কক্ষ মধ্যে প্রবেশ করতেই সবাই সসম্মানে উঠে দাঁড়ালেন।
মিঃ আরিফ দু’হাত বাড়িয়ে এগিয়ে গেলেন–আরে ফরিদ যে? এসো–এসো, বসো—মিঃ। আরিফ নিজ আসনের পাশে বসিয়ে দিলেন বাল্য বন্ধু মিঃ ফরিদ সাহেবকে।
মিঃ ফরিদ হেসে বললেন–কেমন আছো আরিফ?
চাকরি করি, থাকবো কেমন আর। না মরে কোন রকমে বেঁচে আছি এই যা। হাঁ আগে তোমার সঙ্গে এদের পরিচয় করিয়ে দেই। মিঃ আরিফ উপস্থিত সকলের সঙ্গে মিঃ ফরিদের পরিচয় করিয়ে দিলেন।
মিঃ ফরিদ বললেন–হঠাৎ অসময়ে এসে তোমাদের কথা বার্তার কোন অসুবিধা করলাম না তো?
আরে না না তুমি আমার পরম আত্মীয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তুমি উপস্থিত থাকলে আমাদের আলোচনায় কোন ব্যাঘাত ঘটবে না। বলোনা, ভাই আমরা একেই নানারকম চুরি ডাকাতি খুন-জখম নিয়ে সর্বদা ব্যস্ত আছি। তারপর দস্যু বনহুরকে নিয়ে আর এক ঝাঁমেলা।
দস্যু বনহুর–মিঃ ফরিদ সাহেব শিউরে উঠলেন যেন। ঢোক গিলে বললেন–দস্যু বনহুর আবার নতুন করে কোথাও হামলা-টামলা…..
ঠিক হামলা নয়, সে পুলিশকে বাদর নাচ নাচাতে চায়।
তার মানে? বললেন মিঃ ফরিদ সাহেব।
মিঃ আরিফ দস্যু বনহুর সম্বন্ধে সমস্ত কথা খুলে বললেন মিঃ ফরিদের কাছে।
মিঃ ফরিদের মুখ ভয়ে ফ্যাকাশে-বর্ণ হয়ে উঠলো। তিনি বললেন–কি জানি দস্যু বনহুর নাম শুনলে আমার পিলে কাঁপে। বড় হতভাগা দস্যু এটা না হলে ওমন হারছড়া পাঠিয়ে কেউ নিজের নামে গ্রেপ্তারী ঘোষণা করতে পারে। মিঃ ফরিদ কথাটা বলতে বলতে হারছড়া টেবিল থেকে হাতে তুলে নিয়ে উল্টেপাল্টে অবাক হয়ে দেখতে থাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার তারা পূর্ব আলোচনায় ফিরে আসেন।
মিঃ আরিফ বললেন–হারছড়া সম্বন্ধে বাইরে জানাজানি না করাই ভাল।
হাঁ সেই ভাল। বাইরে কোনরকম জানাজানি করে পুলিশ মহল ভালভাবে সতর্ক হওয়াই ভাল। তাছাড়া সি. আই, ডি, পুলিশকে এই পুরস্কারের কথা জানিয়ে তাদের সতর্ক করে দিন। কথাগুলো বললেন মিঃ ফরিদ সাহেব।
আলোচনা জমে উঠলো ভীষণভাবে। কিভাবে দস্যু বনহুরকে গ্রেপ্তার করা যায় সেজন্য এক একজন এক একরকম মতামত পেশ করতে লাগলেন।
শুধু মিঃ ইয়াসিন নীরব রয়েছেন তিনি শুনে যাচ্ছেন মাঝে মাঝে দু’একটা কথা বলছেন মাত্র।
সি. আই. ডি. পুলিশ ইন্সপেক্টার মিঃ গহর মুর্শেদকে ফোন করে ডেকে আনা হলো।
মিঃ আরিফ তাকে এ ব্যাপারে সমস্ত কথা বুঝিয়ে বললেন। দস্যু বনহুরের চিঠি আর মালা। ছড়াও দেখালেন।
মিঃ গহর মুর্শেদ বনহুরের চিঠি পড়ে বিস্মিত হলেন, মালাছড়া তাকে আরও অবাক করে ফেলেছে। তিনি মালাছড়া নেড়েচেড়ে দেখে বললেন–নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য নিয়ে দস্যু বনহুর। এই মালা ছড়া পাঠিয়েছে। না হলে এতো মূল্যবান মালা সে হাত ছাড়া করত না। হাঁ এ মালাই আমরা ঘোষণা করবো, কারণ দস্যু বনহুর জানুক তার কথা আমরা পালন করেছি। কিন্তু আসলে আমরা অন্য মালা…….
