হ্যাঁ, তাই।
আপনার মনে ভয় ঢুকে গেছে যে, হয়তো—বা আপনাকে একা ফিরতে श्टद। एठाप्ले •ा? པ༣,
হ্যাঁ।
ভয় পাবেন না, খুবই সামান্য ব্যাপার।
ডাক্তার ডান হাতে জহিরের কৗধ স্পর্শ করলেন। জহিরের মনে যে ভয়-ভয় ভাব ছিল তা পুরোপুরি কেটে গেল। সে তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিল-সারারাত এখানে বসে মশার কামড় খাওয়ার কোনো মানে হয় না। হোটেলে ফিরে একটা শাওয়ার নেওয়া যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত অবশ্যি যাওয়া হল না। জহির রাতটা হাসপাতালেই কাটিয়ে দিল। চায়ের একটি হোটেলের খোঁজ ডাক্তার সাহেবই করে দিলেন। প্রচুর দুধ ও গরম মশলা দেয়া অদ্ভুত ধরনের চা। ঝাঁজাল খানিকটা তেতো ধরনের স্বাদ। খেতে ভালোই লাগে।
শাহানাকে দেখতে গেল। সকাল ন টায়। জ্বর কমে গেছে। তবে এক রাতেই কেমন রোগা লাগছে শাহানাকে। গালের হাড় বেরিয়ে গেছে। চোখের নিচে কালি। জহির বলল, কী অবস্থা? ャ
শাহানা হাসল।
এখন কি একটু ভালো লাগছে?
লাগছে।
একটু ভালো, না। অনেক ভালো?
অনেক ভালো।
তাহলে একটু হাস, আমি দেখি।
শাহানা হাসল। জহির পাশেই চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল, আমি সারা রাত হাসপাতালেই ছিলাম।
জানি।
কীভাবে জানলে? কেউ বলেছে?
না, কেউ বলে নি। আমার মনে হয়েছে।
এখন আমি চলে যাব, আবার বিকেলে আসব।
আচ্ছা।
তোমার জন্যে কিছু ভিউকার্ড নিয়ে এসেছি। শরীরটা যদি ভালো লাগে, তাহলে কার্ডগুলিতে নাম-ঠিকানা লিখে রেখ, বিকেলে আমি পোস্ট করে দেব।
আচ্ছা!
অসুখের কথা কিছু লেখার দরকার নেই। সবাই চিন্তা করবে। অবশ্যি অসুখ তেমন কিছু হয়ও নি। থ্রোট ইনফেকশন। ডাক্তার সাহেব বললেন, পরশুর মধ্যে রিলিজ করে দিতে পারবেন। পরশু পর্যন্ত একটু কষ্ট কর।
আমার কষ্ট হচ্ছে না।
তোমার এখান থেকে হিমালয় দেখা যায়। উঠে বসে জানালা দিয়ে তাকাও। হিমালয় দেখবো।
আমার হিমালয় দেখতে ইচ্ছা করছে না।
ইচ্ছা না করলেও দেখ। এস, তোমাকে হাত ধরে দাঁড় করাই-ঐ যে চূড়াটা দেখছি না, ওর নাম অন্নপূর্ণা। সুন্দর না?
হ্যাঁ, সুন্দর।
তুমি সুস্থ হয়ে উঠলেই তোমাকে পোখরা বলে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। আমার মতে পোখরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচে সুন্দর জায়গা।
শাহানা হাই তুলল। ক্লান্ত ভঙ্গিতে হাসল।
তোমার ঘুম পাচ্ছে শাহানা?
হ্যাঁ, পাচ্ছে।
তাহলে ঘুমাও। ইন্টারেস্টিং একটা অ্যাডভেঞ্চার হয়ে গেল। তাই না?
হ্যাঁ।
ঢাকায় গিয়ে গল্প করতে পারবে। তুমি ঘুমাও, আমি পাশে বসে আছি।
তোমাকে বসতে হবে না, তুমিও বিশ্রাম কর। রাত জেগে যা বিশ্ৰী দেখাচ্ছে তোমাকে।
খুব বিশ্ৰী?
