জানি স্যার। গুল্লি করেন।
তোমাকেও তো গুল্লি করব।
জি আচ্ছা, স্যার।
আরেকটা সিগারেট খাবে?
জি স্যার।
লেফটেনেন্ট সাহেব। আবারো সিগারেট দিলেন, আবারো নিজেই ধরিয়ে দিলেন। তিনি পাগলটাকে আমি মেসে নিয়ে যেতে বলেন। গাছের সঙ্গে বাধা থাকবে। সবাই মজা পাবে। পাগলটা ইংরেজি জানে। এটাও একটা ইন্টারেষ্টিং ব্যাপার।
What is your name?
My name is গৌরাঙ্গ।
What is the meaning of the name?
Fair Skin.
লেফটেনেন্ট সাহেব বললেন, বিলো, পাকিস্তান জিন্দাবাদ।
গৌরাঙ্গ লজ্জা লজ্জা গলায় বলল, জয় বাংলা।
এতেও লেফটেনেন্ট সাহেব খুব মজা পেলেন। গৌরাঙ্গকে আর্মি মেসে নিয়ে যাওয়া হলো।
ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল জামশেদ
৩৬ ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল জামশেদের খাস কামরায় জরুরি স্টাফ মিটিং বসেছে। উপস্থিত আছেন ৯৩ ব্রিগেডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার কাদির। ট্যাংকাবাহিনী প্ৰধান কর্নেল ফজলে হামিদ। বিমানবাহিনীর ঢাকা বেস কিমান্ডার এয়ার কমোডর এনাম আহমেদ। ব্রিগেডিয়ার কাসিম এবং ব্রিগেডিয়ার বশীর। নারায়ণগঞ্জ এলাকার দায়িত্বে নিযুক্ত ব্রিগেডিয়ার মনজ্বর শুধু আসেন নি। তিনি জেনারেল নিয়াজীকে নিয়ে আসবেন বলে জানিয়েছেন।
জরুরি স্টাফ মিটিং সকাল নটায় শুরু হবার কথা। এখন বাজছে দশটা এগারো, মিটিং শুরু হয় নি। কারণ জেনারেল নিয়াজী এসে পৌঁছান নি। তিনি জানিয়েছেন–পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ গুল হাসানের সঙ্গে তার অতি জরুরি কিছু কথা হবে। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে কথা হচ্ছে না। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার বশীর বললেন, আমরা নিজেরা কি আলোচনা শুরু করতে পারি না?
জেনারেল জামশেদ প্রশ্নের জবাব দিলেন না। তিনি তার সামনে রাখা টিপট থেকে চায়ের কাপে চা ঢাললেন। ছোট্ট একটা দুর্ঘটনা ঘটল। চায়ের কাপ উল্টে গেল। চা পড়ল। ধবধবে সাদা টেবিলে। গতি স্টাফ মিটিংয়ে একই ব্যাপার ঘটেছে। এর পেছনে কি কোনো ইঙ্গিত আছে? যুদ্ধকালীন সময়ে ছোটখাটো বিষয়েরও অর্থ খোঁজা হয়। লক্ষণ বিচার করা হয়। ডেজার্ট ফক্স ট্যাংক সেনাপতি জেনারেল রোমেলও অভিযান শুরুর আগে নানান লক্ষণ বিচার করতেন।
টেবিলক্লথে পড়া চা মুছে দেবার জন্যে জেনারেল জামশেদের এডিসি রুমাল নিয়ে এগিয়ে এলেন। জামশেদ তাকে হাতের ইশারায় চলে যেতে বললেন। টেবিলক্লথের চা ম্যাপের মতো তৈরি করছে। কে জানে এই ম্যাপেও হয়তো ইশারা আছে। ম্যাপটা দেখতে হয়েছে ইংল্যান্ডের ম্যাপের মতো।
বিগ্রেডিয়ার কাদির হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিরক্ত গলায় বললেন, আমরা কতক্ষণ অপেক্ষা করব?
