এ্যানি ততক্ষণে জনের মুখের কাছে ঝুঁকে এসেছে, আবেগভরা কণ্ঠে বললো—ডার্লিং, তুমি কত সুন্দর!
এ্যানি, আমি শীঘ্রই আমাদের বিয়ের দিন ধার্য করে ফেলবো।
সত্যি?
হাঁ এ্যানি।
ডার্লিং—
এ্যানি, আমাকে এক গেলাস ঠান্ডা পানি পান করাতে পারো?
নিশ্চয়ই পারি। তুমি বসো আমি আনছি।
এ্যানি বেরিয়ে যায়।
একটু পরে ফিরে আসে এ্যানি, দক্ষিণ হাতে তার ঠান্ডা পানির গেলাস। কিন্তু জন কই?
এ্যানি ব্যস্তভাবে তাকালো কক্ষের চারদিকে, উচ্চকণ্ঠে ডাকলো জন! জন! জন! তুমি কোথায়? হঠাৎ এ্যানির দৃষ্টি পড়লো সামনের টেবিলে, বিস্মিত হলো সেজনের কালো চশমাটা পড়ে আছে টেবিলের ওপরে।
এ্যানি তুলে নিলো চশমাটা হাতে, পুনরায় উচ্চস্বরে ডাকলো-জন…জন….জন….
এ্যানির কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনি জাগালোজন-জন-জন।
১.১৪ মায়াচক্র
দস্যু বনহুর যুবকের পাশে এসে কাঁধে হাত রাখলো। চমকে ফিরে তাকালো যুবক।
বনহুর শান্ত গম্ভীর কণ্ঠে বললো–মিঃ জন, এবার আপনি মুক্ত। যেতে পারেন, বাইরে আপনার গাড়ী অপেক্ষা করছে।
মিঃ জন ক্রুদ্ধকণ্ঠে বললো–তুমি কে? আর কেনই বা আমাকে এভাবে ভূগর্ভে আটকে রেখেছিলে?
মিঃ জন, আপনি বাড়ী ফিরে গিয়ে সব জানতে পারবেন। আসুন, আর বিলম্ব নয়…….
বনহুর আর মিঃ জন পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীর পাশে এসে দাঁড়ালো। গাড়ীর দরজা খুলে ধরে বললো বনহুর—নিন উঠুন।
মিঃ জন ড্রাইভ আসনে উঠে বসে ষ্টার্ট দিলো।
বনহুর হাত নেড়ে তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানালো—গুডবাই, গুডবাই….
.
মিঃ লাহিড়ী ও মিঃ রায় পুলিশ অফিসে বসে আজকের ঘটনা নিয়েই আলাপ আলোচনা করছিলেন, এমন সময় টেবিলে ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠলো—মিঃ লাহিড়ী রিসিভার হাতে উঠিয়ে নিলেন—হ্যালো, স্পিকিং মিঃ লাহিড়ী। আপনি কে কথা বলছেন?
ও পাশ থেকে ভেসে এলো বনহুরের কণ্ঠ—আমি মিঃ জন।
আপনি! ব্যাপার কি?
আমি এবার বিদায় নিচ্ছি বন্ধু।
সেকি? হ্যালো, সেকি কথা বলছেন?
হাঁ, আসলে মিঃ জন আমি নইমিঃ জনের ভূমিকায় আমি অভিনয় করেছি।
আপনি—আপনি এ সব কি বলছেন?
