ততক্ষণে ট্রাকগুলো সব চলে গেছে।
গাড়ীতে উঠে বসে ড্রাইভারকে লক্ষ্য করে বললো মিঃ সেন চলো এবার।
ড্রাইভার মাথার ক্যাপটা ঠিক করে দিয়ে গাড়িতে স্টার্ট দিলো। গাড়ি ছুটতে শুরু করলো বেগে।
কিছুদূর এসে হঠাৎ গাড়িখানা বিগড়ে গেলো। থেমে পড়লো গাড়িখানা আচমকা।
ড্রাইভারকে বললো মিঃ সেন–কি হলো?
স্যার গাড়ি খারাপ হয়ে গেছে।
মিঃ সেন কঠিন কণ্ঠে গর্জে উঠলো–গাড়ি খারাপ হলো কেন?
কি জানি স্যার। নেমে দেখবো?
দেখো। বললো মিঃ সেন।
ড্রাইভার নেমে পড়লো। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি ঠিক করতে পারলো না।
ক্রুদ্ধ হয়ে মিঃ সেন নেমে এগিয়ে গেলো এবার গাড়ির সম্মুখ ভাগে–দেখি কি হয়েছে? গাড়ির সম্মুখ ভাগের ঢাকনার মধ্যে ঝুঁকে পড়লো। টর্চ লাইট জেলে পরীক্ষা করে দেখতে লাগলো মিঃ সেন গাড়ির কল-কজাগুলো।
ঠিক সেইক্ষণে ড্রাইভার তার হাতের রড দিয়ে প্রচণ্ড একটা আঘাত করলো তার মাথায়।
সঙ্গে সঙ্গে উবু হয়ে পড়ে গেলো মিঃ সেন গাড়ির পাশে।
ড্রাইভার দ্রুত হস্তে লোকটার দেহের পোশাক খুলে দিলো। মুখ থেকে নকল দাড়ি গোঁফ, চোখের কালো চশমাটাও খুলে পরে নিলো সে চটপটু,ওভার কোটের পকেটে হাত দিয়ে দেখে নিলো টাকাগুলো ঠিক ভাবেই আছে কিনা।
মিঃ সেনকে পথের পাশে ঠেলে ফেলে দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো ড্রাইভার। সম্মুখ পথ পরিষ্কার কাজেই গাড়ি বেক্ করে গাড়ির মুখ পুনরায় ফিরিয়ে নিলো যে পথে এসেছিলো সেই পথে।
অল্পক্ষণে গাড়িখানা পূর্বের সেই স্থানে পৌঁছে গেলো, যেখানে কিছু পূর্বে টাকার আদান প্রদানে চলেছিলো। গাড়ি থেকে নেমে একটা আলো দোলাতে লাগলো সে।
জাহাজের সিঁড়ি সবে মাত্র তুলে নেওয়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন আলোটা লক্ষ্য করে আবার সিঁড়ি নামিয়ে দেবার আদেশ করলো।
সিঁড়ি নেমে এলো আবার জাহাজ থেকে।
গাড়ী থেকে নেমে এগিয়ে এলো ড্রাইভার, এবার সে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো জাহাজের ডেকে।
ক্যাপ্টেন এবং সাহেবী পোশাক পরা লোকটা এগিয়ে এলো। ক্যাপ্টেন জিজ্ঞাসা করলো– স্যার আপনি?
হাঁ, আমি ফিরে এলাম। কারণ তোমাদের মালিকের সঙ্গে দেখা করাটা আমার একান্ত দরকার।
ক্যাপ্টেন বললো–নিশ্চয়ই আপনি এসে খুব ভালই করেছেন মিঃ সেন। মালিক শ্যামসিং আপনাকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
কিন্তু আমি শুধু তার সঙ্গে দেখা করতেই এলাম না। মহারাজের একটা নতুন সংবাদ বহন করে এনেছি। জাহাজ ছাড়ার আদেশ দিন পরে সব আলোচনা করবো।
ক্যাপ্টেনের আদেশে জাহাজ তীর ছেড়ে গভীর সমুদ্রের দিকে এগিয়ে চললো।
প্রায় ঘণ্টা কয়েক চলার পর মিঃ সেন বললো–চলুন এবার আলোচনা শুরু করা যাক।
সবাই এসে ডেকের এক পাশে চেয়ারগুলো দখল করে নিয়ে বসলো। ক্যাপ্টেন সাহেবী পোশাক পরা লোকটার নাম ধরে ডাকলো ফিলিংম্যান–টাকাগুলো মিঃ সেনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলে তো?
