• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 9, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

উপন্যাস সমগ্র ১ – অভীক দত্ত

Uponash Somogro 1 by Abhik Dutta

পল্টু দাঁত বের করে বলল, “প্যাকটিস করছি স্যার। অঙ্কগুলো আজকাল আর আগের মতো কঠিন লাগে না।”

উদ্দালক খুশি হয়ে বলল, “তাহলে তো দারুণ ব্যাপার। আজ তাহলে মাংস হয়ে যাক। কী বলিস?”

পল্টু হাসল, “হ্যাঁ স্যার। হয়ে যাক।”

উদ্দালক মানিব্যাগ নিতে উঠল। পল্টু জিজ্ঞেস করল, “স্যার, বউদি আর আসবেন না?”

উদ্দালক বলল, “না। বউদির বাড়ি তো কলকাতায়। উনি ওখানেই থাকবেন।”

পল্টু বলল, “এরকম হয় নাকি? বিয়ের পর তো বউ বরের সঙ্গে থাকে।”

উদ্দালক বলল, “হয়, কলকাতায় হলে এরকম হয়।”

পল্টু বলল, “কী যে বলেন স্যার, বিনোদের বাবা তো মেয়েটাকে কথা দিল বিনোদ বড়ো হলেই বিয়ে দিয়ে মেয়েকে ঘরে তুলবে। তাহলে আপনার বউ দূরে থাকবে কেন?”

উদ্দালক বলল, “খুব পেকেছিস ব্যাটা। যা, মুরগি নিয়ে আয়। আমি পেঁয়াজ কাটতে বসি।”

পল্টু মুখ কালো করে বেরোল।

উদ্দালক পেঁয়াজ কাটতে বসল।

কয়েক সেকেন্ড পরেই লাফাতে লাফাতে পল্টু এসে বলল, “স্যার, স্যার, বউদি এসেছেন।”

উদ্দালক অবাক হয়ে বলল, “কী? ইয়ার্কি মারছিস?”

পল্টু বলল, “হ্যাঁ স্যার। এই তো।”

উদ্দালক ঘর থেকে বেরিয়ে দেখল জিনিয়া টোটো থেকে নামছে। দোতলা থেকে সদাশিববাবু আবার উঁকি দিয়ে সেটা দেখছেন। সে বাইরে আর কিছু বলল না।

জিনিয়া ব্যাগ নিয়ে ঢুকল। পল্টুকে বলল, “তোর জন্য কলকাতার ভালো মিষ্টি নিয়ে এলাম পল্টু। তুই কোথায় যাচ্ছিলি এখন?”

পল্টু বলল, “মাংস আনতে।”

জিনিয়া বলল, “তাই নাকি? তা কটা রুটি খাবি বল? রুটি করে ফেলি শিগগিরি।”

পল্টু বলল, “আজ তো বেশি খুশি। তাই আজ পনেরোটা খাব।”

জিনিয়া হাসতে হাসতে বলল, “তাই হবে।”

পল্টু লাফাতে লাফাতে বেরিয়ে গেল।

জিনিয়া উদ্দালকের দিকে তাকিয়ে বলল, “কী ব্যাপার? আপনি মনে হচ্ছে একবারেই খুশি হননি?”

উদ্দালক বলল, “না, ঠিক তা নয়। আপনি বলতে পারতেন আমাকে। আমি স্টেশনে আনতে যেতাম নাহয়।”

জিনিয়া বলল, “বাড়িটা ঠিক পোষাচ্ছে না বুঝলেন। মা সারাক্ষণ এমন মুখ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেন আমি মরে গেছি। ওরকম করলে থাকা যায়! তার উপর আপনার মাও ফোন করছেন। এত প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম। তা ছাড়া সৌপ্তিকদের বাড়িতে ঠিক কী করতে হবে, সে প্ল্যানটাও তো বসে করতে হবে। আপনি চিন্তা করবেন না। আপনাকে আমি জ্বালাতন করব না। আপনি পড়ুন। মন দিয়ে পড়ে যান। আমি আমার মতোই থাকব, ঠিক যেমন কথা হয়েছিল। ভালোবাসাটা সৌপ্তিকেরই থাক। আমরা সারাজীবন নাহয় বন্ধু হয়ে থাকি। দেখি, আটা কোথায়, আটা মাখি। পল্টুর জন্য রুটি করে রাখি।”

উদ্দালক বলল, “না না, আপনি ব্যস্ত হবেন না। আমি আটা মেখে দিচ্ছি। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন।”

জিনিয়া বলল, “স্টেশনে নেমেই আমি ফ্রেশ হয়ে গেছি। এখানকার হাওয়াটাই আলাদা। একফোঁটা পলিউশন নেই।”

উদ্দালক হাসল, “তা ঠিক।”

জিনিয়া বলল, “আচ্ছা শুনুন।”

উদ্দালক বলল, “বলুন।”

জিনিয়া বলল, “আপনার আসল ডায়েরিটা আমাকে দেবেন? আমি পড়তে চাই।”

উদ্দালক বলল, “কী করবেন পড়ে?”

