সন্দীপের দিকে ঘষড়ে সরে আসতে গিয়ে রত্না ”উঃ” বলে উঠল।
”ইঁট একটা।”
রত্না কাত হয়ে নিতম্বের নীচে জমিতে হাত বুলোচ্ছে।
”কই ইঁট, দেখি?”
”বড্ড খচরামি করো, ওখানে কোথায় ইঁট?”
”কী পরিচয় দিয়ে দেখা করবে?”
”বলব একসঙ্গে একই অফিসে কাজ করি, কলিগ।”
”ধরে ফেলবে। তাছাড়া এমন কলিগের সঙ্গে হপ্তায় ছদিন কাটাই, এটা খুব ভালোমনে নেবে না।”
সন্দীপ ভালোভাবেই জানে অলকা কোনো প্রশ্ন করবে না। ‘ও’, ‘আচ্ছা’, ‘বেশ’, ‘বসুন’ এইরকম কিছু বলে চশমাটা মুছতে মুছতে চেয়ারে বসে খাতা বা অন্য কিছু দেখতে শুরু করবে। তারপর এক সময় চা করতে উঠে যাবে। কোনোদিন রত্নার নাম শোনা যাবে না ওর মুখ থেকে। কৌতূহলী কোনো উল্লেখও নয়।
এটা অদ্ভুত লাগে, তার সঙ্গে অলকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হল না। দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয় না। যতক্ষণ দুজনে একসঙ্গে থাকে অপ্রয়োজনে কেউ একটা কথাও বলে না।
”তাহলে বলব দূরসম্পর্কের বোন।”
”আমার সব আত্মীয়স্বজনের পরিচয় ও জানে। হঠাৎ এখন একটা দূরসম্পর্কের বোন হাজির হলে…বাড়িতে ভাই, মা কাকা তারাও তো শুনবে, দেখবে…দরকার কি।”
”পাঁচ দিন একা থাকো…উঃ লাগছে, আস্তে আস্তে…এইভাবে মাঠে না বসে তোমার ঘরে…”
”অসুবিধে আছে। বাড়ির অন্যরা দেখবে, জিজ্ঞাসাও করবে।”
”তুমি বড় ভীতু। সাপও মারবে লাঠিও ভাঙবে না পলিসি দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছ।”
সন্দীপ কাঠ হয়ে গেল মুহূর্তের জন্য। মাথার মধ্যে বিছুটি ঘষার মতো জ্বালা করে উঠতেই সে প্রায় হ্যাচকা টানে রত্নাকে কোলের উপর ফেলে ঝুঁকে গাল কামড়ে ধরল।
রত্না সাড়া দিচ্ছে তার হাত দিয়ে, জিভ দিয়ে। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে। নতুন বালাটা ঘাড়ের ছাল তুলে গলার দিকে যখন এগোচ্ছে তখনই সন্দীপ টের পেল কেউ তাদের খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছে।
ধীরে মুখ তুলে সে অন্ধকারের পটভূমিতে তিনটি গাঢ় নিথর মূর্তিকে প্রায় পাঁচ হাত দূরে দেখতে পেল।
”কী হল?”
