মাসাই-যোদ্ধা কোমর থেকে সিমি (বড়ো ছোরা) খুলে লাফ মেরে এগিয়ে গেল চরম আঘাত করার জন্য তাড়াতাড়ি তাকে থামিয়ে দিলেন হান্টার, কী সর্বনাশ! ছোরার কোপ মারলে অমন সুন্দর চামড়াটা নষ্ট হয়ে যাবে যে!
ক্ষিপ্রহস্তে রাইফেল তুলে গুলি চালাতেই বর্শাবিদ্ধ, লেপার্ডের ভবযন্ত্রণা শেষ হয়ে গেল।
মাসাইদের সাহস ও বীরত্বের কথা তো বললাম, এবার তাদের চেহারা ও অস্ত্রের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে দু-একটা কথা বলছি।
মাসাইদের নাক, চোখ ও মুখের । গড়ন সুন্দর। কেউ কেউ মনে করেন । মাসাইদের দেহে রয়েছে প্রাচীন, মিশরবাসীর রক্ত।
চেহারার মতো মাসাইদের বর্শাও কিছু বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে। মাসাইদের বর্শার দু-দিকেই ধারালো লোহার ফলা বসানো, মাঝখানের অংশটিতে অর্থাৎ ধরার জায়গায় কাষ্ঠদণ্ড লাগানো থাকে। ওই ধরনের বর্শা অন্যান্য জাতির নিগ্রোরা ব্যবহার করে না। যুদ্ধ বা শিকার অভিযানে যাত্রা করার সময়ে মাসাই যোদ্ধা মাথায় উটপাখির পালক গুঁজে দেয়।
মাসাই জাতি যে কেবল হানাহানি আর মারামারি করতেই দক্ষ তা নয়, তারা অতিশয় অতিথিবৎসল এবং ভদ্র। অকারণে তারা বিদেশিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে না। [চৈত্র ১৩৬৮]
মরণ-ফাঁদ
মৃত্যুর রঙিন ফাঁদ!
ভাগ্যের পরিহাস!…
দুই বন্ধু যদি জানত যে পর্দার বুকে ডোরাডো মাছের সোনামাখা দেহের রং ছড়িয়ে মৃত্যু। তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তাহলে নিশ্চয়ই তারা কলোন থেকে বিমানযোগে ব্রিটিশ গায়নার হাইড পার্ক নামক অঞ্চলের দিকে যাত্রা করত না…।
ঘটনাটা খুলেই বলছি–
আমেরিকার একটি ক্লাবঘরে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়েছিল দুজন ইয়াংকি যুবক। উক্ত ছায়াচিত্রের প্রধান দ্রষ্টব্য ছিল অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী একটি অসাধারণ মৎস্য
গোল্ডেন ডোরাডো
বা
সোনালি ডোরাডো মাছ!
ছায়াচিত্রের পর্দায় বহুবর্ণরঞ্জিত রঙিন ফিল্মের কল্যাণে সোনার বরণ ডোরাডো মাছের অঙ্গশোভা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল দুটি যুবক–তারা ঠিক করলে কয়েকটি ডোরাডো মাছকে তারা ছিপ ফেলে ধরবে। অতএব, কলোন থেকে রওনা হয়ে তারা অবতীর্ণ হল ব্রিটিশ গায়নার হাইড পার্ক অঞ্চলে। হাইড পার্ক নামক স্থানটির চতুর্দিকে বনভূমি ভেদ করে ছুটে গেছে বিভিন্ন নদীর জলধার এবং ওইসব নদীর জলে সাঁতার কেটে ঘুরে বেড়ায় অসংখ্য সোনালি মাছ গোল্ডেন ডোরাডো!
হার্মান বেয়ার ও জন পিঙ্কনাম নামের মানুষ দুটি মাছের সন্ধানে যথাস্থানেই উপস্থিত হয়েছিল বটে কিন্তু তারা জানত না যে গোলাপের সঙ্গে কাটার মতো সোনারং ডোরাডোর আশেপাশে নদীর জলে হানা দিয়ে ঘুরে বেড়ায় ক্ষুধিত মৃত্যুর জীবন্ত অভিশাপ
সে-কথা ক্রমশ প্রকাশ্য..
