‘হ্যাঁ, দাদা এটা কি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড?’
‘ম্যারাথনে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বলা হয় না, বলা হয় ওয়ার্ল্ড বেস্ট। সোনালি সরকারের টাইম যা হল সেটা ওয়ার্ল্ড বেস্ট নয় বটে তবে চার বছর আগের ওলিম্পিকসে সোনা জিতে যেতে পারত।’ অর্জুনের কণ্ঠস্বর উচ্চচগ্রামে উঠে থরথর কাঁপতে লাগল।
‘আরিব্বাস, দাদা বলছেন কী। গোল্ড জিতে যেত, এই মে দিবসের পটকাগুলো সব ফাটিয়ে ফেলেছে কি না দ্যাখতো, তাড়াতাড়ি যা।’
রাহুল হাত ধরে অর্জুনকে টেনে নিয়ে গাড়িতে উঠল।
‘দাঁড়াও ডেবি ট্যাটারসলের টাইমটা জানতে হবে, প্রায় সত্তর—আশি মিটার পিছনে পড়েছিল।’
‘আমি আর কারুর টাইমে ইন্টারেস্টেড নই।’
‘তা হলে তুমি আমাদের কনসরটিয়ামে জয়েন করছ?’
‘আগে আমি স্বর্ণকুমারীর সঙ্গে আলাদা কথা বলতে চাই। অর্জুন তুমি ব্যবস্থা করো।’
পাঁচ
পেভমেন্ট ঘেঁষে মারুতিকে রেখে, রাহুল গাড়ি থেকে নামল। বাড়িটার দিকে একনজর তাকিয়ে সে মারুতির দরজায় চাবি দিয়ে রংচটা লোহার গেট পেরিয়ে ভিতরে এল। চটা—ওঠা, ভাঙা সিমেন্টের পথটা সোজা গিয়ে শেষ হয়েছে একটা দেওয়ালে। পথের বাঁ দিকে দুটো দরজা। এই ফ্ল্যাটবাড়ির দুটো ভাগ তাই দুটো সিঁড়ি। দুটো দরজা দিয়ে ঢুকে দুটো সিঁড়ি পাওয়া যাবে।
রাহুল প্রথম দরজাটার সামনে দাঁড়াল। টেলিফোনে কাল রাতে ডা. সরকার বলে দিয়েছিলেন:’প্রথম দরজা দিয়ে ঢুকে সিঁড়ি ধরে দোতলায় উঠে বাঁ দিকের ফ্ল্যাট। আমি সকালেই বর্ধমান চলে যাচ্ছি কোচ বিজয় সিনহাকে সঙ্গে নিয়ে। তাতে আপনার কোন অসুবিধে হবে না। আমার বোন তো থাকবেই। দরকার হলে তার সঙ্গেও কথা বলে নেবেন। হ্যাঁ, আমিও মনে করি স্বর্ণকুমারীর কথাবার্তা, হাবভাব, কালচারাল লেভেল বা এই ধরনের ব্যাপার সম্পর্কে না জানলে তাকে বা তার ব্যক্তিত্ব বিষয়ে কোনো ধারণা না পেলে তাকে মার্কেট করা সম্ভব নয়। আপনি ওর মা—দিদিমার কথাও তুলতে পারেন, কিছুই আমরা ওর কাছে লুকোইনি। তা হলে বিকেল পাঁচটায় আপনি আসছেন।’
রাহুল ঘড়ি দেখল। পাঁচটা বাজতে দুই এখন। দোতলায় ছোটো বারান্দাটার রেলিংয়ে একটা নীল তোয়ালে শুকোচ্ছে। তিনতলার বারান্দায় এক মহিলা নীচের দিকে তাকিয়ে। এই মুহূর্তে ভারতীয় অ্যাথলেটিকসের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার নায়িকা, গতকালই যে এক লক্ষ টাকার একটা চেকে পেয়েছে, আজ প্রতি কাগজে যার প্রথম পাতায় ছবি বেরিয়েছে, এমন একজন যে এই বাড়িতে রয়েছে মনে হয় না সেটা কেউ জানে। অবশ্য জানলেও, এটা এমনই এক পাড়া তাই নিয়ে হইচই কেউ করবে না।
দোতলায় উঠে এসে রাহুল কলিংবেলের বোতাম টিপল। টুং টাং আওয়াজ শোনা গেল। কয়েক সেকেন্ড পরই একটি বছর বারোর মেয়ে দরজা খুলে দাঁড়াল।
‘সুরুচি দেবী আছেন? কিংবা সোনালি?’
