উত্তরখণ্ড সম্মিলনের জন্যেই এরকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে তা নয়। বরং সম্মিলনটাই নতুন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতি বছরই কোথাও-না-কোথাও হয় পুজোর পর, এ-রকম সময়ে। অনকে বছর ধরে হতে-হতে ওটার একটা সংযোগ ব্যবস্থাও তৈরি হয়ে গেছে। আসাম থেকে ফিরতি পথে ডুয়ার্সের নানা জায়গায় শিল্পীদের পক্ষ থেকে বা কোম্পানীর পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের কাছে লোকজন আসা-যাওয়া শুরু করে। ডুয়ার্সের কোথাও বা শিলিগুড়ি শহরে এরকম অনুষ্ঠান হয়। যারা অনুষ্ঠান করায় তারা ব্যবসার ভিত্তিতেই করে। ফলে কাছাকাছি দুটো অনুষ্ঠান হয় না বা একই জায়গায় পর-পর, দুবছর হয় না। যেখানেই হোক, বড় আর্টিস্ট থাকলে আসাম-বিহার থেকেও লোকজন আসে। উত্তরখণ্ডের ফাংশনে শ্রীদেবীর প্রোগ্রামের দিন ত এসব জায়গা থেকে প্রচুর লোক আসবে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরখণ্ড সম্মিলন এই বছরই প্রথম হচ্ছে অথচ এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামই হয়ে গেছে উত্তরখণ্ড ফাংশন। তেরজন মিলে শেয়ার কিনে ফাংশন করছে তাদের সঙ্গে সম্মিলনের সরাসরি যোগ নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পোস্টার লাগানো হয়েছে উত্তরবঙ্গের সর্বত্র দার্জিলিং থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত, এমনকি কিছু-কিছু পোস্টার বহরমপুর পর্যন্তও। শিলিগুড়ি-কোচবিহার-ডুয়ার্স পোস্টারে-ফেস্টুনে ছেয়ে দেয়া হয়েছে। যে বাসগুলো তিস্তা ব্রিজ পার হয়ে আসাম যায়, তার পেছনে পোস্টার ত আছেই, তা ছাড়াও বঙ্গাইগাও, চুটিয়াপাড়া, পাণ্ডু ও গৌহাটিতে ফেস্টুনও ঝুলছে। আবার আসাম থেকে কিষনগঞ্জ হয়ে পূর্ণিয়ার দিকে যে-সব ট্রাক যাতায়াত করে সেগুলোতেও পোস্টার সঁটা। কিন্তু ট্রাকে পোস্টার থাকে না, ছিঁড়ে যায়। তাই কলকাতা থেকে কিছু প্লাস্টিক শিট ছাপিয়ে এনে ট্রাকের সামনের কাঁচে লাগানো হয়েছে। কিষনগঞ্জ-ডালখোলার রিক্সার পেছনেও পোস্টার। কথা আছে, ফাংশনের দু-একদিন আগে ময়নাগুড়ি আর জলপাইগুড়ির রিক্সাওয়ালাদের গেঞ্জি দেয়া হবে–শ্রীদেবীর ছবি ছাপিয়ে।
সেই আসাম, বিহার, পাহাড়, ডুয়ার্স জুড়ে এত প্রচার–আসামি, হিন্দি, নেপালি ভাষায়। পাণ্ডুতে একটা বাংলা ফেস্টুনও লাগানো হয়েছিল–পরীক্ষার জন্যে। কেউ ঘেঁড়ে নি দেখে আরো কয়েকটা ঝোলানো হয় রেলওয়ে কলোনির ভেতরে। কিষনগঞ্জে হিন্দি পোস্টার ও ফেস্টুন। ডালখোলার মোড়ে হিন্দি বাংলা দুই পোস্টারই আছে, ডুয়ার্সেও তাই।
