Wavering between the
profit and the loss
In this brief transit
Where the dreams
cross
The dream crossed
twilight between birth
and dying.
না হে, বয়েস বাড়লেও স্মৃতিটা এখনও আছে। তোমার মনে পড়ে?
আজ্ঞে কী মনে পড়ে? পড়া?
না না পড়া নয়, তোমার মায়ের কথা?
খুব অল্প। অস্পষ্ট। একটা-দুটো ঘটনা।
তুমি ‘লাকি’। ভেরি, ভেরি ‘লাকি’।
আজ্ঞে মায়ের মৃত্যু তো ছেলের পক্ষে দুর্ভাগ্যের ঘটনা। আপনি আমাকে ‘লাকি’ বলছেন?
অফকোর্স। যে বয়েসে তোমার মা মারা গেছেন, সে বয়েসে তোমার স্মৃতি তৈরি হয়নি, অজ্ঞান শিশু। কিন্তু আমি! আমার কথাটা একবার ভাবো। হাজার হাজার টুকরো টুকরো স্মৃতি বহুবর্ণ পাথরের মতো মজা নদীর বুকে বিছিয়ে পড়ে আছে। দিন নেই, রাত নেই, আমি একবার এটা তুলি তো ওটা ফেলি, ওটা ফেলি তো এটা তুলি। নো, আই শুড নট বি উইক, আই শুড নট বি এ সেন্টিমেন্টাল ফুল The dream crossed twilight between birth and dying.
আপনার জ্বর খুব বেড়েছে। বিছানা করে দিই শুয়ে পড়ুন একটু।
ছেলেমানুষ! আমি একশো তিন জ্বরে অফিস করেছি। জ্বর একটা বার্নিং প্রসেস। ভেতরের সমস্ত বিষ পুড়িয়ে দিচ্ছে। অত সহজে শুয়ে পড়লে চলে।
The hurt is not enough:
I long for weight
and strength
To feel the earth
as rough To all my length.
তুমি ভাবছ আমি জ্বরের ঘোরে ভুল বকছি! তা হলে এসো, চেয়ারটা আমার কাছে নিয়ে এসো, বসে বসে দেখো আমি স্টেপ বাই স্টেপ কী কঠিন একটা অঙ্ক করছি।
না না, আমি ভুল বকার কথা বলিনি।
দেন ইট ইজ অলরাইট। তা হলে জেনে রাখো, শরীরকে কখনও বেশি প্রশ্রয় দেবে না। শরীর হল কুকুর। নাই দিয়েছ কী মাথায় উঠে বসবে। সবসময় পায়ের তলায় রাখবে। বেচাল দেখলেই লাথি। এ টাইমলি কিক। একটু চা করতে পারবে?
কেন পারব না?
ক’টা বাজল?
তিনটে-সাড়ে তিনটে হবে।
তা হলে চারটে নাগাদ বসিয়ো। কেন জানি না, আজ সব পুরনো দিনের কথা মনে পড়ছে। জানবে, অতীত যখন মনে এসে ভিড় করে, তখন বুঝতে হবে বয়েস বাড়ছে। দেয়ালে ওই বড় আয়নাটা দেখেছ?
আজ্ঞে হ্যাঁ, খুব সুন্দর। বেলজিয়ান গ্লাস।
শুধু সুন্দর নয়। ওটা তোমার মায়ের। ওই কাঁচে তোমার মায়ের মুখ লেগে আছে। আমরা দু’জনেই প্রায় মাথায় মাথায় ছিলুম। সেম হাইট। আচ্ছা, তুমি তোমার মায়ের মুখটা পেলে, স্বভাবও পেলে, রংটা কেন পেলে না বলো তো!
আজ্ঞে, তা তো জানি না।
আমি জানি। আমি তোমার রং কালচে করে দিয়েছি। শুধু মা সুন্দরী হলে হয় না, পিতাকেও সুন্দর হতে হবে। আগেকার দিনের জমিদারদের সন্তান কন্দর্পকান্তি কেন হত জানো? অনেক খুঁজে খুঁজে, দেখে দেখে সেরা সুন্দরীদের সঙ্গে ছেলেদের বিয়ে দিতেন। বংশ দেখতেন। ফুটফুটে ছেলে, ফুটফুটে মেয়ে হত। নিষ্ঠা চাই। বুঝলে? হিউম্যান ব্রিডিংও একটা আর্ট। গ্রিক আর রোমানদের দিকে তাকিয়ে দেখো। ইজিপশিয়ানদের কথা ভাবো। ক্লিওপেট্রার নাম নিশ্চয়ই শুনেছ?
