ঘরের ভেতরে আরো যেসব মানুষ আছে তারা সাবধানে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে ভয় পাওয়া গলায় বলল, “বুঝতে পারছি না। হাজার হাজার মেয়ে লাঠি সোটা ঢিল নিয়ে আক্রমণ করেছে।”
“কেন?”
“বুঝতে পারছি না। মনে হয় এই মেয়েটাকে নিয়ে যেতে এসেছে।”
“এরা কেমন করে জানল, মেয়েটা এখানে আছে?”
“জানি না। খুবই বিচিত্র ব্যাপার।”
বিদেশীটার মুখ পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল, সে ভদ্রলোকের মতো দেখতে মানুষটার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি বলেছিলে এই প্রজেক্টটা তুমি তুলে দেবে। এখন এসব কী হচ্ছে? এখন কী হবে?”
মানুষটা মাথা চুলকে বলল, “একটু ঝামেলা হয়ে গেল। এর মাঝে স্কুলের মেয়েরা কেমন করে চলে এসেছে বুঝতে পারছি না।”
“হেলিকপ্টার কোথায়?”
“এখনো আসে নাই। চলে আসবে।”
বিদেশী মানুষটা খেঁকিয়ে উঠল, “কখন চলে আসবে?”
ভদ্রলোকের মতো দেখতে মানুষটা বলল, “হেলিকপ্টার এলেও মনে হয় আর লাভ হবে না।”
“কেন?”
মানুষটা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে বলল, “মেয়েরা দেওয়াল টপকে ভিতরে ঢুকতে শুরু করেছে। হাতে লাঠি সোটা।”
এই প্রথম বিদেশী মানুষটার মুখে ভয়ের একটা চিহ্ন দেখা গেল, শুকনো গলায় বলল, “আমাদের গার্ড কোথায়?”
“গার্ড দিয়ে এদের ঠেকানো যাবে না। অনেক মেয়ে! হাজার হাজার।”
সেরিনার মুখে হাসি ফুটে উঠল, বলল, “আপনারা বলেছিলেন, আপনাদের কেউ ঠেকাতে পারবে না! আমার স্কুলের মেয়েরাই ঠেকিয়ে দিয়েছে।”
বিদেশীটা বলল, “কী বলছে এই মেয়ে?”
ভদ্রলোকের মতো দেখতে মানুষটা সেরিনার কথাটাকে ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিল। বিদেশীটা সেরিনার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, “এই মেয়ে! তুমি জেনে রাখো–আমি তোমাকে ধরে নিয়ে যাবই যাব।”
সেরিনা ইংরেজীতে বলল, “কীভাবে? আমাদের মেয়েরা আমাকে বাঁচাবে। নিতে দেবে না।”
“আমি তোমার শরীরে একটা ট্রাকিওশান ঢুকিয়ে দেব। সেই ট্রাকিওশান তোমার শরীরের ভেতর থেকে সিগনাল দিবে! তুমি পৃথিবীর যেখানেই থাকো তোমাকে খুঁজে বের করব। আমাদের এজেন্সির এজেন্টরা তোমাকে খুঁজে বের করে ধরে নিয়ে যাবে!”
সেরিনা ভয় পাওয়া চোখে বিদেশীটার দিকে তাকিয়ে রইল, মানুষটি সত্যি কথা বলছে না ভয় দেখাচ্ছে সে বুঝতে পারল না।
বিদেশী মানুষটি মিথ্যা ভয় দেখাচ্ছিল না, সে প্রায় ছুটে ঘরের এক কোনায় রাখা একটা বাক্স খুলে সেখান থেকে সাবধানে একটা ছোট স্টিলের টিউব বের করে আনে। তার ভেতর থেকে একটা ইলেকট্রনিক যন্ত্র বের করে কোথায় চাপ দিতেই বিপ বিপ শব্দ করে একটা বাতি জ্বলে উঠল, সেটা হাতে নিয়ে সে সেরিনার দিকে এগিয়ে আসে, তারপর সেরিনা কিছু বোঝার আগেই তার ঘাড়ে একটা ধারালো সূঁচ ঢুকিয়ে দেয়। তীব্র যন্ত্রণায় সেরিনা চিৎকার করে উঠল আর ঠিক তখন দরজা ভেঙ্গে ভিতরে অনেকগুলো মেয়ে ঢুকলো, সবার সামনে বিলকিস। তার হাতে বড় একটা ঢিল, কেউ কিছু বোঝার আগে সে বিদেশীটাকে লক্ষ্য করে ঢিলটা ছুঁড়ে দিল।
সাথে সাথে একটা আর্তনাদের মতো শব্দ করে বিদেশীটা নিজের মুখ ঢেকে বসে পড়ে। বিলকিস চিৎকার করে বলল, “ধর শূয়রের বাচ্চাকে।” সত্যি সত্যি তাকে ধরার জন্যে সবাই ভিতরে ঢুকে যায়।
অসংখ্য মেয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেছে। বেশীর ভাগ সেরিনাকে ঘিরে দাঁড়াল, কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, “সেরিনা, তুই ভালো আছিস?”
