অনেকে অজ্ঞতার কারণে ভালো ইসলামী নাম বিকৃত করে ডাকে। যেমন—কামাল হোসেনকে তার মা বাবা বা আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা “কামাইল্ল্যা,” মুহাম্মদ আলিকে “মুহাম্মাইদ্যা,” আব্দুল কাদিরকে “কাদিররা,: আবুল বাশারকে “বাশাইররা” ফাতিমা খাতুনকে “ফাতি” এবং নূরজাহান বেগমকে “নূরী” বলে ডাকে। এরূপ বিকৃত নামে ডাকা যে কত বড় অন্যায় ও গুনাহের কাজ, তা কেউ চিন্তা করে দেখে না। আবার অনেক মা-বাবা এমন নাম রাখেন, যা আল্লাহ ও রাসুল (দঃ) এর নামের সাথে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে। যেমন—লাল মিয়া, চান মিয়া, রাজীব চৌধুরী, মদন গাজী, কালু ফকির, অঞ্জলি বেগম, শেফালি বেগম ইত্যাদি। কতকগুলো ভালো নাম ও তার অর্থ বলছি। শোন—আব্দুল আলিম (মহা জ্ঞানীর বান্দা), আব্দুল আজিজ (মহাজ্ঞানীর সেবক), আব্বুর রহিম (করুণাময়ের সেবক), হাবিবুর রহমান (আল্লাহর প্রিয় বান্দা), আতকিয়া ফাওজিয়া (ধার্মিক সফল), আফিয়া আবিদা (পুণ্যবতী এবাদতকারিণী)।
এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছ, আমাকে শুধু সাত্তার নামে কেন ডাকতে নিষেধ করলাম? এবং তোমাকে কেন তাসনিম বলে ডাকব বললাম? তুমি কিন্তু তোমাদের বাসায় সবাইকে বলে দেবে, তোমাকে রূপা নামে না ডেকে তাসনিম বলে যেন ডাকে। তারপর বলল, নামের ব্যাপারে বলতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট করলাম, বিরক্ত হও নি তো?
তাসনিম মৃদু হেসে বলল, না। বরং ইসলামের অনেক কিছু না জানা বিষয় জানতে পেরে খুশী হয়েছি।
একটা কথা বলব, মাইন্ড করবে না তো?
মাইন্ড করার প্রশ্নই আসে না।
তোমার কথায় বুঝতে পারলাম, তোমার আব্বু আম্মু নামায পড়েন, তোমরা দু’বোন পড়?
আম্মু আব্বর থেকে বেশি ধার্মিক। তিনি আমাদেরকে ছোটবেলাতেই নামায শিখিয়ে ধরিয়েছেন, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে শিখিয়েছেন এবং ইসলামের অন্যান্য অনেক কিছু শিখিয়েছেন। আজও আমরা সে সব মেনে চলি।
তোমরা ধর্মীয় বই পুস্তক, মানে কুরআন হাদিসের ব্যাখ্যা, বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় বইপত্র পড়?
এসব বই পুস্তক আম্মু প্রচুর পড়েন। আমরাও অবসর সময়ে অল্প কিছু কিছু পড়ি। ইদানিং আমি কুরআন হাদিসের ব্যাখ্যা পড়তে শুরু করেছি। সায়মা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। তবু মাঝে মধ্যে আমার পাশে এসে বসে।
মেয়েদের পর্দা সম্বন্ধে কিছু পড় নি অথবা জান নি?
