• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 30, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

Tistaparer Britanto by Dabesh Roy

তেমন একটু দেখেই গয়ানাথ ডাকে, হে-এ বাঘারু, দ্যাখত জল বাড়ি গেইছে কি না। বাঘারু তখন পাড় থেকে ঝপ করে নতুন সোঁতায় লাফিয়ে পড়ে। জল মাপবার জন্যে সেখানে বাঘারু একটা ডাল পুঁতে রেখেছে। জলের ভেতর ঝাঁপিয়ে পড়ার আওয়াজ উঠলে আসিন্দির একটু ঘুরে টর্চটা জ্বালায়। টর্চের আলোপথ জুড়ে দেয়ালির পোকার মত বৃষ্টির ছাট। বাতাসে সেই আলোময় বৃষ্টি তোলপাড় হয়–টর্চের ঐটুকু আলো জুড়েও। বাঘারু নিচু হয়ে দেখে তার আগের বারের দাগ জল ছাড়াল কি না? সে জন্যে জলের কিছু স্থিরতা ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়-জলের যে সামান্য তোলপাড় সে কি নতুন স্রোতের ঘায়ে নাকি বাঘারু লাফিয়ে পড়ায়? আসিন্দির একবার নিবিয়ে আবার আলো জ্বালে। বাঘারু সেই আলোর মধ্যে নিজের ঘাড়টা পেতে দিয়ে নিচু হয়ে দেখে বলে, নাই রো। তারপর দাঁড়িয়ে থাকে। আলো নিবে যায়। বাঘারু একটা অর্জুন গাছের শেকড় ধরে উঠে আসে।

গয়ানাথ আর আসিন্দির অপেক্ষা করে আছে এই অর্জুন গাছটা কখন পড়বে। কিন্তু অর্জুন গাছটার গোড়ার মাটি প্রায় অর্ধেক ক্ষয়ে গেলেও গাছটা সোজা হয়েই দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে একবার গয়ানাথ বাঘারুকে দিয়ে গাছটা ঠেলিয়েও ছিল। বাঘারু জানে এখানে স্রোতটা যত জোরে লাগছে তাতে অর্জুন গাছটা কোনোদিনই হয়ত পড়বে না। ওর শেকড় ওদিকে অনেকখানি ছড়িয়ে আছে। এখানে স্রোতের টানের জোর এত কিছু নয় যে সেই শেকড় খেয়ে নিতে পারে। বরং উল্টনো এই অর্জুন গাছটার জন্যেই হয়ত স্রোতটা এখানে ঠেকে থাকবে, বা, ডাইনে বেঁকবে নরম মাটি খেয়ে।

আসিন্দির বলে ওঠে, আর দেরি করিবার কাম নাই, ভাসি দেন, বাপই, ভাসি দেন। গয়ানাথ আবার সেই জলের বাকের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেও বলে ওঠে, তা হয় ত দে কেনে, ভাসি দে, বাঘারুক বল, কুড়ালিয়াখান নিয়া আয়।

আসিন্দির, বাঘারুকে ডাকে না। ঘুরে, টর্চটা আর-একবার জ্বালিয়ে বাঘারুর দিকে যায়। তার পরনে। লুঙি, পায়ে গামবুট। একটু গিয়েই তার চোখে কেমন ধাঁধা লাগে। কিন্তু চোখের সেই ধাঁধা দূর করতে টর্চ না জ্বেলে সে গাছ-মোচড়ানো বাতাসে অন্ধকারে ডেকে ওঠে, হে-এ বাঘারু, খানিকটা চমকে ডেকে ওঠার মত। বাঘারু আসিন্দিরের ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলার ঘনিষ্ঠতায় কথা বলে ওঠে, কন কেনে। তখন আসিন্দির টর্চ জ্বালায়। টর্চ জ্বালিয়ে বাঘারুকে আপাদমস্তক একবার আলোকিত করে। সেই প্রক্রিয়ায় বাতাসে গাছগাছড়ার পাক খেয়ে যাওয়া ও ভেজা জঙ্গলও চকিতে দেখা যায়। আসিন্দির তিস্তার দিকে টর্চ মেরে তার শ্বশুরকেও দেখে নেয়। মাত্র এই কয়েক পা এসেই তার মনে হল হারিয়ে যাচ্ছে–হাতে একটা পাঁচ ব্যাটারির টর্চ থাকতেও? বাঘারুকে নিশ্চিত ভাবে দেখে নিয়ে সে বলে, কুড়ালিগা নিয়া যা, বুড়া ডাকিছে।

