ব্রাউন লেডিকে নিয়ে ক্যাপ্টেনের এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা পাওয়া যায় তাঁর মেয়ে ফ্লোরেন্সের লেখা একটি বইয়ে। ১৮৯৯ সালে মারা যান ভদ্রমহিলা। তবে ক্যাপ্টেন ছাড়াও আরও অনেকেই বাদামি বসনাকে দেখেছেন। ধারণা করা হয় তিনি ছিলেন ডরোথি ওয়ালপল, ১৭২২ সালে ইংল্যাণ্ডের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রবার্ট ওয়ালপলের বোন। লোকে বলে ব্রাউন লেডি তার বাচ্চাদের খুঁজে ফিরছেন। ভদ্রমহিলা জীবিত থাকার সময় স্বামী দ্বিতীয় ভিসকন্ট টাউনশেণ্ডের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বাচ্চাদের তাদের দাদির হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
১৯৩৬ সালে বাদামি বসনার একটা ছবি তোলার চেষ্টা করেন একজন আলোকচিত্রী। তবে যে ছবিটি একটা ম্যাগাজিনে ছাপা হয় সেটা খুব স্পষ্ট।
৩. বিমানে ভূত
বিমানে ভূত
আকাশে উড়ছে ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স কোম্পানির ট্রিস্টার-৩১৮ বিমানটি। বিমানকর্মীরা ছাড়াও ১৮০ জন যাত্রী আছেন বিমানে। নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডা যাচ্ছে বিমানটি। এয়ার হোস্টেস ফে মেরিওয়েদার তার সিট ছেড়ে উঠে স্টোরের দিকে রওয়ানা হলেন। যাত্রীদের জন্য সকালের নাস্তার তদ্বির করতে হবে তাঁকে। জায়গামত পৌঁছে খাবার গরম করার ওভেনটার দিকে হাত বাড়ালেন ফে। এ সময়ই একটা জিনিস দেখে আপনা আপনি চিৎকার বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে। ওভেনের দরজার ওপাশ থেকে একটা মুখ উঁকি দিচ্ছে। এটা কী করে সম্ভব-ভাবলেন ফে। আতঙ্কে চোখ বুজলেন। যখন আবার চোখ খুললেন ওভেনের ভেতর কাউকে পেলেন না। যেই নাস্তা ভরা ট্রেটা বের করার জন্য দরজা খুলবেন, এমন সময় আবার মুখটা দেখা দিল ওভেনের ভিতর। মুখটা ঠোট নাড়ছে, মনে হয় যেন কিছু একটা বলছে সে। কিন্তু কথাগুলো বুঝতে পারলেন না তিনি।
কোনো মতে দৌড়ে ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ার মুরে যেখানে বসেন সেখানে পৌঁছতে পারলেন। বিমানবালার সঙ্গে ওভেনের কাছে এলেন তিনি। মুখটা এখনও আছে। এবার মুরে আর ফে বুঝলেন সে কী বলছে। বলছে, সাবধান! বিমানে আগুন লাগতে চলেছে। এবার মুরে মুখটাকে চিনতে পারলেন। এটা আগের ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ার ডন রেপোর মুখ, একটা দুর্ঘটনায় যিনি মারা গেছেন।
এসময় কেউই ডন রেপোর ভূতের কথাগুলো বিশ্বাস করল। তবে ঘণ্টা দুয়েক পর ওড়ার সময় কিছু সমস্যা দেখা দিল বিমানটায়। কাজেই মেরামতের জন্য নিউইয়র্কে ফিরিয়ে আনা হলো ওটাকে। ত্রুটি সারাবার পর পরীক্ষামূলকভাবে আকাশে উড়ানো হয় বিমানটা। এসময়ই আকাশে বিস্ফোরিত হয় বিমানটার জেট এঞ্জিন।
ডন রেপোর ভূতের সাবধানবাণী সত্যি ছিল। আমেরিকান বিমান পরিচালনা কর্তৃপক্ষের তদন্তে বেরিয়ে আসল যদি বিমানটিকে ত্রুটি সারানোর জন্য নিউইয়র্ক ফিরিয়ে আনা না হত, তবে সম্ভবত পৌনে দুশোর বেশি যাত্রী নিয়ে ফ্লোরিডা পৌঁছবার আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ত ট্রিস্টার-৩১৮।