তার কথা শেষ হতে—না—হতেই ভিতর থেকে সোনালির কণ্ঠস্বর শোনা গেল, ‘কে এসেছে রে ধনিয়া?’
বলতে বলতেই বেরিয়ে এল সোনালি।
‘ওহ আপনি, আসুন আসুন, একদম কাটায় কাটায় পাঁচটায়!…আপনার সঙ্গে কিন্তু আমার একটা ঝগড়া রয়ে গেছে। কাল মিথ্যে পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন।’
ছোটো ফ্ল্যাট। ঢুকেই ডান দিকে রান্নাঘর, কলঘর। সোজা গেলে শোবারঘর যেটার দরজায় পুরু হ্যান্ডলুমের গেরুয়া রঙের পর্দা ঝুলছে। বাঁ দিকে বসার ঘর। রাহুল বসার ঘরে ঢুকে গদিপাতা চৌকিতে, না দুটি সোফার একটিতে, কোথায় বসবে ঠিক করতে পারছে না।
‘এই সোফাটায় বসুন।’ সোনালি আঙুল দেখিয়ে নির্দেশ করল। রাহুল বসে পড়ল। সামনের সোফায় সে নিজে বসল।
‘আপনি পিটিআই…।’
রাহুল দু—হাত তুলে ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘তখন কথা বলার জন্য একটু ছলনার আশ্রয় নিতে হয়েছিল। খেলার লোকেরা মিডিয়াকে খাতির করে তো।’
‘আমার কিন্তু একদমই বারণ। পাবলিসিটির কোনোরকম ধারকাছ দিয়ে যাওয়া চলবে না।’
‘কার বারণ, ডা. সরকারের।’
‘হ্যাঁ, বাবা এ জন্য ভীষণভাবে আমাকে আড়াল করে রাখেন। খবরের কাজ, রেডিয়ো, টিভি, কাল আমাকে ইন্টারভিউ করার জন্য তো হুড়োহুড়ি শুরু করেছিল। বিজয়দা আমাকে একটা ধুতি দিয়ে মুড়ে, শুধু চোখ আর নাক খোলা রেখে, সেই ভিড়ের মধ্য দিয়ে টানতে টানতে একটা গাড়িতে তুলে পাচার করে দেন। কাগজে দেখেছেন কী লিখেছে?’
‘হ্যাঁ ইংরিজি কাগজে দেখলাম। সেনসেশ্যনাল রানিং অফ এ মিস্ট্রি গার্ল হু মপড আপ দ্য ম্যারাথন টাইটল উইথ অলিম্পিক কোয়ালিফাইং পারফরম্যানস, আরও সব…টল, আট্রাকটিভ গার্ল হু গেভ হার নেম অ্যাজ সোনালি সরকার, ইজ আননোন টু অ্যাথলেটিকস সোশালিস্টস…শী পোস্টেড টাইম অফ টু আওয়ার্স টোয়েন্টি ফোর মিনিটস ফিফটি সিক্স সেকেন্ডস…আরও বলব?’
‘আপনি তো দেখছি মুখস্থ করে ফেলেছেন।’
সোনালির চোখ খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠল। দু—পা জড়ো করে হাঁটু দুটো বুকের কাছে টেনে মাতৃগর্ভে ভ্রূণাবস্থায় থাকার মতো ভঙ্গিতে সে সোফায় কাত হয়ে গড়িয়ে পড়ল।
রাহুল চোখ সরিয়ে নিল অস্বস্তিভরে। সোনালি অত্যন্ত হ্রস্ব একটা সুতির কালো শর্টস পরে রয়েছে যেটা তার তলপেট ও ঊরুরু সঙ্গে চেপে বসান। ঊর্ধ্বাঙ্গে একটা ঢিলেঢালা সুতির লাল হাফ শার্ট যায় ওপরের বোতাম খোলা এবং প্রথম দর্শনেই রাহুলের বুঝে নিতে অসুবিধে হয়নি, সোনালি ব্রা পরেনি। কিন্তু এইভাবে গড়িয়ে কাত হতেই তার শর্টসে টান পড়ার জন্য সেটা দুই উরুর ঊর্ধ্বপ্রান্ত পর্যন্ত উঠে গেছে। তাই নয় শার্টের খোলা বোতাম দিয়ে একটি স্তনের বৃন্ত পর্যন্ত উন্মোচিত অবস্থায়।
