ছিলাম। আমরা সকলে আপনার হিতৈষী এবং সহকারী। জনাব আহসান হাবীব নিহত হওয়ায় আমরা একটু ঘাবড়ে গিয়েছি…
ঘাবড়াবার কোনো কারণ নেই। একরাজ্যে দুই রাজা থাকতে পারে না। আমি আহসান হাবীবকে সরিয়ে দিয়েছি স্বহস্তে। কৌশলে, কেউ আজও জানে না…
সোলিহ লোর বলে উঠলো–আপনি দক্ষ আর নিখুঁতভাবে কাজ করেছেন। পুলিশবাহিনী খুঁজে ফিরলেও তারা আপনাকে সন্দেহ করবে না।
হাঁ, এ কথা সত্য বলেছো সোলিহ লোরী। আহসান হাবীবকে কৌশলে সারিয়েছি! অচিরেই সরাবো প্রখ্যাত ডিটেকটিভ মিঃ নূরুজ্জামান। তারপর আমি মরিয়া হয়ে লাগবো বনহুরের সন্ধানে। এবার জীবিত নয়, তার মৃতদেহ আমি মমি করে রাখবো আমার নিজস্ব মিউজিয়ামে।
কিন্তু সে সুযোগ আপনি পাবেন না মিঃ বি, কে চৌধুরী……মোরিও দু’হাতে দু’খানা পিস্তল বের করে উদ্যত করে ধরলো বি, কে চৌধুরীর বুকের দিকে।
কক্ষে যারা ছিলো সবাই হতভম্ব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লো। বোবা কালা বাকহীন মোরিও এমন সবাক হয়ে উঠলো কি করে! সকলেই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় তখন মোরিও ইংগিত করলো সোলিহ লোরীর দিকে।
সোলিহ লোরী বাঁশীতে ফুঁ দিলো।
সঙ্গে সঙ্গে সেই গোপন আড্ডাখানায় এক ঝাক পুলিশবাহিনী উদ্যত রাইফেল হাতে প্রবেশ করলো।
মোরিও গম্ভীর স্বরে বললো—-এই গুপ্ত আসরের একজনও যেন পালাতে না পারে। সবার হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দিন ইন্সপেক্টার মিঃ আহমদ। মিঃ বি, কে চৌধুরী তাকালেন সোলিহ লোরর দিকে, সুদীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ ইন্সপেক্টার মিঃ আহমদ সোলিহ লোরর অভিনয় করে এসেছেন তাহলে দু’চোখে তার বিস্ময়।
পুলিশমহল এক এক করে সবার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিচ্ছে।
মিঃ বি, কে, চৌধুরী দ্রুত ওদিকের দেয়ালের দিকে ছুটে দিয়ে যেমন একটা সুইচে হাত দিবেন ঠিক সেই মুহর্তে মোরিওর পিস্তল গর্জে উঠলো।
তীব্র আর্তনাদ করে মুখ থুবড়ে পড়লেন স্বনামধন্য জনদরদী নেতা মিঃ বি, কে, চৌধুরী তারই গুপ্ত আড়ডাখানার মেঝেতে। মোরিও গুলিটা ঠিক তার বক্ষভেদ করে দেয়ালে গিয়ে বিদ্ধ হয়েছে।
সোলিহ লোরর বেশী মিঃ আহমদ বললেন–মিঃ নূর, আপনার গুলীটি যদি আর এক সেকেন্ডে বিলম্ব করতো, তাহলে মিঃ বি, কে, চৌধুরী আবার অদৃশ্য হয়ে যেতো…
মোরিওবেশী নূর বললো—শুধু বি, কে, চৌধুরীই অদৃশ্য হতো না মিঃ আহমদ, আমাদের এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতো যেখানে কেউ আর আপনাকে আর আমাকে খুঁজে পেতো না আর সেই কারণেই আমি তার বুক লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছি।
ততক্ষণে মিঃ বি, কে, চৌধুরীর সঙ্গীদের সবার হাতে হাতকড়া পড়েছে।
একটিও পালাতে সক্ষম হলো না।
ফিরে তাকালো নূর মিঃ বি, কে চৌধুরীর দিকে, এই লোকটি সাধুতার মুখোস পরে শুধু দেশ ও দেশবাসীর সর্বনাশ করেনি, তার মাকে উধাও করেছিলো, তবে তার কথায় নূর মনে মনে আশ্বস্ত হয়েছে, তার স্বামীর পাশেই তিনি এখন আছেন।
মিঃ আহমদ মিঃ নূরের করমর্দন করে বললো—আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আপনি নিপুণতার সঙ্গে কাজ করে জয়ী হয়েছেন।
শান্তগম্ভীর স্বরে বললো নূর—ধন্যবাদ!
