এতক্ষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এ্যানি—উহ, বাঁচালে জন! আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। একটু থেমে বললো এ্যানি-আমি কাউকেই বিশ্বাস করিনি জন, তাই ওটা আমি তোমার কাছে গচ্ছিত রেখে গেছি।
হাঁ এ্যানি, আমিও সেই কারণে ওটাকে খুব যত্ন করে রেখেছি।
তুমি লন্ডন যাবার সময় ওটাকে ঠিক করে রেখেছিলে তো?
কালো চশমার ফাঁকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো জন এ্যানির মুখে। একটু চিন্তা করে বললোহাঁ, ওটা আমি নিরাপদ স্থানে রেখেই গিয়েছিলাম।
ডার্লিং,এবার তো আমরা সব কাজ শেষ করে ফিরে এসেছি। বিয়ের তারিখটা এবার ঠিক করে ফেললা, কেমন?
আমিও সেই কথাই ভাবছি এ্যানি, এবার আমাদের বিয়েটা শীঘ্র হওয়া দরকার।
ডালিং, আমার সত্যি বড় আনন্দ হচ্ছে। কিন্তু কবে সেই দিনটি আসবে প্রিয়?
এ্যানি জনের মুখের কাছে মুখখানা এগিয়ে এনে প্রশ্ন করলো। দক্ষিণ হাতে জনের চোখের কালো চশমা খুলে নিতে গেলো এ্যানি, জন তাড়াতাড়ি মুখটা সরিয়ে বললো—উহু।
না না, তোমার ঐ কালো চশমা খুলে ফেলো! তোমার চোখ দুটো আমাকে দেখতে দাও।
এ্যানি, চশমা খুললে আমি বড় অস্বস্তি বোধ করি, চশমা আমার সম্বল!
জন!
এ্যানি, আমাকে কি তোমার ভাল লাগছে না?
অতি উত্তম—অতি মধুর–ডার্লিং তুমি এবার আমাকে ধরা দিচ্ছো না কেন? কেমন যেন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছো আমার কাছ থেকে?
এই তো আর কটা দিন, আমাদের শুভ বিবাহটা আগে হয়ে যাক, তখন আমরা দুজন এক হয়ে যাবো, মিশে যাবো, দুজন দুজনার মধ্যে।
আমার বিলম্ব সইছে না ডালিং–এ্যানি জনের বুকে মাথা রাখলো আগে কিন্তু তুমি এমন ছিলে না।
জন বিব্রত বোধ করলো, কিছু বলতে যাচ্ছিলো, ঠিক সেই মুহূর্তে জানালার শার্শীর ফাঁকে দুখানা চোখ ভেসে উঠলো।
এ্যানি লক্ষ্য না করলেও জনের চোখে ধরা পড়ে গেলো। জন এ্যানির কানে ফিস ফিস করে বললো—এ্যানি, কেউ আমাদের লক্ষ্য করছে।
বলো কি! এ্যানি সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
জন উঠে গেলো জানালার দিকে, ইতিমধ্যে চোখ দুটি অন্তর্ধান হয়েছে।
জন ফিরে এলো এ্যানির পাশে—এ্যানি, আমার পেছনে কেউ ছায়ার মত ঘুরে বেড়াচ্ছে, সদাসর্বদা সে আমাকে অনুসরণ করছে।
ভীতকণ্ঠে বললো এ্যানি-আমার কিন্তু ভয় করছে।
ভয় পাবার যদিও তেমন কিছু নেই তবু সাবধানে থাকা নিতান্ত দরকার।
কি করবো জন?
এখন তুমি সব সময় নিজের ঘরে থাকবার চেষ্টা করবে। এমনকি আমার কক্ষেও আসবে না এ্যানি।
একি বলছো ডার্লিং!
হাঁ এ্যানি, আমিই যাবো তোমার ঘরে।
না গেলে আমি কিন্তু আনেক দুঃখ পাবো।
এ্যানি, তার চেয়ে আমিই বেশী দুঃখ পাবো তোমার পাশে না গেলে।
সত্যি!
