ওজন ৬৭ কেজি
উচ্চচতা ৫ ফঃ ৯ ইঃ
কাঁধ (ব্যাস) ১ ফুঃ ৩ ইঃ
নিতম্ব (ব্যাস) ১১ ইঃ
বাইসেপ ১০ ইঃ
ঊরু ১ ফুঃ ১০/১/৪ ইঃ
পায়ের কাফ ১ ফুঃ
লেখাগুলো মিলিয়ে গিয়ে ভেসে উঠল দ্বিতীয় পর্যায়ের ছবি। জিমন্যাসিয়াম। মেয়েটির পাশে তার কান সমান উচ্চচতায় সাদা ঢিলে সুতির কোট পরা একটি লোক, হাতে একটা জটার কলম ডা. সরকার।
সাউন্ডট্র্যাকে ডা. সরকারের গলা শোনা গেল।
‘এই তরুণীকে খুব মন দিয়ে লক্ষ করার জন্য আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি। মেয়েটি আকর্ষণীয় অবশ্যই শারীরিক দিক থেকেও কৌতূহল জাগানোর মতো। এটা আরও ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন যদি ওর রেডিওগ্রাফি পরীক্ষা করে দেখেন।’
স্ক্রিনের উপর ডা. সরকারের পাশে প্রক্ষিপ্ত হল মেয়েটির পূর্ণ দৈর্ঘ্যের এক্স—রে।
‘ওর কাধ এবং থোরাক্সের ব্যবধানটা লক্ষ্য করুন। অ্যাভারেজের থেকেও বড়ো বুকের খাঁচার জন্য ওর ফুসফুসের ক্ষমতা অবশ্যই বেশি। মানুষের এরোবিক ক্ষমতা অর্থাৎ যাকে বলা হয়, সর্বাধিক যতটা পরিমাণ সম্ভব অক্সিজেন টেনে নিয়ে সেটা ক্রমান্বয়ে শারীরিক ক্রিয়ার মধ্যে থেকে প্রতি মিনিটে পাঠানো এবং সেটাকে ব্যবহার করা, এটা নির্ভর করে ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের আকার, রক্তে হেমোগ্লোবিনের পরিমাণের এবং পেশিতে তন্তুর পরিমাণের উপর। এখন যদি আমরা পেশির সংস্থান পরীক্ষা করি—’এক্স—রে কঙ্কাল মিলিয়ে গিয়ে সেখানে ফুটে উঠল স্বর্ণকুমারীর মনোরম চেহারা,’—তা হলে আমরা দেখব চমৎকার পেশিখরা ঊরু আর পায়ের ডিম বা কাফ। এই ধরনের পা খাটো চেহারার মেয়েদেরই হয়। মেয়েদের সৌন্দর্য বিচারে চিরাচরিত যে পদ্ধতি নেওয়া হয়—বুক, কোমর এবং নিতম্বের আনুপাতিক হার—সেটা নিশ্চই বুঝতে পারছেন এখানে সুন্দরভাবে বজায় রয়েছে। বুক এবং নিতম্ব—’ ডা. সরকার তার হাতের কলম শূন্যে বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে—’অতুলনীয় ক্ল্যাসিক গড়নের।’
রাহুল চট করে দর্শকদের দিকে একবার তাকিয়ে নিল। হীরাভাই তালুতে পানপরাগ ঢেলে সেটা সব মুখে চালান করতে সময় পায়নি। অর্জুন হাতের মুঠোয় চিবুক রেখে সামনে ঝুঁকে। রাধিকা সোফায় হেলান দিয়ে, দুই হাত তুলে মাথার পিছনে রাখা। রাহুলের চোখে চোখ পড়তেই বুকের সরে যাওয়া আঁচল টেনে দিল।
‘এটা এখন প্রমাণিত যে,’—ডা. সরকার বলে চললেন, ‘গত একশো বছরে, পূর্বপুরুষদের থেকে এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটু তাড়াতাড়িই পিউবার্টির বয়সে পৌঁছনোর লম্বা হওয়ার আর বলিষ্ঠ চেহারা পাওয়ার প্রবণতাটা বেড়ে গেছে। উপর দিকে বেড়ে ওঠার ঝোঁকটা আমেরিকায় আর পশ্চিম ইউরোপে প্রতি দশকে গড়ে এক সেন্টিমিটার। আমাদের দেশে এটা যে কত তা জানা সম্ভব নয়, কেননা এখনও এই সম্পর্কে ভারতে কোনো কাজ হয়নি। তবে এইরকম লম্বা বহু মেয়েই আমাদের দেশে দেখা যায় কিন্তু এই মেয়ের সঙ্গে তুলনীয় দৈহিক সক্ষমতা সম্পন্ন লম্বা মেয়ে বোধহয় পাওয়া যাবে না। এটা