মিঃ হেলালী পুলিশ অফিসে গিয়েই ফোন করলেন মিঃ জাফরীর কাছে…..হ্যালো মিঃ জাফরী, এক্ষুণি একবার পুলিশ অফিসে আসুন, বিশেষ জরুরি আলোচনা আছে।
মিঃ জাফরী সবেমাত্র বাইরে থেকে ফিরে বিশ্রামের আয়োজন করছিলেন, মিঃ হেলালীর ফোন পেয়ে একটু বিরক্ত হলেন বৈকি, তবু বললেন……আচ্ছা আসছি, আপনি অপেক্ষা করুন।
মিঃ জাফরী বিশ্রাম ত্যাগ করে উঠে পড়লেন।
মিসেস জাফরী ভ্রূ কুঁচকে বললেন–এই তো এলে, আবার কোথায় চললে বলো তো?
মিঃ জাফরী বললেন-পুলিশ অফিসে।
তোমার কি একটু বিশ্রাম নেই?
হাসলেন মিঃ জাফরী-বিশ্রাম! আমাদের আবার বিশ্রাম আছে নাকি?
সারাটা জীবন শুধু কাজ আর কাজ নিয়েই থাকবে?
চাকরি করি, কাজ করতেই হবে। তাছাড়া এসব তো আমাদের কর্তব্য।
রেখে দাও তোমাদের কর্তব্য, একদিন তোমাদের বিশ্রাম নেই। এমন কি অসুখ-বিসুখ হলেও একদিন আরাম-বিরাম করবে না?
হেসে বললেন মিঃ জাফরী–আমি তো সুস্থ মানুষ কিন্তু অন্যদের কথা ভাবলে তুমি অবাক হবে বেগম। জানো, আমার কাছে কে এখন টেলিফোন করেছিলো।
তা আমি জানবো কি করে বলল, কে না কে তোমার কাছে ফোন করেছিলো, তুমিই জানো।
মিঃ হেলালী পুলিশ অফিসে বসে আমাকে ফোন করেছেন কোনো জরুরি কাজের ডাক এসেছে, বুঝলে?
মিঃ হেলালী তো অসুস্থ, তাকে ডাক্তার পূর্ণ বিশ্রাম করতে বলেছেন, তবু……
হাঁ, তবু তিনি কাজে নেমেছেন আর আমি তো সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ। কথার ফাঁকে ফাঁকে তাঁর। জামকাপড় পরা শেষ হয়ে যায়।
ততোক্ষণে বয় চা এনে টেবিলে রাখে।
মিসেস জাফরী চায়ের কাপ তুলে নিয়ে স্বামীর হাতে দেন।
মিঃ জাফরী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা পান সমাধা করে বিদায় গ্রহণ করেন স্ত্রীর কাছে।
মিঃ হেলালী পুলিশ অফিসে বসে মিঃ জাফরীর জন্য প্রতীক্ষা করছিলেন। ততোক্ষণে অন্যান্য কয়েকজন পুলিশ অফিসার এসে গেছেন।
মিঃ জাফরী আসতেই মিঃ হেলালী যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন, তিনি উঠে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানালেন। মিঃ জাফরী আসন গ্রহণ করতেই মিঃ হেলালী বললেন–স্যার, নতুন এক সংবাদ। পকেট থেকে দিপালীর দেওয়া চিঠিখানা বের করে মিঃ জাফরীর হাতে দিলেন।
মিঃ জাফরী চিঠিখানা পড়ে নিয়ে বললেন–কারা এরা? যারা সুন্দরভোবে কৌশলে প্ল্যান করে কাজ করছে?
এখনও জানতে পারিনি সবকিছু। তবে মিস দিপালী আজই জানাবে।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে পুলিশ অফিসারদের মধ্যে এসব নিয়ে গভীরভাবে আলাপ-আলোচনা চলে। এরা কারা যারা এমন একটি কৌশল নিয়েছে নববধুর গাড়িতে চোরাই মাল বাইরে পাচার করবে?
