রাকিব বলে, আমরা দুইজন বড় কবি একটা ছোট কবির বাড়িতে আসলাম, এই ঘটনা ত শতাব্দীতে একবারই ঘটবো, দুইবার ঘটবো না, আপনের উচিত আছিল আমরা যেই পথ দিয়া উপরে যামু যেই পথে আমাগো পায়ের ধুলা পরবো সেই পথে বিশ পঁচিশ কেজি গোলাপের পাপড়ি ছারাই ছারাই রাখন।
উত্তেজিত হয়ে ওঠে কোটিপতি কবি, চিৎকার ক’রে ডাকতে থাকে ডজনখানেক চাকরবাকরকে, খুবই বিব্রত হয়ে বলতে থাকে, কিছু মনে কইরেন না কবিভাইরা, কিছু মনে কইরেন না, আমার ভুল হইয়া গ্যাছে, এখনই আমি এক মোন গোলাপের পাপড়ি আইন্যা আপনাগো পথে ছারাই দিতেছি।
ওপরে গিয়ে দেখে বসার একশোবর্গমাইল ঘরটিতে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ সমস্ত শিল্পকলা সমস্ত সৌন্দর্য গাদাগাদা জড়ো করা আছে, মাটির নিচের মাটির ওপরের সমুদ্রের ভেতরের উত্তর মেরুর দক্ষিণ মেরুর বিষুব রেখার কর্কট ক্রান্তির পর্বত চূড়োর আকাশের ওপরের আফ্রিকার জঙ্গলের আমেরিকার শহরের ইউরোপের বন্দরের সব কিছুর আবর্জনাস্তূপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
রাকিব বলে, এইখানে ত বসনের কোনো জায়গা নাই। কোটিপতি কবিটি বুঝতে না পেরে বলে, এই যে সোফাগুলি দেখতেছেন, এইগুলিতেই বসেন কবিভাই, পাঁচলাখ দিয়া বানাইছি।
রাকিব বলে, এইগুলি বসনের লিগা বুঝি, কবিভাই? আমি ত ভাবতেছিলাম হাগনের লিগা।
লোকটি চমকে উঠে বলে, কি কইলেন কবিভাই, কি কইলেন? রাকিব বলে, না, কবিভাই, কিছু কই নাই; কিন্তু কথা হইছে আমি আবার মহাকবি মধুসূদনের মতো পিঁড়ি না হইলে বসতে পারি না, মহাকবিরা পিঁড়িতে বসতে পছন্দ করে।
লোকটি বলে, ফিরি? ফিরি? ফিরি কই পামু? গ্যারামে ফিরিতে বইতাম, আমাগো অনেক ফিরি আছিল, এইখানে ত ফিরি নাই। দুইটা ফিরি কিন্যা আনুম?
হাসান কার্পেটের ওপর বসতে বসতে বলে, এখানেই বসি, বিলের ঘাসের মতো মনে হচ্ছে।
লোকটি বলে, কার্পেটের ওপরই বসবেন, কবি ভাই? বসেন।
হাসান আর রাকিব কার্পেটের ওপর বসে পড়ে।
রাকিব বলে, লগে একটা লুঙ্গি আর গামছা লইয়া আসলেই ভাল হইত। কোটিপতি কবিটি দৌড়ে গিয়ে গোটাচারেক মোটােগাটা দামি ডায়েরি এনে রাখে। তাদের সামনে, এবং ডাকতে থাকে, ও মনোরা, ও হালিমা, ও রোকেয়া, এইদিকে আসো।
তার ডাকের সাথে সাথে বেশ তরতাজা বেশ টাটকা বেশ সুগন্ধি বেশ মাংস মনোরা, হালিমা, রোকেয়া এসে হাজির হয়।
কোটিপতি কবি বলে, আমার বড় কবি ভাইরা আসছে, দ্যাশের দুইজন অইত্যান্ত বড় কবি, বোতল আর পারোটা গোস্ত, প্লেট, গোলাশ লইয়া আসো, বাইর্যা দেও।
মেয়ে তিনটি গোটাচারেক ব্ল্যাক লেবেলের বোতল, পারোটা, গোস্ত, কাবাব, প্লেট, চামচ, ধবধবে শাদা পানিপাত্র নিয়ে আসে। তারা ছুরি নিয়ে কাটা কুমড়োর ফালির মতো হেসে হেসে প্লেটে প্লেটে মাংস পরোটা কাবাব বেড়ে দিতে থাকে, রাকিব গেলাশে গেলাশে ব্ল্যাক লেবেল ঢালতে থাকে।
ঢেলেই রাকিব এক গেলাশ ঢক ঢক ক’রে গিলে ফেলে, এবং বলে, ও মিস মনোরা মিস হালিমা মিস রোকেয়ারা, বোঝলা আমরা বড় কবি।
মেয়ে তিনটি নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি ক’রে ইলশের ঝোলে হলদে কুমড়োর ফালির মতো হাসতে থাকে।
হায়রে নারী, তোমরা সতী, তোমরা হইলে মায়ের জাতি, তাই ত আমরা পুরুষগণ তোমার পায়ে মাথা পাতি। তোমরা ছারা ক্যামন হইত, এই দুনিয়া খালি রইত।
রাকিব পান করতে করতে জিজ্ঞেস করে, কবিভাই, আপনের ইস্ত্রী আর পোলাপােনরা কই?
