তবে যেতে চাও কেন?
নাইট-ক্লাবের বাইরে আমি যাবো না, যতক্ষণ না এদের সায়েস্তা করছি?
ভোলানাথ।
হাঁ কস্তুরী; তোমার সহায়তা আমার একান্ত প্রয়োজন ছিলো। সেদিন তুমি আমাকে এই নাইট ক্লাবের সন্ধান না জানালে আমি এতো সহজে হয়তো………।
আগে তুমি কার্যোদ্ধার করে তারপর তুমি আমাকে ধন্যবাদ জানাবে।
কিন্তু তোমার মুখ আমাকে কোন দিন দেখাবে না কস্তুরী?
এখন নয়। সেদিন যখন আসবে তখন তুমি আমাকে দেখতে পাবে আর সেদিন আমার প্রতি আসবে তোমার ঘৃণা আর অবহেলা। হাঁ, সেদিন তুমি আমাকে অবহেলা করলেও আমি ব্যথা পাব না। তোমার দেওয়া এই স্মৃতি চিহ্ন চিরদিন আমাকে সান্ত্বনা যোগাবে। কস্তুরীবাঈ আংগুলের দিকে তাকিয়ে বনহুরের দেওয়া অংগুরীটা দেখিয়ে কথাগুলো বলে।
বনহুর কস্তুরীবাঈ-এর একখানা হাত মুঠায় চেপে ধরে গভীর আবেগে ওকে আকর্ষণ করে।
কস্তুরীবাঈ কুঞ্চিত হয়ে পড়ে বলে–নানা ভোলানাথ তুমি আমাকে স্পর্শ করো না। আমাকে স্পর্শ করো না।
বনহুর হেসে বলে–তুমি যা চাও তাই পাবে কস্তুরী। যা চাও তাই পাবে আমার কাছে।
কস্তুরী বলে উঠে–এখন আমি তোমার কোন কথাই শুনতে চাই না ভোলানাথ। কারণ, ঐ শয়তান দল এক্ষুণি এসে পড়তে পারে।
আর আসবেনা কস্তুরী, ওরা ভোলানাথের সন্ধানে ক্লাবের বাইরে অন্বেষণে গেছে। দেখছো না ক্লাব মধ্যে সম্পূর্ণ নীরব। কিছুক্ষণ আমরা নিশ্চিন্ত কথা বলতে পারি।
কস্তুরীবাঈ বললো–ভোলানাথ তুমি আমাকে ভালবাসো জানি কিন্ত………।
বলো?
তোমার ভালবাসা কি সত্যি না মিথ্যা?
এ তুমি কি বলছো কস্তুরীবাঈ?
তুমি কি আর কাউকে ভালবাসোনি কোনদিন?
বেসেছি। তোমাকেও বাসতে চাই,
কিন্তু আমি জীবনে কাউকে ভালবাসিনি ভোলানাথ। শুধু তোমার ভালবাসাই আমাকে অভিভূত করেছে।
তবে কেন আমাকে ধরা দাওনা কস্তুরী?
কোন পুরুষ আজও আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি ভোলানাথ। যদিও আমি বাইজী………কিন্তু আর নয় এখন চলো এখান থেকে পালাতে হবে।
কস্তুরীবাঈ তুমি আর কি জানো এদের সম্বন্ধে বলছো? পালাবার পূর্বে ধ্বংস করে দিয়ে যাবো এদের এই নরক-কুণ্ড।
কস্তুরীবাঈ বনহুরকে সঙ্গে করে বেরিয়ে আসে, আবার তারা শুনতে পায় কোন এক গোপন কক্ষে তখন আলোচনা চলেছে। বুঝতে পারে বনহুর ভোলানাথ বন্দীশালা হতে পালানো ব্যাপার নিয়েই এরা সবাই পরামর্শ করছে। কোথায় গেলো, কেমন করে পালালো। কেউ নিশ্চয়ই ভোলানাথকে মুক্ত করে দিয়েছে।
বনহুর বললো–একটু বিলম্ব করো কস্তুরীবাঈ আমি এদের সায়েস্তা করে ছাড়ছি।
কস্তুরীবাঈ বললো–তুমি একা এতোগুলো লোকের সঙ্গে পারবে ভোলানাথ? এসো তোমাকে আমি মরণ-অস্ত্রের সন্ধান জানিয়ে দিচ্ছি।
বনহুর বিস্ময় নিয়ে তাকালো কস্তুরীবাঈ-এর কালো আবরণে ঢাকা মুখ মণ্ডলের দিকে।