*
বনহুর আর রহমান ইঞ্জিন ক্যাবিনের মোটা শাশী দিয়ে তাকিয়ে আছে সামনে। গভীর সমুদ্রতলে তাকিয়ে দেখছে তারা, তাদের ডুবুজাহাজখানা ডুবন্ত পর্বতমালা অতিক্রম করে বেরিয়ে এসেছে। কোনো ভয়ংকর জীবের সন্ধান তারা পায়নি।
বনহুর নিজে জাহাজখানা করে সুকৌশলে ডুবন্ত পর্বতমালা অতিক্রম করেছে। সমস্ত দিন এবং রাত বনহুরকে ইঞ্জিন ক্যাবিনে অবস্থান করতে হয়েছে। এখন সামনে তেমন কোনো বাধা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বনহুর বললো–রহমান জানো, আমাদের জাহাজ এমন এক দ্বীপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যে দ্বীপ, যে দ্বীপে কোনোদিন কোনো জাহাজে গিয়ে পৌঁছতে পারিনি। সেই মাথুন দ্বীপের দিকে আমরা চলেছি। শুনেছি সে দ্বীপে কোনো মানুষ বা জীবজন্তুও নেই। শুধু সোনা আর সোনা ছড়িয়ে আছে।
হাঁ সর্দার, আমিও শুনেছি। বিস্ময়কর সে দ্বীপ। কেউ কোনোদিন সে দ্বীপে পৌঁছানো দূরের কথা, কোনো জাহাজ এদিক দিয়ে যেতে পারে না। সর্দার, একটা ভয়ংকর জলজীব বিরাট বিরাট জাহাজকে থাবা দিয়ে তলিয়ে দেয়। এবং চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলে।
কিন্তু আশ্চর্য এমন কোনো ভয়ংকর জীবের সন্ধান পেলাম না যে আমাদের জাহাজখানা চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলতে পারে। তবে হাঁ, কিছু জীবন ঝরে পড়ছে সেগুলোও কম ভয়ংকর নয়। সামুদ্রিক জীবগুলো ভয়ংকরই বটে। দেখলে না বিরাট আকার কচ্ছপটার চেহারা, তারপর ভীষণ আকার সর্পরাজ, এরাও কম ভয়ঙকর নয়। এ ছাড়াও অক্টোপাশগুলো আমাদের জাহাজখানাকে আক্রমণ করার জন্য কেমন করছিলো।
সর্দার, না জানি সে জীবটা তাহলে কত বড় এবং কত ভয়ংকর…
এমন সময় পেছনে এসে দাঁড়ালো মনিরা, বললো সে–কাল থেকে তুমি ইঞ্জিন ক্যাবিনে রয়েছে, কেন জন তো ভাল চালক?
হাঁ, জন ভাল চালক এ কথা সত্য, অভিজ্ঞও বটে।
বললো রহমান—–বৌরাণী, আপনি আছেন আমাদের জাহাজে তাই সর্দার কারও হাতে জাহাজ চালনার দায়িত্ব দিতে ইচ্ছুক নন, বিশেষ করে ডুবন্ত পর্বতমালা অতিক্রম করার সময় সর্দার নিজে অতি সাবধানতার সঙ্গে জাহাজ চালনা করে এসেছেন। বহু ডুবন্ত শৃঙ্গ ছিলো, যদি কোনো ক্রমে একটি ডুবন্ত শৃঙ্গের সঙ্গে আমাদের ডুবু জাহাজের তলা ঘর্ষণ লাগতে তাহলে সমূলে ধ্বংস হয়ে যেতে আমাদের ডুবু জাহাজখানা। এ কারণেই সর্দার নিজে…
