বনহুর ও পাশে বসে পড়লো পিঠ থেকে ছোরাখানা টেনে তুলে নিলো সে তারপর বললো বোমসিং কিছু বলবে?
বোমসিং অতি কষ্টে উচ্চারণ করলো……অ–নি—-ন…..ঘাড়টা ভেঙে মাথাটা কাৎ হয়ে পড়লো এক পাশে। বনহুর কিছুই বুঝতে পারলো না কি বলতে চাচ্ছিলো সে।
উঠে দাঁড়ালো বনহুর, আপন মনেই বলে উঠলো-অ-অনিন্দন….কে কে এই অনিন্দন? মানুষ না জায়গার নাম? কিন্তু কে তার জবাব দেবে বোমসিং তখন সকলের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।
বনহুর তার কাপড়ের ভিতর থেকে একখানা ছোরা বের করলো, একটা কাগজে কিছু লিখে ছোরায় গেঁথে ছোরাখানা মূর্তিটার হাতের মুঠায় গুঁজে রাখলো তারপর বেরিয়ে এলো মোদনমোহন বার থেকে বাইরে।
কস্তুরীবাঈ তখন তার পিতা মহেন্দ্র গরসের সঙ্গে বার থেকে পথে অদৃশ্য হয়েছে।
*
মিঃ আরিফ মিঃ ইয়াসিন ভোর হবার পূর্বেই মোদনমোহন বার-এ এসে হাজির হলো। সঙ্গে তাদের পুলিশ ভ্যান, এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী।
বার-গৃহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তারা অবাক হন, কারণ একটি জনপ্রাণীকেও নজরে পড়ে না তাদের।
পুলিশ ফোর্স মোদনমোহন বার-গৃহের চার পাশ ঘেরাও করে ফেলেছে। কেউ যেন পালাতে না পারে সেজন্য সতর্ক আছে সবাই।
কিন্তু আশ্চর্য সমস্ত মোদনমোহন বার-গৃহখানা তল্লাসী করেও কাউকে পাওয়া গেলো না।
ভোর হয়ে এলো এক সময়।
সমস্ত বার তল্লাসী করেও যখন পুলিশবাহিনী কোন ব্যক্তিকে আবিষ্কারে সক্ষম হলো না, তখন সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন এমন সময় হঠাৎ একটা আর্তকণ্ঠস্বর কানে আসে তাদের।
মিঃ আরিফ এবং মিঃ ইয়াসিন দু’জন পুলিশ সহ অগ্রসর হলেন। একটা কক্ষের মেঝেতে এসে দাঁড়ালেন তারা। আর্ত কণ্ঠস্বরটা যেন এই কক্ষের মধ্য হতেই বেরিয়ে আসছিলো, আশ্চর্য হলো সবাই শব্দ শোনা যাচ্ছে কিন্তু কক্ষ মধ্যে জনপ্রাণী নেই।
হঠাৎ তাদের নজরে পড়লো দেয়ালের একস্থানে একটা সাউন্ডবক্স টাঙ্গানো রয়েছে! শব্দটা সেই সাউন্ডবক্সেই আসছে। কিন্তু কোথা হতে এই সাউন্ডবক্সে শব্দ আসছে সেটা বুঝা যাচ্ছে না।
অনেক চেষ্টা করে এক সময় পথ পাওয়া গেলো। সাউন্ডবক্স সরাতেই পিছনে পাওয়া গেলো ক্ষুদ্র একটা দরজা। সেই পথে মিঃ আরিফ এবং মিঃ ইয়াসিন উদ্যত রিভলভার হাতে ভিতরে প্রবেশ করলো।
কিছুটা এগুতেই অবাক হয়ে দেখলো তারা মেঝেতে পড়ে আছে একটা রক্তাক্ত দেহ। ভালভাবে লক্ষ্য করতেই বিস্ময়ে চমকে উঠলেন মিঃ ইয়াসিন, অস্ফুট ধ্বনি করে উঠলেন–এ যে বোমসিং বাবু দেখছি…..গায়ে হাত দিয়ে বুঝতে পারলেন বহুক্ষণ পূর্বে তাকে হত্যা করা হয়েছে। দেহটা শক্ত হয়ে গেছে কাঠ হয়ে।
মিঃ আরিফ মূর্তিটা পরীক্ষা করে দেখছিলেন, তিনি হঠাৎ বলে উঠলেন–এযে দেখছি আজব কারখানা। মূর্তিটার মধ্যে ফাঁকা আসনও দেখছি একটা।
