বনহুর বাম হাতে রিভলভারখানা খাপ থেকে খুলে নিয়ে চেপে ধরে বললো– চলো।
টেনে বের করে আনলো বনহুর ডাক্তারকে ঘরের বাইরে।
অদূরে তাজ অপেক্ষা করছিল।
বনহুর শিস দিল।
সঙ্গে সঙ্গে তাজ এসে দাঁড়ালো সেখানে।
অপর এক অশ্বপৃষ্ঠে রঘু।
রঘু সর্দারকে দেখে অশ্ব থেকে নেমে দাঁড়িয়ে ছিল।
বনহুর পকেট থেকে কালো রুমালখানা বের করে ছুঁড়ে দিল রঘুর দিকে, তারপর চেপে বসলো। সে তাজের পিঠে।
ততক্ষণে রঘু ডাক্তারের চোখে কালো কাপড় বেঁধে নিয়েছে।
[পরবর্তী বই হত্যা রহস্য]
বনহুর মিঃ আরমানবেশী দূর থেকে এ দৃশ্য লক্ষ্য করলো। সে বুঝতে পারলো লণ্ডন পুলিশ বাহিনী জানতে পেরেছে আশার সঙ্গে দস্যু বনহুরের এখনও সংযোগ রয়েছে এবং সে কারণেই আশাকে এই মুহূর্তে ওরা গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো।
পুলিশবাহিনী আশাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসতেই বনহুর নেমে এলো রাস্তায়।
রাস্তায় কয়েকটি গাড়ি পাশাপাশি দাঁড়ানো ছিলো। একটা গাড়ির মধ্যে ড্রাইভার বসে বসে ঝিমুচ্ছিলো, বনহুর ওকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে নেমে আসতে বললো।
ড্রাইভারটা কিছু বুঝতে না পেরে নেমে এলো গাড়ি থেকে।
অমনি বনহুর চেপে বসলো ড্রাইভিং আসনে।
ড্রাইভার কিছু বুঝবার পূর্বেই গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে মুহূর্তে জন সমুদ্রে মিশে গেলো।
ড্রাইভার চিৎকার করে গাড়ির পেছনে কিছুদুর দৌড়ে গেলো কিন্তু তখন গাড়িখানা উধাও হয়ে গেছে।
বনহুর পুলিশ ভ্যানকে ফলো করে গাড়ি চালিয়ে চললো।
মিস রীমা তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে তার রাশিকৃত বিস্ময়। পুলিশবাহিনী হঠাৎ কি করে হসপিটালে এলো এবং এমনভাবে আশাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলো।
মিস রীমা দৌড়ে গেলো ডাক্তারের ক্যাবিনে।
ডাক্তার তখন ব্যস্তভাবে কাজ করে চলেছেন। একটার পর একটা চোখ পরীক্ষা করে চলেছেন। তিনি।
মিস রীমা বলে উঠলো–ডাক্তার সাহেব, আশাকে পুলিশ পাকড়াও করে নিয়ে গেছে…..