অন্ধকারে বাঘারু দু পা গিয়ে অভ্রান্ত হাত মেলে এক গাছের কাণ্ডে বিধিয়ে রাখা কুড়ালটি এক ঝটকায় তুলে নেয়। ঝপ করে ঝোপের মধ্যে কিছু পড়ে যায়। বাঘারু ভুলে গিয়েছিল কুড়ালের সঙ্গে নাইলনের দড়ির দুটো বাণ্ডিল ঝোলানো ছিল। সেটা ঝোপ থেকে তুলে সে গয়ানাথের দিকে যায়। গয়ানাথ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে। আসিন্দির একটু ভেতরে। কুড়োল হাতে গয়ানাথের দিকে বাঘারুর হটাটা দেখে আসিন্দির একটু ভয় পেয়ে ওঠে–আবার। সে তার নাইলনের জামার বুক পকেট থেকে সিগারেট আর লাইটার বের করে।

গয়ানাথ টের পায় না বাঘারু পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। সে তখনো স্রোতের সেই বাকের দিকে কিয়ে। বাঘারু ডাকে দেউনিয়া।

অ্যাঁ? আসিছিস? নে, ভাসি দে, ভাসি দে।

বাঘারু নদীর পাড়ে দাঁড়ায়। তারপর, জেলেরা জাল ফেলার সময় জালটা মাথার ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে জলে ফেলার আগের মুহূর্তে হাঁটুটা যেমন সামান্য ভেঙে দেয়, বাঘারু সেরকম ভঙ্গিতে নদীর দিকে তাকায়। নদীর বিস্তারের দিকে নয়, যে-নদীটা এখন বন্যাবাহিনী তিস্তা সেই নিশীথ জলরাশির দিকে নয়, বাঘারু তাকিয়ে থাকে ঠিক তার পায়ের তলার জলগুলোর দিকে, যেন ঐ জল, নেহাৎই বাঘারুর শোল-মাগুর জিয়নো ডোবার জল, তার সঙ্গে ঐ জলরাশির প্রবলতার যেন কোনো সম্পর্কই নেই, বা, থাকলেও তাতে বাঘারুর কিছু যায়-আসে না।

.

