না, যায়নি। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে এন্টাসিড-ফিড কিনে দিয়েছি–ছাগলটা বলেছিল এই সংখ্যায় যাবে।
পত্রিকা অফিসে যাবি?
হুঁ।
পত্রিকা অফিসে যাওয়া ঠিক হবে না। হৈ-চৈ হবে। লোক জানাজানি হবে। সন্ধ্যার পর চল বাসায় গিয়ে ধরি।
তুই যাবি?
অবশ্যই যাব।
জ্বর গায়ে যাবি?
শুয়ে শুয়ে জ্বরকে প্রশ্রয় দেয়ার কোন মানে হয় না। গ্রেট গনিকে একটা শিক্ষা দিতে হবে।
কিভাবে শিক্ষা দিবি?
সাজ্জাদ চোখ-মুখ উজ্জ্বল করে বলল, বড় এক বালতি গু ওর বারান্দায় ঢেলে রেখে আসব।
আতাহার তাকিয়ে রইল। মনে হচ্ছে জ্বর সাজ্জাদের মাথায় উঠে গেছে। আবোল— তাবোল বকছে। সাজ্জাদ অবশ্যি আবোল-তাবোল ব্যকার মানুষ না।
সাজ্জাদ আতাহারের দিকে খানিকটা ঝুঁকে এসে বলল, বিশ-পঁচিশ সের টাটকা ঘু ফেলতে পারলে আর দেখতে হবে না। জন্মের শিক্ষা হয়ে যাবে।
বিশ-পঁচিশ সের টাটকা গু তুই পাবি কোথায়?
পাওয়া যাবে। ঢাকায় মেথর পট্টি বলে একটা জায়গা আছে। সুইপার, মেথররা পরিবার নিয়ে থাকে। ওদের সাথে আমার ভাল খাতির। আমাকে পীরের মত জানে। ঠিকানা দিয়ে এলে ওরাই ব্যবস্থা করবে। প্রয়োজনবোধে প্রতি পনেরো দিন অন্তর অন্তর গু-চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। যেদিন সুবৰ্ণ বের হবে সেদিনই তিন বালতি গু।
আতাহার সাজ্জাদের গায়ে হাত রাখল। সে যা ভেবেছিল তাই–জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। যা বলছে জ্বরের ঘোরে বলছে। তাকে বরফ-পানিতে চুবিয়ে রাখা দরকার।
সাজ্জাদ বলল, জ্বর কেমন দেখলি? খুব বেশি?
হ্যাঁ।
আমারো তাই ধারণা–মাথার বল বিয়ারিং সব লুজ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে–মাথা ঘুরছে। সিগারেট ফেলে দে তো–সিগারেটের গন্ধ অসহ্য লাগছে।
আতাহার সিগারেট ফেলে দিল। সাজ্জাদ বলল, তুই নিজেও বিদেয় হ। তোকে দেখতেও অসহ্য লাগছে।
কুমার জন্য নাশত আনতে গেছে। নাশতা খেয়ে তারপর চলে যাব। এখন কিছু খাইনি।
নিচে গিয়ে নাশতা-ফাসত যা খাবার খা। নাশতার গন্ধে আমি বমি করে দেব।
তোর মাথায় মনে হয় পানি ঢালা দরকার।
কিচ্ছু ঢালার দরকার নেই। আমি চাচ্ছি জ্বরটা ভালমত উঠুক। জ্বরতপ্ত মাথায় একটা কবিতা লিখব। ইন্টারেস্টিং এক্সপেরিমেন্ট। নিজে অসুস্থ হলে–চারপাশের জগৎটাকেও অসুস্থ মনে হয়— সেই সময়ের সৃষ্টিও অসুস্থ হবার কথা। অসুস্থ কবিতা কেমন হয় দেখি।
আতাহার চিন্তিত মুখে উঠে দাঁড়াল। সাজ্জাদ চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়েছে। আত্যুহার বলল, ডাক্তার-টাক্তারের ব্যবস্থা করা দরকার না?
কোন কিছুরই ব্যবস্থা করতে হবে না। ও আচ্ছা, একটা কাজ করতে পারবি?
কি কাজ?
কণাকে চিড়িয়াখানা দেখিয়ে আনবি।
কণাটা কে?