জিনিয়া বলল, “সময় কাটাব। কী আর করব?”

উদ্দালক বলল, “প্রফেসর শঙ্কুর ডায়েরি পড়ুন। বেশি ভালো লাগবে।”

জিনিয়া বলল, “আপনি দেবেন না, তাই তো?”

উদ্দালক বলল, “ব্যাগটা ঘরে রেখে ফ্রেশ হয়ে নিন। আমি পেঁয়াজ কেটে রেডি করি সব।”

জিনিয়া বলল, “কথা ঘুরিয়ে দিলেন অমনি?”

উদ্দালক বলল, “ডায়েরি লিখি না আমি। ডায়েরি লিখে কী হবে? স্মৃতি লিখে রাখা? হয় না জাস্ট। সব মোমবাতিই জ্বলতে জ্বলতে নিভে যায় একদিন। মোমের যে অংশ বাতাসে মিশে যায়, আমাদের জীবনটাও সেরকম। চলে যাওয়ার পর এখানেই মিশে থাকব, কেউ মনে রাখবে। কেউ ভুলে যাবে। লিখে কী হবে?”

জিনিয়া চেয়ারে বসে পড়ে বলল, “আপনি বড়ো ভারী ভারী কথা বলেন। এরকম কঠিন কথা না বলে বোঝানো যায় না?”

উদ্দালক বলল, “সে বোঝানো যায়। তার জন্য আরও পড়াশোনা করতে হবে। যত জানব, তত সহজ হবে চারপাশ। যত কম জানব, তত কঠিন হবে সব কিছু।”

পল্টু লাফাতে লাফাতে মাংস নিয়ে ঢুকল। বলল, “স্যার, বাবা বলেছে কাল আমাদের বাড়ি খেতে। ভেটকি মাছ আনাবে।”

উদ্দালক বলল, “বাহ। এ তো দারুণ খবর রে।”

জিনিয়া উঠল, “ব্যাগটা রেখে এসে রুটি করি তোর পল্টু। দাঁড়া, এখনই আসছি।”

পল্টু বলল, “তাড়াতাড়ি আসুন বউদি। মাছ ধরার গল্প বলব। বড়ো পুকুরে ইয়াব্বড়ো কাতলা ধরলাম কালকে।”

“আচ্ছা, শুনব রে বাবা শুনব”, বলে হাসতে হাসতে ব্যাগ নিয়ে বেডরুমে ঢুকল জিনিয়া।

ঘর অন্ধকার ছিল। আলো জ্বালল সে।

খাট জুড়ে ঝলমল করছে নীল কাগজ দিয়ে বানানো একগাদা অপরাজিতা ফুল…

 