মিস রীমার কথায় ডাক্তারের মুখে কোনো পরিবর্তন ঘটলো না; তিনি চোখ তুলে একবার মাত্র দেখে নিলেন মিস রীমাকে।
অবাক হলো মিস রীমা, সে দৌড়ে গেলো পাশের ক্যাবিনে। সেখানে কয়েক জন ডাক্তার বসে কিছু আলাপ আলোচনা করছিলেন।
মিস রিমা এসে ব্যস্ততার সঙ্গে বললো–স্যার, রোগিণী আশাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।
তারাও কোনো জবাব দিলেন না।
মিস রীমা বুঝতে পারলো এরা সবাই জানেন ব্যাপারটা, আর জানে বলেই সবাই তার কথায় আশ্চর্য হচ্ছেন না বা কোনো উত্তর দিচ্ছেন না।
ব্যর্থ মনে ফিরে এলো মিস রীমা।
বিষণ্ণ মনে বসে পড়লো তার নিজের চেয়ারে। মিস জ্যাসিলিন নিহত হলো কিন্তু এরেষ্ট হলো আশা। তবে কি দস্যু বনহুর মানে মিঃ আরমান তাকে হত্যা করেছিলো? যে হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে আশা। কিন্তু এ কদিনের পরিচয়েই মিস রীমা দস্যু বনহুরকে জানতে এবং চিনতে পেরেছে। লোকে তাকে যাই বলুক বনহুর মিসেস জ্যামিলিনকে হত্যা করেনি বা করতে পারেনা। জ্যাসিলিন ছিলেন একজন সৎ-মহৎ মহিলা।
ডাক্তারগণ তাহলে পুলিশকে ঐ ব্যাপারে সাহায্য করেছেন আর সে কারণেই মিস রীমার কথায় তারা চুপ রইলেন।
মিস রীমার মনটা বড় অস্থির লাগছে।
সে নিজ ক্যাবিন ত্যাগ করে মিস আরমানের কক্ষের দিকে এগুলো।
ঐ মুহূর্তে একজন অপরিচিত লোক পথ রোধ করে দাঁড়ালো এবং গম্ভীর কণ্ঠে বললো–মিঃ আরমানবেশী দস্যু বনহুর কক্ষে নেই।
কে আপনি? বললো মিস রীমা।
আমি কে পরে জানতে পারবেন মিস রীমা। আপনি যে দস্যু বনহুরকে সহায়তা করছেন এটা ধরা পড়ে গেছে আমাদের কাছে।
কি আপনার পরিচয় বলুন?
পরিচয় আজ বলবো না, একদিন জানতে পারবেন। কথাটা বলে লোকটা দ্রুত চলে গেলো।
লোকটা চলে যেতেই মিস রীমা তাকে অনুসরণ করে এগুলো। কিন্তু কোথায় লোকটা, যেন হাওয়ায় উবে গেছে। মিশে গেছে যেন দেয়ালের সঙ্গে।
মিস রীমা চলে গেলো সেখান থেকে।
কিন্তু লোকটার কথাগুলো ভাবছে কানের কাছে। কেমন সব এলোমেলো লাগছে।
এমন সময় ডাক্তার উপস্থিত হলেন সেখানে। তিনি মিস রীমাকে বললেন–মিস রীমা, আপনি জেনেশুনেও আশার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন এটা বড় অন্যায়।
মিস রীমা উঠে দাঁড়িয়েছিলো, এবার সে বললো–আশার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা রোগিণীর সঙ্গে একজন নার্সের যতখানি তাই…..
না, আমরা লক্ষ্য করেছি আপনি প্রায় সব সময় আশার পাশে উপস্থিত থাকেন। আপনি জানেন সে কে এবং জেনেও আপনি তার সঙ্গে মেলামেশা করেছেন।
মিস রীমা নিশ্চুপ থাকে।
ডাক্তার বেরিয়ে যান।
মিস রীমা ভাবে তার কি অপরাধ। আশা একজন রোগিণী আর সে কারণেই সে মিশেছে ওর সঙ্গে। দস্যু বনহুর তো কোনো অপরাধ করেনি যার জন্য সে তাকে ঘৃণা করবে…
মিস রীমা যখন ভাবছে বনহুরকে নিয়ে তখন বনহুর গাড়িখানা নিয়ে ফলো করে পুলিশবাহিনী আশাকে নিয়ে যে গাড়িতে এগিয়ে চলছে তার কাছাকাছি এসে পড়েছে।
বনহুরের উদ্দেশ্য পুলিশ গাড়িখানা আশাকে নিয়ে কোথায় যায় তা লক্ষ্য করা। তারপর কেমন করে আশাকে উদ্ধার করতে হয় তা সে জানে।
ওদিকে যার গাড়ি নিয়ে বনহুর উধাও হলো তিনি হোটেল থেকে বেরিয়ে আসতেই ড্রাইভার হন্তদন্ত হয়ে বললো–গাড়ি নিয়ে ভেগেছে স্যার।
কে–কে গাড়ি নিয়ে ভাগলো?
জানি না–একটা মানুষ।
মানুষ না তো গাধা গাড়ি নিয়ে ভাগবে? বলছি কে কোন্ দিকে ভেগেছে? বলো শিগগির বলো?