ফিলিংম্যান গম্ভীর গলায় বললো–হাঁ ক্যাপ্টেন, টাকাগুলো আমি একটিও আত্মসাৎ করিনি।
এবার বললো ক্যাপ্টেন –বলুন মিঃ সেন আপনার কথা বলুন?
হাঁ বলছি। মহারাজ এবার একটা নতুন প্ল্যান নিয়েছেন। তিনি জীবনে বহু অর্থ এইভাবে সংগ্রহ করেছেন এবার তিনি কিছুটা পুণ্যি করতে চান।
অবাক কণ্ঠে বলে ক্যাপ্টেনবেশী শয়তান হার্লিং–তার মানে।
মিঃ সেন পকেট থেকে টাকার ফাইলগুলো বের করে টেবিলে রাখলো তারপর বললো– এবারের মালগুলো মহারাজ পুস্তদ্বীপের বন্যাপীড়ীত অসহায়দের মধ্যে বিতরণ করে দেবার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। টাকাগুলো ফেরৎ দিতে বললেন।
অবাক কণ্ঠে বললো ক্যাপ্টেন হার্লিং –আপনি এসব কি বলছেন?
মহারাজের নিমক খাই তাঁর আদেশ পালন করতেই হবে আমাকে। তিনি চান পুস্তদ্বীপের দুঃস্থরা বাঁচুক।
ক্যাপ্টেন মাথায় হাত দিয়ে বললো–এক বাক্স নয় দু’শো বাক্স কফি সব বিতরণ করে দেবেন তিনি………
হাঁ ক্যাপ্টেন। বললো মিঃ সেন।
মিঃ সেনের নির্দেশে জাহাজ মাইথি একদিন পুস্তদ্বীপে এসে পৌঁছলো।
জাহাজ নঙ্গর করলো।
দ্বীপে ঘোষণা করে দেওয়া হলো দ্বীপবাসীদের মধ্যে কফি এবং সুস্বাদু ফলের রসভরা কৌটা বিতরণ করা হবে।
অল্পক্ষণেই অগণিত দ্বীপবাসী এসে বন্দরে উপস্থিত হলো।
মিঃ সেনের আদেশে জাহাজের সমস্ত মাল পুস্তদ্বীপের দুঃস্থ অসহায় জনগণের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া হলো।
দ্বীপবাসীগণ বহুদিন হতে পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে জীর্ণ-শীর্ণ মৃত্যু প্রায় হয়ে পড়েছিলো। মিঃ সেন সবাইকে প্রচুর পরিমাণ কফি এবং ফলের রসভরা কৌটা দিলো।
শূন্য জাহাজ নিয়ে ফিরে চললো ক্যাপ্টেন হার্লিং।
মিঃ সেন আনন্দে অধির হয়ে পড়েছে, নিজ হাতে সে তুলে দিয়েছে এই সব খাদ্যসম্ভারগুলো অসহায় দ্বীপবাসীদের মধ্যে। আজ তার পরম আনন্দ।
ক্যাপ্টেন হার্লিং-এর মনের সংগে অবস্থা ভাল নয়, সে তার ক্যাবিনে বসেছিলো আরও কয়েকজন তার সঙ্গীর সংগে গোপনে কোন পরামর্শ করছিলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যাবিনে প্রবেশ করে মিঃ সেন, দুহাতে তার দু’খানা রিভলভার।
চমকে উঠে ক্যাপ্টেন ও তার দলবল।
মিঃ সেন বলে–হ্যান্ডসআপ।
হাত তুলে দাঁড়াতে বাধ্য হলো সবাই।
মিঃ সেন বললো–ক্যাপ্টন টাকার ফাইলগুলো বের করো।
ক্যাপ্টেন ঢোক গিলে বললো–আপনি………
হাঁ আমার দু’লাখ টাকা বের করো। না হলে এক্ষুণি লাশে পরিণত হবে।
ক্যাবিনের মধ্যে প্রত্যেকে কেমন হতভম্ব হয়ে পড়েছিলো, এমন একটা অবস্থার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলো না।
