অতএব আমি যদি আমার এই মহিমান্বিত চরণদুখানি ওনার মস্তোকপরি আরও ঘন্টা দুয়েক রাখি, তাহলে এই গরীব দুসাদের বাচ্চা বেকার বেফালতু ঝামেলা উমেলা না বাড়িয়ে পরের মাসে নিজের অওলাদটির ফুল টীকার ব্যবস্থাটা করে ফেলতে পারে।
উফফফ, পুরো সেন্টিমেন্টের ঝাউগাছ মাইরি। কানের গোড়ায় দুটো থাপ্পড় মেরে চলেই আসতুম। শালা, তোর বাচ্চার টীকা ইম্পর্ট্যান্ট না আমার বিরিয়ানি?
শেষ পর্যন্ত থাকতে বাধ্য হলুম। প্রথমত মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলা আমার ঠাকুর্দার শেষ কথাটা খুবই অপ্রাসঙ্গিক ভাবে মনে পড়ে গেছিলো, ‘কহনো লোক ঠকাইবানা, আর লুকযুনরে পারলে হেল্প করবা’।
আরও বড় কারণ আমার মাতৃদেবী।
আমার মাতামহ ছিলেন বরিশাইল্যা বাঙাল। তাঁর মেয়ের মধ্যে সেই গনগনে তেজোদীপ্ত ব্যাপারটা প্রবলভাবে বর্তমান। ”ছুডবেলা থেইক্যা” দেখেছি এইসব কারণে ভদ্রমহিলার স্নেহ একদমই নিম্নগামী হয় না। বরং জানতে পারলে পিঠের চামড়া উঠে ডুগডুগি হবার বিপুল চান্স হাড়ে হাঁটুতে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।
অতএব আর কি। চারটে অবধি সে দেহাতিনন্দনের সঙ্গে মার্কেট করে খালি পেটে দু পেগ হুইস্কি চড়িয়ে এই লেখা লিখছি।
ডিনারেও দস্তরখান কপালে নেই। সে হতচ্ছাড়া খুব জোর দিয়ে বলেছে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আজ আমার জন্যে গরম গরম বাজরার রোটি আর দেসি চিকেনের ঝাল নিয়ে এসে আমার হোটেলে দিয়ে যাবে, ওনার জরু আমার জন্যে ইসপেসাল রান্না করে রেখেছে।
পুং মা লক্ষীর জন্যে ভোগপ্রসাদ আর কি!
ইয়ের চাকরি শালা !!!
