না, না, ঠিক আছে, আচ্ছা, আমি যাচ্ছি, নমস্কার।
হ্যাঁ, নমস্কার।
এইবার এম-এল-এ সোজা তাকিয়ে বলে, শুনেন, আমাদের সরকারের আমলে অন্তত আধিয়ার-রেকর্ডটা করে ফেলার জন্য এই সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা। জলপাইগুড়িতে তিস্তা ব্যারেজের জন্যে এই এলাকার সেটেলমেন্ট অত্যন্ত দরকার। এখন আধিয়ার মানে যে আধিয়ারই, তা ত নাও হতে পারে। কিন্তু চাষটা কে করে সেইটা রেকর্ড হওয়া দরকার। সেটা অনুমতি দং-এও যদি হয়, তোক। কিন্তু হোক। কিন্তু এই সব নিয়ে নানারকম গোলমাল ধাবার চেষ্টা হচ্ছে। এখন আমাদের মধ্যে যদি গোলমাল থাকে, মারামারি থাকে সে-সব পরে মীমাংসা করা যাবে। এখন আপনারা গোলমাল করবেন না। কী রাধাবল্লভদা।
রাধাবল্লভ হেসে, চোখ বুজে, ঘাড় কাত করে থাকে। তারপর বলে, কথাটা হচ্ছে, আপনি আসছেন এ ত আমাদের সৌভাগ্যের কথা। কিন্তু আপনি ত থাকিতে পারিবেন না। একদিন আসেন আমাদের এইখানে, বসি আমাদের সব সমস্যা শুনেন, মীমাংসা করি দেন, তা হলি আর মারামারি হবে না।
হ্যাঁ। সে একদিন তাহলে, আপনাদের সুবিধেমত একদিন, যখন আমাদের সেসন বন্ধ, ঠিক করে বসলেই হবে।
আমাদের ত রোজই সুবিধা। আপনি সময়সুযোগ করি আসিবেন, আগে খবরদিবেন আর একদিন পুরা দিন পুরা রাত থাকিবেন। আসিলেন আর গেলেন এ্যানং নয়।
আচ্ছা, আচ্ছা, সে হবে, আমি জানাব চেয়ারের মাথা থেকে এম-এল-এ হাতটা তোলেন, কী ফাগু, তাহলে আমাকে ত আজ আবার ফুলবাড়ি যেতে হবে। গয়ানাথ পাশ থেকে সরে নেমে যায়।
উত ঠিকো বাত খে, সব করনে হোগা, ফাগু মাথা নাড়ে।
কিন্তু কথাটা হচ্ছে আপনার বোধহয় আর-একটা বিষয় একটু জানা ভাল, রাধাবল্লভ বলে।
হ্যাঁ, হ্যাঁ, বলেন, বলেন, এম-এল-এ এক পা এগিয়ে আসে।
কথাটা হচ্ছে বাগানের, চা বাগানের, কোম্পানি কোন অফিসার রাখবে, তার কী কাজ হবে, সেই সব ত আমাদের বিবেচনার বিষয় নয় কিন্তু একটা কথা আপনি কোম্পানির সঙ্গে করিবেন যে, কী যেন, এস্টেট অফিসারের কাম কী ইউনিয়ন করা?
বীরেনবাবু সামনেই ছিলেন, এম-এল-এর পাশে। তিনি হঠাৎ চাপা গলায় বলে ওঠেন, হাইলি অবজেকশনেবল। ফাগু
ফাগু ব্যাপারটা ধরতে পারে না। সে মাথাটা নাড়ায়। এম-এল-এ গলাটা একটু বাড়িয়ে অন্য গলার স্বরকে চাপা দিয়ে বলেন, সেটা ত রাধাবল্লভদা ইউনিয়নই বুঝবে, আপনি-আমি ত আর বলতে পারি না। কিন্তু এর ফলে যদি আমাদের ক্ষতি হয়, তা হলে ইউনিয়নের সঙ্গে বসতে হবে। আপনারা নিজেদের মধ্যে বসতে পারেন। আবার, আমি যেদিন আসব সেদিনও এই নিয়ে কথা বলা যাবে। কেমন? একটু থেমে তিনি যোগ করেন, কিন্তু আজ ত আর আমি থাকতে পারছি না, এখন রওনা হলেও ফুলবাড়ি পৌঁছতে বিকেল হয়ে যাবে। হ্যাঁ, হ্যাঁ, আর লেট করা ঠিক না রাধাবল্লভের কথাটা আসলে সমষ্টিমতেরই প্রকাশ, এখানকার অভিজ্ঞতায় যা নিয়ে কোনো মতপার্থক্য থাকতেই পারে না।
.
