সাচ বাত?
হাঁ, আমাকে বাধ্য করেই ম্যানেজারের নিকটে বলিয়েছিলো ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের যেন ডবল দাম দিয়ে দেয়া হয়।
এ কোন শয়তান? বলে উঠলো ভীম সিং।
অভয়কর বিশ্বাস বললেন–মহাতক, তোমার কাছে এলাম, তুমি সমস্ত কলকাতার গুণ্ডাদলের নেতা। নিশ্চয়ই এ জমকালো পোশাক-পরা লোকটা তোমার দলের হবে।
নেহি বাবুসাব, হামার আদমী নেহি এ-কাম করিয়াছে।
ভীম সিং বললো–হ্যাম ভি তো উছে মালুম কিয়া।
কিন্তু কলকাতার লোক ছাড়া বাইরের তো কেউ এসে সাহস পাবে না। জানে না অভয়কর বিশ্বাস শুধু সিংহশাবক নয়, সে তার চেয়েও ভয়ঙ্কর। মহাতক সিং, এ তোমার লোক না হলে কে? কে সে এ জমকালো পোশাক-পরা বুদ্ধিমান ডাকু?
হামি আপনাকে কথা দিচ্ছি বাবু সাব, হামার আদমী হোবে তাহলে আপনি সব রূপিয়া পাইয়ে যাবেন।
রূপিয়া পাই না পাই দুঃখ নেই মহাতক সিং, যদি তুমি তাকে আবিস্কার করতে সক্ষম হও, তাহলে তোমাকে আরও বিশ হাজার দেবো।
বাবুজী!
হ মহাতক সিং, অভয়কর বিশ্বাস টাকা যেমন লুটে নিতে জানে তেমনি জানে ছড়িয়ে দিতে। ভীম সিং!
বলিয়ে বড়া সাব?
এ ব্যাপারে তুমি মহাতক সিংকে যথাসাধ্য সাহায্য করবে।
হাম জান দেকে বদমাস ডাকু কো পাকাড় লেঙ্গে। আপ কই চিন্তা নেহি করিয়ে বড়া সাব।
মহাতক সিং বলে উঠে-কলকত্তা মে কই ডাকু হামারা নজরছে রেহাই না পায়েগা বাবুসাব! হামারা নাম মহাতক সিং। হাম দেখে গা কাহা কোন্ আদমী আপকা রূপেয়া লুট লিয়া–
মহাতক সিং সে কারণেই আমি এসেছি তোমার কাছে। পুলিশ যা পারবে না, আমি জানি সে কাজ পারবে তুমি।
আপ লোক্ কা মেহেরবানী বাবু সাব। বললো মহাতক সিং।
এবার বললেন অভয়কর বিশ্বাস মহাতক সিং, তুমি আমায় সাহায্য করবে।
ঠিক জরুর করিবে বাবু সাব।
আচ্ছা তাহলে চলি। বললেন অভয়কর বিশ্বাস।
বহুৎ আচ্ছা–সেলাম! মহাতক সিং হাতখানা উঠিয়ে কপালে ঠেকালো।
ভীম সিং উঠে বসলো গাড়িতে।
ড্রাইভার গাড়িতে ষ্টার্ট দেবার পূর্বে আর একবার পোড়া বাড়িখানার দিকে সূতীক্ষ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখে নিলো।
গাড়িখানা স্পীডে ছুটতে শুরু করলো এবার।
অভয়কর বিশ্বাস বললেন–ভীম সিং, কাল সকালে কোম্পানীর সমস্ত শ্রমিকদের কারখানায় আসতে বলবে। তারপর আমি সবাইকে কেমন সায়েস্তা করতে হয় করে নেবো। ভীম সিং, তুমি নিজে গিয়ে ওদের দলের সর্দারকে ধরে নিয়ে আসবে।
বহুৎ আচ্ছা বড় সাব।
আমার মনে হয় বেটা সর্দার নাসির আলীর ঐ কাজ।
ভীম সিং বলে উঠে হাম্ ব্যাটা নাসির আলীকে জান নেকাল্ লেঙ্গে–দাঁতে দাঁত পিষে কথাটা বললো সে।
গাড়ির হ্যাণ্ডেলের ওপর ড্রাইভারের হাত দুখানা মুষ্ঠিবদ্ধ হলো। এ মুহূর্তে–তার মুখোব কেউ যদি লক্ষ্য করতো তাহলে সে বুঝতো ড্রাইভার স্বাভাবিক জন নয়।
