দূরদৃষ্টি
কোনো কোনো মানুষ অনেক দূরের কোনো ঘটনা বা জায়গা দেখার দাবি করেন। কখনও স্বপ্নে কখনও আবার হঠাৎ করেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। যখন দৃশ্যটা দেখেন তখন ওগুলোর কোনো কোনোটা সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাঁদের। কিন্তু পরে দেখা যায় তাঁর দেখা জায়গাটি আসলেই আছে কিংবা তিনি যে ঘটনাটি ঘটার কথা বলেছেন তা আসলেই ঘটেছে। এমন কাহিনিগুলোকে পাবেন ‘দূরদৃষ্টি’তে।
১. হিণ্ডহেডের সেই বাড়ি
হিণ্ডহেডের সেই বাড়ি
ইংল্যাণ্ডের সারের হিহেডের এক হাউসকিপার এবারের কাহিনিটি বলেন। বেশ সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী এক মহিলা তিনি। তখন ভদ্রমহিলা থাকেন পশ্চিমের উপকূলীয় এলাকায়। এসময়ই হঠাৎ একদিন দেখলেন, মনে হলো যেন স্বপ্নে, পরের বছর হিহেডের যে বাড়িটাতে উঠলেন সেটিকে। অথচ তখন পর্যন্ত জীবনে কখনও সারে আসেননি, তিনি। তাঁর জানাও ছিল না কখন সারেতে আসবেন। এমনকী তার চোখের সামনে ভেসে ওঠা জায়গাটা যে সারেতে এটাও জানা ছিল না।
তিনি দেখলেন কেবল একটা লঞি বা কাপড় পরিষ্কারের দোকান। ওটার ভিতরে দাঁড়িয়ে আছেন। কী অদ্ভুত আর বিশাল লাগছিল ওটাকে। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন। একটা বাড়ি এবং চারপাশের জিনিস পরিষ্কার নজরে এল। তারপরই আস্তেআস্তে সব মিলিয়ে গেল। কেন এসব দেখলেন কিছুই বুঝতে পারলেন না। তাঁর শুধু মনে হলো সাবেকি ধাঁচের ছোট্ট একটা বাড়ির কাছে অস্বাভাবিক বড় একটা লঞি দেখেছেন। আর এই জায়গাটায় জীবনে কখনওই আসেননি।
ছয় মাস পেরিয়ে গেল। মহিলা ও তাঁর স্বামী পশ্চিমের এলাকা ছাড়বেন স্থির করলেন। হাউসকিপার আর বাগানবিদের চাকরি খুঁজতে লাগলেন দুজনে। তারপরই একটা বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেন। নিয়োগ পাওয়ার পর যখন হিণ্ডহেডে এলেন তখন শীতকাল। আর এখানে এসেই মহিলাটি অবাক হয়ে দেখলেন এটা তো ছয় মাস আগে দেখা সেই জায়গাটি। এই লণ্ডিটা দেখে ভুল হওয়ার কোনো কারণ নেই। এমন বিশাল লঞ্জি সারের আর কোথাও নেই। আর লরি ভিতর থেকে যে বাড়িটা দেখেছেন সেটাই তাঁর গৃহস্বামীর বাড়ি, যেটার তত্ত্বাবধায়ক হয়ে এসেছেন। এমনকি লঞ্জি থেকে চারপাশের সব কিছু যেমন দেখেছেন এখানেও হুবহু তাই দেখলেন। অবাক হয়ে ভাবলেন, ছয় মাস আগেই কীভাবে তাঁর নতুন বাড়ি, লণ্ড্রি এসব দেখে ফেললেন?