সত্যি এ্যানি–জন এ্যানির চিবুক খানা তুলে ধরলো—তাহলে তুমি এখন যাও, এ্যানি!
যাচ্ছি। তুমিও এখন শুয়ে পড়া জনহাতঘড়িটা দেখে নেয় এ্যানি–রাত অনেক হয়ে গেছে।
এ্যানি বেরিয়ে যায়, হাই তোলে জন—তারপর দরজা বন্ধ করে এগিয়ে যায় জানালার শার্শীর পাশে খুলে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখে নেয়। না কোথাও কেউ নেই। আবার ভাল ভাবে জানালার শার্শী বন্ধ করে ফিরে আসে চেয়ারের পাশে, অতি সন্তর্পণে প্যান্টের পকেট থেকে ডায়ারীখানা বের করে মেলে ধরলো চোখের সামনে। কিছুক্ষণ দৃষ্টি বুলিয়ে উঠে দাঁড়ালো চেয়ার ছেড়ে।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালো, কালো চশমাটা খুলে রাখলো আপন মনে হেসে উঠলো হাঃ হাঃ করে। এবার দ্রুত অন্য একটি ড্রেস পরে নিলো জন। তারপর কালো চশমাটা পুনরায় পরে নিলো চোখে। দরজা খুলে সোজা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো। গাড়ী বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলোজম গাড়ীতে উঠে ষ্টার্ট দিলো।
গভীর রাতের জনহীন পথ বেয়ে জনের নতুন নীল রঙের গাড়ীখানা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। মাঝে মাঝে দুএকজন পথচারী এদিক সেদিক চলে যাচ্ছিলো। ট্রাফিক পুলিশ পথের মোড় থেকে বিদায় নিয়েছে অনেকক্ষণ।
আঁকাবাঁকা পথ ঘুরে ফিরে একটা অন্ধকার গলির মধ্যে এসে গাড়ী থামিয়ে নেমে পড়লো জন। রাস্তার ওপাশে একটা বহুদিনের পুরোন রঙচটা বাড়ী। বাড়ীর দরজায় একটা তালা লাগানো। জন সেই দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো চারদিকে তাকিয়ে দেখে নিলো, তারপর দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো।
এগিয়ে চললো সামনের দিকে। পাশাপাশি সারিবদ্ধ কয়েক খানা পুরোন ইটের গাঁথুনি করা চুনবালি খসে পড়া ঘর। টানা বারান্দা বেয়ে জন শেষ কক্ষের নিকটে এসে থামলো, পুনরায় পেছনে তাকিয়ে দেখে নিলো অতি সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। কক্ষটা অন্যান্য কক্ষের চেয়ে একটু বিশেষ ধরনের। এ দরজাতেও মস্ত একটা তালা লাগানো। তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো সে। সঙ্গে সঙ্গে কতকগুলো বাদুড় ও চামচিকে পাখাি ঝাপটে এদিক থেকে সেদিকে উড়ে গেলো।
জন পকেট থেকে একটা ছোট টর্চ লাইট বের করে জ্বালালো দেখতে পেলো, মেঝেতে একটা কাঠের বাক্স পড়ে রয়েছে। জন বাক্সটি সরিয়ে ফেলতেই একটা সুড়ঙ্গ পথ বেরিয়ে এলো।
জন সেই সুড়ঙ্গপথে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেলো। ভূগর্ভেও ওপরের মত পাশাপাশি কয়েকখানা কক্ষ। একটা কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করে জন থমকে দাঁড়ালো, অদূরে দুগ্ধফেননিভ শুভ্র বিছানায় শায়িত এক যুবক। শরীরে মূল্যবান স্যুট। চীৎ হয়ে শুয়েছিলো সেজনের পদশব্দে বিছানায় উঠে বসলো। ফিরে তাকাতেই জন বললো—গুড ইভনিং।