বালিগঞ্জ অভয়কর বিশ্বাসের বাড়িতে গাড়ি পৌঁছলো। ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে দরজা খুলে ধরল।
অভয়কর বিশ্বাস নেমে গেলেন।
নেমে যাবার সময় বললেন অভয়কর বিশ্বাস–যতীন, ভীম সিংকে কোম্পানীর অফিসে পৌঁছে দিয়ে এসো।
ড্রাইভার বললো– আচ্ছা স্যার।
মালিক গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াতেই ভীম সিংও তার আসন ত্যাগ করে নেমে দাঁড়িয়েছিলো, এবার সে উঠে বসলো ড্রাইভ আসনের পাশের আসনে।
ড্রাইভার গাড়ি বের করে আনলো রাস্তায়।
*
পরদিন অভয়কর বিশ্বাস সবেমাত্র চায়ের টেবিলের পাশে এসে বসেছেন এমন সময় রঘুনাথ বাগানের মালী সসব্যস্তে ছুটে আসে–হুঁজুর, হুজুর, এক অদ্ভুত কাণ্ড। দেখবেন আসুন হুজুর—
কি হয়েছে? ধমক দিয়ে বললেন অভয়কর বিশ্বাস।
রঘুনাথের দু’চোখে ভয়-ভীতি আর বিস্ময়, কেমন যেন হাঁপিয়ে পড়েছিলো সে, ঢোক গিলে বললো– হুজুর গ্যারেজে চলুন, দেখবেন হুজুর, চলুন–
কি হয়েছে বল্ না?
হুজুর ড্রাইভার যতীনকো কেউ হাত-পা-মুখ বেঁধে গ্যারেজে ফেলে রেখেছে হুজুর ওধারের চার নাম্বার ফাঁকা গ্যারেজে।
বলিস কি রঘু?
যা স্যার, দেখবেন চলুন।
অভয়কর বিশ্বাস এবং আরও দু’চার জন লোক ছুটলেন চার নাম্বার ফাঁকা গ্যারেজটার দিকে।
চার নাম্বার গ্যারেজটার গাড়ি একটা সামান্য এক্সিডেন্টে জখম হয়ে মোটর কারখানার হসৃপিটালে চিকিৎসাধীন ছিলো। গ্যারেজটা সম্পূর্ণ খালি ছিলো।
অভয়কর বিশ্বাস এবং অন্যান্য লোকজন সবাই অবাক হয়ে দেখলো গ্যারেজের মেঝেতে হাত-পা-মুখ। বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে যতীন– তাঁর নিজস্ব গাড়ির ড্রাইভার।
অভয়করের আদেশে ড্রাইভারের হাত-পা-মুখের বাঁধন উন্মোচন করে দেয়া হলো।
যতীন এবার মুক্তিলাভ করে উঠে বসলো গ্যারেজের মেঝেতে।
অভয়কর বিশ্বাস গর্জন করে উঠলেন–তোমার এ অবস্থা কেন?
যতীন বন্ধন অবস্থায় চেপে যাওয়া স্থানগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে বললো–স্যার, কাল রাতে আপনি যখন আমাকে গাড়ি বের করার আদেশ দিলেন, তখন আমি গ্যারেজে প্রবেশ করে গাড়ি বের করতে যাবো অমনি জমকালো একটা মূর্তি আমার বুকে রিভলভার চেপে ধরলো। তারপর আমার মুখে রুমাল চাপা দিলো, একটা সুমিষ্ট গন্ধ প্রবেশ করলো আমার নাকের মধ্যে, স্যার, তারপর আর আমার কোনো কথা স্মরণ নেই—
বলো কি! কাল রাতে তুমি আমার গাড়ি ড্রাইভ করে আমাকে কোম্পানীতে নিয়ে যাও নি?
না স্যার।
অভয়কর বিশ্বাসের দু’চোখে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হতে লাগলো যেন, তিনি বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে আবার বললেন–শ্যামবাজার মহাতক সিং-এর বাড়ি–