জেনারেল জামশেদ টেবিলক্লথে তৈরি হওয়া ম্যাপ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ব্রিগেডিয়ার কান্দিরের দিকে তাকালেন।
কাদির বললেন, স্যার, আপনি কি জেনারেল নিয়াজীর সঙ্গে আরেকবার কথা বলে দেখবেন? আমরা আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব? আমাকে টঙ্গী যেতে হবে। সেখানে আমার ফিল্ড মিটিং আছে।
জেনারেল জামশেদ টেলিফোনের দিকে হাত বাড়ালেন। আর তখনি টেলিফোন বাজল। নিয়াজীর ফুর্তিমাখা গলা শোনা গেল— হ্যালো জামশেদ!
ইয়েস স্যার।
তোমরা মিটিং শুরু করে দাও। আমি আজ আর আসব না।
ঠিক আছে স্যার।
উপস্থিত সবাইকে তাদের অতি বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের জন্যে আমার অভিনন্দন জানাবে।
অবশ্যই জানাব।
তারা সবাই পাকিস্তানের নিবেদিত যোদ্ধা এবং পাকিস্তানের অহঙ্কার।
জি স্যার।
তোমার গলার স্বর বিষণ্ণ কেন? গতরাতে কি তুমি তোমার স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখেছ? স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখলে সৈনিক পুরুষদের মন বিষণ্ণ হয়। হা হা হা। হ্যালো জামশেদ।
ইয়েস স্যার।
মজার একটা জোক শোনো। এই জোকটা তুমি তোমার অফিসারদের সঙ্গে শেয়ার করতে পার। সবাই মজা পাবে। এক পাঞ্জাবি সুবাদার মেজর, নাম মিঠা খান। তার আসল যন্ত্রটার দৈর্ঘ্য ছিল এক ফুট। মন দিয়ে শোন, এক ফুট। সে তার এই বিশেষ যন্ত্র সুরক্ষিত রাখার জন্যে তার স্ত্রীকে একটা উলের মোজার মতো জিনিস বানাতে বলল। জামশেদ, শুনতে পাচ্ছ?
পাচ্ছি।
যন্ত্রটার দৈর্ঘ্য কত মনে আছে তো?
এক ফুট।
রাইট। তোমার স্মৃতিশক্তি অসাধারণ। যাই হোক, মূল গল্প শোনো। মিঠা খানের স্ত্রী উলের মোজার মতো জিনিস তৈরি করল। তারপর… হা হা হা।
জেনারেল জামশেদ ধৈর্য ধরে কুৎসিত রসিকতাটা শুনলেন।
ভদ্রতার হাসি হাসা উচিত। তার প্রয়োজন নেই। কারণ নিয়াজী নিজেই হোসে টেলিফোন ফাটিয়ে ফেলছেন। অন্য কারো হাসি শোনার প্রয়োজন তার নেই।
জামশেদ, রসিকতাটা কেমন?
ভালো রসিকতা।
এই লাইনের আরেকটা গল্প আছে। মডিফায়েড ভার্সন। তোমাকে আরেকদিন শোনাব। মনে করিয়ে দেবে।
জি। মনে করিয়ে দেব।
আমি যে আনন্দে আছি বুঝতে পারছ?
আপনি সবসময়ই আনন্দে থাকেন।
দ্যাটস রাইট। তবে আজ আনন্দিত হবার মতো ব্যাপার আছে। চাইনিজ আর কামিং।
সে তো অনেকদিন থেকেই শুনছি।
অনেকদিনর শোনা আর আজকের শোনা আলাদা। তারা ঝাঁকে ঝাঁকে নামবে।
নামলে তো ভালোই।
এক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটনা ঘটবে। ভালো কথা, চাইনিজদের নিয়ে একটা মজার রসিকতা আছে। শুনবে?
বলুন, শুনছি।
নিয়াজী চাইনিজদের নিয়ে রসিকতাটা শুরু করেও শেষ করতে পারলেন না। হেড কোয়ার্টার থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে লাইনে থাকতে হলো।