অন্তবিহীন

১ ।। রাঘব।।

রাঘব যখন পৌঁছল তখন দুপুর দেড়টা বেজে গেছে। কলিং বেল টিপে অপেক্ষা করছিল।
দরজা খুললেন একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। তাকে দেখে বললেন, “তোমাকে কি অরিন্দম পাঠিয়েছে?”
রাঘব বলল, “হ্যাঁ।”
“এসো এসো ভিতরে এসো।” ভদ্রলোক দরজা ছেড়ে দাঁড়ালেন।
রাঘব ভিতরে ঢুকল। বলল, “আমি কি অপেক্ষা করব?”
ভদ্রলোক বললেন, “বসো, আমি বাণীকে ডেকে দিচ্ছি।”
রাঘব সোফায় বসল।
বাড়িটা খুব একটা বড়ো না, কিন্তু খুব সুসজ্জিত। সল্টলেকের মতো জায়গায় এই বাড়ির দাম কি কোটি ছাড়িয়ে যাবে? রাঘব ভাবনা ছেড়ে দিল। তাদের গ্রামের লোকজন এসব বাড়িতে গেলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকত।
“ওহ, তুমি এসে গেছ?”
বাণী ম্যাম চলে এসেছিলেন। রাঘব উঠে দাঁড়াল, “হ্যাঁ ম্যাডাম। আমি এসে গেছি।”
ম্যাডাম বললেন, “বসো বসো। তুমি কি ট্রেনে এলে?”
রাঘব বলল, “হ্যাঁ ম্যাম, ট্রেনে এলাম।”
ম্যাডাম বললেন, “আচ্ছা। এখানে ডিউটি করতে হলে কোথায় থাকবে? আমাদের তো নিশাচর প্রাণীদের মতো কাজ। রাতে শুট থাকে, সন্ধের দিকে বাড়ি থেকে বেরোব, ভোরবেলা ফিরব। দিনের বেলাতেও গাড়ির দরকার হয়।”
রাঘব বলল, “হ্যাঁ ম্যাডাম, অরিন্দম স্যার সবই বলেছেন।”
ম্যাডাম বললেন, “কবে থেকে শুরু করতে পারবে?”
রাঘব বলল, “যেদিন বলবেন ম্যাডাম। আমি এখন বসেই আছি। সেরকম কোনও কাজ নেই।”
দরজা যে ভদ্রলোক খুলেছিলেন, তিনি চলে এসেছিলেন। রাঘব বুঝল ইনি সম্ভবত ম্যাডামের স্বামী। ভদ্রলোক বললেন, “তুমি কাল থেকেই চলে এসো, আচ্ছা তোমার নাম যেন কী?”
ম্যাডাম বললেন, “রাঘব, রাইট?”
রাঘব মাথা নাড়ল। ম্যাডাম ভদ্রলোককে বললেন, “কারও নাম আমি ভুলি না দেখলে? অরিন্দম ওর নাম বলেছিল, আমার ঠিক মনে আছে।”
ভদ্রলোক হাসলেন, “তাই তো দেখছি। যাই হোক, মাইনেকড়ির কথাটা বলে নাও।”
ম্যাডাম বললেন, “দ্যাখো, সারাদিনের কাজ তো বুঝতেই পারছ, চন্দন যা নিত তাই দেব ওকে।”
রাঘব বলল, “অরিন্দম স্যার তো বলেছেন পনেরো মতো…”
ভদ্রলোক চোখ বড়ো বড়ো করে ম্যাডামের দিকে তাকালেন। ম্যাডাম স্বামীর দিকে না তাকিয়েই বললেন, “হ্যাঁ, ওটা আমিই বলেছি। পনেরো হাজার তো পাবেই, তার সঙ্গে আলাদা টিফিনের খরচও পাবে। তোমার কোনও নেশা আছে?”
রাঘব দুদিকে মাথা নাড়ল।
ম্যাডাম বললেন, “খুব ভালো। এটাই চাইছিলাম। শোনো, বুবকার জন্যও একজন ড্রাইভার দরকার।”
ম্যাডাম স্বামীর দিকে তাকালেন।
ভদ্রলোক ম্যাডামের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বুবকা ওর গাড়ি কাউকে ছুঁতে দেবে ভেবেছ?”
ম্যাডাম গলা নামিয়ে বললেন, রাঘব তাও শুনতে পেল, “বুবকার একজন ড্রাইভার থাকলে ওকে অ্যাটলিস্ট ট্র্যাক করতে পারতে ও কী করে, কোথায় যায়! দিন দিন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে ছেলেটা।”
ভদ্রলোক গলা না নামিয়েই বললেন, “যাচ্ছে কী! গেছে। কাল শুনলাম মাঝরাতে কোন রিকশাওয়ালাকে ঠুকে দিয়েছে। তাও নিজে বলেনি, সকালে তোমার বড়ো ছেলে গাড়ির সামনেটা দেখে ওকে চেপে ধরার পরে স্বীকার করেছে।”
ম্যাডাম মুখে একটা বিরক্তিসূচক শব্দ করে বললেন, “মান সম্মান সব শেষ করে দিল ছেলেটা। এইজন্যই বলছি ওর জন্যও একটা ড্রাইভার রাখো। শোনো, ওকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। ব্যাপারটা আমি দেখছি। রাঘব।”
রাঘব বলল, “হ্যাঁ ম্যাডাম।”
ম্যাডাম বললেন, “তুমি আর-একজন ড্রাইভারের খোঁজ দিতে পারবে? আমাদের আর-একটা গাড়ি আছে, ওর জন্য।”
রাঘব একটু ভেবে নিয়ে বলল, “হ্যাঁ ম্যাডাম। কবের মধ্যে লাগবে বলুন?”
ম্যাডাম বললেন, “যত তাড়াতাড়ি পারো। ভীষণ দরকার। আচ্ছা শোনো, তুমি তো সেই কত দূর থেকে এসেছ। খেতে বসে পড়ো।”
রাঘব অবাক হয়ে তাকাল। ম্যাডাম উঠলেন, “এসো এসো।”
রাঘব উঠল। তাকে ডাইনিং টেবিলে বসানো হল।
ম্যাডাম নিজের হাতে খাবার বেড়ে দিলেন। রাঘবের ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না। এঁরা এত বড়োলোক আর তার মতো একজন গরিব ড্রাইভারকে এভাবে খাওয়াচ্ছেন, তাও ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে!
ম্যাডামের স্বামীও তদারক করছিলেন।
তার খাওয়া হয়ে গেলে ম্যাডাম বললেন, “আজ থেকে তুমি আমাদের পরিবারেরই একজন। নিজেকে আলাদা ভাববে না। কাল সকাল থেকে চলে এসো। আউটহাউসে তোমার থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আর ওই ড্রাইভারের ব্যাপারটাও ভুলো না কিন্তু।”
রাঘব মাথা নাড়ল। সঞ্জয় এখন বসেই আছে। ওকে বললেই এক পায়ে খাড়া হয়ে যাবে।