ডালখোলার মোড়ে তিনটি দোকানে, কিষনগঞ্জের ছটি দোকানে, পাণ্ডুতে একটি দোকানে, বঙ্গাইগাঁওয়ের হুইলারে, চুটিয়াপাড়ার সিনেমা হলে, গৌহাটির তিনটি দোকানের, আলিপুর দুয়ারের, একটি মিষ্টির দোকানে ও আলিপুর দুয়ার জংশনে একটি অফিসে, দার্জিলিঙের একটি অফিসে ও দুটি দোকানে, কার্শিয়াঙের ট্যাক্সিস্ট্যাণ্ডে, শিলিগুড়িতে এয়ারভিউ হোটেলের মোড়ে ছাতার নীচে, জলপাইগুড়িতে নিরালা হোটেলে, পূর্ণিয়ায় এক ডাক্তারখানায়, কোচবিহারে একজন একাই কন্ট্রাক্ট নিয়েছে, ডুয়ার্সের নানাজায়গায় টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু অনুষ্ঠানের পাঁচ দিন আগে বাইরের এই সব টিকিট বিক্রির জায়গা থেকে টিকিট ফেরৎ নিয়ে এসে শুধু কয়েকটা নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বিক্রি করা হবে। লক্ষ-লক্ষ টাকা খাটানো হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। সে-টাকা তুলে তার ওপর লাভ করতে হবে। এক ও একমাত্র উপায় টিকিট বিক্রি করা। উদ্যোক্তারা তাই প্রচারের ওপর যেমন জোর দিয়েছে, তেমনি জোর দিয়েছে টিকিট সব জায়গায় ছড়িয়ে দেয়ার ওপর। টিকিটের জন্যে কেউ অনুষ্ঠানে আসতে পারল না–এটা যেন না হয়। যদিও ছদিন ধরে অনুষ্ঠান ও ছদিনের টিকিটই যারা নিচ্ছে তাদের পাঁচ দিনের দাম দিতে হচ্ছে, কিন্তু সব ব্যবস্থাই শেষ দিনে শ্রীদেবীর অনুষ্ঠানের জন্যে। শ্রীদেবীর নাচ দেখতে কত লোক যে আসবে তার হিশেব করাও মুশকিল! এই শেষ দিনের অনুষ্ঠানের টানেই অন্য দিনের টিকিটগুলি এমন বিক্রি হয়ে যাচ্ছে! শ্রীদেবীর অনুষ্ঠান আসাম-বিহার-ডুয়ার্স থেকে লোক যদি আসে তা হলে লাভ বেশ ভাল হবে।
দূর থেকে যারা আসবে তারা নিজেরাই ট্রাকবাস ভাড়া করে আসবে। এমন-কি চা বাগান থেকেও যারা আসে, তারা চা বাগানের ট্রাকেই আসে। কিন্তু পাশাপাশি ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকা থেকে অনুষ্ঠানের নিয়মিত দর্শকরা আসবে–এটা আশা করা যায়। তাদেরও অনেকেই গরুর গাড়িতে আসে বটে কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষে কতকগুলি রাস্তায় কিছুদূর পর্যন্ত অনন্ত দুটি-একটি বাস যাওয়ার আশ্বাস থাকলে অনেকেই ভরসা পায়। সেই জন্যে প্রাইভেট বাস বা হাট বাসের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
এই অনুষ্ঠানে আসার জন্যে আসামে, বিহারে, দার্জিলিঙে, তরাইয়ে নানা রকম ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। অনেকে শুধু শ্রীদেবীর অনুষ্ঠান দেখাবার জন্যে ডিলাক্স বাসে যত জনকে আনা সম্ভব তত জনের টিকিট কেটে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে বাস ভাড়া ইত্যাদি মিলিয়ে একটা রেটে বিক্রি করছে। বাসওয়ালাদের মধ্যে ডিলাক্স বাস, অর্ডিনারি বাস যেমন আছে, তেমনি ডি-লাক্সের মধ্যে ভিডিও বাস আলাদা। তারা যাওয়ার সময় ও ফেরার সময় ভিডিওতে শ্রীদেবীর ফিল্ম দেখাবে। দুরত্বের ওপর নির্ভর করে, কোনো-কোনো বাসে একটা বড় খাওয়া, দুটো ছোট খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। কোনো-কোনো বাসে খাওয়া-দাওয়ার কোনো ব্যবস্থাই নেই। আবার অনেকে নিজেরাই বাসট্রাক ভাড়া করে আসছে।
