আলাউদ্দিন বলে, আর ফিইররা না আসলে বাচি, ওয়াইফ আর হুইস্কি আর কবিতা একলগে চলে না। এই দ্যাখেন না, ওয়াইফাগো ডরে আপনেরা নিজেগো বাড়িতে গিলেন না, বাড়িতে ঢোকনের আগে পানজর্দা খাইয়া লন।
শাহেদ আলতাফ বলে, আরো ছালা, বউটউ লইয়া ডিস্কাশন ছারো, পান করো আর কবতে লইয়া কথা বলো, কবতেই আমাদের ফিয়াঁসে, কবতেই আমাদের ওয়াইফ। অ্যান্ড মিস্ট্রেস, কবতেই আমাদের ইটারন্যাল গডেজ। ওয়াইফ থাকবে হারামজাদাদের, আমাদের কোনো মেয়েলোক ওয়াইফ থাকবে না। হিজড়েদেরই ওয়াইফ লাগে, কবিদের ওয়াইফ লাগে না; দি পয়েটস ডোন্ট নিড ওয়াইভস্।
রাকিব সুলতান বলে, ওস্তাদ, কইতে থাকো, কবতের স্তব গাইতে থাকো, কবতের জইন্যে আমি হাজেরার লগে ঘুমাইতে অস্বীকার করছি, কবিতের জাইন্যে আমি পশ্চিম পাড়ার সুনীল্যার মতন অম্রতা অস্বীকার করছি।
আলাউদ্দিন বলে, শালা, অইটা কোনো কবি না, অইটা একটা সেন্টিমেন্টাল স্টেরিটেলার, অইটার নাম মুখে আনিছ না। অই শালা কবি না।
রাকিব সুলতান বেশ খেয়েছে, সে ঢকঢক ক’রে খায়, সে গড়িয়ে পড়ে, উঠতে উঠতে বলে, তাইলে কি আমি এই পোস্ট-এডিটরিয়াল রাইটার কামর আবদিনের কথা বলুম? ও আইজ পর্যন্ত একটা মেমোরেবল লাইন লিখছে? ও তা একটা ঈশ্বরগুপ্ত। এই পাড়ার মুসলমানরা অরে লইয়া মাতামাতি করন শুরু করছে, আগে জসিমুদ্দিন আছিল, এখন অরে লইয়া ফালাফালি করছে, ও আমার এইটার কবি।
রাকিব সুলতান দাঁড়িয়ে ট্রাউজারের জিপ টানতে টানতে বলতে থাকে, ও আমার এইটার কবি, ও হইল পোস্ট-এডিটরিয়াল রাইটার, ও হইল রিপোর্টার, রিপোটিং আর কবতে এক জিনিশ না। কবিরা মহাকালের জাইন্যে লেখে, ও লেখে একদিনের জইন্যে; ওর কবিতা পাঁঠার পদ্য, তপসে মাছের পদ্য।
কামর আবদিন বিব্রত হয়ে তোতলাতে শুরু করেন, তাঁর চোখমুখ লাল হয়ে ওঠে, এবং বলেন, আআআমি যা লিলিলিখেছি আআআগে তা লিলিলিখুন, ওই সব নাগরিক ইমেজারি তৈরি করুন, পরে এএএইসব বববলবেন।
রাকিব সুলতান গিয়ে দাঁড়ায় কামর আবদিনের সামনে, সে জিপ খুলতে থাকে, কামার আবদিন ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।
রাকিব সুলতান বলে, তুমি আমার এইটা ল্যাখছো, আই ল্যাওরা আমি লিখুম না, কবিতা লিখতে গিয়া আমি জার্নালিজম করুম না। কবিতা হইল পিউরেস্ট ডায়মন্ড, আর তুমি কবিতার নামে কয়লা চালাইতেছ।
সালেহ ফরিদউদ্দিন নিজের কবিতা আবৃত্তি ও পান করা থেকে জেগে উঠে বলে, মহাকবি জীবনানন্দের আগে আর পরে বাঙলায় কোনো শালা কবিতা ল্যাখে নাই, আমি দুই একটা ল্যাখতেছি। আবদিন ভাই ত আঠার মাত্রার গদ্য লেখে।
