একবার নয় দু’বার তাকে কান্দাই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিলো।
অবাক হয়ে বললেন মিঃ ফরিদ–দস্যু বনহুর গ্রেপ্তার হয়েছিলো?
হাঁ মিঃ ফরিদ কিন্তু তাকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। এমন কি হাঙ্গেরী কারাগার তাকে আটকে রাখতে পারেনি।
আশ্চর্য!
শুধু আশ্চর্যই নয় মিঃ ফরিদ এই দুর্দান্ত দস্যু পৃথিবীর এক চরম বিস্ময়। শোনা যায় দস্যু বনহুর সুপুরুষ। তার দেহে অসীম বল, একসঙ্গে বিশজন জোয়ানকে সে নাকি কাবু করে ফেলতে পারে রিক্ত হস্তে।
তাই নাকি? আমি কিন্তু দস্যু বনহুর সম্বন্ধে এতো কিছু অবগত নই মিঃ মুর্শেদ।
তা বাইরে যারা থাকেন তারা তো সব খবর রাখতে পারেন না, রাখা সম্ভবও নয়। তবে দস্যু বনহুরের বিস্ময়কর কৃত্তিকলাপ সম্বন্ধে কান্দাই অধিবাসী এবং আশে-পাশের দেশগুলোর প্রায় ব্যক্তিই অবগত আছেন।
হয়তো আমি তেমন করে খেয়াল করিনি, এটাই আমার দস্যু বনহুর সম্বন্ধে ব্যর্থতার পরিচয়। তবে আমি দস্যু বনহুর সম্বন্ধে যতটুকু শুনেছি তাতে মনে হয় পুলিশ মহলের বোকামির জন্যই ‘ এতোদিন দস্যু বনহুর সচ্ছন্ধে তার কাজ চালিয়ে চলেছে।
অবাক কণ্ঠে বললেন মিঃ মুর্শেদ–বলেন কি মিঃ ফরিদ পুলিশ-মহলের ব্যর্থতা
তা না হলে দস্যু বনহুরকে গ্রেপ্তার করার পরও তাকে পুলিশ মহল আটক রাখতে পারেননি। হাঙ্গেরী কারাগারও ব্যর্থ হয়েছে—
আপনি জানেন না মিঃ ফরিদ তাই দস্যু বনহুর সম্বন্ধে এমন তাচ্ছিল্যভরে কথা বলছেন। যদি একবার…..
মিঃ মুর্শেদের কথার মাঝখানে মিঃ ফরিদ হঠাৎ হেসে উঠলো অদ্ভুত ভাবে, তারপর বললো–তার পাল্লায় পড়তাম তাহলে বুঝতে পারতাম দস্যু বনহুর কেমন, তাই না?
হাঁ, আপনার দিব্য দৃষ্টি খুলে যেতো।
এ কথা সে কথার মাধ্যমে সি, আই, ডি, পুলিশ ইন্সপেক্টার মিঃ মুর্শেদ এবং মিঃ ফরিদ পৌঁছে গেলেন নিজ নিজ গন্তব্য স্থানে।
মিঃ মুশেদ পৌঁছার পূর্বেই মিঃ ফরিদের গন্তব্য স্থান এসে পড়ায় মিঃ ফরিদ নেমে গেলেন।
ড্রাইভার পুনঃ গাড়িতে স্টার্ট দিলো।
মিঃ মুর্শেদ তার বাসায় পৌঁছে নামতে যাবেন এমন সময় পাশের আসনে একখানা ভাঁজ করা কাগজের টুকরা দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি হাতে উঠিয়ে নিলেন। কাগজের টুকরাখানা মেলে ধরতেই দু’চোখ তার গোলাকার হয়ে উঠলো, কাগজের টুকরায় লেখা আছে–
মিঃ মুর্শেদ আপনি দস্যু বনহু গ্রেপ্তারের ভার গ্রহণ করে পুলিশ সুপারকে আশ্বস্ত করছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
হার-ছড়া সাবধানে রেখে কাজ করবেন। কারণ হার-ছড়া অত্যন্ত মূল্যবান। একমাত্র দস্যু বনহুরকে যে প্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে সেই ঐ হার পাবার যোগ্য।
– দস্যু বনহুর
কাগজের টুকরায় লাইনগুলোর উপর দৃষ্টি বুলিয়ে নিয়ে মিঃ মুর্শেদ চিৎকার করে উঠলেন– দস্যু বনহুর আমার গাড়িতে……
ড্রাইভার ভয়ার্ত কণ্ঠে বললেন– স্যার দস্যু বনহুর! কোথায় সে?
