—ইউ ডিডন্ট গো ফর এনি আদার উওম্যান, ডিড ইউ?
—এন-নো। আই ডিড নট।
বিচারপতি : স্টিল ইউ আর ইন বেস্ট অফ টার্মস?
—ইয়েস মি লর্ড।
—অ্যাজ হ্যাজবন্ড অ্যান্ড ওয়াইফ?
—ইয়েস মি লর্ড। সুখী দম্পতি বলতে তো তাদেরই বোঝায় যখন সবাই তাদের সেভাবে দ্যাখে, তাই না? ইন পয়েন্ট অফ ফ্যাক্ট, মি লর্ড, আমার শ্বশুরবাড়ির তরফ থেকে আমাদের ২৫তম বিবাহবার্ষিকীর জন্যে ইল্লববারেট প্রিপারেশন হচ্ছে।
–আচ্ছা। এখন বলুন! আপনারা সুখী দম্পতি?
—দাম্পত্য জীবনের সুখ-অসুখের কথা আদালতকে বলা নিরর্থক ধর্মাবতার।
—কেন?
–কারণ, আদালত ক্লীবলিঙ্গ। আদালতের বিবাহ হয় না।
—ইফ দিস ইজ নট, দেন হোয়াট এলস্ ইজ কনটেম্পট অফ দ্য কোর্ট, মিলর্ড?
—হুজুর! মিলর্ড! ধর্মাবতার! দাম্পত্য জীবনের সুখ-অসুখ আমি আদালতকে বোঝাব কী করে? দাম্পত্য মানে তো শেকলে বাঁধা দুজন মানুষ একজন স্ত্রী আর আর-একজন পুরুষ যে যার নিজের শেকল চাটছে। কী করে আমি আদালতকে এটা বোঝাব, এতেও একটা সুখ আছে। (ক্রন্দন)
কৌঁসুলি : আপনি ইতিমধ্যেই কঠিন শাস্তিযোগ্য একটি উক্তি করেছেন আদালতকে ক্লীবলিঙ্গ বলে–
—(বিচারপতির প্রতি, কাঠ-গড়া চেপে ধরে, ঝুঁকে) সার, আপনি ব্যাকরণ দেখুন। বিচারপতি (হাতুড়ি ঠুকে) : আদালত ব্যাকরণ মানে না। বলুন, আপনি সুখী না অসুখী? অনাদিপ্রসাদ (শিকল ও অশ্রু একত্রে ঝেড়ে) : সুখী ধর্মাবতার।
দৃষ্টান্ত–৪
—আপনার নাম কী?
–কুবের হালদার।
—স্ত্রীর নাম?
—স্ত্রীর নাম মন্দিরা হালদার।
—আপনি কী করেন?
—শিয়ালদহর কাছে নুর মহম্মদ লেনে আমার হারমোনিয়ামের দোকান আছে। নাম : সুর-লক্ষ্মী।
—টেবিলের ওপর রাখা একটি উজ্জ্বল হারমোনিয়াম দেখিয়ে) এই হারমোনিয়ামটা চিনতে পারছেন?
—হ্যাঁ। ওটা মন্দিরার হারমোনিয়াম। একদিন ওটা সারাতে ভাই-এর সঙ্গে মন্দিরা আমার দোকানে নিয়ে এল। দেখলাম, কারিগরির দিক থেকে যন্ত্রটি খুবই ভাল। তবে, কালক্রমে এর উইন্ড চেম্বার, ভয়েসিং, টিউনিং সব নষ্ট হয়ে গেছে। খুব বেসুরে বাজছিল।
–বলে যান।
—রিডগুলো ঘষে ঘষে আমি সুর মেলালাম। জার্মান টিউনিং ফর্ক দিয়ে অনেক খেটেখুটে সা-টু-সা মেলালাম। সিঙ্গল রিডকে স্কেলচেঞ্জিং-এ পরিণত করলাম। পালিস-টালিসের পর কালক্রমে খুবই সুন্দর দেখাল। মন্দিরা এতটা আশা করেনি আমার কাছে। আমাদের বয়সেরও অনেক তফাত।
—সেই আপনাদের পরিচয়ের শুরু। তারপর?
–তারপর কালক্রমে আমার আর মন্দিরার বিয়ে হল। কালক্রমে আমাদের সন্তানাদিও হল।
—উনি গান গাইতেন?
