সন্ধ্যায় এ্যানিকে আনবার জন্য গাড়ী নিয়ে এরোড্রামে হাজির হলো জন।
কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে, হঠাৎ একটা মেয়েলী কণ্ঠস্বর-হ্যালো জন, তুমি এখানে?
জন একটু থতমত খেয়ে বললোহা, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
ততক্ষণে যুবতীটি জনের পাশে এসে তার কণ্ঠ বেষ্টন করে ধরেছে–ভালো আছো তো?
জন একটু হেসে বললো—আছি। তুমি?
আমিও ভাল। চলো।
গাড়ীতে উঠে বসলো ওরা দুজন।
জন নিজে ড্রাইভ করে চললো। এ্যানি বসলো তার পাশে।
জনের মুখ গম্ভীর, আপন মনে ড্রাইভ করছে সে।
মিস এ্যানি জনের কাঁধে মাথা রেখে আবেগভরা কণ্ঠে বললো–জন, এ দুবছরে তুমি যেন কেমন হয়ে গেছো?
সামনে দৃষ্টি রেখে বললো জন–কেমন হয়ে গেছি এ্যানি?
ঠিক যেমন ছিলে তার উল্টো।
মানে?
এরোড্রামে আমাকে দেখেও তুমি যেন চিনতেই পারছিলে না, আমি কথা বললাম তবে তুমি জবাব দিলে।
এ্যানি, আমি আজকাল চোখে একটু কম দেখি কিনা। তা ছাড়া চোখে কালো চশমা ছিলো, সন্ধ্যার ঝাপসা অন্ধকারে তোমাকে স্পষ্ট দেখতেই পাইনি।
চোখে কম দেখো! কোনো অসুখ বিসুখ হয়েছিলো নাকি তোমার?
হাঁ, মাঝখানে অসুখে অনেক ভুগেছি।
এখন কেমন দেখো?
বললাম তো কিছুটা কম, সেই কারণেই কালো চশমা পরি।
বড় দুঃখ হচ্ছে তোমার জন্য জন।
কিন্তু কি উপায় আছে বলো!
জন, তোমার স্বরও যেন কেমন পালটে গেছে, নতুন লাগছে তোমাকে।
অনেক দিন পর কিনা!
জন, সত্যি এ দুবছর আমি তোমাকে ছেড়ে কিভাবে যে কাটিয়েছি, শুধু আমিই জানি। সেই যে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে এলে মনে পড়ে সেদিনের কথা?
পড়ে।
সত্যে তোমার চিঠি পেয়ে আমি সেই দিনটির প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছিলাম। এবার দেখবো তোমার কথা কতখানি সত্য হয়।
আচ্ছা।
নাঃ আজ তুমি বড় স্বল্পভাষী হয়ে গেছো জন।
মিস এ্যানি…
মিস মিসকই তুমি তো এর আগে মিস বলে ডাকোনি কোনোদিন!
হাসলো মিঃ জন—মিস বলতে আমার ভাল লাগছে তাই।
মিঃ লুইয়ের বাড়ীর গেটে গাড়ী এসে থামলো।
দারোয়ান এসে গাড়ীর দরজা খুলে ধরলো, নেমে দাঁড়ালো এ্যানি, ততক্ষণে জনও নেমে দাঁড়িয়েছে।
এ্যানি সহ জন অন্তঃপুরে প্রবেশ করলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে একটা খামের আড়ালে সরে দাঁড়ালো একটি ছায়ামূর্তি।
এ্যানিকে তার বিশ্রামকক্ষে পৌঁছে দিয়ে জন, নিজের কক্ষে প্রবেশ করলো। হঠাৎ তার দৃষ্টি চলে গেলো পাশের দেয়ালে, থামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ছায়ামূর্তির ছায়া এসে পড়েছে সেই দেয়ালে। জনের মুখে ফুটে উঠলো একটা হাসির রেখা! নিজের কক্ষে প্রবেশ করে শয্যায় গা এলিয়ে দিলো সে।
অল্পক্ষণ পর বয় এসে জানালোস্যার, একজন ভদ্রলোক আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।
মিঃ জন উঠে পড়লো–চলো।
হলঘরে প্রবেশ করতেই মিঃ লাহিড়ীকে দেখতে পেলো জন। মনে মনে বিস্মিত হলেও মুখোভাব প্রসন্ন রেখে বললো–হঠাৎ আপনি?