১২১. বাঘারুর বৃক্ষকর্তন

বাঘারু ডান দিকে ঘুরে পাড় দিয়ে জঙ্গলের আরো ভেতরে চলে যায়। সেখানে একটা মাঝারি সাইজের শালগাছ জলের মধ্যে পড়ে গেছে কিন্তু তার শেকড়টা এখনো মাটিতে। বাঘারু বা হাত দিয়ে কুড়ালটা তার নেংটির পেছনে খুঁজে নেয় কুড়ালের কাঠটা তার মেরুদণ্ডে বাঁজের সঙ্গে মিশে যায় আর কুড়ালটা একটু আলগা হয়ে থাকে। নাইলনের দড়ির বাণ্ডিলটার মাঝখানের ফাঁক দিয়ে হাত গলিয়ে সে বাণ্ডিলটাকে বা কাঁধে তুলে নেয়; কাঁধে পুরোটা ওঠে না, বাহুতে ঝুলে থাকে। তারপর সে শালগাছটার উৎপাটিত শেকড়টা ধরে টেনে একবার আন্দাজ নিয়ে গাছটার কাণ্ডে পা দেয়–সেই কাণ্ডের নীচেই তিস্তার জল। বাঘারু ব-পাটা কাণ্ডের ওপর দেয় কিন্তু ডান পা-টা মাটি থেকে তুলতে গিয়ে বোঝে শরীরের পুরো ওজনটা এক ধাক্কায় সে বাঁ-পায়ের ওপর নাও তুলতে পারে। সে বা-পাটা নামিয়ে নেয়। শেকড়টা ছেড়ে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এবার সে ঘুরে গাছটার উল্টো দিকে যায়। বা হাতে তাকে ঐ একই শেকড় ধরতে হয়। এবার ডান পা-টা কাণ্ডের ওপর তুলতেই বাঘারু বুঝে ফেলে নদীর ভেতর পড়ে থাকা গাছটির অবস্থান ও তার লাফিয়ে উঠে ডালপালার কাছে চলে যাওয়ার মধ্যে একটা সঙ্গতি এসে গেল। এটা প্রথমে বুঝে তারপর যে বাঘারু ডান পায়ের ওপর শরীরের ভর দিয়ে নদীর ভেতর সঁকোর মত ঐ গাছটাতে ওঠে, তা নয়! সে বা হাতের মুঠোতে শেকড় ধরে ডান পা-টা কাণ্ডটির ওপর নিয়ে একবার মাত্র পায়ে একটা ঝোঁক দিয়েছে, তারপরেই গাছটা বেয়ে উঠেই সে ডান হাতে তলার ডালটা ধরে ফেলে, শেকড় থেকে বা-মুঠোটা খুলে শূন্যের ওপর দিয়ে হাতটাকে নিয়ে এসে তলার আরো একটা ডাল ধরে ফেলে। ঐ কয়েকটি সেকেণ্ডে বাঘারু জলের ওপর দিয়েই যেনে হেঁটে গেল চিলের ডানার মত তার দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে। সেই তলার ডালদুটোর কাছে পৌঁছেই বাঘারু দু দিকে দু পা দিয়ে গাছটার মধ্যে বসে পড়ে। নাইলনের বাণ্ডিল দুটো বেঁধে একটা বাণ্ডিল করা আছে। সে বাণ্ডিলটা বের করে না, কিন্তু তার মাথাটা যেখানে গেঁজা ছিল সেখানে একটা ঝটকা দিয়ে মাথাটা বের করে এনে গাছটার তলার ঐ ডাল দুটোর ফেঁকড়ির ভেতর দিয়ে দড়িটা চালিয়ে দেয়। বাঘারু কাণ্ডটাকে পেঁচিয়ে দু দিকের দুই ডালের ফেঁকড়ির ভেতর দিয়ে ৪-এর মত এক গিট দিয়ে ফেলে। দড়িটা কাটবার জন্যে বা হাতটা ঘুরিয়ে কুড়োলটায় হাত দিয়েও সে হাত সরিয়ে আনে। তারপর তার শরীরটাকে লম্বা করে সে গাছটার ডালপালার আরো ভেতরে মাথাটা নিয়ে যায়। পাতার ভেতর দু-হাতের দশটা আঙুল চালিয়ে আর-একটা ডাল খুঁজে বের করে কিন্তু সেটাতেও গিট দিতে গিয়ে দেখে সে ত মাথাটাকে আগের গিঠেই বেঁধে দিয়েছে। বাঘারু তখন বা বাহু থেকে বাণ্ডিলটাকে গড়িয়ে হাতের আঙুলে আনবার জন্যে ওখানে শুয়ে-শুয়ে বা হাতটা আস্তে-আস্তে ঝোলায়, কব্জিটা বেঁকিয়ে রেখে, যাতে বাণ্ডিলটা ঝপ করে জলে পড়ে না যায়। কব্জির কাছে বাণ্ডিলটা এসে গেলে বাঘারু হাতটাকে নাচিয়ে বাণ্ডিলটাকে আঙুলে নিয়ে আসে, এইবার বাণ্ডিলটাকে গাছটার তলা দিয়ে হাতে চালান করে আবার ওপর দিয়ে বা হাতে নিয়ে আসে। পেঁচানো হয়ে গেছে, এবার গিট দিতে হবে। কিন্তু পুরো বাণ্ডিল দিয়ে ত আর গিট দেয়া যাবে না। বাঘারুর ডান হাতটা পিঠের দিকে বেঁকিয়ে কুড়োলটা খোলে। দড়িটা কাণ্ডের ওপর তার চোখের ঠিক নীচে। সে কুড়োলেরই