ডন রেপো এবং বব লফটের মারা যাওয়ার আঠারো মাস পর তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয় ট্রিস্টার-৩১৮তে। এরপর থেকে আর তাদের ভূতকে দেখা যায়নি বিমানে। অবশ্য বিমান সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ এমনকী বিমানের কর্মীরাও এই বন্ধুভাবাপন্ন কর্মকর্তাদের আত্মার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই প্রার্থনা আয়োজন করতে চাননি। কিন্তু যাত্রীরা আতঙ্কে বিমানে চড়া বন্ধ করে দেওয়া শুরু করলে এটা করতে বাধ্য হন তারা।
আশ্চর্য ঘটনা, ১৯৭২ সালের সেই দুর্ঘটনায় রেপো আর লফটের সঙ্গে ৯৭ জন যাত্রীও মারা যান। কিন্তু ট্রিস্টার-৩১৮ বিমানে কেবল তাদের দুজনের ভূতেরই আনাগোনা ছিল। তাহলে বাকি যাত্রীদের ভূত কেন দেখা দিত না এটা একটা রহস্য। অবশ্য কে না জানে এ ধরনের ভৌতিক ঘটনা কোনো নিয়ম মেনে চলে না। তবে এমন হতে পারে রেপো আর লফট কোনোভাবেই তাদের পুরানো বিমান আর পেশার মায়া কাটাতে পারছিলেন না। বাকি যাত্রীদের তো আর এর প্রতি এত দরদ থাকার কথা নয়।
৪. রাঁধুনির ভূত
রাঁধুনির ভূত
একজন যাজক এই কাহিনিটি জানান। তবে কারও নাম প্রকাশ না করার শর্ত ছিল তার। আর আমরা যে সূত্র থেকে লেখাটি পেয়েছি তাতেও কারও নাম ছিল না। এটা এখন শুনব যাজকের জবানীতে।
আমার স্ত্রীর বাবার বাড়িতে বেশ কয়েকজন মহিলা চাকরবাকর ছিল। বিয়ের আগে এদের সব কিছু দেখভালের দায়িত্ব ছিল আমার স্ত্রীর। একবার বাড়ির মহিলা রাঁধুনির অ্যাপেণ্ডিসাইটিসে ব্যথা শুরু হয়। এসময় একটা হাসপাতালের গির্জার যাজকের দায়িত্ব পালন করছি আমি। মহিলাটিকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করে দিই। সেখানে অপারেশন করা হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে। তার বন্ধুরা মহিলাকে কবর দিয়ে দেয়।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কয়েক দিন পরের ঘটনা। আমার স্ত্রী রান্নাঘরের একটা টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করছে। এখান থেকে দরজা খোলা থাকলে সামনের বারান্দা দিয়ে যে-ই যাবে নজরে পড়বে তার। তখন সকাল এগারোটার মত বাজে। মাসটা ফেব্রুয়ারির শেষ কি মার্চের শুরু। একটা কেকের ওপর চিনির প্রলেপ দিচ্ছে তখন সে। এসময়ই কাজ থেকে চোখ তুলে খোলা দরজা পথে বারান্দাটার দিকে তাকাল সে। বাড়ির ভৃত্যদের বসবার ঘরের পাশ দিয়ে অন্য একটা কামরার দিকে গেছে বারান্দাটা। এসময়ই পরিষ্কার দেখল কিছুদিন আগে মারা যাওয়া সেই রাঁধুনিটিকে। বারান্দা ধরে ওই কামরাটার দিকে যাচ্ছে। সকালের দিকে সাধারণত যে ধরনের পোশাক পরে তাই পরনে। পরিস্থিতিটা এতটাই স্বাভাবিক মনে হলো যে শুরুতে আমার স্ত্রীও খুব একটা ভয় পেল না। তবে মহিলাটির পিছু নিল সে। বারান্দা থেকে কামরাটায় তার স্কার্টের ঝুলটা অদৃশ্য হতে দেখল। কিন্তু ভিতরে ঢুকে কাউকেই দেখতে পেল না সেখানে।
মৃত্যু সংকেত