কামর আবদিনকে বাঁচাতে কাঁপতে কাঁপতে গোলাশ উল্টে ফেলতে ফেলতে ধরতে ধরতে এগিয়ে আসেন কথাশিল্পী করিম আহমেদ।
তিনি খশখ’শে পুরস্কারপ্রাপ্ত গলায় বলেন, কবি কামর আবদিন বাঙলা কবিতায় যুগান্তর এনেছেন, তিনি নকশিকাঁথা সোজানবাদিয়ার কবিতাকে খালেঝিলে ফেলে দিয়ে কবিতাকে নাগরিক কবিতা ক’রে তুলেছেন, তিনি আমাদের টি এস এলিয়ট, তাঁর কবিতা বোঝার শক্তি আপনাদের নেই।
রাকিব সুলতান এবার করিম আহমেদের দিকে তার জিপ টানাটানি নিয়ে এগিয়ে যায়, বলে, আমার চুলমার্কা দুইখানা পিরিতির গল্প লেইখ্যা আপনে সাতখানা পুরস্কার পাইছেন, আপনে অইগুলি লইয়াই থাকেন, কবিগো মইধ্যে কথা কইতে আইসেন না। নাগরিকতা আর এলিয়টের এইটা বোঝেন আপনে, হইছেন ত মুসলমানের নীহাররঞ্জন গুপ্ত, সেইটা হইয়াই থাকেন।
কামর আহমেদ চিৎকার ক’রে ওঠেন, আমাকে একটা সিগারেট দিন, আমাকে একটা সিগারেট দিন।
তিনি আসন থেকে মেঝের ওপর প’ড়ে যেতে যেতে আসন জড়িয়ে ধরেন।
কামর আবদিন তাঁকে বলেন, করিম ভাই, আপনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিলো, আপনার সিগারেট খাওয়া ঠিক হবে না।
করিম আহমেদ বলেন, রাখুন। হার্ট অ্যাটাক, আমাকে একটা সিগারেট দিন, আমাকে একটা সিগারেট দিন।
হাসান উঠে গিয়ে তাকে একটি সিগারেট দেয়।
করিম আহমেদ সিগারেটটি ঠোঁটে রাখতে রাখতে একবার সিগারেটটি নিচে প’ড়ে যায়, তিনি সেটি খুঁজতে থাকেন।
হাসান সিগারেটটি তুলে তার হাতে দেয়।
তিনি বলেন, আগুন দিন, আগুন দিন।
হাসান আগুন জ্বালাতে জ্বালাতে দেখে করিম আহমেদের কোলে একটা ছােটাে অদ্ভুত বোতল, বোতলটা পিছলে পড়ে যাচ্ছে।
হাসান বোতলাটা তুলে বলে, এটা কী?
করিম আহমেদ চিৎকার করে বলে, এটা সিভাস রিগাল, এটা সিভাস রিগাল, এটা আমার জন্যে, আমি এটা ছাড়া খেতে পারি না।
রাকিব সুলতান এসে বোতলটি ছিনিয়ে নেয়। হাসানের হাত থেকে, চিৎকার ক’রে বলে, কবিরা খাইবো ব্ল্যাক লেবেল, আর সিভাস রিগাল খাইবো একটা থার্ড ক্লাস নভেলিস্ট, এইটা হইতে পারে না।
করিম আহমেদ হাহাকার ক’রে ওঠেন, আমার সিভাস রিগাল, আমার সিভাস রিগােল; সিভাস রিগাল ছাড়া আমি খেতে পারি না।
আলাউদ্দিন ঢুলতে ঢুলতে বলে, দ্যাখো শালা নভেলিস্টরা কিৎনা ছােটােলোক, ঘরে ঢুইকাই সিভাস রিগালের বোতলটা নিজের প্যাটের ভিতর ঢুকাইয়া রাখছে। কবিরা যদি ব্ল্যাক লেবেল টানে তাইলে নভেলিস্টগো টাননের কথা মেথরপট্টির কেরু, ব্যাটারি ভিজাইন্যা অ্যাসিড।
রাকিব সুলতান ঢকঢক ক’রে বোতল থেকেই গলায় ঢালতে থাকে সিভাস রিগাল, এবং টলতে টলতে মেঝের ওপর বসে পড়ে।
করিম আহমেদ কেঁপে কেঁপে বলেন, হাসান সাহেব, আরেকটা সিগারেট দিন।