পেছনটা ধরে খুচ করে একটা ঘা দিতেই দড়িটা কেটে যায়–এখন তার ডান হাতে কুড়োল, হাতে বাণ্ডিল। সে আগে কুড়োলটা পিঠে গেজে, ডানহাতে বাণ্ডিলদড়ির আলগা মাথাটাকে আর গিটের আলগা মাথাটাকে ধরে রেখে বাণ্ডিলটাকে বা হাতের আঙুল থেকে কনুইয়ের দিকে নিয়ে যায়। তারপর দশ আঙুলে গিঠটা দেয়। গাছে পিঁপড়ে ছিল। গিঠ দেয়ার সময় পিঁপড়েগুলো তাকে এত কামড়ায় যে গিঠ দেয়া হয়ে গেলে তাকে আগে হাত দুটো ঝেড়ে তারপর সোজা হতে হয়। পাড়ে ফিরে আসার জন্যে বাঘারু দু দিকের ডাল ধরে দাঁড়ায় আর তারপর একটা পা এগিয়ে দিয়ে মাটিতে লেগে থাকা শেকড়টার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার সঙ্গে-সঙ্গে নাইলনের দড়িটা গাছের মাথা থেকে পাড় পর্যন্ত দোলে। সেটাকে আরো একটু দুলিয়ে বাঘারু ফরেস্টের আর-একটু ভেতরে ঢুকে যায়। সেখানে একটা গাছের কাণ্ডে কয়েকটা প্যাঁচ দিয়ে বাণ্ডিলটাকে গাছটার গোড়ায় ফেলে রেখে ডান হাতে পিঠ থেকে কুড়োলটা খুলে নিয়ে জলে পড়া শালগাছটার কাছে এসে নিচু হয়ে উৎপাটিত শেকড়ের যে-অবশিষ্ট অংশ তখনো গাছটাকে আটকে রেখেছিল, সেটুকুর ওপর ঝুঁকে পড়ে। বাঘারু কিছু দেখতে পায় না। সে ডানহাত দিয়ে আন্দাজ নিতে চেষ্টা করে। কিন্তু আন্দাজও কিছু পায় না। তখন সোজা দাঁড়িয়ে কুড়োলটা মাথার ওপর তুলে সেই শেকড়টার ওপর নামায়। কোপটা পড়তেই বাঘারু বোঝে ঠিক জায়গায় পড়েছে। তার পরের কোপগুলো সেই নিশ্চয়তাতেই নেমে আসতে থাকে। গাছটার ভেতর থেকে একটা আওয়াজ একটু-একটু করে উঠে সারা গাছেই ছড়িয়ে যায়। তারপর গাছের মাথা থেকে জলের আওয়াজটা বদলে যায়। বাঘারু বোঝে গাছটা আরো ঝুলে গেছে। আরো দু কোপ দিতেই গাছটা একটা সংক্ষিপ্ত তীব্র আওয়াজ তুলে জলের ভেতর পড়ে যেতে থাকে। জলের আওয়াজটা হঠাৎ বেড়ে উঠে আবার কমে যায়। ঝুপঝুপ করে কিছু মাটি পড়ার শব্দ ওঠে, গাছটার শেকড়টা তারও পরে নাইলনের দড়িটাকে টানটান করে তিস্তার জলে ভেসে ওঠে। বাঘারু তাড়াতাড়ি কুড়োলটা পিঠে খুঁজে, সেই গাছের গোড়ায় গিয়ে দড়ি ধরে টানতেই বোঝে গাছটাকে স্রোত টানছে। সে তাড়াতাড়ি বাণ্ডিলটা তুলে নিয়ে প্যাঁচটা একে একে খোলে। প্যাঁচ খোলার আগেই যেন ভেসে যাচ্ছে–স্রোতের এত টান। শেষ প্যাঁচটা খোলে না বাঘারু–তা হলে তাকেই জলে টেনে নিতে পারে। সে একটা প্যাঁচ গাছের সঙ্গে রেখে একটু-একটু করে দড়ি ছাড়তে থাকে। বেশ খানিকটা ছাড়ার পর বাঘারু বোঝে সে জলের টান সামলাতে পারবে। তখন গাছ থেকে শেষ প্যাঁচটা খুলে সে স্রোতে ভাসা গাছের সঙ্গে সমান বেগে দৌড়ে গয়ানাথ আসিন্দির যেখানে আছে সেদিকে ছোটে। কিন্তু দু পা ছুটেই আবার একটা গাছের সঙ্গে দড়িটাকে লাগিয়ে দেয়। একটু অপেক্ষা করে আবার দু পা ছোটে। এই প্রথম গাছটাকে ভাসানোর আগে তাকে একটু বুঝে নিতে হয়–বাতাসের বেগ, স্রোতের। ধার আর তার নিজের জোর। তাকে আরো তিনটে গাছ এরকম করে ভাসানোর জন্যে বেঁধে এনে, তারপর চারটেকে একসঙ্গে ভাসিয়ে দিতে হবে।

Page 172 of 327
Prev1...171172173...327Next
Previous Post

দেবেশ রায়ের গল্প – দেবেশ রায়

Next Post

ফ্রয়েড প্রসঙ্গে – দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

Next Post

ফ্রয়েড প্রসঙ্গে - দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

লোকায়ত দর্শন - দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In