০৪০.
বাঘারুর জিপারোহণ
অনেকেই এম-এল-এ-কে এগিয়ে দিতে আসে। রাধাবল্লভ মোটা আলটায় নামে, সঙ্গে ভগত। হৃষীকেশ মোটা আলেই দাঁড়িয়ে পড়ে, রাধাবল্লভের সঙ্গে আর এগয় না। ফাগু এম-এল-এর পাশাপাশিই চলে। বীরেনবাবু একটু পেছনে। ফাগু বোঝাচ্ছিল, আপ কুচ শোচথে মাত। ই ত হামরা ঘরকা মামলা, ঘরমে ফয়শালা হোনা, কিয়া রাধা দাদা?
রাধাবল্লভ পেছন থেকে বলে, তুমি ত সবই বেশ বুঝমানের মত বলল সেই হল বিপদ, যে যাই বোঝায় তাইই বোঝো। শুনে এম-এল-এ ঘাড় ঘুরিয়ে রাধাবল্লভের দিকে তাকিয়ে হাসে।
ফাগু মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলে, ই ত ঠিক বাত।
এম-এল-এ তখন ফাগুর বাহুটা চেপে ধরে বলে, এই ফাগু কমরেড, শুনো। সব বাতই ত ঠিক বাত। লেকিন তোমাকে এইটা ভাবতে হবে, তোমার পার্টির পক্ষে কোন বাতটা ঠিক। সেইটা হচ্ছে সবার বড় ঠিক বাত।
হাঁ জরুর, ফাগু মাথা হেলায়। এম-এল-এ সহ সবাই একসঙ্গে হেসে ওঠে।
না। শুনো। এই যে আজ যদি আমাদের পার্টির মধ্যেই একটা দাঙ্গা হত, মারামারি-খুনাখুনি হত, পুলিশ আসত, কাগজে খবর ছাপা হত–সেটা ত আমার সরকারের বদনাম হত—
জরুর। লেকিন ঐ রিশিকো মাথা গরমাগরম্। উ কাহাসে লাঠি লেকে জিন্দাবাদ দেকে, আরে বাবা, বলে ফাগু হেসে নিতে কথা থামায়।
হ্যাঁ। নিশ্চয় রিশিকেশের দোষ। রিশিকেশ–এম-এল-এ পেছন ফিরে দেখে হৃষীকেশ নেই। রাধাবল্লভ হাসে, আর বলেন,কেন, একদিকে রিশিকেশ, সব কিছুতেই লাঠি, আর-একদিকে আমাদের ফাগু, সব কিছুতেই ঠিক বাত–এদের যে যায় বুঝায়, তাই বুঝে, রাধাবল্লভ বীরেনবাবুর দিকে তাকায়। এম-এল-এ চোখ সরিয়ে নেয়, যেন, এই ইঙ্গিতটা সে বুঝতে চায় না।
ওরা হাতির রাস্তায় উঠেছিল। রাধাবল্লভরা দাঁড়িয়ে পড়ে–আমরা আর আগাই না–তাহালি আপনি ত আসিবেন, তখনই সব কথা।
হ্যাঁ, হ্যাঁ ঠিক আছে, আপনারা যান। একটু মাথা ঠাণ্ডা করে চালাবেন। আমি আসার আগে চিঠি দিব।
আপনি কি একা-একা যাবেন নাকি ফরেস্ট দিয়া? পেছন থেকেই রাধাবল্লভ জিজ্ঞাসা করে। এম-এল-এ না ঘুরে হাত তুলে বলে, না না সে যাবে কেউ-ফাগুর বাহু এম-এল-এর হাতে ধরাই ছিল। ফলে, মনে হয় যেন এম-এল-এ চায়ই সে তার সঙ্গে আরো কিছুটা চলুক। হাত না-ছাড়লে আর গিয়ে থাকে কী করে? বীরেনবাবু একটু পেছন-পেছনই আসছিলেন। কিন্তু রাধাবল্লভরা চলে যাওয়ার পর, মনে হচ্ছে, তিনি এই দলের সঙ্গে যাচ্ছেন।
