বনহুর হেসে বললো–গ্রহণ করুন, খুশি হবো!
মিঃ রিজভী হাতে তুলে নিতে বাধ্য হলেন বনহুরের দেয়া গরম চায়ের কাপটা।
বনহুর টি-পট থেকে আর এক কাপ চা নিজে ঢেলে গলধকরণ করলো।
চা পান করছিলো বনহুর কিন্তু তার চোখের দৃষ্টি অন্বেষণ করে ফিরছিলো মিঃ রিজভীর আসল রূপটা।
চায়ের টেবিল থেকে যখন উঠলো তখন বেলা ন’টা বেজে গেছে। একটু পূর্বে মিঃ রিজভী বনহুরের কাছে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন তার নিজের অফিসরুমে।
বনহুর ডাইনিংরুম থেকে ফিরে এলো নিজের কামরায়।
অল্পদিন পর সে পূর্বদিনের সে মহাজনের ড্রেসে সজ্জিত হয়ে হোটেলের পিছন সিঁড়ি বেয়ে বেরিয়ে গেলো। ফিরে এলো সম্মুখ গেট দিয়ে। হোটেলে প্রবেশ করতেই একজন বয় এগিয়ে এলো–কেয়া চাইয়ে সাহার?
বনহুর বললো– ম্যানেজার সাহাব সে মিলনে আয়া।
বয়টি বনহুরকে নিয়ে হাজির করলো ম্যানেজার মিঃ রিজভীর ওখানে।
কক্ষে প্রবেশ করতেই মিঃ রিজভী অভ্যর্থনা জানালেন–আচ্ছালামো আলায়কোম জনাব। তশরিফ রাখুন।
বনহুর আসন গ্রহণ করলো।
মিঃ মাহমুদ রিজভীও আসন গ্রহণ করলেন। তারপর বললেন–মিঃ আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। বুঝি?
জ্বি হ, তার সঙ্গে দেখা করা আমার নিতান্ত প্রয়োজন। কারণ তার স্ত্রী মিসেস পারভিন নাকি এখানে নেই।
না, তিনি এখানে নেই। শুনেছি তার কোন আত্মীয়ের বাড়ি গেছেন।
কিন্তু আমি জানি, সে কোনো আত্মীয়ের বাড়ি যায়নি। দেখুন ম্যানেজার সাহেব, আপনার ব্যবহারে আমি অতি সন্তুষ্ট হয়েছি। আপনি অতি মহৎ জন, এ কথা আমি বুঝতে পেরেছি। একটা কথা আপনাকে বলবো, অবশ্য অত্যন্ত গোপন এক রহস্যপূর্ণ কথা।
আপনি নিঃসংকোচে বলুন? বলেন ম্যানেজার কি মাহমুদ রিজভী।
জিল্লুর রিজভীবেশি বনহুর বললো–আসলে ঐ মেয়েটি মিঃ আলমের স্ত্রী বা আত্মীয়া নয়।
অবাক হবার ভান করে বললেন মিঃ মাহমুদ–কি বললেন, মিসেস পারভিন মিঃ আলমের স্ত্রী বা আত্মীয়া নন!
না, মেয়েটি নাকি হিন্দু যুবতী। মিঃ আলম তাকে কোথা থেকে নাকি জোগাড় করেছেন। আমার সঙ্গে তার কথা হয়েছে–ঐ যুবতীটিকে তিনি আমার কাছে বিক্রয় করবেন।
বলেন কি?
সত্যিই বলছি এবং আমি জানি আপনি এসব জানা সত্বেও তাকে বলবেন না।
ছিঃ ছিঃ ছিঃ আমি বলবো এ কথা? আপনি আমার উপর বিশ্বাস রাখবেন। হ, কি বলছিলেন–মিসেস পারভিন মিঃ আলমের স্ত্রী নন?
না।
তবে কে মেয়েটি?
ঐটুকুই আমি জানি, মেয়েটিকে তিনি কোথা হতে সংগ্রহ করেছেন জানিনা।
কিছুক্ষণ যেন গভীরভাবে চিন্তা করলেন বা চিন্তার অভিনয় করলেন মিঃ মাহমুদ রিজভী, তারপর বললেন–আমি অবাক হচ্ছি, কারণ তারা আমার হোটেলে স্বামী-স্ত্রী বলেই পরিচয় দিয়েছেন।
এতে অবাক হবার কি আছে? হোটেলে এসব ব্যাপার নিত্য কত সংঘটিত হয়ে চলেছে।
আপনি কি তাকে ক্রয় করবেন মনস্থ করেছিলেন?