২ ।। বুবকা।।

“স্যার। কলেজ গার্ল লাগবে?”
বুবকার মাথাটা ঝিমঝিম করছিল। যে লোকটা প্রশ্নটা করল তার দিক মাথা ঘুরিয়ে তাকাল ওই অবস্থাতেই। কেমন একটা তেলতেলে ব্যাপার আছে লোকটার মধ্যে। বুবকা খানিকক্ষণ লোকটার দিকে তাকিয়ে বলল, “এইজন্য শালা ভুলভাল জায়গায় সস্তার বারে আসতে চাই না। আপনার আমাকে দেখে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে মনে হচ্ছে আমার কলেজ গার্ল লাগবে?”
লোকটা একটুও অপ্রতিভ না হয়ে ওই তেলতেলে ভাবটা বজায় রেখেই বলল, “স্যার একবার দেখুন তো।”
বুবকা কটমট করে লোকটার দিকে তাকিয়ে উঠে পড়ল। বিল দিয়ে বেরিয়ে পার্কিংয়ের দিকে এগোল। লোকটা বেরিয়ে এল তার সঙ্গে, দেঁতো হাসি হেসে বলল, “স্যার তাহলে কী ঠিক করলেন?”
বুবকা পকেট থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বের করে লোকটার হাতে দিয়ে বলল, “বিষ কিনে খেয়ে মরে যান।” লোকটা থতোমতো খেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
গাড়ি স্টার্ট দিল বুবকা। তারপরেই মনে পড়ল সিগারেটের কথা। পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরাল। ফোনটা বাজছিল।
বুবকা দেখল বাবা ফোন করছে।
ফোনটা ধরল না। বেশ খানিকক্ষণ ড্রাইভ করার পরে আবিষ্কার করল গাড়ির তেল শেষের দিকে।
কিছু একটা ভাবল কয়েক সেকেন্ড ধরে। তারপর আরও খানিকক্ষণ ড্রাইভ করে একটা বাড়ির সামনে এসে গাড়িটা পার্ক করে কলিং বেল বাজাল।
কেউ দরজা খুলল না দেখে অধৈর্য হয়ে বুবকা বারবার কলিং বেল বাজিয়ে যাচ্ছিল।
কয়েক মিনিট পর বৈভবী দরজা খুলল। বুবকা বিরক্ত গলায় বলল, “কী করছিলে এতক্ষণ? ঘুমাচ্ছিলে?”
বৈভবী শান্ত গলায় বলল, “ভিতরে এসো।”
বুবকা ঘরে ঢুকে জুতো খুলে বৈভবীর ড্রয়িংরুমের সোফাতেই পা তুলে বসল।
বৈভবী বলল, “আজও কি গলা অবধি?”
বুবকা বলল, “ধুস শালা, স্টুডিওতে কে যেন বলল, একটা বারের কথা, ওখানে গেছিলাম। কী সব লোক, বলে কিনা কলেজ গার্ল চাই?”
বৈভবী হাসল, বলল, “ভালো তো, তোমার তো কলেজ গার্লই চাই বুবকা। তোমার বয়স কত?”
বুবকা বলল, “আমি কী জানি আমার বয়স কত! তোমার কত?”
বৈভবী বসল বুবকার সামনের সোফায়। বলল, “মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই।”
বুবকা বলল, “তোমার তিরিশ না?”
বৈভবী বলল, “কিপ গেসিং।”
বুবকা বলল, “সেদিন কে যেন বলছিল তুমি আমার থেকে অনেক বড়ো। বারো বছর অ্যাটলিস্ট। তার মানে পঁয়ত্রিশ হবে তোমার।”
বৈভবী বলল, “কে বলছিল? আমাকে নিয়ে তোমাদের বাড়িতে কথা হয়?”
বুবকা ফিকফিক করে হাসতে লাগল, “কী যে বলো। কথা হবে না? তুমি একটা এত বড়ো হিরোইন ছিলে। তারপরে মিসেস বাণী মিত্র তোমার কেরিয়ারে কন্টিনিউয়াস কাঠি করে সেটা ফুটুর ডুম করে দিল, আর তার ছোটো ছেলে সেই তোমার সঙ্গে শুতেই সারাক্ষণ তোমার কাছে চলে আসে, সেটা নিয়ে কথা হবে না?”
বৈভবীও হাসল, বলল, “তুমি কি এভাবেই সবার সঙ্গে আমার ইন্ট্রোডাকশন করাও বুবকা?”
বুবকা উঠে বসল। বৈভবীর হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল, “না। তোমার নামে কেউ বাজে কথা বললে তাকে আমি বাঁচিয়ে রাখব না বৈভবী।”
বৈভবী হাতটা ছাড়িয়ে নিল না। বলল, “সামনে কেউ বলে না বুবকা। তুমি ছোটো ছেলে। তুমি কিছুই বুঝবে না। পরপর দুটো সিনেমা হিট হবার পরেও কেন আমি আর কাজ পেলাম না, নিদেনপক্ষে একটা সিরিয়ালে একটা কাকিমার পার্টও কেউ কেন দিল না, সেটা তুমি এখনও বুঝবে না।”
বুবকা বৈভবীর হাত শক্ত করে ধরে বলল, “আমার বোঝার দরকার নেই। শুধু এটুকু বুঝে নাও, যে আমাদের আলাদা করার চেষ্টা করবে, তাকে আমি পুঁতে রেখে দেব।”