মিঃ ইয়াসিন বোমসিং-এর মৃত দেহের পাশ থেকে উঠে এগিয়ে এলেন, মূর্তিটার দিকে অবাক হয়ে দেখতে লাগলেন। সত্যিই এ সব যেন কেমন আজগুবি কাণ্ড-কারখানা লাগছে। একটা আর্তকণ্ড এখনও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বুঝা যাচ্ছে না সে শব্দ কোথা হতে আসছে।
হঠাৎ মিঃ ইয়াসিনের নজরে পড়ে মূর্তির হাতে পুঁজা ছোরাখানায়। ছোরাখানা হাতে তুলে নিতেই দেখতে পায় ছোরাখানায় গাঁথা আছে একখানা ভাঁজ করা কাগজ। মেলে ধরলেন তিনি বৈদ্যুতিক আলোর সামনে,–পড়লেন
মোদন বারে’র গোপন রহস্য উদঘাটন করেছি। বার-এর মালিক বোমসিংকে তার উপযুক্ত সাজা দেওয়া হলো। অন্যান্য অনুচর এবং নর্তকীদলকে দক্ষিণ পাশের গোপন কক্ষে বন্দী করে রেখেছি। বিচার ভার আপনারা গ্রহণ করুন।
– দস্যু বনহুর
মিঃ ইয়াসিন এবং মিঃ আরিফ উভয়ে তাকালেন উভয়ের দিকে। মিঃ আরিফ বললেন– আশ্চর্য এই দস্যু বনহুর।
হাঁ স্যার আজ আমরা দস্যু বনহুরের সহায়তাতেই এই শয়তান দলকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হলাম
চলুন, আরও বাকী আছে।
হাঁ স্যার এখনও আমরা সবাইকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হইনি আশা করছি অল্পক্ষণই কার্যদ্ধার করতে পারবো।
মিঃ আরিফ এবং মিঃ ইয়াসিন কয়েকজন পুলিশ সহ দস্যু বনহুরের চিঠির নির্দেশ মত বন্দী শালায় এসে হাজির হলেন। বন্দী কক্ষে প্রবেশ করে সবাই হতবাক হয়ে পড়লেন ক্ষণিকের জন্য। দেখলেন গুণ্ডাসণ্ডার মত সব জোয়ান বলিষ্ঠ লোক হাতে পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে। মোদনমোহন বার এর ম্যানেজার নাথুরামকে চিনতেন মিঃ আরিফ এবং মিঃ ইয়াসিন তারা খুশি হলেন কারণ দস্যু বনহুর তাদের কাজ অতি সহজ করে দিয়েছে।
একজন বৃদ্ধ দারওয়ান হাউমাউ করে কাঁদছিলো আর আর্তকণ্ঠে বিলাপ করছিলো। এতোক্ষণ এই শব্দই শুনতে পাচ্ছিলো। এবং প্রথম সাউন্ডবক্সে শুনতে পেয়েছিলেন। কারণ, সাউন্ডবক্সের লাউডস্পীকার মেসিন যন্ত্র খোলা ছিলো এই কক্ষে। বনহুর যে বেরিয়ে যাবার সময় সুইচ অন করে দিয়ে গিয়েছিলো তাতে কোন সন্দেহ নেই।
মিঃ আরিফ এবং মিঃ ইয়াসিন ও অন্যান্য পুলিশ অফিসার এবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পুলিশগণ মিঃ আরিফের আদেশে শয়তান বন্দীদের শৃঙ্খল মুক্ত করে হাতে হাত কড়া মাজায় রশি পরিয়ে দিতে লাগলেন।
নর্তকীত্রয় পালাতে যাচ্ছিলো, মিঃ ইয়াসিন দু’জন পুলিশকে আদেশ দিলেন–এদের তিনজনকে একই রশি দিয়ে সাড়িবদ্ধভাবে বেঁধে ফেলো।
পিয়ারী বয়স কম, ইন্সপেক্টারের কথায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো–আমার কোন দোষ নেই সাহেব। আমাকে ছেড়ে দিন।