অতিপ্রাকৃত ঘটনার মধ্যে উপরের সারিতে থাকবে মৃত্যু সংকেতের ব্যাপারটা। কখনও মৃত্যু সংকেত আসে যিনি মারা যাবেন তাঁর কাছে। আবার অনেক সময় মৃত্যুর আভাস পান অন্য কেউ। অনেক সময়ই কোনো নারী মূর্তি হাজির হন সংকেত দেওয়ার জন্য। স্বপ্নেও পাওয়া যায় কখনও কখনও মৃত্যুর বার্তা। এসব কিছু নিয়েই ‘মৃত্যু সংকেত’।
বানশি (প্রথম পর্ব)
আয়ারল্যাণ্ডের সব ধরনের ভূত, প্রেত, পেত্নীর মধ্যে সাধারণ লোকেদের কাছ সবচেয়ে পরিচিত বানশি। কখনও কখনও একে বহিস্থা কিংবা বানকিস্থা নামেও ডাকা হয়। বানশি এখানকার লোকদের দেখা দিয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। তবে তার ইতিহাস কতটা প্রাচীন এটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
বানশির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো সে মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করে। তবে তার এই মৃত্যুসংকেত দেওয়ার রীতি আগের জমানা থেকে এখন বদলেছে। পুরানো দিনে আইরিশ গল্পে মানুষের মাথাঅঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা রক্তরঞ্জিত পোশাক ধুতে দেখা যেত বানশিকে। যতক্ষণ না পানি পুরোপুরি রক্তে লাল হয়ে যেত ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধোয়াধুয়ি চলত। তবে ইদানিং কালে সাধারণত চিল্কার করতে করতে হাত আঁকিয়ে বা তালি দিয়ে মৃত্যুর বার্তা দেয় বানশি।
এদিকে তার পোশাক-আশাক আর চেহারার নানান ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। কখনও কখনও সে তরুণী, সুন্দরী। কখনও আবার বুড়ো, কদাকার। একজন লেখক যেমন তার বর্ণনা দিয়েছেন, লম্বা, কৃশ এক নারী। যার মাথার খোলা লম্বা চুল নেমে এসেছে কাঁধের চরপাশে। পরনে সাদা আলখেল্লা। সেই সঙ্গে আছে কাপা, টানা চিৎকার। আবার এক কোচোয়ান তাকে এক সন্ধ্যায় একটা বাড়ির আঙিনায় বসে থাকতে দেখেছে। তরে তখন সে নীল চোখের ছোটখাট এক মহিলা। ঘাড় বেয়ে নেমে এসেছে লম্বা পাতলা চুল। আর পরনে লাল আলখেল্লা। তবে এখন যে কাহিনিগুলো আমরা পাঠকদের শোনাব তাতে মিলবে তার আরও নানান ধরনের বর্ণনা।
পুরানো আর বিখ্যাত বানশি কাহিনিগুলোর একটি পাওয়া যায় লেডি ফানশর স্মৃতিকথায়। ১৬৪২ সালে স্বামী রিচার্ডের সঙ্গে এক ব্যারন বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। পরিখা ঘেরা পুরানো ধরনের একটা দুর্গবাড়িতে থাকেন ভদ্রলোক। রাতে কলজে চরা, অতিপ্রাকৃত একটা চিৎকারের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল লেডি ফানশর। বিছানা থেকে তাকাতেই জানালার ওপাশে একটি নারীর মুখ আর শরীরের কিছু অংশ ভাসতে দেখলেন, চাঁদের আলোয়। মাটি থেকে জায়গাটার উচ্চতা আর পরিখার উপস্থিতি বলে দিল, তাঁর দেখা এই চেহারাটা মোটেই এই পৃথিবীর কারও নয়। মুখটা তরুণী, সুন্দর চেহারার এক নারীর। তবে বড় ফ্যাকাসে, লালচে চুলগুলো আলুথালু। আতংকে ফানশ ওটার পরনের পোশাক খুঁটিয়ে খেয়াল করলেন না। তবে পুরানো, আইরিশ পোশাক মনে হলো। কিছুক্ষণ ওভাবেই ঝুলে থাকল নারীমূর্তিটা। তারপর শুরুতে যেমন চিৎকারে লেডি ফানশর মনোযোগ আকর্ষণ করেছে সেরকম দুটো তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়ে অদৃশ্য হল।