২. দুর্ঘটনা
দুর্ঘটনা
স্কটল্যাণ্ডের এডিনবার্গের মি. এডওয়ার্ড ব্রাফটনের স্ত্রী এবং কর্নেল ব্লাঙ্কলির মেয়ে মিসেস এলিজাবেথ ব্রাফটন এই অভিজ্ঞতাটি জানান। ঘটনাটি ঘটে ১৮৪৪ সালে।
এক রাতে ঘুম থেকে উঠেই স্বামীকে জাগিয়ে তুললেন ভদ্রমহিলা। বললেন ফ্রান্সে একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। দুঃস্বপ্ন দেখেছেন ভেবে তার স্বামী বিরক্ত না করে ঘুমাবার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু এলিজাবেথ দিব্যি দিয়ে বললেন এটা কোনো স্বপ্ন নয়। বরং হঠাৎ করেই যেন দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠেছে।
দুর্ঘটনার ঠিক পর পর একটা বিধ্বস্ত ঘোড়ার গাড়ি দেখেছেন তিনি। বেশ কিছু মানুষ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। একটা শরীরকে তুলে কাছের বাড়িটাতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরই দেখেছেন একটা বিছানায় একজন মানুষ শুয়ে আছে। তখনই লোকটাকে চিনতে পারলেন, ডিউক অভ অরলিনস। আশপাশে ডিউকের বন্ধুদের জড় হতে দেখা গেল। এদের মধ্যে রাজা, রাণীসহ ফরাসী রাজ পরিবারের কিছু সদস্যও আছেন। নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে-ফেলতে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলা ডিউককে দেখছেন তাঁরা। একজন চিকিৎসককেও দেখা যাচ্ছে। তবে পিছনের অংশ দেখা যাওয়াতে তাঁকে চিনতে পারলেন না। ডিউকের ওপর ঝুঁকে পড়ে নাড়ীর স্পন্দন দেখছেন, অন্য হাতে তাঁর ঘড়ি। তারপরই সব শেষ হয়ে গেল। এলিজাবেথও আর কিছু দেখলেন না। দিনের আলো ফুটতেই যা দেখেছেন তার জার্নালে তা লিখে রাখলেন। যখনকার কথা বলা হচ্ছে তখন বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ ছিল না। এর দুই কি তিনদিন পর টাইমসে এল ডিউক অভ অরলিন্সের মৃত্যু সংবাদ। কিছুদিন পর প্যারিসে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার জায়গাটা দেখে চিনতে পারলেন এলিজাবেথ। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যে চিকিৎসক মৃত্যুপথযাত্রী ডিউকের পাশে উপস্থিত ছিলেন তিনি এলিজাবেথের এক পুরানো বন্ধু। আর যখন ডিউকের বিছানার পাশে ছিলেন তখন কেন যেন এলিজাবেথ আর তার পরিবারের কথাই ভাবছিলেন তিনি।
এডিনবার্গের একজন নারী কীভাবে প্যারিসের একটা বাড়ির ভিতরে কী ঘটছে তা পরিষ্কার দেখলেন তা এক রহস্য। যেখানে ঘটনাটা অন্য কোনোভাবে জেনে প্রভাবিত হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না, কারণ ওটা সংবাদপত্রেই আসে তার দেখার দুতিন দিন পর। কেউ বলেন প্রকৃতির একটা লুকানো ক্যামেরা আছে। ওই ক্যামেরাতেই আমাদের দৃষ্টির বাইরে ঘটা নানান কিছু ধরে হাজির করা হয় চোখের সামনে। হয়তোবা এক্ষেত্রে এলিজাবেথের জন্য চিকিৎসক বন্ধুর ভালবাসাই প্রকৃতির রহস্যময় ওই ক্যামেরার চাবিকাঠি হিসাবে কাজ করেছে।
৩. রাফ মারা গেছে
রাফ মারা গেছে
এবারের কাহিনিটি বলেছেন ইংল্যাণ্ডের পশ্চিম ডালউইচের ওয়াডহাসেঁর এক ভদ্রমহিলা। তাঁর জবানীতেই এটা শুনব।
আমার মৃত স্বামী তার ভাইকে নিয়ে একটা আশ্চর্য স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর ভাই মি. রাফ হলডেন তখন আফ্রিকা ভ্রমণ করছেন। ১৮৬১ সালের জুন কি জুলাইয়ের এক সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে ঘোষণা করলেন, রাফ মারা গেছে। আমি বললাম, ওটা নিছকই একটা দুঃস্বপ্ন। আমার কথায় কর্ণপাত না করে ও বলল সে পরপর দু-বার দেখেছে মাটিতে পড়ে আছে রাফ। আর একজন মানুষ তাকে ধরে আছে। পরে তারা খবর পেলেন ঠিক যে সময়ে স্বপ্নে রাফের ভাই তাকে মারা যেতে দেখেছেন তখনই মারা গেছেন ভদ্রলোক। আর একটা বিশাল গাছের নীচে বিশ্বস্ত আফ্রিকান পরিচারকটির হাতে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ওখানেই সমাহিত করা হয়েছে তাকে। হলডেনের পরিবার ওই গাছটি আর চারপাশের এলাকার স্কেচ পাঠায়। ওটা দেখে আমার স্বামী বলেন ঠিক ওখানেই স্বপ্নে মৃত্যুপথযাত্রী কিংবা মৃত রাফকে দেখেছিল।
৪. অশুভ ঝড়
অশুভ ঝড়