“হ্যাঁ। ভালো আছি। কিন্তু আমার ঘাড়ে কি যেন লাগিয়েছে খুব ব্যথা করছে। একটু খুলে দিবি?”
একজন এগিয়ে এসে হ্যাঁচকা টানে ঘাড় থেকে সেটা খুলে ফেলল। তারপর সেরিনার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিতে লাগল।
ঠিক তখন পুলিশের বাঁশী শোনা গেল। পুলিশ চলে এসেছে কিন্তু কাকে বাঁচানোর জন্যে এসেছে সেটা তখনো কেউ বুঝতে পারছিল না।
১০. সেরিনা একটা চাঁদর গায়ে
সেরিনা একটা চাঁদর গায়ে চুপচাপ বসে আছে। শামীম এক হাত দিয়ে সেরিনাকে ধরে রেখেছে, তাদের সামনে একজন মহিলা পুলিশ অফিসার।
শামীম বলল, “আমাকে একটু বলবেন এখানে কী হচ্ছে?”
“বলব। এটা বলার জন্যে মনে হয় আমার চাকরী চলে যাবে কিন্তু আমি যেটুকু জানি সেটা আপনাকে বলব। বাবা হিসাবে আপনার জানার অধিকার আছে।”
“বলেন প্লীজ।”
“আপনার মেয়ের কোনো এক ধরনের অস্বাভাবিক ক্ষমতা আছে, সেটা কী আমি এখনো পরিষ্কার জানি না, পানিতে সাঁতার দেয়া নিয়ে কোনো এক ধরণের ক্ষমতা ১
শামীম চুপ করে রইল, ক্ষমতাটা যে সাঁতার দেয়ার নয় পানির নিচে নিশ্বাস নেবার ক্ষমতা সেটা সে বলল।
পুলিশ অফিসার বলল, “যাই হোক, স্কুলের ছাত্রীদের সাঁতার প্রতিযোগিতার একটা ভিডিও কীভাবে কীভাবে জানি নেটওয়ার্কে চলে গিয়েছিল খুবই নিরীহ একটা ভিডিও, পানি ঝপাঝাপি করে কয়েকটা মেয়ে সাঁতার কাটছে। কিন্তু সেই ভিডিওটা একটা সিক্রেট এজেন্সির হাতে পড়ল, তারা সেটা এনালাইসিস করে আবিষ্কার করল আপনার মেয়ের একটা অসাধারণ ক্ষমতা আছে। তারা সারা পৃথিবী খুঁজে আপনার মেয়েকে বের করে ফেলল।
“অন্য যে কোনো মানুষের হাতে এই ভিডিওটা পড়লে তারা সম্ভবত আপনার সাথে যোগযোগ করত। আপনার অনুমতি নিয়ে আপনার মেয়ের ব্লাড স্যাম্পল নিতো, শরীরের টিস্যু নিতো, সিটি স্ক্যান করতো। কিন্তু এই সিক্রেট এজেন্সি তার ধারে কাছে গেল না। কয়েক মিলিওন ডলারের একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়ে কিছু মানুষকে পাঠাল আপনার মেয়েকে কিডন্যাপ করে নিতে। এই অংশটা আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন তারা কিডন্যাপ করতে এলো। এই সিক্রেট এজেন্সি এতোই ক্ষমতাশালী তারা পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় যা-ইচ্ছে-তাই করতে পারে–তাদের টাকা পয়সার কোনো অভাব নেই তাই তাদের কাছে এইটাই মনে হয় সবচেয়ে সহজ কাজ মনে হয়েছে। কিংবা কে জানে আপনার মেয়ের ক্ষমতাটা হয়তো এতোই অস্বাভাবিক হয়তো যে কোনো মূল্যে তাকে নেয়ার একটা যুক্তি আছে।”