নানাভাবে আজকাল চোরাই মাল দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। পুলিশ মহল টেরও পাচ্ছে না। যারা পাচ্ছে বা পায় তাদের হাতে কিছু খুঁজে দিলেই বেচে যায় ওরা। দেশের এই দুর্নীতি দমনে শপথ গ্রহণ করেছে মিঃ হেলালী। তিনি পুলিশ মহলকে ক্ষমা করবেন না এ ব্যাপারে। মিঃ হেলালী বলেন, দেশকে যারা ভালবাসেন তারা দেশের প্রতিটি জনগণকে ভালবাসেন। জনগণকে ভালবাসলে তাদের মঙ্গল কামনাই হলো জীবনের ব্রত। মিঃ হেলালীর জীবনের ব্রত দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা।
মিঃ হেলালী মৃত্যুবরণ করবেন তবু শপথ রক্ষা করবেন।
*
একখানা গাড়ি এসে থামলো দিপালীর বাড়ির সম্মুখে। গাড়ি থেকে নামলো দুজন ভদ্রলোক। মূল্যবান পোশাক পরিচ্ছদে ভূষিত তাদের দেহ।
দিপালী তাদের জন্যই প্রতীক্ষা করছিলো। ভুদ্রলোক দুজনাকে দেখবামাত্র দিপালী এসে। দাঁড়ালো গাড়ির পাশে।
লোক দুজন দিপালীকে দেখ দীপ্ত হয়ে উঠলো।
একজন বললো-আসুন মিস দিপালী।
অপরজন গাড়ির দরজা খুলে ধরলো।
দিপালী গাড়িতে চেপে বসতেই লোক দুজন উঠে বসলো তার দুপাশে।
গাড়িখানা এ-পথ সে-পথ হয়ে ছুটে চললো। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর একটি হোটেলের সম্মুখে এসে থামলো গাড়িখানা।
লোক দুজন নেমে দাঁড়ালো।
একজন খুলে ধরলো গাড়ির দরজা-আসুন মিস দিপালী।
দিপালী নামলো।
লোক দুজন দিপালীকে নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করলো।
সুন্দর মনোরম আবাসিক হোটেল।
সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো ওরা তিনজন উপরে।
একটি সুসজ্জিত কক্ষে প্রবেশ করলে তারা তিনজন।
দিপালী তাকিয়ে দেখলো, কক্ষমধ্যে, নানারকম সাজসরঞ্জাম। তিনজন বলিষ্ঠ পুরুষ বসেছিলো কক্ষমধ্যে, তাদের চোখেমুখে উদ্বিগ্নতার ছাপ ফুটে উঠেছে। দিপালীকে দেখবামাত্র তারা খুশি হয়ে উঠে। সবার চোখেমুখে ফুটে উঠে একা উন্মুখ লালসার ছাপ।
দিপালী চমকে উঠে।
নিজকে সামলে নিয়ে বলে দিপালী–বলুন কি করতে হবে?
এবার যারা কক্ষমধ্যে অপেক্ষা করছিলো তাদের একজন বলে উঠে–আসুন কি করতে হবে। আমিই বলে দিচ্ছি।
দিপালী এগিয়ে যায়।
লোক তিনজন ঘিরে দাঁড়ায় দিপালীকে।
একজন বলে–এই শাড়ি-গহনা পরতে হবে। আসুন আমি পরিয়ে দিই?
দিপালী বললো-না, আমি নিজেই পরতে পারবো।
দিপালী কথাটা বলে কাপড় এবং গহনাগুলো তুলে নিলো হাতে তারপর চলে গেলো পাশের ঘরে। একটু পরে শাড়ি-গহনা পরে নববধুর বেশে ফিরে এলো দিপালী।
ততোক্ষণে চার-পাঁচজন লোক চারটি বড় বাক্স এনে রাখলো কক্ষমধ্যে।
দিপালীর সঙ্গী দুজনকে লক্ষ্য করে বললো কক্ষ মধ্যের বিরাট গোঁফওয়ালা লোকটি–এরা তো কাজ ফাস করে দেবে না মিস দিপালী?
দিপালী জিভ কেটে বললো–ছিঃ ছিঃ কি যে বলেন, এরা আমার বড় আপনজন। আমার। হিতাকাঙখী বলেই আমি এদের সঙ্গে এনেছি।
আচ্ছা তবে প্রস্তুত?
দিপালী বললো-প্রস্তুত।
