সে কি?
হাঁ মিস পারভিন, সুটিং শেষ করেই আমাকে বিদায় নিতে হয়েছিলো।
বনহুর, রহমান আর পারভিন যখন হোটেল-কক্ষে বসে আলাপ করছিলো। তখন হোটেলে একটা হট্টগোল শোনা গেলো।
অল্পক্ষণ পর একটা বয় ব্যস্তভাবে কক্ষে প্রবেশ করে পারভিনকে লক্ষ্য করে বললল–আপা, আপ কা লকেট মিল গিয়া।।
পারভিন অস্ফুট কণ্ঠে উচ্চারণ করলো–সকেট পাওয়া গেছে। পর মুহূর্তে পারভিন বললো–আপনারা কয়েক মিনিটের জন্য বসুন এক্ষুনি আসছি।
আপ কো লকেট মিল গিয়া কথাটা শুনে চমকে উঠেছিলো বনহর। পারভিনের কথায় বললো–আচ্ছা, আসুন।
বেরিয়ে গেলো পারভিন।
বনহুর রহমানের কানে মুখ নিয়ে বললো–রহমান, আর একটা বিভ্রাট ঘটলো।
বিভ্রাটঃ
হাঁ, পারভিনের লকেট আমিই নিয়েছিলাম, কিন্তু সেদিন পথে একটা বৃদ্ধ ভিখারীকে দিয়েছিলাম ওটা, ভুল করেই ওটা আমি দিয়েছিলাম…… কারণ, আমার পকেটে তখন ঐ লকেট ছাড়া আর কিছুই ছিলো না।
ঠিক সেই মুহূর্তে হোটেল থেকে ভেসে এলো এক বৃদ্ধের ব্যথা কাতর কণ্ঠস্বর—মায় নেহি জানতা, কাওন আদমী মেরে হাত মে ও চীজ দিয়া….
সঙ্গে সঙ্গে শুনা গেলে কর্কশ কন্ঠে–শালা বদমাশ বুড়হে, তুম লকেট বেচনে গিয়া, আর লকেট তুম চোরায়ে নেহি?
বুড়োকে আঘাতের শব্দ ভেসে এলো সেই সঙ্গে।
বনহুর উঠে দাঁড়ালো।
রহমান উঠে গিয়ে উঁকি দিয়ে ফিরে এলো–সর্দার, কয়েকজন পুলিশ একটা বৃদ্ধকে প্রহার করছে।
বনহুর পা বাড়ালো দরজার দিকে।
রহমান বললো–সর্দার, ঠিক হবে না আপনার যাওয়া, বরং বৃদ্ধকে মুক্তির উপায় করতে হবে।
ঠিক সেই মুহূর্তে পদশব্দ শোনা যায়।
বন আর রহমান আসন গ্রহণ করে।
বনহুর সিগারেট কেসটা বের করে উল্টে পাল্টে নাড়াচাড়া করতে থাকে, নিজকে স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করে সে।।
পারভিন কক্ষে প্রবেশ করে আনন্দ ভরা গলায় বলে উঠে–মিঃ চৌধুরী, আমার লকেট ফিরে পেয়েছি। এই দেখুন।
বনহুরের সম্মুখে মেলে ধরে পারভিন লকেটখানা।
বনহুর ভ্রূকুঞ্চিত করে বলেন–এ লকেটখানাই বুঝি প্লেনের মধ্যে আপনি হারিয়ে ছিলেন মিস পারভিন?
হ্যাঁ, সত্যি আমার লকেটখানা কি করে যে বুড়োটা পেয়েছিলো সেই জানে। নিশ্চয়ই সে চুরি করেছিলো ওটা।
বলে বনহুর-বুড়োটা কি সেদিন প্লেনে ছিলো?
ছিলো না কিন্তু একটু চিন্তা করে বলে উঠলো পারভিন–হয়তো লোকটা আদতে বুড়ো মানুষ নয়, কোন চোর।
তখনও বাইরে থেকে বুড়োর আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে–মায় নেহি জানতা বাবুজী…… মায় নেহি জানতা…
পুলিশের কণ্ঠস্বর-হাজত মে ভরনে ছে তুম ঠিক হোগা, নেহি তো সাচ বাত বোলো।
পুলিশের হান্টারের আঘাত গিয়ে পড়লো বৃদ্ধের কোঁকড়ানো পিঠে!