মিঃ লাহিড়ী, আমার নাম জানলে আপনি আমাকে গ্রেপ্তার না করে ছাড়বেন না। আমি যেই হই, আমার উদ্দেশ্য ছিলো মালতীর আসল হত্যাকারীকে খুঁজে বের করা এবং একমাত্র সেই কারণেই আমি বাধ্য হয়েছিলাম আপনাদের সকলের চোখে ধূলো দিয়ে মিঃ জনের চরিত্র, বেছে নিতে। সে জন্য আমি তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। শুধু তাই নয়, আপনাদের নিকট আমাকে অনেক মিথ্যা বলতে হয়েছে। আসল জন ফিরে এসেছেন, আমি এবার বিদায় নিচ্ছি।
হ্যালো…..হ্যালো, আপনি কে? বলুন আপনি কে? মিঃ লাহিড়ীর মুখমন্ডল উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলো।
অন্যান্য পুলিশ অফিসারগণ অবাক হতভম্ভ হয়ে মিঃ লাহিড়ীর মুখভাব লক্ষ্য করছিলো। মিঃ রায় বুজতে পারছিলেন, নিশ্চয়ই ওপাশে এমন কোন আলোচনা চলছে যা মিঃ লাহিড়ীকে ভীষণভাবে উত্তেজিত করে তুলছে।
তখনও মিঃ লাহিড়ী বার বার হ্যালো…..হ্যালো করছিলেন।
হঠাৎ তিনি যেন মনোযোগ সহকারে নিশ্চুপ হয়ে পড়লেন, শান্তকণ্ঠে বললেন—আপনার পরিচয় দিন।
ওপাশ থেকে ভেসে এলো সেই অতি পরিচিত কণ্ঠ—আমি দস্যু বনহুর।
মিঃ লাহিড়ীর হাত থেকে রিসিভার খসে পড়লো–আচম্বিতে অস্ফুট ধ্বনি করে উঠলেন তিনি—দস্যু বনহুর!
মুহূর্তে পুলিশ অফিসার সকলের চোখেমুখে একটা প্রচন্ড ভীতিভাব ছড়িয়ে পড়লো। দূর দেশ হলেও দস্যু বনহুৱের নাম তাদের কাছেও অতি পরিচিত। কারণ, দস্যু বনহুর সম্বন্ধে তারা যথেষ্ট অভিজ্ঞ।
মিঃ রায় বলে উঠলেন—মিঃ লাহিড়ী, কে আপনার সঙ্গে কথা বলছিলো?
মিঃ লাহিড়ী তখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছেন, তিনি বললেন-দস্যু বনহুর।
দস্যু বনহুর! এখানেও তার আবির্ভাব ঘটেছে?
হাঁ মিঃ রায়। শুধু ঘটেনি, সে একদিন আমাদের মধ্যেই বিচরণ করছিলো।
বলেন কি?
মিঃ রায়, প্রথমেই আমার সন্দেহ হচ্ছিলোলোকটির আচরণ স্বাভাবিক ছিলো না। যদিও তার গতিবিধি আমার কাছে অত্যন্ত রহস্যপূর্ণ মনে হচ্ছিলো, তবু আমি তাকে কিছুই করতে বা বলতে পারছিলাম না।
মিঃ রায় বলে উঠেন—কারণ, তার কার্যে দোষণীয় কিছু ধরা পড়েনি কোন সময়।
হাঁ, সে কথা সত্য।
বরং সে আমাদের উপকারই করেছে।
মিঃ লাহিড়ী বললেন—–উপকার করলেও সে অপরাধী মিঃ রায়। সে একজন দুর্ধর্ষ দস্যু।
অন্য একজন পুলিশ অফিসার বলে উঠেন-দস্যু বনহুর তাহলে এই মহানগরেও এসে হাজির হয়েছে?
অপর একজন থানা অফিসার বলে উঠলেন দস্যু বনহুর যে এই দেশেও এসে হাজির হবে, এ যেন ধারণার বাইরে।
মিঃ রায় উৎকণ্ঠা ভরা কণ্ঠে বললেন-সত্যি আশ্চর্য।
মিঃ লাহিড়ী ভাবগম্ভীর গলায় বলে উঠলেন-দস্যু বনহুরের অসাধ্য কিছু নেই মিঃ রায়। তার মত দুর্ধর্ষ দস্যু পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় নেই। একটু থেমে বললেন তিনিকান্দাই নগর থেকে মহানগর তো সামান্য। পৃথিবীর যে কোন স্থানে তার আবির্ভাব ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মিঃ রায়, দস্যু বনহুর শুধু দস্যুই নয়, সে একজন মহাপ্রাণ ব্যক্তি।
হাঁ, এ কথা আমরা অবগত আছি মিঃ লাহিড়ী। সত্যই এই দস্যু অদ্ভুত।
কিন্তু দস্যু মহাপ্রাণ হলেও তাকে আইনের চোখে ক্ষমা করা যায় না। মিঃ রায়, আপনি এখনই তৈরী হয়ে নিন–আমার সঙ্গে বেরুতে হবে।
কোথায় যাবেন?
মিঃ জনের ওখানে। কথা শেষ করেই উঠে পড়েন মিঃ লাহিড়ী।