মিঃ ফরিদ বলে উঠলো–দস্যু বনহুর যদি জানতে পারে আপনারা সে মালা গোপন রেখে মিথ্যা অন্য একটি মালা দিয়ে লোকটিকে ধোকা দিতে চান?
এ কথা সে কেমন করে জানবে। আমাদের মধ্যে কেউ একথা প্রকাশ করবে না। কিন্তু আসল কথা হলো দস্যু বনহুরকে পাকড়াও করার এ আর একটি ফন্দি। হারছড়া অতি মূল্যবান তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ হার দস্যু বনহুর পুনরায় হস্তগত করার চেষ্টা করবে। সে জানে কেউ এটা গোপনে লুকিয়ে রাখতে পারবে না।
মিঃ ফরিদ বললেন-কাজেই আপনারা এই হারছড়া দিয়েই বনহুরকে গ্রেপ্তার করতে চান?
হাঁ আমি দস্যু বনহুরের পাঠানো হারছড়া দিয়েই দস্যু বনহুরকে গ্রেপ্তার করবো।
মিঃ আরিফ খুশি হয়ে বললেন–সত্যি মিঃ মুর্শেদ আপনার বুদ্ধি কৌশলের কাছে বহু সুতীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক পরাজয় লাভ করে।
মিঃ মুর্শেদ বললেন–স্যার, এই হারছড়া আমার কাছে রাখতে চাই।
নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই আপনি ওটা রাখতে পারেন।
কিন্তু আমার কাছে যতদিন এ হারছড়া থাকবে ততদিন আমাকে কিছু সংখ্যক পুলিশ-ফোর্স দিতে হবে। যদিও আমার নিজের অফিসে অনেক সি. আই. ডি. পুলিশ আছে।
হাঁ এ ব্যাপারে আপনাদের ভাবতে হবে না মিঃ মুর্শেদ আপনি ইচ্ছামত পুলিশ ফোর্স পাবেন।
মিঃ মুর্শেদ বললেন আবার স্যার হারছড়া আমার কাছে আছে এ কথা যেন…..
ঠিক আছে এ কথা প্রকাশ পাবে না। বললেন মিঃ আরিফ।
এবার সবাই বিদায় গ্রহণ করার জন্য উঠে পড়লেন।
মিঃ ফরিদ বললেন–মিঃ মুর্শেদ আপনার বাসার ওদিক হয়েই আমাকে যেতে হবে, আমার। গাড়ীটা নষ্ট ছিলো কিনা তাই আপনার গাড়িতে…..
বলে উঠলেন মিঃ মুর্শেদ অত্যন্ত ভাল কথা। চলুন আমার গাড়িতেই আপনাকে পৌঁছে দেবো।
সেদিনের মত সবাই বিদায় গ্রহণ করলেন।
গাড়িতে পাশাপাশি বসে আছেন মিঃ মুর্শেদ এবং মিঃ ফরিদ সাহেব।
ড্রাইভার গাড়ি চালিয়ে চলছে।
কান্দাই রাজপথ বেয়ে ছুটে চলেছে গাড়িখানা।
মিঃ ফরিদ বললেন–দস্যু বনহুরের আশঙ্কায় সদা আতঙ্কগ্রস্থ থাকতে হয়। কি যে এক মহাসমস্যা শুরু হয়েছে।
হাঁ মিঃ ফরিদ আপনার কথা অত্যন্ত সত্য। শুধু আজই নয় কয়েক বছর হলো দুর্দান্ত দস্যু কান্দাই শহরকে প্রকম্পিত করে তুলেছে। পুলিশমহল তো নাজেহাল হয়ে পড়েছিলো। কোন পুলিশ অফিসার তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
মিঃ ফরিদ বললেন–শুনেছি, একবার নাকি দস্যু বনহুর গ্রেপ্তার হয়েছিলো?