—হ্যাঁ। তবে শেষ ছমাস আর গাইতে পারত না। সেই ছোটবেলা থেকে তানপুরা ধরত মালবিকা কাননের সঙ্গে। গান ওঁর কাছেই শেখে। তারপর কালক্রমে ওর গলায় ক্যানসার হল।
—কিন্তু এখন এই হারমোনিয়ামটা পাওয়া গেছে শেওড়াফুলির নিরাপদ মল্লিকের বাড়ি থেকে।
—হ্যাঁ। আমি ওকে বিক্রি করি। প্রথমটা করতে চাইনি। স্মৃতি হিসেবে রেখে দেব ভেবেছিলাম। কালক্রমে করলাম।
—এটা কি সত্যি যে এই হারমোনিয়ামের সুরে গান গেয়ে গায়িকার গলায় ক্যানসার হয় বলে অনেকেই এটা কিনতে চাননি?
–কেউ না। কিন্তু মল্লিক বেপরোয়া লোক। ভজন ছাড়া ও কিছু গায় না।
—কত দাম পান?
—চার হাজার।
—স্ত্রীর মৃত্যুর কত দিন পরে বিক্রি করেন?
–ছমাসের মধ্যে।
–টিউনিং ইত্যাদির জন্যে আপনি নিরাপদবাবুর কাছে আরও পাঁচশোর জন্য খুব চাপাচাপি করেছিলেন?
–কালক্রমে সাড়ে চার হাজার পাই।
—আর স্ত্রীর তানপুরাটা। যা মালবিকা কাননের সঙ্গে বাজাতেন?
–কালক্রমে ওটাও বিক্রি হয়।
–কালক্রম বলতে কি পরে?
—ওটা হারমোনিয়ামের আগেই বিক্রি হয়ে যায়। এতে তো ক্যানসারের ব্যাপার ছিল না।
—ভাল দাম পেয়েছিলেন?
—ভাল দাম পেয়েছিলাম।
—আচ্ছা কুবেরবাবু, স্ত্রীর মৃত্যুর পর, ওষুধের আন-ইউজ ফয়েলগুলো–যা বেঁচেছিল…
—হ্যাঁ। ওগুলো আমি সব স্থানীয় প্যানাসিয়া ড্রাগ স্টোর্স-কে বিক্রি করে দিই।
—ভাল দাম পেয়েছিলেন?
—ভাল দাম পেয়েছিলাম। সবই দামি ওষুধ।
বিচারপতি : (কৌঁসুলির প্রতি) কুয়ো ভাদিস, মাই লার্নেড ফ্রেন্ড?
কৌঁসুলি : লিডিং টু দা পয়েন্ট, ইওর অনার।
বিচারপতি : (বিরক্ত মুখে): এ মামলার আসামি কে বা কারা? উইটনেসের পর উইটনেস বক্সে দাঁড়াচ্ছে–আসামিরা কই?
কৌঁসুলি : দে শ্যাল অ্যাপিয়ার অ্যাট দা রাইট মোমেন্ট, ইওর অনার। (সাক্ষীর প্রতি) আচ্ছা, আমার শেষ প্রশ্ন। হলদিয়া থেকে আপনারা বাসে ফিরছিলেন একবার। মনে আছে?
-হ্যাঁ। শালির ছেলের অন্নপ্রাশনে যাই।
—দুজনে বসার সিটে পাশাপাশি বসেছিলেন। বাসে আপনারা একটাও কথা বলেননি। সেদিন কি ঝগড়া হয়েছিল?
–না-না। ঝগড়া, মনোমালিন্য এসব আমাদের একদিনের জন্যেও হয়নি। এ জন্যে বন্ধুবান্ধব সবাই আমাদের হিংসে করত।
বিচারপতি : তাহলে? তিন ঘণ্টার পথ… বাসে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটাও কথা হবে না?
–স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর কী কথা হবে, ইওর অনার, বাজারে মাছ কাটিয়ে এনেছ, তবু গায়ে আঁশ লেগে কেন–এ-ছাড়া?
আদালতে হাস্যরোল।
বিচারপতি : চোপ! আদালত চলছে।
কৌঁসুলি : (বিচারপতির প্রতি) মিলর্ড। এবার আমি আসামিদের ডাকছি।
০৪. দূরাকাঙ্ক্ষের বৃথা ভ্রমণ
বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারে, মিহিজামে, আমার সমস্ত আগ্রহে জল ঢেলে দিয়েছিল চৈতি। ওর তখন ৪ বছর বয়স।
সেই সত্তরের শুরুতে একবার যা চুনার কাশী, শর্ট অফ মধুচন্দ্রিমায়। পরের বছর দীপ্তি এক রকম জবরদস্তি নিয়ে গিয়েছিল গৌহাটি, ওর দিদি-জামাইবাবুর কাছে। ওঁরাই মানসে পাঠান। মথানগুড়ির বাংলোর মাথায় ব্যাঘ্র-গর্জনের রাতেই সে, হিসেব মতো, কনসিভ করে। সেই থেকে ব্যাঘ্রপ্রজাতির কাছে আমি ঋণী। চৈতির কারণে।
