—আচ্ছা, বছর ঘোরার আগেই আপনার স্ত্রী আত্মহত্যা করলেন। কেন?
—ও, দ্যাট শি হ্যাড টু ডু। দেয়ার রিমেনড নো আদার অপশন ফর হার। হল কী, যার নাকি সহমৃতা হওয়ার কথা—অন্তত আমাকে তাই বলেই শাসিয়েছে বারবার, যে, যদি আমি আগে মরি তাহলে… বিধবা হওয়ার পর সে-ইদ্যাখ-দ্যাখ করে মোটাতে শুরু করল। বিশেষত, পাছায় ওর মাংস লাগল প্রচুর। গায়ের ফর্সা রং লাল হয়ে একদম যাকে বলে ফেটে বেদানা। একজন পতিগতপ্রাণা সদ্যবিধবার পক্ষে খুবই লজ্জার কথা বৈকি! সত্যি কথা বলতে কি, লক্ষ্মী আমার পুত্রবধূর চেয়েও সুন্দরী আর অ্যাট্রাকটিভ হয়ে উঠল, মাত্র মাস-ছয়েকও যেতে না যেতেই।
–তারপর?
–কথা হল, শরীর তো মিথ্যে বলে না! বৌ ঊর্মির প্ররোচনায় ছেলে একদিন মাকে বলে বসল, লজ্জা করে না! বিধবা মাগী মাছ-মাংস খাস! বন্ধুবান্ধবদের কাছে মুখ দেখাতে পারি না। সেই দিনই পাখায় শাড়ি বেঁধে… আসলে, আমারই ভুল। আমার ছেলের নামেও কিছু টাকাকড়ি রেখে আসা উচিত ছিল। আমার ছেলেটা লুম্পেন।
—ভিনা শীতলবলকে আপনি চেনেন?
–-হ্যাঁ, আমার অ্যানাসথেসিওলজিস্ট।
–ভিনাকে উনি সেদিন বাড়িতে আসতে দেননি। শ্মশানেও যেতে দেননি।
—হ্যাঁ। ভিনা কাঁদতে কাঁদতে ফোন করলে, লক্ষ্মীও কাঁদতে কাঁদতে বিচহোর এই সব বলে বিশ্রী গালাগালি দিয়েছিল ওকে।
—আপনার অ্যাকাউন্ট্যান্ট আপনার বারো লক্ষ টাকা খরচের হদিশ করতে পারেননি।
—আ-হ্যাঁ। ওটা, ওটা আমি গলফ গ্রিনে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ভিনাকে দিই। আই আম গ্রেটফুল টু হার। লাভ-মেকিং-এর আগে ওই আমাকে বাথরুমে গিয়ে টু দা লাস্ট ড্রপ ব্লাডার খালি করে আসতে শেখায়। ডিউরেশন এতে সত্যিই বাড়ে। শি ইউজড টু হ্যাভ টু অর্গাজম অ্যাট ইচ অ্যান্ড এভরি অকেজন। আ, আই হ্যাভ টু এনডিওর টুয়েন্টি-টু ইয়ার্স অফ ম্যারেড লাইভ টু নো হাউ ইট ইজ টু গেট সাড বায় আ উওম্যান। মাই-মাই!
—আপনাদের এরকম দাম্পত্যকে কি সুখকর বলা যায়?
—হ্যাঁ। আমরা ছিলাম সুখী দম্পতি। প্রতিদিন লক্ষ্মী নিজের হাতে আমার গেঞ্জি ও ব্রিফ কেচে দিয়েছে। স্নান করে উঠে কোনওদিন ভোলেনি লোহা আর সিঁথিতে রাঙ্গাজবা লাগাতে।
—চুল উঠে যায় শোনার পর থেকে চীনে সিঁদুর ব্যবহার শুরু করলেন, শেষের দিকে।
—হ্যাঁ, মেটে-মেটে রং। বিশ্রী। কুৎসিত।
—আপনার অসুখটাও তার পরেই ধরা পড়ল।
—হ্যাঁ। যতদিন রাঙ্গাজবা সিঁদুর ইউজ করত—
—আপনারা সুখী দম্পতি?
—আমরা সুখী দম্পতি।
দৃষ্টান্ত–৩
—আপনার নাম কী? —–অনাদিপ্রসাদ।
–পুরো নাম?
