স্যার, একটা লোক এসে আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিলো, তারপর সে ড্রাইভিং আসনে বসে ঐ দিকে চলে গেলো।
আর তুমি চিৎকার করছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে?
স্যার, আপনাকে ডাকার সাহস পাইনি….
কেন পাওনি?
স্যার, আপনি ড্যান্স দিচ্ছিলেন ম্যাডামের সঙ্গে, তাই।
এবার ভদ্রলোকটা পুনরায় হোটেলে ছুটে গেলেন এবং গাড়ি নম্বর জানিয়ে ব্যস্ততার সঙ্গে পুলিশ অফিসে ফোন করলেন।
পুলিশ অফিস সন্ধান করবে বলে আশ্বাস দিলো। তারা যদি জানতো স্বয়ং দস্যু বনহুর এত নম্বর গাড়ি নিয়ে উধাও হয়েছে তাহলে পুলিশমহল ঝাঁপিয়ে পড়তে চারদিকে।
পুলিশমহল মনে করলো ভদ্রলোকের গাড়ি কোনো ভদ্রলোক নেশাযুক্ত অবস্থায় ভুল করে নিয়ে গেছে। পুলিশ অফিস ধীরে সুস্থে কাজ করবে।
ফিরে এলো বনহুর তার ক্যাবিনে।
প্রথমেই ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করে দেখে নিলো নিজের চেহারাটা।
ঠিক মিঃ আরমান সে, একটুও তাতে ভুল নেই।
প্রবেশ করলো মিঃ আরমান যে কক্ষে আছেন সেই কক্ষে। বললো বনহুর–শুভেচ্ছা নিন।
মিঃ আরমান বালিশে হেলান দিয়ে বসে একটা সিগারেট পান করছিলেন। তিনি বনহুরকে দেখতে পেয়ে সোজা হয়ে বসলেন। একটু হেসে বললেন–মিঃ আরমান, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ; আপনি আমার বেশে সার্থক অভিনয় করে যাচ্ছেন।
সার্থক অভিনয় করলেও সফলকাম এখনইও হইনি।
সিগারেট কেসটা হাতে তুলে নিয়ে বনহুর একটা সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করলো।
সিগারেট ধরাবার পূর্বেই বনহুর মিঃ আরমানের শয্যার পাশে বসে পড়েছিলো।
মিঃ আরমানের সঙ্গে বনহুরের বেশ বন্ধুত্ব জমে উঠেছে। সে বুঝতে পেরেছে তাকে সার্থক করার পেছনে কারণ আছে এবং সে কারণ সম্বন্ধে সব কথা খুলে বলেছে বনহুর। সব কথা খুলে না বললে হয়তো মিঃ আরমান তাকে ভুল বুঝতে; হয়তো বনহুরকে অসুবিধায় ফেলার জন্য চেষ্টা চালাতো।
বনহুর সিগারেট থেকে একরাশ ধোয়া নির্গত করে ভ্রুকুঞ্চিত করে বললো–মিঃ আরমান, কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছিলো কিন্তু আবার একটা নতুন অসুবিধা দেখা দিলো।
নতুন অসুবিধা আবার কি?
আর বলবেন না, যা ভাবিনি তাই হয়েছে। আশা আর মিস রীমার কথাবার্তা অথবা তাদের কোনো ভুলের জন্য পুলিশমহল জানতে পেরেছে দস্যু বনহুরের সঙ্গে এখনও আশার যোগাযোগ রয়েছে। তাই আশাকে গ্রেপ্তার করেছে লণ্ডন পুলিশ।
মিঃ আরমান বললেন–তাহলে তো নতুন আর একটা অসুবিধার সম্মুখীন হলেন আপনি?