খুবই সাদামাটা ধরনের মেয়ে–তবে অসাধারণ। সাদামাটা বলেই অসাধারণ। মেয়েটাকে আমি মোটেই গুরুত্ব দেইনি। কাল রাতে প্রচণ্ড জ্বর এল, তখনই শুধু মেয়েটার কথা মনে পড়তে লাগল। এখন জ্বর আসছে, এখন আবার তার কথা মনে পড়ছে।
কণা থাকে কোথায়?
থাকে কোথায় জানি না। খুঁজে বের করবি।
খুঁজে বের করব কি ভাবে?
ঋতু নামে একটা পেইনটিং-এর দোকান আছে। তার পাশে একটা বড় ফার্মেসী। কণার স্বামী সেই ফার্মেসীর সেলসম্যান।
ঋতু পেইন্টিং-এর দোকানটা কোথায়?
আমি জানি না কোথায়। খুঁজে বের কর। Use your brain.
খোঁজে বের করব কি ভাবে?
আরে, তুই তো গাধার মত কথা বলছিস। পাঁচ মিনিটে খুঁজে বের করা যায়।
কিভাবে?
যে কোন একটা পেইনটিং-এর দোকানে যাবি। এক দোকান অন্য দোকানের খোঁজ রাখে। ওদের বললেই ঋতু কোথায় বের হয়ে পড়বে।
কণার স্বামীর নাম কি?
কণার স্বামীর নাম জানি না। তার সম্পর্কে শুধু এইটুকু জানি–সে চিড়িয়াখানা পছন্দ করে না।
তোর নাম বললে চিনবে?
না–আমাকে চিনবে না। আমাকে চেনার দরকারও নেই–কনার চিড়িয়াখানা দেখার শখ। ওকে চিড়িয়াখানা দেখিয়ে আনবি। বিকলপ ট্যাক্সি ভাড়া করে নিয়ে যাবি।
আমার কাছে একটা টাকা আছে।
তুই তো দেখি ফকিরেরও অধম হয়ে গেছিস। নীতুর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে যা। হা করে তাকিয়ে আছিস কেন? আলজিব দেখা যাচ্ছে। মোটেই ইন্টারেস্টিং দৃশ্য না। মুখ বন্ধ করে চলে যা–গোট লস্ট।
আতাহার চিন্তিত মুখে নিচে নামল। সাজ্জাদকে নিয়ে চিন্তা, তারচেয়েও বেশি চিন্তা সিঁড়ির গোড়ায় হোসেন সাহেব বসে আছেন। ঘুমুচ্ছিলেন, এতক্ষণে নিশ্চয়ই ঘুম ভেঙেছে। তবে আজ দিনটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা। বুড়ো মানুষ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা দিনে একবার ঘুমিয়ে পড়লে সহজে জাগার কথা না। বিড়ালের মত নিঃশব্দে নেমে যেতে হবে। প্রয়োজনে হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হবে।
কে, আতাহার না?
জ্বি চাচা,
এ রকম পা টিপে টিপে নামছ কেন?
আপনি ঘুমুচ্ছিলেন–পায়ের শব্দে আবার ঘুম ভেঙে যায় কি-না।
ঘুমুচ্ছিলাম না। ঝিম ধরে পড়েছিলাম। কাল সারারাত বলতে গেলে অঘুমা কেটেছে।
কেন?
সাজ্জাদের জন্যে অপেক্ষা করতে করতে রাত এগারোটা বেজে গেল। সে ঘরে ফিরেছে। এগারোটা দশে। জ্বর নিয়ে ফিরেছে। এমন জ্বর যে শরীরে ধান রাখলে–ধান ফেটে খই বের হবে। বাথটাবে পানি দিয়ে–বরফ দিয়ে জ্বর কমাতে কমাতে তিনটা বেজে গেলো। কাল রাতে খুবই চিন্তায় পড়েছিলাম। গ্লোবাল এটমসফিয়ার চেঞ্জ হচ্ছে। নানান ধরনের নতুন নতুন ভাইরাসের জন্ম হচ্ছে। নিউ ভাইরাস, নিউ ডিজিজ। পত্রিকায় পড়েছ ফ্লেশ ইটিং ভাইরাসের কথা?
জ্বি না।
ভয়াবহ ধরনের ভাইরাস। সরাসরি মাংস খেয়ে ফেলে। ভবিষ্যতে আরো কত কি হবে! দাঁড়িয়ে আছ কেন বাবা–বোস।