৩ ।। অলকা।।

অলকা তৈরি হচ্ছিল।
শুভ স্নান সেরে বেরিয়ে তাকে দেখে বলল, “আজকে কটা বাজাবে?”
লিপস্টিকটা পুরু করে ঠোঁটে দিতে দিতে অলকা বলল, “জানি না। শুটের কোনও ঠিক থাকে নাকি।”
শুভ মাথা চুলকে বলল, “এত দেরি?!”
অলকা বলল, “দ্যাখো বস, এইসব কথা সুচিত্রা সেনের বর বলত, মানা যেত! ফিফটিজের প্যানপ্যানানি এখন চালালে হবে?”
শুভ বলল, “পরের মাসে আমরা বেড়াতে যাচ্ছি তো?”
অলকা বলল, “হবে না, তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম।”
শুভ হতভম্ব গলায় বলল, “হবে না? ইশ, একগাদা টাকা দিয়ে দিলাম তো ভোম্বলকে। ও যদি টাকা ফেরত না দেয়?”
অলকা বলল, “ওসব টাকার গল্প অন্য জায়গায় দিয়ো। আমারই তো টাকা। আমি বুঝে নেব।”
শুভ একটু ম্রিয়মাণ হয়ে বলল, “আমার একটা চাকরি হলেই তোমার সব টাকা শোধ করে দিতাম।”
অলকা বলল, “শাড়ির কুঁচিটা ধরো তো।”
শুভ হাঁটু গেড়ে বসে অলকার শাড়ির কুঁচি ধরল। অলকা শাড়িটা সামলাতে সামলাতে বলল, “তোমার চাকরির আশায় বসে থাকলে আর দেখতে হত না। তাও ভালো, ছেলে মেয়ে হয়নি। তোমার মাকে দয়া করে ওই ফাটা রেকর্ডটা বাজাতে বারণ কোরো।”
শুভ মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, “ধুস! মা অত বোঝে নাকি? আচ্ছা তুমি চিন্তা কোরো না, আমি বলে দেব।”
অলকার হয়ে গেছিল। ঘর থেকে বেরোতে বেরোতে বলল, “ঠিক কতটা কাঠখড় পুড়িয়ে এই মেন সাইড রোলটা পেয়েছি সেটার ব্যাপারে কোনও আইডিয়া আছে তোমাদের? এখনই যদি ঝুলে গেল তাহলে কী হতে পারে ভেবেছ কখনও? তোমার মা না বুঝুক, তুমি তো বুঝবে।”
শুভ অলকার পিছন পিছন আসছিল, বলল, “আজ আমারও ফিরতে দেরি হতে পারে।”
অলকা বলল, “তুমি কোথায় যাবে?”
শুভ বলল, “আসানসোল। দ্যাখো, কাজটা হয়ে গেলে তো বেঁচেই যাই।”
অলকা বলল, “আরে কী কাজ সেটা তো বলবে?”
শুভ বলল, “দাদা যাবে। দাদার সঙ্গে।”
অলকা বিরক্ত গলায় বলল, “এই দাদা দাদা ভাবটা ছাড়ো তো। পলিটিক্স করে কিন্তু কোনও কাজ পাবে না এটা তোমাকে বলে দিলাম। সামান্য বুদ্ধি থাকলেও সেটা বুঝতে তুমি। দল বাড়ানো ছাড়া ওরা কিছু বোঝে না, সেটা বোঝো তুমি?”
শুভ বলল, “ওরকম বোলো না, দাদা ছিল বলেই তোমার কাজটা…”
অলকা ফিরে দাঁড়াল। রাগি গলায় বলল, “ওই ধারণা নিয়েই থাকো।”
শুভ থতোমতো খেয়ে গেল।
গাড়ি নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। অলকা গাড়িতে গিয়ে উঠল। ড্রাইভারকে বলল, “তোমার স্যার কোথায় এখন?”
ড্রাইভার বলল, “ফ্ল্যাটে আছেন। আপনি গেলে বেরোবেন।”
অলকা আর কিছু বলল না। বসে বসে মোবাইল ঘাঁটতে লাগল। কিছুক্ষণ পরে একটা অ্যাপার্টমেন্টের তলায় গাড়িটা দাঁড়াল। অলকা গাড়ি থেকে নেমে লিফটে উঠল।
দীপ্ত রায়ের ফ্ল্যাটের দরজা খোলাই ছিল। অলকা ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
সে সরাসরি বেডরুমে প্রবেশ করল। দেখল দীপ্ত শুয়ে আছে। তাকে দেখে ঘুম ঘুম গলায় বলল, “এত শাড়ি গয়না পরে এসেছ কী করতে? পরতেও তো টাইম লাগে।”
অলকা বলল, “আমার সেজে থাকতে ভালো লাগে।”
দীপ্ত বলল, “এখন তো সেই সব খুলতে হবে।”
অলকা বলল, “আবার পরে নেব, চিন্তা করছ কেন?”
দীপ্ত উঠে বসল। বলল, “আজ থাক, শরীরটা ভালো নেই।”
অলকা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে খাটের ওপর বসে বলল, “সামনের দরজাটা এভাবে খুলে ঘুমাও, কোনদিন তো সব চুরি হয়ে যাবে।”
দীপ্ত বলল, “নিয়ে যাক যা আছে। আমাকে বাদ দিয়ে যেটা খুশি নিয়ে যাক।”
অলকা বলল, “এবার একটা বিয়ে করো দীপ্ত। এভাবে আর কদিন?”
দীপ্ত বলল, “কেন? পরের বউয়ের কি শুতে ইচ্ছা করে না আজকাল? সেলিব্রিটি হয়ে গেছ বুঝি একটা বালের সিরিয়াল করেই?”
অলকা বলল, “এসব বলে ছোটো করতে ভালো লাগে তোমার?”
দীপ্ত হাতড়ে একটা সিগারেট নিয়ে সেটা ধরিয়ে টানতে টানতে বলল, “সব সময় নিজের অওকাদে থাকবে অলকা। দেখবে ভালো থাকবে। মাঝে মাঝে আয়নায় নিজেকে দেখে তিন-চারবার আমি প্রস আমি প্রস বলবে। তাতে দেখবে বাস্তবটা বুঝতে সুবিধা হবে।”
অলকার চোখে জল এসে গেছিল। সে বলল, “আমি বেরোলাম। ট্যাক্সি করে স্টুডিও চলে যাব।”
দীপ্ত সিগারেটটা রেখে অলকার হাত ধরে অলকাকে টেনে নিজের কাছে নিল, দীর্ঘক্ষণ ধরে অলকার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলল, “বাহ, এই লিপস্টিকটা বেশ ভালো তো! ব্রেকফাস্টটা জমে গেল!”