আজ্ঞে হ্যাঁ।
তবে? তবে কেন অত ছটফট করো!
আজ্ঞে করি না তো।
না কখনও করবে না। কোনও টিয়া কি কাককে বিয়ে করে! বউ কথা কও কি হাঁড়িচাচার জন্যে পাগল হয়? ময়ূর কি বকের পেছনে দৌড়োয়? ঘুঘু কি গোলাপায়রাকে লাভ লেটার্স লেখে?
আজ্ঞে না।
মেনটেন ইয়োর ব্রিড। তোমার মায়ের সঙ্গে আমার বিয়ে হওয়া উচিত হয়নি। শি ওয়াজ এ প্যারাগন অফ বিউটি। আর আমি! এ লিটল বিট অফ এ সিমপ্যাঞ্জি। আমার সবকিছু কোর্স। স্কিন, হেয়ার, কমপ্লেকশন।
আজ্ঞে না, ইউ আর সো ম্যাসকুলাইন!
ও, ডোন্ট ফ্ল্যাটার মি। ম্যাসকুলাইন! দ্যাট ইজ মাই সাধনা। যৌবনে পিটে পিটে শরীরটাকে তৈরি করেছিলুম। তোমার মায়ের সঙ্গে কোনও সুন্দর পুরুষের বিয়ে হলে, তুমি কত সুন্দর হতে পারতে! তুমি আমার দিকে অ্যাকিউজিং ফিঙ্গার তুলে বলতে পারো, কেন আপনি আমার সর্বনাশ করলেন, কেন আপনি আমাকে পৃথিবীতে আনলেন, আমি কন্দর্প হয়ে আসতে পারতুম!
আজ্ঞে, আমি তা কখনও বলব না।
তোমার বলা উচিত। তুমি বলতে পারো। আই ওন্ট মাইন্ড। আই হ্যাভ ডেস্ট্রয়েড এ পসিবিলিটি। একটা ভাল পুট কাঁচা হাতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেল। তোমার জীবনী অন্যভাবে লেখা হতে পারত!
আমি ভাগ্যকে বিশ্বাস করি।
হ্যাঁ করবেই তো! তুমি যে দুর্বল। তাইমুর কি চেঙ্গিজ ভাগ্যকে বিশ্বাস করতেন না। নেলসন কি নেপোলিয়ান ভাগ্যকে বিশ্বাস করতেন না। তোমার রক্তে হোয়াইট ব্লাড কর্পাসল রেড ব্লাড সেলের চেয়ে অনেক বেশি। তুমি অ্যানিমিক। ভাল করে খাওয়াদাওয়া করো, ভাগ্য পালাবে। জীবন সম্পর্কে একটা পজিটিভ অ্যাটিচিউড আসবে। নির্জীব থেকে সজীব হয়ে উঠবে। ক্লীব থেকে জীব। তোমার রক্তে কিছু লোহার প্রয়োজন। ইউ নিড সাম মিনারেলস।
যাই, এইবার চা করে আনি।
হ্যাঁ, যাও, নাও ইট ইজ টাইম ফর টি।
উত্তর মহল আজ অসম্ভব ফাঁকা। কেউ কোথাও নেই। নির্জন দেয়ালে মাঝে মাঝে টিকটিকি টকাস টকাস শব্দ করে দরজা খোলাতে চাইছে। লম্বা লম্বা শাড়ি ঝুলছে। শুকিয়ে গেছে। হাওয়া দিলেই প্রাণ পেয়ে নড়াচড়া করছে। ছাতে ওঠার সিঁড়ির একপাশে কনকের, মুকুর ছাড়া জামাকাপড় তালগোল পাকানো পড়ে আছে। দু’জোড়া হাইহিল জুতো সিঁড়ি ভাঙার জন্যে যেন প্রস্তুত হয়ে আছে। ওয়ান, টু, থ্রি বললেই টকাস টকাস করে এগোতে থাকবে। রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে এক টুকরো কাগজ রোল করা। কীসের ক্যাশমেমো? কনকের হাতের লেখা, ‘পিন্টু, তুমি কিছু মনে কোরো না। বাবার ভয়ে দূরে দূরে থাকছি। মেয়েদের একটু অভিনয় করে চলতে হয়, নইলে তলিয়ে যেতে হয়। মেয়ে হলে বুঝতে।’ কখন লিখল! মনে আবার ভাঙন ধরাতে চাইছে।
