের ফটো দেখানো হবে। ফটোর গলায় মালা। ধূপ জ্বলছে, প্রদীপ জ্বলছে, ফটোর গলায় মালা পরাচ্ছেন এক মহিলা। সরাইওয়ালার অনুরোধে শ্রীমতী দত্ত মালা পরাতে রাজি হলেন। সমস্ত ব্যাপারের জন্য ধরা হল দেড় মিনিট।
এরপর টাইটেল, টাইটেল সং ইত্যাদি। টাইটেলে ৪২০-র ফ্রেমে শূন্যের মধ্যে মায়ের মুখ থাকবে। সঙ্গে আবহসংগীত, কালীপুজোর ঢাকের বাদ্যি, তেড়ে-কেটে-তাক, তেড়ে-কেটে-তাক। পাবলিক এসব চায়। সব মিলিয়ে পাঁচ মিনিট ধরা হল। প্রথমেই একটা পাঁঠাবলির দৃশ্য। বিদেশ থেকে এই সব ছবি প্রাইজ আনে।
আস্তে আস্তে বই এগোতে লাগল। সরাইওয়ালা এবং শ্রীমতী দত্ত নিজ নিজ বুদ্ধি ও পছন্দমতো বলে যেতে লাগলেন। অন্যেরাও জোগান দিল।
চারটি নৃত্য সহযোগে গান। বইয়ের আরম্ভে এবং প্রায় শেষে দুটি ক্যাবারে নাচ। বম্বে থেকে আর্টিস্ট আসবে, নৃত্য পরিচালনায় মানসী দত্ত। এই ছয়টিতে যাবে গড়ে সাত-আট মিনিট করে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। আর দুটি সাধারণ গান, একটি নায়ক কিংবা নায়িকার, বাবার কিংবা মার মৃত্যুর পরে শ্মশানঘাটে, অন্যটি একটি চিঠি হাতে নিয়ে জানলায় দাঁড়িয়ে দূরের দিকে তাকিয়ে নায়িকার করুণ কণ্ঠে গান। এর জন্য আরও পনেরো মিনিট।
এই নিয়ে এক ঘণ্টা হল, আরও সোয়া ঘণ্টা নায়ক ও নায়িকার সেন্সরসিদ্ধ ঘনিষ্ঠ প্রেম তিন দফায় পনেরো মিনিট। চার স্থানে চারটে ব্যঙ্গ হিউমার আট মিনিট, এই সময় মানসী দত্ত আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন, মনে হল হয়তো হিউমারগুলো আমাকেই সরবরাহ করতে হবে। এ ছাড়া নায়িকার বিচার কোর্ট সিন আট মিনিট, থানা সিন পাঁচ মিনিট। গুণ্ডাদের সঙ্গে নায়কের একক লড়াই সবসুদ্ধ তিনবার, পনেরো মিনিট। নায়কের পিসিমার আবেগ-উচ্ছাস দু মিনিট, পূজার ঘরে ক্রন্দন দেড় মিনিট। নায়িকার জ্যাঠামশাইয়ের নায়কের ওপর হম্বিতম্বি চার মিনিট। আইন ও সেন্সর মেনে যতটা সম্ভব এম.এল.এ সাহেব এবং রাজনৈতিক নেতাদের অপমান সাত মিনিট, প্রবঞ্চনার দায়ে কারাবাসিনী নায়িকার পাথর ভাঙার হৃদয় বিদারক দৃশ্য পাঁচ মিনিট।
এইভাবে সোয়া দুঘণ্টা হয়ে গেল। কিন্তু আমার কেমন খটকা লাগল। গল্প? সবই তো হল কিন্তু গল্প কোথায়? আমার প্রশ্নটা বলতে মি. সরাইওয়ালা বললেন, এরপর আবার গল্প? মানসী দত্ত বললেন, গল্প লাগবে না। শুধু পটললাল বললেন, শুটিংয়ের সময় সেটা ডিরেক্টর বানিয়ে নেবেন। রাতে মণি ঢাকা থেকে ফোন করতে তাকে সব কথা বলায় সে বলল, গল্প নিয়ে ভাববেন না। কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে আপনার নাম দিয়ে দেব, তা হলেই যথেষ্ট।
পটললালের বিপদ