৪ ।। বাণী মিত্র।।

বাণী মিত্রের মুড আজ ঠিক নেই।
অফিসে আসার সময় গাড়িতেই খবর পেয়েছেন টিআরপি রিপোর্ট এসেছে। তিন্নির সংসার দু নম্বরে নেমে গেছে। আর-একটা প্রোডাকশন “সহেলির চুড়ি” চারে ছিল, ছয়ে চলে গেছে।
দীপ্ত রায় প্রোডাকশনের “ব্যানার্জি বাড়ির বউ” এক নম্বরে চলে এসেছে। বাণী মিত্র অফিসে এসেই সুভাষকে ডেকে পাঠালেন।
সুভাষ অফিসেই ছিল। ম্যাডামের সামনে এসে দাঁড়াল। বাণী মিত্র ঠান্ডা গলায় বললেন, “তিন্নির সংসার নেমে গেল কেন সুভাষ?”
সুভাষ মাথা চুলকে বলল, “ম্যাডাম, ব্যানার্জি বাড়ির বউ এখন মেগা উইক যাচ্ছে। বাড়ির বড়ো ছেলে আর-একটা বিয়ে করেছে, সেই নিয়ে তুমুল অশান্তি চলছে। ওইসবেই হবে হয়তো।”
বাণী মিত্র মোবাইল ঘাঁটছিলেন। বললেন, “রিখিয়াকে বলুন নতুন কোনও টেনশন ক্রিয়েট করতে। এভাবে বাজার ছেড়ে দেবেন নাকি?”
সুভাষ বলল, “রিখিয়া ম্যাম তো বলছিলেন তিন্নির সংসার আর টানতে পারছেন না। কোনও ভাবে শেষ করে দিলে হয় না?”
বাণী মিত্র সুভাষের কথায় পাত্তা না দিয়ে ওকে ইশারায় বেরিয়ে যেতে বললেন, সুভাষ ইতস্তত করে বেরিয়ে গেল। বাণী মিত্র ফোনটা কানে নিয়ে বললেন, “এই রিখিয়া, তিন্নি নেমে গেছে শুনেছিস তো?”
রিখিয়া ধরা গলায় বলল, “হ্যাঁ দিদি, একটু আগেই মেসেজটা পেয়েছি।”
বাণী বললেন, “ভাইরাল বাধালি নাকি?”
রিখিয়া বলল, “হ্যাঁ, মনে হচ্ছে।”
বাণী বিরক্ত গলায় বললেন, “কী যে করিস না। বৃষ্টিতে ভিজেছিলি?”
রিখিয়া বলল, “হ্যাঁ। কিছু করার ছিল না আসলে। ছাতা নিতে ভুলে গেছিলাম।”
বাণী বললেন, “ওষুধ নে, ফেলে রাখিস না।”
রিখিয়া বলল, “চিন্তা কোরো না, ঠিক হয়ে যাবে। আর তিন্নির সংসার নিয়েও ভেবো না। কালকেই একটা ট্যুইস্ট আনছি।”
বাণী বিরক্ত গলায় বললেন, “ওর বরের আর-একটা বিয়ে দিস না, ব্যানার্জি বাড়ির গল্পে অলরেডি হয়ে গেছে কিন্তু।”
রিখিয়া বলল, “সেটা শুনেছি, তুমি দ্যাখো না আমি কী করি।”
বাণী বললেন, “একটা কাজ করা যেতে পারে। তিন্নির একটা আগের বয়ফ্রেন্ড নিয়ে আসতে পারিস।”
রিখিয়া বলল, “দেখেছ দিদি, আমাদের চিন্তা কত এক লাইনে যায়? আমি এটাই ভেবেছিলাম।”
বাণী গর্বিত গলায় হাসলেন, “সে তো হবেই। তুই আমার অন্য মায়ের পেটের বোন।”
রিখিয়া বলল, “দিদি, একটা কথা বলব, কিছু মনে করবে না তো?”
বাণী বললেন, “বল না।”
রিখিয়া বলল, “মানে…”
বাণী বললেন, “কী? বুবকাকে নিয়ে কিছু? ও ছাড়া আর কী হবে?”
রিখিয়া বলল, “হ্যাঁ দিদি। বুবকাকে নিয়েই।”
বাণী মাথায় হাত দিলেন, বললেন, “বল।”
রিখিয়া বলল, “দুপুরে বুবকা আমায় ফোন করেছিল। বলল, বৈভবীকে নিয়ে একটা স্টোরি ভাবতে।”
বাণী অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালেন, “তুই কী বললি?”
রিখিয়া বলল, “আমি কী বলব? হেসে আচ্ছা দেখব দেখব, নিশ্চয়ই চেষ্টা করব এসব বলে ফোনটা কেটে দিলাম!”
বাণী বললেন, “শোন, বুবকাকে ব্লক করে দে। ওর ফোন তোকে ধরতে হবে না।”
রিখিয়া বলল, “কিন্তু দিদি…”
বাণী বললেন, “আমি বলছি তো, তোকে ভাবতে হবে না। বুবকাকে ব্লক করে দে।”
রিখিয়া বলল, “দিদি, বুবকার প্রোপোজালটা কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার মতোও ছিল না। বৈভবীর…”
বাণী বললেন, “বল শুনছি।”
রিখিয়া বলল, “না মানে তুমি রাগ করবে বলি যদি।”
বাণী বললেন, “বল বল।”
রিখিয়া বলল, “মানে তুমি যেদিন যে স্ক্রিপ্টটা বলছিলে, তাতে লিড রোলে বৈভবীকে…”
বাণী কঠিন গলায় বললেন, “এখন রাখছি, অনেক কাজ আছে।”
রিখিয়া থতোমতো গলায় বলল, “আচ্ছা আচ্ছা দিদি। রাখছি।”
বাণী ফোনটা কেটে দিলেন।
স্টুডিও যাবার জন্য উঠলেন।