হ বন্ধু, তাই
এমন সময় দরজার ধাক্কা পড়লো।
বনহুর কক্ষে প্রবশ করেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলো।
এবার বনহুর সিগারেটটা এ্যাসট্রের মধ্যে খুঁজে রেখে উঠে দাঁড়ালো, বললো–নিশ্চয়ই পুলিশমহল থেকে কেউ এসেছেন মিঃ আরমানের খোঁজে। যান এবার আসল মিঃ আরমান যান, কারণ এরা এখন অতি তীক্ষ্ণ নজরে পরীক্ষা করবেন।
মিঃ আরমান উঠে দাঁড়ালেন।
বনহুর বললো–এবার বন্ধুর কাজ শুরু হলো।
মিঃ আরমানের পিঠ চাপড়ে দিলো বনহুর।
মিঃ আরমান বনহুরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে। কক্ষের দরজা খুলে দিতেই দুজন পুলিশ সালাম জানালো, বললো–আপনি নিজ কক্ষে আছেন তাহলে স্যার?
বললেন মিঃ আরমান–হ, হসপিটাল থেকে সোজা হোটেলে চলে এসেছি। শরীরটা ভাল লাগছিলো না তাই।
পুলিশ দুজন পুনরায় সালাম জানিয়ে চলে গেলো।
মিঃ আরমান দরজা বন্ধ করে ফিরে এলেন বনহুর যেখানে অপেক্ষা করছে সেখানে। একমুখ হেসে বললেন–ওরা কোনোরকম সন্দেহ করেছিলো তাই সন্ধান নিতে এসে স্বচক্ষে দেখে গেলো আমাকে।
যে আপনি নিজের কামরাতেই আছেন। বললো বনহুর।
মিঃ আরমান বললেন–আপনার আচরণ এখনও আমাকে বিস্ময় মুক্ত করেনি।
কিন্তু সবই তো আপনাকে খুলে বলেছি মিঃ আরমান।
কিন্তু আপনার পরিচয়টা এখনও…
জানা হয়নি, এই তো?
হাঁ
একদিন জানতে পারবেন মিঃ আরমান এবং সেদিন আর বেশি দূরে নয়। মিঃ আরমান, আমার উদ্দেশ্য ছিলো মিসেস জ্যাসিলিনের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করার পর লণ্ডন ত্যাগ করবো, কিন্তু…
বলুন থামলেন কেন?
আরও একটা নতুন রহস্যজালে জড়িয়ে পড়েছি।
সে কেমন?
ঐ অন্ধ হসপিটাল।
তার মানে?
আমি জানতে পেরেছি ঐ অন্ধ হসপিটালের অন্তরালে এক গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।
গভীর ষড়যন্ত্র।
হা মিঃ আরমান এবং ঐ কারণেই আপনাকে আমার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আপনি আমার বন্ধু এবং চিরদিন আপনার উপকার আমার স্মরণ থাকবে। মিঃ আরমান, আজ থেকে আপনার ছুটি মানে মুক্তি।
বিস্ময়ভরা চোখে তাকালেন মিঃ আরমান ছদ্মবেশী আরমানের মুখের দিকে। আজ তার মুখমণ্ডলে একটা আনন্দদীপ্ত ভাব ফুটে উঠলো।
হেসে বললো বনহুর–বড় খুশি লাগছে আপনার আমি তা উপলব্ধি করেছি।
হাঁ, আমার বাইরে যাবার সুযোগ হলো জেনে খুশি লাগছে।
হলো নয় হয়েছে। এতদিন আপনাকে অনিচ্ছাকৃত আটক রাখার জন্য আমি দুঃখিত। হাঁ, আর একটা কথা বলে রাখি।
বলুন?
আজ থেকে আমি আপনার চাকর….
তার মানে?
মানে আপনি মনিব আর আমি চাকর। পুরোন ভূত। দেশ থেকে এসেছি…
এসব আপনি কি বলছেন?
হাঁ, যা হবে তাই বলছি।
আপনি অপেক্ষা করুন আমি আসছি। বনহুর বেরিয়ে গেলো, একটু পরে ফিরে এলো।
মিঃ আরমান অবাক হয়ে চিৎকার করে উঠলো–কে তুমি? আমার কক্ষে প্রবেশ করলে কি করে?
লোকটা নীরব।
মিঃ আরমান রাগত কণ্ঠে বললেন–ভদ্রলোক দরজা বন্ধ না করেই বাইরে গেছেন আর তুমি সেই ফাঁকে ঢুকে পড়েছে কামরায়, তাই না? বের হও, বের হও বলছি।