১৯৭২ সালে ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স-এর ফ্লাইট নম্বর ৪০১ বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় ডন রেপোর সঙ্গে পাইলট বব লফট এবং ৯৭ জন যাত্রী নিহত হন। মৃত্যুর পর অনেকবার পাইলট বব লফটকেও দেখা গেছে বিভিন্ন ফ্লাইটে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটির যেসব অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয় সেগুলো পরবর্তীতে নতুন তৈরি করা কয়েকটি বিমানে ব্যবহার করা হয়। ট্রিস্টার-৩১৮ বিমানটার কিচেনসহ আরও কিছু অংশ ছিল দুর্ঘটনা কবলিত সে বিমানটার অংশ।
এই ভৌতিক ঘটনার শুরু ১৯৭৩ সালে। এসময় ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ট্রিস্টার-৩১৮ বিমানটায় ভ্রমণ করছিলেন। দস্তুরমত ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের পোশাক পরা একজন ক্যাপ্টেন বসেছিলেন তাঁর পাশে। হঠাৎ ক্যাপ্টেনের চেহারার দিকে ভালভাবে তাকালেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। আঁতকে উঠলেন তিনি। এটা কীভাবে সম্ভব? এক বছর আগে পাইলট বব লফট মারা গেছেন, তাহলে কীভাবে তাঁর পাশে বসে আছেন এখন। দৌড়ে ককপিটে চলে এলেন ভদ্রলোক। বিষয়টা কী? খতিয়ে দেখতে বিমানের অন্যান্য কর্মীরা দৌড়ে এল। তবে ততক্ষণে বব লফটের ভূত অদৃশ্য হয়েছে।
আরেকবার ট্রিস্টার-৩১৮ এর ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ার ককপিটে ঢোকেন আকাশে ওড়ার আগে সব কিছু ঠিক আছে কিনা দেখে নেয়ার জন্য। এসময়ই চমকে উঠে দেখেন ডন রেপোর ভূত সিটে বসে আছে ইউনিফর্ম পরে। যন্ত্রপাতিগুলো পরীক্ষা করছে সে। অপর ফ্লাইট এঞ্জিনিয়ারকে সব যন্ত্রপাতি ঠিক আছে জানিয়ে অদৃশ্য হয় সে।
বিমানটির আরেক অফিসার ডন রেপোর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করার এই গল্প শুনেছিলেন। মায়ামি থেকে আটলান্টার দিকে ফিরতি ফ্লাইটের আগে যন্ত্রপাতিগুলো ব্যক্তিগতভাবে পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর কাজটা করতে ককপিটে ঢুকতেই দেখেন ডন রেপোর ভূত খুব মনোযোগের সঙ্গে বিমানের সব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছে।
১৯৭৪ সালে ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স-এর পাইলটদের নিরাপত্তার কিছু নির্দেশনা দেয়। এতে বিমানে ডন রেপো আর বব লফটের উপস্থিতির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এটা করা হয় কারণ বিমানের কর্মীরা যেন তাদের দেখে চমকে না ওঠেন সেজন্য। তবে এই ভূতেরা কখনও কারও ক্ষতি করেনি। বরং নিজেদের মত করে সাহায্য করার চেষ্টাই করেছে। তবে যত যাই হোক ভূত বলে কথা। ক্ষতি করে না জানার পরও মনে-মনে ঠিকই এদের প্রতি একটা আতংক ঠিকই থাকত সবার।
