এমন সময় আমার ভয়ে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বিস্ফারিত চোখের সামনে দিয়ে, জ্ঞানপিপাসু ঋষ্যশৃঙ্গ মুনিটি নেমে গিয়ে এক হেমেন মজুমদার চিত্রিত সিক্তবসনা রমণীর কাঁধে টোকা মেরে সুকুমারবর্ণিত ন্যাড়ার মতনই হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হ্যাল্লো ম্যাডাম, গুড আফটারনুন। ক্যান ইউ প্লিজ টেল মি হুইচ সোপ ডু ইউ ইউজ? অ্যান্ড হোয়াই?’
সেকেণ্ডের মধ্যে উত্থিত সেই গগনবিদারী আর্তনাদের মধ্যে দেখি লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকটি পুরুষ এদিকেই দ্রুত ধাবমান।
বাকি কথা বিস্তারিত বলার দরকার নেই। সারাদিন পুলিশ পঞ্চায়েত সামলে,আমাদের ডিলারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যখন পঞ্চায়েত প্রধানের গোয়ালে বেঁধে রাখা সেই জ্ঞানতাপসকে উদ্ধার করলাম, উনি মুক্তি পেয়েই ঢকঢক করে একঘটি জল খেয়ে নিজের রিসার্চসমৃদ্ধ মতামতটি প্রকাশ করলেন, ‘বিহারি কনজিউমার্স আর ভায়োলেন্ট, ভেরি ভেরি ভায়োলেন্ট।’
এতদিন বাদে সেই ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখি সেই রাজেন্দ্রপ্রতিম গোরাচাঁদটির চামড়া এখন ঘোর ভারতীয় তাম্রবর্ণ, চোখেমুখের ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সংগে মিশেছে শান্ত ব্যবহারিক জ্ঞান। স্বভাবজ বিনয় ও ডিগ্রীর সংগে যুক্ত হয়েছে তীক্ষ্ন ক্ষিপ্রবুদ্ধি। সেলসের চাকরিতে বিভিন্ন স্থানকালপাত্রজাতিভাষাবর্ণবহুল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে মাদার ইন্ডিয়া তাঁর এই নাদান সন্তানটিকে ঠিক নিজের মতন করে গড়েপিটে নিয়েছেন নিজের প্রয়োজনেই!
ভারতবর্ষ নামক এই বিচিত্র পাঠশালাটির কাছে ফের নতজানু হলাম।