কস্তুরীবাঈ বললো–এসো ভোলানাথ আমার সঙ্গে।
ভোলানাথ কস্তুরীবাঈকে অনুসরণ করলো।
সরু একটা গলিপথ ধরে কয়েক মিনিট চলার পর একটা দেয়ালের পাশে এসে দাঁড়ালো কস্তুরীবাঈ।
বনহুরও দূরে দাঁড়িয়ে পড়লো।
কস্তুরীবাঈ দেয়ালে এক জায়গায় মৃদু চাপ দিলো। সঙ্গে সঙ্গে একটা ক্ষুদ্র ছিদ্র পথ বেরিয়ে এলো। কস্তুরীবাঈ নিজে সেই ক্ষুদ্র ছিদ্র পথে দৃষ্টি রেখে কিছু দেখে নিয়ে বললো–দেখো ভোলানাথ।
বনহুর সেই অদ্ভুত ছিদ্র পথে দৃষ্টি রাখতেই বিস্মিত হলো। দেখলো ঐ কক্ষ মধ্যে একটা ভয়ঙ্কর ধরনের মেশিন বসানো রয়েছে। সহসা বনহুর বুঝতে পারলো না কিসের মেশিন ওটা।
কস্তুরীবাঈ বনহুরসহ কক্ষের দক্ষিণ দিকে এগুলো। অল্প কিছু চলার পর থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো কস্তুরীবাঈ, বনহুরও থেমে পড়লো সঙ্গে সঙ্গে। দেখলো একজন রাইফেলধারী পাহারাদার স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, পাহারা দিচ্ছে।
কস্তুরীবাঈ বললো–ভোলানাথ পারবে ওকে খতম করতে? যদি পারো তাহলে তুমি জয়ী হবে।
বনহুর হাসলো তারপর সন্তর্পণে লোকটার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। লোকটা রাইফেল হাতে ঝিমুচ্ছিলো, বনহুর পিছন থেকে বাম হাতে চেপে ধরলো ওর গলা আর দক্ষিণ হাতে রাইফেলটা কেড়ে নিলো আলগোছে।
একটা টু’শব্দ বের হলো না পাহারাদারটার মুখ থেকে। নেতিয়ে পড়লো মেঝেতে লোকটা। বনহুর লোকটাকে চীৎ করে ওর মাজা থেকে চাবিটা নিয়ে কক্ষের দরজা খুলে ফেললো। তারপর কস্তুরীবাঈ আর বনহুর প্রবেশ করলো সেই কক্ষমধ্যে।
কক্ষটা একটা মেশিন কক্ষ। নানারকম মেসিন সাজানো রয়েছে সাড়িবদ্ধভাবে।
কস্তুরীবাঈ বললো-ভোলানাথ এই যে মেসিন পত্র দেখছো এগুলো দ্বারা এরা বারুদ তৈরি করে। শুধু বারুদ নয় বোম তৈরি করে গোপনে চালান দেয় দেশ-বিদেশে।
বনহুর বললো–আশ্চর্য বটে। বাইরে দেখলে মনে হয় একটি সুন্দর নাইট-ক্লাব অথচ ভিতরে এমন রহস্যপূর্ণ।
কস্তুরীবাঈ বললো–বিলম্ব করো না ভোলানাথ, পাশের কামড়ায় স্তূপাকার বারুদ রয়েছে। আগুন ধরিয়ে দিতে পারলে এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যাবে এই রহস্য-পুরি।
কিন্তু তোমার আমার অবস্থা কি হবে জানো?
জানি কিন্তু………।
আর কিন্তু নয় কস্তুরীবাই আমি তোমাকে যা বলি শোন। তুমি মুহূর্ত বিলম্ব না করে নাইট ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাও। বাইরে বহুদূরে চলে যাবে–
আর তুমি?
আমি কার্যোদ্ধার করে আবার মিলিত হবো তোমার সঙ্গে।
কস্তুরীবাঈ শিউরে উঠে বললো–এই ভয়ঙ্কর স্থানে তোমাকে একা ফেলে আমি যেতে পারি না ভোলানাথ।