৫ ।। তথাগত।।

গুরুত্বপূর্ণ প্রেজেন্টেশন আছে একটা। সকাল থেকেই একটা টেনশন কাজ করছে তথাগতর মধ্যে।
অন্যান্য দিন সাতটায় ওঠে।
আজ ভোর পাঁচটাতেই ঘুম ভেঙে গেল তার।
ল্যাপটপটা খাটের ওপর খোলা ছিল।
বেশ খানিকক্ষণ পয়েন্টগুলো ঝালিয়ে নিল মনে মনে। দেখল সব ঠিকঠাকই আছে।
আরও এক ঘণ্টা বিছানাতেই শুয়ে থাকল সে। ছটা নাগাদ উঠে ঘরের দরজা খুলে বাইরে বেরোল। আউটহাউস কদিন ফাঁকা ছিল, এখন আবার একজন ড্রাইভার এসেছে। তথাগত বেরিয়ে দেখল ছেলেটা দাঁত মাজছে। সে বলল, “তোমার নাম কী যেন?”
ছেলেটা একটু তটস্থ হয়ে বলল, “রাঘব, দাদা।”
তথাগত বলল, “কখন ফিরল মা?”
রাঘব বলল, “আড়াইটে।”
তথাগত বলল, “তোমার তো তাহলে ঘুম হল না ঠিক করে।”
ছেলেটা বলল, “অভ্যাস আছে দাদা। এই তো, এবার ঘুমাব।”
তথাগতর হাসি পেল, “দাঁত মেজে ঘুমাবে?”
ছেলেটাও হাসল, “হ্যাঁ দাদা। ম্যাডাম আজ দশটা নাগাদ কোথায় একটা যাবেন বলছিলেন।”
তথাগতর মনে পড়ল। আজ প্রীতিকাকে নিয়ে মার গয়না কিনতে যাওয়ার কথা আছে। তা বলে দশটায়? তাহলে কি অন্য কোথাও যাবে?
সে বলল, “তোমার বাড়ি কোথায়?”
ছেলেটা বলল, “উত্তর চব্বিশ পরগনার এক গ্রামে।”
তথাগত বলল, “চাষের জমি আছে তোমাদের?”
ছেলেটা বলল, “না দাদা। সেরকম কিছুই নেই।”
তথাগত বলল, “তোমার ঘরে মশারি আছে তো?”
ছেলেটা বলল, “না, এখনও কেনা হয়নি।”
তথাগত বলল, “সে কী? এখানে মশারি ছাড়া আছ কী করে? তুমি আমার থেকে টাকা নিয়ে নিয়ো। আজকে বাজার খুলতেই মশারি কিনে নিয়োনিয়ো।”
রাঘব কৃতজ্ঞ মুখে হাসল।
এতক্ষণ লক্ষ করেনি, তথাগত দেখল বুবকার গাড়িটা নেই। সে ফোন নিয়েই বেরিয়েছিল, বুবকাকে ফোন করল।
পুরো রিং হয়ে গেল, বুবকা ফোন ধরল না।
তথাগত আবার ফোন করল, এবার বুবকা ধরল, ঘুম জড়ানো গলায় বলল, “কী বে গোয়েন্দা ব্যোমকেশ বক্সী, সকাল সকাল ঝাঁট জ্বালাচ্ছিস কেন?”
তথাগত বলল, “তুই কোথায়? রাতে ফিরিসনি কেন?”
বুবকা বলল, “আমি কোথায়, তা জেনে তুই কী করবি?”
তথাগত দেখল রাঘব তার কথা শুনছে হাঁ করে। সে গেট খুলে রাস্তায় বেরোল। অনেকেই মর্নিং ওয়াক করতে বেরিয়েছে। সে গলা নামিয়ে বলল, “মা ঘুম থেকে ওঠার আগে ঢুকে যা, নইলে আবার অশান্তি হবে।”
বুবকা বলল, “ম্যানেজ করে দিবি, বলবি এসেই বেরিয়ে গেল।”
তথাগত বলল, “আমি ম্যানেজ করার জন্য থাকব না আজ। প্রেজেন্টেশন আছে অফিসে। আগে আগে অফিস যাব।”