হ্যাঁ, খুব বিশ্ৰী।
শাহানা মিষ্টি করে হাসল। হাসপাতালের ধবধবে সাদা বেড়ে কী সুন্দর লাগছে তাকে। মুখের উপর তেরছা করে রোদের আলো এসে পড়েছে। মনে হচ্ছে এটি স্বপ্নে দেখা একটি ছবি। বন্দী রাজকন্যা ওয়ে আছে। এক্ষুণি জেগে উঠবে।
সমস্তটা দিন জহির ঘুমিয়ে কাটাল। দুপুরে উঠে দুটি স্যাণ্ডউইচ মুখে দিয়ে আবার ঘুম। সেই ঘুম ভাঙল সন্ধ্যায়। তার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। বেচারি শাহানা। অপেক্ষা করে আছে নিশ্চয়ই। খুবই অন্যায় হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ঘুমিয়ে পড়াটা উচিত হয় নি। সন্ধ্যার পর এরা ফিমেল ওয়ার্ডে পুরুষদের যেতে দেয় না। নিয়মটি হয়ত বিদেশিদের জন্যে। কারণ কাল বেশ কিছু পুরুষদের ঢুকতে দেখেছে। এরা সবাই যে হাসপাতালের কর্মচারী, তাও মনে হয় নি!
গতকালের ডাক্তার ভদ্রলোককে পাওয়া গেলে একটা কিছু ব্যবস্থা নিশ্চয়ই হবে, কিন্তু কাল সেই ভদ্রলোকের নাম জানা হয় নি। আজ হয়তো তার ডিউটি নেই। পরপর দু রাত নাইট ডিউটি না-থাকারই কথা। আজ হয়তো আছে বদমেজাজী কোন ডাক্তার, যে কোনো কথাই বলবে না।
আগের ডাক্তারকেই পাওয়া গেল। তিনি রুগিণীর কাছে যাবার কোনো ব্যবস্থা করতে পারলেন না। কয়েক দিন আগে ফিমেল ওয়ার্ড নিয়ে লেখা নানান কেচ্ছা-কাহিনী কোনো এক কাগজে ছাপা হয়েছে, তারপর থেকে এই কড়াকড়ি। ডাক্তার সাহেব বললেন, আপনি বসুন, আমি খবর এনে দিচ্ছি। তবে আপনার স্ত্রী বেশ সুস্থ, এইটুকু বলতে পারি। আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। আপনি বসুন। আমি আসছি।
ভদ্রলোক মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ফিরে এলেন। হাসিমুখে বললেন, কাল সন্ধ্যায় আপনার স্ত্রীকে রিলিজ করে দেওয়া যেতে পারে। জ্বর রেমিশন হয়েছে।
থ্যাংক ইউ।
এই ভিউকার্ডগুলি তিনি দিলেন। আপনাকে পোস্ট করতে বলেছেন।
চারটা ভিউকার্ড। প্রতিটিতেই কয়েক লাইনের চিঠি। নীলুর জন্যে একটি, শারমিনের জন্যে একটি। বাবা ও মার জন্যে একটি এবং চতুর্থটি আনিসের জন্যে। জহির বিস্মিত হয়ে আনিসের ভিউকার্ডের দিকে তাকিয়ে রইল। সেখানে গোটা গোটা হরফে লেখা—আনিস ভাই, আমার খুব অসুখ করেছে।
লম্বা একটা মানুষ
লম্বা একটা মানুষ বসার ঘরে।
কেমন অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে আছে। গায়ে হলুদ রঙের চাদর। কাঁধে একটা শান্তিনিকেতনী ব্যাগ। লোকটা বসে আছে মূর্তির মতো। যেন সে আসলেই একটা মূর্তি, মানুষ নয়।
টুনি অনেকক্ষণ ধরেই লোকটিকে দেখছে। এক বার তার চোখের উপর চোখ পড়ল। তবু লোকটা নড়ল না। টুনি সাহসে ভর করে বলল, আপনি কে?
লোকটি হেসে ফেলল। হাত ইশারা করে কাছে ডাকল। টুনি পর্দার আড়াল থেকে বেরুল না। তার কেমন যেন ভয়-ভয় লাগছে। লোকটি বলল, তোমার নাম টুনি?
হ্যাঁ। আপনার নাম কী? আমার নাম সোভাহান। তোমাদের বাসায় বাবলু থাকে?