দেখা করতে এলাম।
বসুন ইন্সপেক্টার।
মিঃ লাহিড়ী আসন গ্রহণ করলেন।
জনও আসন গ্রহণ করে বললোমিস মালতীর হত্যা রহস্যের কিছু উদ্ঘাটন করতে পেরেছেন কি?
এখনও কোন নতুন ক্লু আবিষ্কার হয়নি। আমি ঐ কারণেই আপনার নিকটে এলাম মিঃ জন।
বলুন?
আপনি বলেছিলেন, মালতী হত্যারহস্য উদ্ঘাটনে আপনি আমাদের যথাসাধ্য সহায়তা করবেন।
হাঁ ইন্সপেক্টার, আমি করবো।
আপনি সেই যে চলে এলেন, এ কদিনের মধ্যে আর একটি বারও আমার সঙ্গে দেখা করলেন না। একটু বাঁকা হাসি হাসলেন মিঃ লাহিড়ী।
জন গম্ভীর কণ্ঠে বললো—আপনার ওখানে না গেলেও আপনার সাক্ষালাভ আমার প্রায়ই ঘটেছে ইন্সপেক্টার আমরা উভয়ে উভয়কে দেখলেও কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি এই যা।
তার মানে?
মানে আপনি আমাকে দেখেছেন, আমি আপনাকে দেখেছি।
আপনার হেঁয়ালি ভরা কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না মিঃ জন?
গভীরভাবে চিন্তা করতে পারবেন। যাক, শুনুন ইন্সপেক্টার, আমি আপনার অফিসে গিয়ে দেখা না করলেও মালতী হত্যারহস্য উদঘাটনে অত্যন্ত আগ্রহশীল রয়েছি। একদিন মালতীকে সত্যি আমি গভীরভাবে ভালোবাসতাম….এবং সেই কারণেই আমি মালতীর হত্যাকারীকে আবিষ্কার করতে চাই।
এমন সময় এ্যানি সেই কক্ষে প্রবেশ করলো। হাতমুখ ধুয়ে নতুন ড্রেসে সজ্জিত হয়েছে এ্যানি, শুভ্র মোলায়েম পোশাকে তাকে খুব সুন্দর লাগছিলো।
এ্যানি ঘরে প্রবেশ করতেই মিঃ লাহিড়ী বিস্ময়ভরা চোখে তাকালেন তার দিকে।
জন একটু হেসে বললো-ইনি আমার ভাবী পত্নী মিস এ্যানি।
মিঃ লাহিড়ী একটু হাসবার চেষ্টা করলেন।
জন এবার এ্যানির নিকটে মিঃ লাহিড়ীর পরিচয় দিলো আর ইনি আমাদের পুলিশ ইন্সপেক্টার মিঃ লাহিড়ী। মিঃ বাসুদেব শর্মার কন্যা মিস মালতীর হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করার ব্যাপারে উনি আমার নিকটে এসেছেন।
এ্যানি অবাক হলো কথাটা শুনে, প্রশ্নভরা চোখে তাকালো জনের দিকে।
জন বললো-সব তোমাকে বলবো এ্যানি, কেমন?
আচ্ছা।
এখন তুমি ভেতরে যাও এ্যানি, ওনার সঙ্গে কথা শেষ করে আসছি।
মিঃ লাহিড়ী হেসে বললেন আপনি যেতে পারেন মিঃ জন, আজ আমার কথা শেষ হয়েছে।
ধন্যবাদ।
মিঃ লাহিড়ী উঠে দাঁড়ালেন, জন তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানালো।
মিঃ লাহিড়ী বিদায় হতেই এ্যানি জনের পাশে ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়ালো, জ্ব কুঞ্চিত করে বললো—মিস মালতীর হত্যারহস্য উদঘাটনে তোমার নিকটে তার কি দরকার জানতে পারি কি?
নিশ্চয়ই পারো এ্যানি। চলো বলছি সব।
চলো।
মিঃ জন আর এ্যানি গিয়ে বসলো পাশাপাশি দুটি সোফায়। এ্যানি প্রশ্ন করলোবলো মিস মালতী কে?