—অনাদিপ্রসাদ।
–পদবি বলুন।
—আমি পদবি ব্যবহার করি না।
—এটা আদালত। বাবার পদবি বলুন। নইলে আদালতের অবমাননা করা হবে।
—আমার মা ব্রাহ্মণকন্যা। এবং বাবা জেলে। তাদের বিবাহ হয়নি।
–বাপের পদবি-সহ নাম জানা আছে?
—আছে।
—মা বলে গিয়েছিলেন?
হ্যাঁ–।
–বাপের এবং মার পদবি জুড়ে আপনার পুরো নাম বলুন।
—ডক্টর অনাদিপ্রসাদ সাঁতরামুখার্জি।
—আপনি কীসে ডক্টরেট?
—বাংলা সাহিত্যের মলমূত্র নামে আমার থিসিসের জন্য।
—স্ত্রীর নাম কী?
–সারদাময়ী।
–সাঁতরামুখার্জি?
–সাঁতরামুখার্জি।
—আপনি স্ত্রীকে ভালবাসেন?-
-অ্যাঁ-ম্যা…
—উত্তর দিন।
—এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
-আদালতে ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে কিছু নেই। হাঅথবা নাবলতে হবে। দুটোর একটা বলুন।
—এবং চলবে না?
–এবং বলতে?
–হ্যাঁ এবং না?
–না।
—শুধু অথবা?
—শুধু অথবা। হ্যাঁ অথবা না বলতে হবে।
–মনে হয় চলবে না?
—আপনার যা মনে হয় সেটা আপনার থিসিসে চলতে পারে। এখানে শুধু সাক্ষ্য অথবা প্রমাণ। হ্যাঁ, কিংবা না।
—আচ্ছা, হ্যাঁ।
—আচ্ছা-ফাচ্ছা চলবেনা।বলুন, হঁ্যা।নইলে আপনাকে এই মুহূর্তে হোস্টাইল ডিক্লেয়ার করব।
—হ্যাঁ।
—স্ত্রীর সঙ্গে আপনার যৌন সম্পর্ক নেই কতদিন?
—পনেরো বছর।
–এখন বয়স কত?
—পঁয়তাল্লিশ।
–তিরিশ থেকে?
—বিয়োগফল তাই।
—সম্পর্ক নেই কেন?
—হিস্টেরেকটমি, মানে ওই ওর ইউটেরাস রিমুভড হবার পর, ও যন্ত্রণার কথা বলত। কিছুতেই নিতে পারত না। উঃ, আঃ মাগো, মরে গেলাম এইরকম বলত। মাসখানেক চেষ্টা করলাম। তারপর হঠাৎ মনে পড়ল, ছিঃ, আমি না মানুষ। হাল ছেড়ে দিলাম।
—ডাক্তারের কাছে গেলেন না?
–না, তখন আমার ধারণা ছিল, হিস্টেরেকটমির পর বোধহয় আর সেক্স করা যায় না। লজ্জায় বন্ধুবান্ধবদের কাছে জানতে চাইনি যাদের স্ত্রীদের অমন হয়েছিল। তাছাড়া ওই সময় রবীন্দ্রনাথ-ওকাম্পাের যৌন ব্যাপারটার ভার পুরোটা আমার ওপর এসে পড়ল। সাহিত্য অকাদমির গ্রান্টে চলে গেলাম আর্জেন্টিনা। অনেককাল বাদে, একদিন রোববার দুপুরে রোয়িং ক্লাবে বিয়ার খেতে খেতে ব্যোমকেশ আমাকে বলল, সে কীরে। খুব প্রেমসে করা যায়, ব্যোমকেশ তখনও বেঁচে, আগের চেয়ে ঢের ভাল করা যায়। আমার শালা কাতুর বৌ এর তো হয়েছে। ফকিং-টকিং দিব্যি চলছে। তাছাড়া কনসিভ করার ভয়ও আর থাকে না। ফ্রি লাভ বলতে যা বোঝায় আর কি। একদম তাই। বলে ও খুব একচোট হাসল। কিন্তু, ততদিনে বছর চারেক পেরিয়ে গেছে। ততদিনে সারদা কেঠো, কড়ে বিধবা।
—সেক্স লাইফ কীভাবে কাটালেন। এতগুলো বছর?
–মাস্টারবেট করে। (রিমলেস গ্লাস নাকের ডগায় নামিয়ে) হ্যাঁ!
—আপনারা পাশাপাশি শোন না।
–নাঃ। ও পাশের ঘরে শোয়।
—অথচ, সবাই আপনাদের সুখী দম্পতি বলে জানে?
–অথচ, সবাই আমাদের সুখী দম্পতি বলে জানে।