অমনি হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলো বৃদ্ধ-খোদা তু দেখ মেরা কিয়া কসুর…
একটা হাসির শব্দ শোনা গেলো, অট্টহাসির শব্দ। গোটা হোটেলটা যেন প্রকম্পিত হয়ে উঠলো, হাসি বন্ধ করে বললো লোকটা–তুমহারি জান নেকাল লেঙ্গে। মেরা নাম মহব্বৎ আলী–হাঃ হাঃ হাঃ বুড়হে, তুম মেরা পারভিকা লকেট লিয়া
নেহি নেহি হাম নেহি—
বনহুর অধর অংশন করতে লাগলো।
পারভিন বনহুরের মনোভাব বুঝতে পেরে উৎকণ্ঠিত হলো। বললো রহমান–আজ আমাদের আর এক জায়গায় যাওয়ার কথা ছিলো যে?
বনহুর আনমনা ভাবে উঠে দাঁড়ালো–মিস পারভিন, চলি, গুডবাই।
পারভিন কিছু বলার পূর্বেই বেরিয়ে গেলো বনহুর আর রহমান।
১২.
বনহুর ড্রাইভ আসনে বসে গাড়িতে ষ্টার্ট দিলো।
রহমান বললো–সর্দার, মহব্বৎ আলীকে চিনেছেন?
হাঁ রহমান, কিন্তু তার পূর্বে চিন্তা বৃদ্ধ ভিখারীকে বাঁচিয়ে নেওয়া। কি করে ওকে বাঁচাননা যায়!
আমি সে কথাই ভাবছি। দেখ রহমান, এ বৃদ্ধের পরাভোগের জন্য দায়ী। আমি। আমিই দায়ী।
আপনিতো ওর অমঙ্গল চিন্তা করে ওটা দেননি!
কিন্তু বেচারী–কথা শেষ না করে বনহুর হোটেল ছেড়ে কিছুটা দূরে একটা গলির মধ্যে গাড়ি রাখলো। প্রতীক্ষা করতে লাগলো।
অল্পক্ষণ পরে দুজন পুলিশ আর দুজন লোক–বোধহয় একজন কোন স্বর্ণকার, দ্বিতীয় জন হোটেলের কোন ব্যক্তি। সঙ্গে বৃদ্ধ ভিখারী। ভিক্ষারীর হাতে হাতকড়া, কোমরে দড়ি পুলিশদ্বয় হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চলেছে বৃদ্ধ ভিখারীটিকে।
যেমন গলির পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো, আর ঠিক সে মুহূর্তে বনহুর ঝাপিয়ে পড়লো পুলিশদের উপর।
রহমানও প্রচণ্ড ভাবে আক্রমণ করলো।
এক এক মুষ্টিঘাতে এক একজনকে ধরাশায়ী করলো বনহুর ও রহমান।
পুলিশ রাইফেল তুলে ধরবার মত অবসর পেলো না।
বনহুর আর রহমান বৃদ্ধ ভিখারীকে মুক্ত করে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো, এবং সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হলো গাড়ি নিয়ে।
পুলিশ ও লোক দুজন শরীরের ধূলো ঝেড়ে ছুটলো কেউ পুলিশ অফিসে, কেউ হোটেল গুলবাগে।
১৩.
বেটা, তুম্ কাওন? বৃদ্ধ কুঁকড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে সোজা হয়ে বসলো। চোখে-মুখে তার কৃতজ্ঞতার ছাপ।
বনহুর বৃদ্ধের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ছিলো।
রহমান বৃদ্ধের হাত এবং কোমরের বন্ধন মুক্ত করে দিয়ে বললো–তুম্ ডাকু বনহুরকে সামনে।
কিয়া? বৃদ্ধের চোখে মুখে একটা বিষ্ময় ভাব ফুটে উঠলো। আনন্দ বিচলিত গলায় বললো বৃদ্ধ–ডাকু বনহুর, মুঝে খালাস কিয়া?
হাঁ, আব উসিকে পাশ রাহোগে, তুমহারা খানা পিনা কই তকলিফ নেহি হোগি।
বাপুজী সাচ?
হাঁ, সাচ।
এবার বৃদ্ধ রহমানের মুখে তাকিয়ে বললো–খোদা তেরি ভালা করে।
রহমান বললো, এবার বাবা, হাম নেহি ডাকু বনহুর। তুম্ হারা সামনে খাড়া অহি আদমী–
