Captain C.W. War
Royal Engineers
Died on llJuly, 1945, Age 36
He gave his today for our tomorrow.
—আমাদের আগামী সকাল, আজ তার মৃত্যু বিনিময়ে।
This Hindu soldier of the Indian Army is honoured here. Our Vagabate Namah Chinia Gudappa
Indian Pioneer Corps
Died on 16th August, 1945. Age 19
হিন্দু সৈনিক। খ্রিস্টীয়দের মধ্যে সমাধিস্থ একজন হিন্দু সৈনিকের দেহ। হিন্দু শব্দটি তার মস্তিষ্কে আঘাত করে। বৈকালিক ভ্রমণে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কি সকলেই খ্রিস্টীয়? যদিও পোশাক দেখে চেনা যায় না কারওকেই। খ্রিস্টীয় পোশাকের ধাঁচ সারা পৃথিবীকে গ্রাস করে বসে আছে।
সে চারপাশে তাকায়। কারওকেই দেখতে পায় না আর। সন্ধ্যা এখনও নামেনি। তবু প্রত্যেকেই ঘরে ফিরে গেছেন। এমনকী বারও। সে ভাবে, এখন বাচ্চাদের খেলার সময় কম। তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরতে হয়। সে উঠে দাঁড়ায়। এই জায়গা ছেড়ে যেতে মন চায় না। কেউ কি তাকে চলে যেতে বলবে? সে প্রতীক্ষা করে। মালিরা কাজ করছি এখনও। সে ঘুরতে থাকে আবার। টুই-উিট, টুই-ট্রিট পাখিটি ডেকে চলেছে এখনও। অন্য পাখিরাও ঘরে ফিরবে এ বার। ঘরে ফেরার আগে পাখিরা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। দিনের আলো থাকতে থাকতে সব কাজ গুছিয়ে নিতে চায়।
সে, দিনের পর দিন ধরে বিয়ের বিরোধী থেকে গেলে এবং ঘর বাধার ইচ্ছা প্রাচীনধর্মী ও প্রগতির পরিপন্থী—ইত্যাদি ব্যাখ্যা দিলে একদিন চন্দ্রাবলী পাখিদের কথা বলেছিল। পশুদের কথা, এমনকী কীটপতঙ্গের কথাও। বলেছিল, ঘর বাঁধার ইচ্ছা মানুষের সহজাত প্রবণতা। সমস্ত প্রাণীর সহজাত প্রবণতা। সংঘবদ্ধ বসবাস মানুষ কামনা করে ভিতরকার তাগিদে। অন্তঃস্থ জিনবাহিত প্রেরণায়। সে বিশ্বাস করেনি। বিশ্বাস করেনি কারণ তলিয়ে দেখেনি। অথবা বিশ্বাস করেনি, বিশ্বাস করতে চায়নি বলেই।
5688369 (Private) Jhon Swither
Royal Army Service Corps
Died on 11th July, 1945. Age 20
We think of you in silence
No eyes can see us weep
For deep within our hearts
Your memory we keep
–নীরবে স্মরণ করি তোকে। তোর জন্য কখনও কাঁদিনি। বুকের গভীরতর ঘরে–সারাক্ষণ-সারাক্ষণ তুই।
শোকের কী আশ্চর্য সংহত প্রকাশ! কী অপরূপ সহন। শুভদীপ অভিভূত হয়ে যায়। নেশাগ্রস্তের মতো পড়তে থাকে একের পর এক।
পড়ে আর ভাবে। যারা এসেছিল সমাধিস্থ করার সময়, যারা ভেবে ভেবে স্তোত্র লিখিয়েছিল, তরল অশ্রুসমূহকে ঘনতর করে, করে বিন্দুবৎ, এই সব শব্দাবলি ভরে তুলেছিল কত অসামান্য শক্তিমান তারা, কেন তারা করেছিল এত? মৃতের সমাধি থেকে শোক নিয়ে কেন ফিরে গ্ৰিয়েছিল ঘরে? সে কি জীবনেরই টানে, নাকি সেই অমোঘ মৃত্যুর ডাক? মৃত্যুর কাছ থেকে মানুষ কি জীবনের দিকে ফেরে? ফেরা যায়? নাকি সব মৃত্যুময়। জন্ম মৃত্যুময়। এমনকী জন্মের আগে এক জন্ম প্রস্তাব—সেও মৃত্যুময় ঘোর। মৃত্যু-মৃত্যু-মৃত্যুময়। এ জগতে যা-কিছু সমস্তমৃত্যুমুখে ধায়। মৃত্যুই তৃপ্তিময়। মৃত্যুই মহান।