আমি আমার চল্লিশ বছরের আনথ্রোপমেট্রির অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। দৈহিক বৃদ্ধির যে ঝোঁকটার কথা বলেছি তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে একবিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় মেয়েদের গড়ন এইরকমই দাঁড়াবে। তখন তাদের আরও বেশি ফুসফুসের ক্ষমতা গভীর বুকের খাঁচা, শক্তিশালী কার্টিওভাসকুলার সিস্টেম, পেশির উন্নতি ঘটতে পারে। এই মেয়েটি তার যুগের থেকে ইউজেনিক্যালি তিরিশ চল্লিশ বছর এগিয়ে রয়েছে। আর সেটা যে কীভাবে আপনারা এখনি তা দেখতে পাবেন।’
ফিল্ম এবার কাট করে দেখাল মেয়েটি লোহার ভারী চাকতি লাগানো রডের পাশে দাঁড়িয়ে।
‘এগুলো চল্লিশ কেজি ওজনের ট্রেনিং ওয়েট যা পুরুষ অ্যাথলিটরা ব্যবহার করে। এইবার ও দেখাবে শরীরে সাবলীলতা। এটা কিন্তু শক্তির পরীক্ষা নয়। লক্ষ্য করুন কত সহজে স্বচ্ছন্দে, চটপট কাজগুলো করছে।’ ডা. সরকার কথা বন্ধ করলেন।
নীচু হয়ে ঝুঁকে মেয়েটি বারবেল তুলে আনল বুকের সামনে মসৃণভাবে। দশবার করল। তারপর বুক থেকে কোমর এবং কোমর থেকে বুক পর্যন্ত তারপর কাঁধে বারবেল রেখে আধা—বৈঠক, তারপর বেঞ্চ প্রেস।
‘ওর নাড়ির গতি যদি নিই’, মেয়েটি যখন ব্যয়াম শেষ করে তার পাশে দাঁড়িয়ে গভীর সহজভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে তখন ডা. সরকার আবার বলতে শুরু করলেন, ‘তা হলে ব্যয়ামের সময় প্রতি মিনিটে স্পন্দন পাব ১৫০ আর দু—মিনিটেই সেটা নেমে আসবে স্বাভাবিক হার ৪৫—এ। আমেরিকা, রাশিয়া আর পশ্চিম জার্মানি থেকে পরিসংখ্যান ডাটা আনিয়ে মাসের পর মাস ওকে নিয়ে তার ভিত্তিতে ব্যাপক পরীক্ষা চালিয়ে মাপজোক করে এখন এইটুকু বলতে পারি, এইসব প্রতিটি পরীক্ষায় এই তরুণীর পারফরম্যান্স পৃথিবীর শীর্ষ পর্যায়ের তা সে যেকোনো বয়সিই হোক না, শতকরা দুই বা তিনজন মেয়ের মধ্যে পড়বে।’
ডা. সরকার হাত নেড়ে নিজের বক্তব্যকেই যেন বাতিল করে দিলেন, এমন একটা ভঙ্গিতে আবার বলতে থাকলেন, ‘কিন্তু এইসব ফিজিওলজিক্যাল ডাটা শুধু ফিজিওলজিস্টদের কাছেই প্রাসঙ্গিক। একটা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ শুধু আমাকেই উত্তেজিত করতে পারে সাধারণ নরনারীর কল্পনা শক্তিকে নাড়া দেবে না। শারীরিক ক্ষমতা যাচাই করার জন্য আরও অনেক উপায় আছে যেটা লেবরেটরিতে মাপজোকের থেকে একটু কম সূক্ষ্ম তবে বহু বছর ধরে মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করার সেটা এখন স্বীকৃত হয়ে গেছে। আমি জনপ্রিয় খেলাগুলোর কথাই বলছি, যে খেলায় হিসেব নিকেশ করা যায়। বিশেষ করে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলেটিকসে। পুরুষ এবং নারীর চূড়ান্ত সাফল্যের প্রমাণ এর একাধিক ক্রিয়াকলাপের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে। স্পোর্টসের পত্রিকাগুলো সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর ঘটে যাওয়া হাজার হাজার পারফরম্যান্সের বিবরণ ছেপে যাচ্ছে।