রত্না দমচাপা অধৈর্যের সঙ্গে বলল এবং সেই সঙ্গে সন্দীপের ধাক্কা পেয়ে গড়িয়ে পড়ার সময় সেও দেখতে পেল।
তিনজন দ্রুত ওদের তিনদিকে গা ঘেঁষে দাঁড়াল। জমিতে টর্চের আলো পড়েই নিভে গেল, চকচকে বিঘৎখানেক লম্বা একটা ভোজালি সন্দীপ দেখতে পেল। রত্না তার বাহু আঁকড়ে ধরেছে।
এখন কিছু করার নেই। কিছু করাও যায় না।
”কী চাই।”
সন্দীপের স্বর ভাঙা, জিভটা ভিতর দিকে ঢুকে যাচ্ছে। চোখের শিরা দপদপ করছে।
”বালাটা খুলে দিন।”
নম্র, ফিসফিস স্বরে যেন মিনতি করল।
”না।”
ভোজালিটাকে রত্নার পেটের দিকে এগোতে দেখল সন্দীপ। অন্ধকারেও ইস্পাতের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়নি। ততক্ষণে পাশের লোকটি পেশাদারি দক্ষতায় তার পকেটে হাত ঢুকিয়ে ব্যাগ তুলে নিল, কয়েক সেকেন্ডে খুলে নিল ঘড়িটা।
চেঁচামেচি বা গাজোয়ারি করে লাভ নেই…খুলে নে।”
একজন এগিয়ে রত্নার হাতটা চেপে ধরল। কিন্তু সে জানত না ওর গায়ে কত জোর।
”না না প্লীজ, পায়ে পড়ি আপনাদের, বালাটা নেবেন না…অনেক…কষ্টের…”
লোকটা হাত মোচড়াতে গিয়ে পারছে না বরং রত্নাই তার হাতটা ধরেছে এবং সে ছাড়াবার চেষ্টা করছে। প্রায় আধমিনিট তারা সবাই দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তিটা লক্ষ্য করল। এরপর একজন এগিয়ে এসে রত্নার মুখটি হাত দিয়ে তুলে প্রচণ্ড চড় কষাল। ওর চাপা গোঙানিতে সন্দীপ বিচলিত হতেই তীক্ষ্ন খোঁচা লাগল তলপেটে।
তবুও রত্না ছাড়ল না হাতটা।
”এটা নেবেন না, আমার সর্বস্ব যাবে…না না, দোব না আমি…”
সন্দীপের আড়ষ্টতা অনেক কেটে গেল এই প্রতিরোধ দেখে। রক্ত ছুটে গেল মাথায়।
”একি করছেন, ওকে ছেড়ে দিন।”
অসাড় করে দিয়ে জোরালো একটা ঘুঁষি ওর মুখে পড়ল। সেই সঙ্গে রত্নার বুকের উপরও দু-তিনটি। বুক দু হাতে চেপে অদ্ভুত একটা শব্দ করে ও উবু হয়ে বসে পড়ল। একজন দ্রুত পিছন থেকে ওর ঘাড়ে উঠে দুই ঊরুর মধ্যে মুখটা চেপে ধরে বসে পড়তেই মুখ থুবড়ে রত্না পড়ে গেল গড় করার ভঙ্গিতে। লোকটা চুল ধরে রত্নার মুখ মাটিতে ঘষড়াচ্ছে আর ও ঠেলে ওঠার চেষ্টায় পাছা দুটো তুলে বুনো ঘোড়ার মতো দেহকাণ্ডটিকে দাপাচ্ছে।
”গলা টিপে ধর।”
তৃতীয় লোকটি সন্দীপের পিছন দিয়ে ঘুরে গিয়ে লাথি মারতে শুরু করল রত্নার পাছায়। দড়ি খোলা তাঁবুর মতো ধীরে ধীরে দেহ জমির উপর নেমে এল। কান্না, রাগ আর যন্ত্রণা মেশানো একটা শ্রান্ত গোঙানি দমকে দমকে বেরিয়ে আসছে ওর মুখ থেকে।
ফলাটা আর একটু চেপে বসল সন্দীপের পেটে। মদের গন্ধ তার নাকে লাগছে।
”মেয়েছেলেরা সব দিতে চায় শুধু গয়না বাদে।”
কানের কাছে ফিসফিস করে বলল ভোজালি ধরা লোকটা। স্বরে ক্ষীণ তারিফ। সন্দীপ জানে, কিছুই করা যাবে না। একটু নড়াচড়া করলেই অবলীলায় ইঞ্চি দশকে লোহা তার পেটে ঢুকে ডান থেকে বামে ঘুরে যাবে। এরা বেপরোয়া নয়, মরীয়া। কোনো ঝুঁকি নেবে না, শিকার ফেলে খালি হাতেও ফিরবে না।
রত্না বোকামি করছে। বালাটা দিতেই হবে। এই অত্যাচারটা এড়াতে পারত খুলে দিয়ে দিলে।
বহু দূরে রাস্তায় মোড় ঘোরা মোটরের হেডলাইটের আলো মাঠের উপর দিয়ে ঝলসে যাচ্ছে। বসে থাকা বহু নরনারী পোকার মতো নড়ে উঠেই অদৃশ্য হল। ওইদিকে একটা কাঠের বাক্সের মতো ঘরে রাইফেল হাতে পুলিশ আছে।
”দেরি হচ্ছে, হাতটা কেটে নে বরং।”