এসো কুইবো নদীর উপর দিয়ে একটি পুরাতন মোটরবোটে মৎস্য-শিকারের যাবতীয় সাজসরঞ্জাম চাপিয়ে দুই বন্ধু যেখানে এসে উপস্থিত হল সেই জায়গাটির নাম রকস্টোন। পূর্বোক্ত স্থান ছাড়িয়ে তারা আরও ভিতরের দিকে মোটরবোট চালিয়ে দিলে।
সন্ধ্যার একটু আগেই হল বিপত্তির সূত্রপাত।
মোটরবোটের ঘূর্ণায়মান প্রপেলার সবেগে ধাক্কা খেল জলের নীচে অদৃশ্য কোনো কঠিন বস্তুর সঙ্গে তৎক্ষণাৎ ঘটাং ঘট!
সশব্দে ভেঙে গেল প্রপেলারের একটি পাখা। জন চেঁচিয়ে উঠল, নিশ্চয় জলে-ডোবা কোনো পাথরে ধাক্কা লেগেছে… কী আশ্চর্য! কোনো পাথর-টাথর তো দেখতে পাচ্ছি না!
হার্মান বোটের উপর থেকে দৃষ্টিকে চালিত করলে নদীর বুকে
কয়েক ফিট নীচে পর্যন্ত যতদূর নজর যায় চোখে পড়ে শুধু জল আর জল, নিমজ্জিত কোনো প্রস্তরখণ্ডের অস্তিত্ব সেখানে নেই।
দুজনেই হতভম্ব!
কঠিন কোনো বস্তুর সঙ্গে ঘূর্ণিত প্রপেলারের সংঘাতে যে শব্দের সৃষ্টি হয়েছিল তারা দুজনেই সেই আওয়াজ শুনেছে, কিন্তু স্বচ্ছ জলের মধ্যে পাথর-টাথর তো কিছুই তাদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। না। দুই বন্ধু আবার ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে।
না কিছু নেই–মোটরবোটের প্রপেলার যতদূর নাগাল পায় ততদূর পর্যন্ত সব কিছুই দেখা যায় নদীর জলে, কিন্তু নিমজ্জিত কোনো প্রস্তরখণ্ড তাদের দৃষ্টিপথে ধরা দিল না।
রহস্যের সমাধান হল না। প্রপেলারে নূতন শেয়ার-পিন লাগিয়ে আবার তারা বোট ছুটিয়ে যাত্রা শুরু করলে। সেইদিনই তারা পৌঁছে গেল রেড-ইন্ডিয়ানদের একটি গ্রামের কাছে।
নদীর দুই ধারে এখন অরণ্যের রাজত্ব।
বন হয়ে উঠছে ক্রমশ গভীর ও দুর্গম।
অজানা জায়গায় গভীর জঙ্গলের মধ্যে তাঁবু খাঁটিয়ে রাত্রিযাপন করার ইচ্ছা তাদের ছিল না; লোকালয়ের কাছে স্থানীয় অধিবাসীদের হাতে-গড়া একটা ছোটো ঘরে তারা এক রাতের জন্য আশ্রয় গ্রহণ করলে…।
পরদিন সকালে দুই বন্ধু আবার নদীর জলে মোটরবোট ভাসিয়ে দিলে। তারা শুনেছিল একটু দূরেই খরস্রোতা নদীর একটা বাঁকে ডোরাডো মাছের আড্ডা আছে। নির্দিষ্ট স্থান লক্ষ করে ছুটল মোটরবোট। কিন্তু নিশ্চিন্ত নৌবিহার তাদের ভাগ্যে ছিল না, আবার বিঘ্ন ঘটল।
কয়েক মাইল যেতে-না-যেতেই সশব্দে ভেঙে গেল প্রপেলারের শেয়ার-পিন।
মোটরযোটকে চালনা করছিল হার্মান আর জন তখন মাছ ধরার সরঞ্জাম সাজিয়ে রাখছিল। দুর্ঘটনার জন্য বন্ধুকে দায়ী করে জন ক্রুদ্ধকণ্ঠে বললে, তুমি কি চোখ বুজে বোট চালাও? আবার কীসের সঙ্গে ধাক্কা লাগল? শেয়ার-পিন আর কটা আছে শুনি?