কবি বলে, আহ, আমার ইস্ত্রী ত আমরিকায় থাকে, আর এক পোলা থাকে লন্ডনে, একপোলা নিউইয়র্কে, আরেকপোলা সিডনিতে, এক মাইয়া থাকে ওয়াশিংটনে, আরেক মাইয়া থাকে টরন্টোতে…
রাকিব বলে, আর আপনে কবিভাই কষ্ট কইরা মিস মনোরা মিস হালিমা মিস রোকেয়ারে লইয়া এই গরিবকুটিরে একলাই থাকেন?
কবি বলে, কি আর করুম কবিভাই, অগো লইয়াই আছি।
হাসান বলে, ধনীদের নিঃসঙ্গ দুঃখ খুবই ব্যাপক, ধনীরা খুবই দুঃখী।
রাকিব কয়েক গেলাশ গিলে ফেলেছে, খুবই চমৎকার আছে, জিজ্ঞেস করে, কবিভাই, মাইয়াগুলিরে আপনে একলাই ইউটিলাইজ করেন, না অন্য কবিগোও ব্যবহার করতে দেন?
কবিও এর মাঝে তার পাঁচ সাতটি কবিতা পড়তে পড়তে দু-তিন গোলাশ গিলে ফেলেছে, তার কণ্ঠে কবিতা জড়িয়ে আসছে।
কবি বলে, বয়স হইলেও তিন চাইরটা মাইয়া আমার একলাই লাগে, আমার প্রোস্টেট গ্র্যান্ড ঠিক আছে।
রাকিব বলে, দুইটা আইজ বড় কবিগো ইউটিলাইজ করতে দেন, পত্রিকায় আপনের কবিতা ছাপাই দেঅনের ব্যবস্থা করুম।
মেয়ে তিনটি ঘোরাঘুরি করছে, হাসছে, গেলাশে ব্ল্যাক লেবেলও ঢেলে দিচ্ছে, মনে হচ্ছে বড়ো কবিদের ওরা অপছন্দ করছে না।
কবি একটু রেগে ওঠে, কবিভাইরা, আমার কবিতা শোনেন, কবিতা শোনানের লিগা আপনাগো দাওয়াত দিয়া আনছি, ব্ল্যাক লেবেল খাওয়াইতেছি।
রাকিব বলে, আপনের ওই বালের কবিতা শুনতে শুনতে আমার প্যাট ভাইর্যা মুতে ধরছে।
কোটিপতি কবি রাকিবকে টয়লেট দেখানোর জন্যে একটি মেয়েকে ডাকাডাকি করতে তাকে ।
রাকিব বলে, বড় কবিরা ছোট কবির বাসায় আইস্যা টয়লেটে মোতে না, তাগো কার্পেটে মোতে সোফায় মোতে লাখট্যাকার ফুলদানিতে মোতে রঙিন মাছের বাক্সে মোতে তাগো মোখে মোতে।
রাকিব দাঁড়িয়ে জিপ খুলতে থাকে, এবং এক সময় শাশা ক’রে এদিকে সেদিকে প্রস্রাব করতে থাকে, তার ধারা থামে না।
কোটিপতি কবিটি চিৎকার ক’রে ওঠে, এ আপনে কি করতেছেন, এ আপনে কি করতেছেন? এইটা বাথরুম না, এইটা বাথরুম না, এইটা আমার দশ লাখ ট্যাকার কাশ্মিরি কাপেট।