বুবকা বলল, “আবে তুই আমায় নিয়ে এত চাপ নিস কেন? জানিসই তো অমনিও মা ঝাড়বে এমনিও ঝাড়বে। এই টিপিক্যাল গুড বয় ইমেজটা আমার সঙ্গে কেন মারাস দাদা? এক কাজ কর, তুইও এখানে চলে আয়, দুই ভাই মিলে লুচি আলুর দম খাই ব্রেকফাস্টে।”
তথাগতর মাথা গরম হচ্ছিল, “তুই বৈভবীর ওখানে আছিস, না?”
বুবকা বলল, “হ্যাঁ। আছি তো। কার বাপের কী বাল? এই তো আমার বুকের কাছে শুয়ে আছে বৈভবী। কে কী করতে পারবে?”
তথাগত দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর বলল, “আমি আর কিছু বলব না তোকে, তুই যা ইচ্ছা কর।”
বুবকা বলল, “এ দাদা।”
তথাগত বলল, “রাখছি এখন।”
বুবকা বলল, “শোন না।”
তথাগত বলল, “কী!”
বুবকা বলল, “হাজারখানেক টাকা দে। ক্রেডিট কার্ডের আপার লিমিট গাঁড় মেরে গেছে। গাড়িতে তেল ভরতে হবে।”
তথাগত বলল, “এখন কী করে দেব? এনইএফটি করা যায় নাকি এত সকালে?”
বুবকা বলল, “আইএমপিএস কর। এখনই কর।”
তথাগত বলল, “এতগুলো টাকা তুই কী করিস বুবকা? তুই তো পরশুই বাবাকে টুপি পরিয়ে তিরিশ হাজার নিয়ে গেলি।”
বুবকা বিরক্ত গলায় বলল, “ধ্যার বাল। তুইও আজকাল হিসেব চাইছিস! বাপের টাকা চেয়েছি আমি? তোর টাকা চেয়েছি। আর শোন, হাজার না, পাঁচ হাজার পাঠা। তোর ভাইটা না খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে, ভালো লাগবে?”
হাসি পেয়ে গেল তথাগতর। বলল, “আমার স্যালারিটা দেখছি তোর জন্যই তুলে রাখতে হবে এর পর থেকে।”
বুবকা বলল, “রাখবি তো! তবে তোকে নিয়ে চিন্তা হয় দাদা। তুই তো আমার মতো না, বিয়ের পর বউয়ের আঁচলের তলায় চলে যাবি, আর তখন আমায় চিনবিও না শালা।”
তথাগত বলল, “আচ্ছা আচ্ছা, বৈভবীর কোলে শুয়ে অনেক ফিলোজফি দেখিয়েছিস। এবার বাড়ি ফের। আর শোন, গাড়ির কাজটা করাস।”
বুবকা বলল, “ও তো অনেক খরচা। ওটা বাবার ঘাড়ে ফেলে দেব।”
তথাগত হেসে ফেলল। বলল, “যা পারিস কর, আমি রাখছি।”
বুবকা বলল, “ট্রান্সফার করে দে, ভুলিস না দাদা। মরে যাব কিন্তু।”
তথাগত কেটে দিল ফোনটা।
মোবাইল ব্যাংকিং খুলে বুবকার অ্যাকাউন্টে টাকাটা ট্রান্সফার করে দিতে গিয়েও থমকে গেল।

Page 33 of 127
Prev1...323334...127Next
Previous Post

বিকল্প বিপ্লব : যে ভাবে দারিদ্র কমানো সম্ভব – অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

Next Post

উপন্যাস সমগ্র ২ – অভীক দত্ত

Next Post

উপন্যাস সমগ্র ২ - অভীক দত্ত

এবং মার্কেট ভিজিট - অভীক সরকার

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In