গাড়ীর মধ্যে এতক্ষণ যে আমার পাশে বসেছিলো সে মিঃ ফরিদ সাহেব নন স্বয়ং দস্যু বনহুর।
ড্রাইভারের গলা যেন শুকিয়ে গেছে, দু’চোখ কপালে উঠেছে নির্বাক বধিরের মত ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছে মিঃ মুর্শেদের দিকে।
মিঃ মুর্শেদ কাগজখানা হাতে নিয়ে ছুটলেন নিজ হল ঘরের দিকে। দ্রুত রিসিভার হাতে উঠিয়ে নিয়ে পুলিশ সুপার মিঃ আরিফের অফিস রুমে ফোন করলেন– হ্যালো, হ্যালো স্যার আমি মিঃ মুর্শেদ বলছি……
ওপাশ থেকে ভেসে আসে পুলিশ সুপার মিঃ আরিফের গলা– মিঃ মুর্শেদ ব্যাপার কি?
মিঃ মুর্শেদের ব্যস্ত কণ্ঠ স্বর– স্যার…..স্যার আমার গাড়ি……আমার গাড়িতেই…..দস্যু বনহুর…..
মিঃ আরিফের আশ্চর্যপূর্ণ উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর শোনা যায় কি বললেন? আপনার গাড়িতে……দস্যু বনহুর…..
হাঁ…..হাঁ স্যার…..মিঃ ফরিদবেশে যিনি পুলিশ অফিস হতে…..আমার গাড়িতে…..এলেন…..তিনি……তিনিই….
…… তিনিই দস্যু বনহুর?……
…… হা হা স্যার…….
…… বলেন কি……।
স্যার এক্ষুণি পুলিশ-ফোর্স সহ চলে আসুন। …… স্যার এক মিনিট বিলম্ব….করবেন না…..দস্যু বনহুর সাইরেন রোডে ১১নং বাড়িতে……সে নেমে গেছে……এই পনেরো মিনিট পূর্বে সে আমার গাড়ি থেকে নেমে গেছে। ……যাবার সময় সে একখানা চিঠি রেখে। গেছে……তাতেই সে নিজের নাম লিখে রেখে গেছে……
পুলিশ সুপার মিঃ আরিফ যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন, তিনি নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। তার বন্ধু মিঃ ফরিদের বেশে দস্যু বনহুর একটু পূর্বে বসেছিলো তার পাশের চেয়ারে! এ যেন তার কল্পনার বাইরে।
মিঃ আরিফ মুহূর্ত বিলম্ব না করে পুলিশ অফিসে ফোন করলেন।
কেবল মাত্র মিঃ ইয়াসিন এবং অন্যান্য পুলিশ অফিসারদ্বয় পুলিশ অফিসে ফিরে এসেছেন।
মিঃ ইয়াসিন রিসিভার হাতে উঠিয়ে নিতেই মিঃ আরিফের ব্যস্ত সমস্ত কণ্ঠ শুনতে পান। ব্যাপার শুনে মিঃ ইয়াসিন এবং পুলিশ অফিসারগণ বিস্ময়ে যেন আরষ্ট হয়ে পড়েন। দস্যু বনহুর প্রেপ্তার ব্যাপার নিয়েই তখন পুলিশ সুপারের অফিসে গোপন আলাপ-আলোচনা চলছিলো, সেই মুহূর্তে তাদের পাশে উপবিষ্ট ছিলো স্বয়ং দস্যু বনহুর এ যেন এক ভয়ঙ্কর বিস্ময়। কিছুক্ষণ কারো মুখে কোন কথা বের হয় না।
মিঃ ইয়াসিনের চোখের সম্মুখে ভেসে উঠে অল্পক্ষণ পূর্বে মিঃ ফরিদের দাড়ি-গোঁফে ঢাকা মুখখানার কথা। পুলিশ সুপারের বাল্য বন্ধু মিঃ ফরিদ, কাজেই তাদের সন্দেহের কোন কারণ। ছিলো না। তাছাড়া পুলিশ সুপার নিজে যাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজের পাশের আসনে বসালেন তাকে নিয়ে অন্য অফিসার মাথা ঘামাতে পারেন না।