সে তখন মৃত্যু খোঁজে। মৃত্যু হাতড়ায় সন্ধে রাত্ৰিমুখে আপতিত হওয়ার আগেই সে ফলকে ফলকে খোঁজে মৃত্যুর পূর্ণ নামগান। তখন দুই হাতে দুইখানি সমাধিফলক-চন্দ্রাবলী সঙ্গে সঙ্গে হাঁটে। ফলকে স্তোত্র লেখা শুধু। নাম নেই। কোনও নাম নেই। সে পড়ে নেয়। দ্রুত পড়ে নেয়।
His life is beautiful memory
His absence is silent grief
—সে ছিল, সুন্দর হয়ে ছিল। চলে গেছে। নিঃশব্দ কষ্ট একা একা।
Keep on beloved and take thy rest
Lay down thy head upon thy Saviour’s breast
—ঘুমোও। ঘুমিয়ে পড়ো তুমি। তোমার মাথা বুকের মধ্যে নিক। পরম কারুণিক।
সে ঈশ্বরকে মানে না, বলতে যায় এমন আর জলের ধারে নৌকা এসে লাগে। পিঠের কাছে এসে দাঁড়ায় পাহাড়। পাহাড়ে বৃক্ষ সব। বসন্তে হাওয়ার দোলায় মাতাল গাছপালা। তার গায়ের ওপর পাতা খসে পড়ে টুপটাপ। সে নৌকার দিকে দেখে। চন্দ্রাবলী উদাস বসে আছে। তার চুল উড়ছে, দোপাট্টা উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়। তরুণ মাঝি হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সে দেখছে। পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট ছোট্ট বননিবাস। বাসস্থান তাদের। আর নৌকার নীচে জল। নৌকা ঘিরে জল। সবুজ জল। কী সুন্দর। মাইথনের বিপুল বিশাল জলাধার। এমন সবুজ কেন? গাছপালা তার সবুজ খানিক ঢেলে দিয়েছে জলে।
সে নৌকায় উঠে পড়ে। ডাঙায় বড় লোক। এই বসন্তের উৎসব কালে শীতের চড়ুইভাতি। বাস, ট্রাক, জিপ। জিপ, ট্রাক, ম্যাটাডর। আর গান। চড়া সুরের কান ফাটানো জগঝম্প গান। তারা দু’জন তাই নৌকা করে চলে যাচ্ছে দূরে। জলাধার কী বিশাল! মাঝে মাঝে ফুটে ওঠা নানা আকারের দ্বীপ। দ্বীপের ওপর কোথাও কোথাও টিলা। সবুজ গাছে ঢাকা। তরুণ মাঝি কথা বলছে। বর্ষায় কত জল হয় বলতে থাকছে ডুব যায় ওই দ্বীপ। দেখিয়ে দিচ্ছে সে। দূরে পাহাড়ের গায়ে চাঁদমারিন সি সির উঁদমারি আর তাঁবু। চন্দ্রাবলী কথা বলছে না। বননিবাসে ঢুকে সে চন্দ্রাবৃলীকে আঁকড়ে ধরেছিল। যৌনতায় আঁকড়ে ধরেছিল। চন্দ্রাবলী তখন সমস্ত যৌনতাই রাতের জন্য তুলে রাখতে চায়। তাকে নতুন অবকাশ আর না দিয়ে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসে।
আসার পথে যে ক্রোধ, কিছুটা প্রশমিত হয় চন্দ্রাবলীকে যন্ত্রণা দিয়ে। সেই প্রশমন ভেঙে আবার উত্থিত হয় ক্রোধ তখন। না বলা চন্দ্রাবলীকে সাজে না। সে বরং চন্দ্রাবলীকে রমণ করে করুণা প্রকাশ করছে—এমনই তার মনে হয়। মহুলি তাকে দয়া দিত, সে চন্দ্রাবলীকে দয়া দেয়।