এখনও পড়ি নি। তবে একদম যে জানি না, তা নয়। এস.এস.সি. পর্যন্ত আম্মু স্কুল ড্রেসের সঙ্গে আলাদা রুমাল দিয়ে চুলসহ মাথা ঢেকে দিতেন এবং আলাদা একটা চাদর জড়িয়ে দিতেন। কলেজে ঢোকার পর প্রথম প্রথম ঐভাবে যেতাম। পরে ক্লাসমেটদের হাসি ঠাট্টা সহ্য করতে না পেরে কলেজে ঢোকার আগে মাথার। রুমাল খুলে ফেলতাম। অনার্স পড়ার সময় থেকে আর মাথায় রুমাল দিই না। এজন্য আম্মু খুব রাগারাগি করতেন, এখনও করেন। আবু অবশ্য কখনও কিছু বলেন নি।
কুরআন হাদিসের ব্যাখ্যা যখন পড়ছ, তখন অচিরেই জানতে পারবে, কেন তোমার আম্মু এ ব্যাপারে রাগারাগি করেন। আমি শুধু এতটুকু বলব, মেয়েদের। জন্য পর্দা করা ফরয। অর্থাৎ পর্দা করে মেয়েদের বাইরে বেরোন আল্লাহর হুকুম। আচ্ছা, মেয়েদের কি কি দেখে ছেলেরা প্রলুব্ধ হয় জান?
তাসনিম হেসে ফেলে বলল, জানি। তবু তোমার মুখে শুনতে চাই।
মুখ, বুক ও নিতম্ব। তুমি যেভাবে ওড়না গায়ে দিয়েছ, তাতে বুক ঢাকা পড়লেও মুখ ও নিতম্ব ঢাকা পড়ে নি। তাই ইসলাম বোরখা পরার নির্দেশ দিয়েছে। তবে বড় চাদর বা মোটা কাপড়ে ওড়না দিয়ে মুখ, বুক ও নিতম্ব ঢেকে রাখলে, তাতে কোনো দোষ নেই। এক কথায় পর্দা নারীদের ইজ্জত রক্ষা করে, সম্মান বৃদ্ধি করে, দুষ্ট লোকের নজর থেকে বাঁচায়। যারা বলে পর্দা নারী প্রগতির অন্তরায়, পর্দার কথা বলে তাদেরকে অন্তঃপুরে বাদী দাসী করে রাখতে চায়, তারা মুসলমান নামের অযোগ্য। নারীদের পর্দা করার জন্য আল্লাহ কুরআন পাকে বলিয়াছেন, “তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতা পুত্র, ভগ্নিপুত্র, সেবিকা যারা তাদের অধিকারভুক্ত অনুগত, যৌন কামনা রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত কারো নিকটে তাদের আবরণ প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে।”(২)
যারা প্রগতির কথা বলে মেয়েদেরকে পর্দা ভাঙতে বলে, তারা নারীদের সৌন্দর্য ও রূপ যৌবন উপভোগ করার জন্য বলে। যারা আল্লাহর কুরআনের বিরোধীতা করে তারা ফাসেক। “আর ফাসেকদের স্থান জাহান্নাম।” এটাও কুরআন পাকের কথা। পর্দা করে মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারবে, প্রয়োজনে চাকরিও করতে পারবে। আগের যুগে এমন অনেক মহিয়সী নারী ছিলেন, তারা পর্দা করে সবকিছু করেছেন। বর্তমান যুগেও এর অনেক প্রমাণ রয়েছে। এ ব্যাপারে আর বেশি কিছু বলব না। জ্ঞানীরা বলেছেন, “বুদ্ধিমানদের জন্য অল্পই যথেষ্ট।”
তাসনিম বলল, তোমার কথাগুলো খুব ভালো লাগল। আমার মনে হয়, প্রত্যেক বাবা মা যদি মেয়েদের এভাবে বোঝাতেন, তা হলে কোনো মেয়েই বেপর্দা হয়ে চলাফেরা করত না।
তুমিও খুব ভালো কথা বলেছ; কিন্তু দুঃখের ব্যাপার কী জান? আজকাল মা-বাবারাই মেয়েদের বেপর্দায় চলার ইন্ধন যোগাচ্ছে। মেয়েরা বেপর্দায় চলার ও নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার ফলে প্রতিদিন কত হাজার হাজার মেয়ে লাঞ্ছিতা ও ধর্ষিতা হচ্ছে। তবু ঐসব মা-বাবারা জেনেও আল্লাহর হুকুম মানছে না। এবার এসব কথা থাক বলে আব্দুস সাত্তার চুপ করে গেল।