আপনার কাছে লুকোবার কিছু নেই। হাঁ, তার সঙ্গে আমার ঐ রকম কথাবার্তা চলছিলো।
বললেন মাহমুদ রিজভী–আপনার সঙ্গে তার কোনোরকম দাম চুক্তি হয়েছিলো কি?
হয়েছিলো!
কত স্বীকার করেছিলেন আপনি?
প্রায় এক লক্ষ পঁচিশ হাজার। কথাটা বলে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো বনহুর মিঃ মাহমুদ রিজভীর মুখে।
চোখ দুটো জ্বল জ্বল করে উঠলো মাহমুদ রিজভীর, ঠোঁটখানা জিভ দিয়ে চেটে নিলের অলক্ষ্যে একবার। ভাজা মাছের গন্ধে বিড়াল যেমন উগ্র হয়ে উঠে ঠিক তেমনি। বললেন মাহমুদ রিজভী–তাতেও কি সে রাজি হয়নি?
না, পুরো দু’লক্ষ টাকা তার দাবি ছিলো।
কিছুক্ষণ মৌন রইলো মাহমুদ রিজভী, তারপর বললেন–সেই মেয়েটি ছাড়া আপনি কি…
হাঁ হাঁ যে কোনো একটি সুন্দরী অল্পবয়স্ক মেয়ে হলেই আমার চলবে।
হেসে বললেন মাহমুদ রিজভী–আর যদি সে মিসেস পারভিনকে পান?
যা চাইবেন তাই দেবো, কিন্তু মিঃ আলম কি এ ব্যাপারে…
তিনি এর বিন্দু বিসর্গ জানবেন না।
অবাক হবার ভান করে বলে বনহুর–দেখুন দয়া করে মিসেস পারভিনকেই আমায় দিন..
কোনো চিন্তা নেই, সে এখন আমার হাতের মুঠায়। তবে আমি এখন তার রক্ষক হিসাবে আছি। সে হলো ধীরেনচরণ ভৌমের শিকার।
তার মানে?
মানে মিঃ আলমের হাত থেকে মিস লুসী এখন চলে এসেছে…
মিস লুসী! অবাক হবার অভিনয় করে জিল্লুর রিজভীবেশী বনহুর।
হাঁ, মিস লুসীই ছিলো মিঃ আলমের কাছে এবং তারা উভয়ে স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচিত হবার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু আমার চোখে সে ধূলো দিতে পারেনি। পারভিন লুসীর ছদ্মনাম।
জিল্লুর রিজভী বললেন–আপনি যা চাইবেন তাই পাবেন, আমি মিস লুসীকে চাই।
বেশ তাই হবে।
তা হলে আমি মিঃ আলমের সঙ্গে দেখা করবো না?
না, কারণ মিঃ আলম এখন মিস লুসীর সন্ধানে উন্মত্ত।
তাহলে কবে আমি তাকে পেতে পারি?
আপনি যখন খুশি তার উচিৎ মূল্য দিয়ে গ্রহণ করতে পারেন। আচ্ছা আজ আপনি আসুন, পরে আপনার সঙ্গে কথাবার্তা পাকা হবে।
আচ্ছা আমি চললাম–জিলুর রিজভীবেশী বনহুর বেরিয়ে গেলো তখনকার মত।
সোজা সে নিজের কক্ষে প্রবেশ করে ড্রেস পরিবর্তন করে নিলো। এখন সে সম্পূর্ণ ড্রাইভারের ড্রেসে সজ্জিত হয়ে নেমে এলো সিঁড়ি বেয়ে।
গাড়ি বারান্দায় যে গাড়িখানা দাঁড়িয়েছিলো বনহুর সোজা এসে চেপে বসলো তার ড্রাইভিং আসনে। মিনিট দুই পরেই গাড়িখানার পাশে এসে দাঁড়ালো মিঃ মাহমুদ রিজভী, দামী স্যুট-পরা, মাথায় ক্যাপ। একটা সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করে চেপে বসলেন গাড়ির পিছন আসনে, বললেন–লাবলীং ক্লাব।
